ভালোবাসা
এসে আমার
সত্তাকে শূন্য
করে দিল
ভালোবাসা
এসে আমার
সত্তাকে শূন্য
করে দিল
প্রতিটি
শিরা এবং
ত্বকের প্রতিটি
রন্ধ্র
আমাকে
ভালোবাসা ধারণ
করার একটি
পাত্রে
পরিণত
করল, আমার
রয়ে গেল
কেবল নামটিই
বাকী
সব তুমি
বন্ধু, প্রিয়
আমার।
আমার
হূদয়ে কেবল
তোমারই বসবাস
আমার
হূদয়ে কেবল
তোমারই বসবাস
বাকী
সব রক্তের
নর্দমায় ভাসিয়ে
দেব
আমার
চোখে তুমিই
সবচেয়ে দীপ্যমান
অশ্রু
দিয়ে বাকী
সব নিভিয়ে
দেব
আমার
অন্তর যার
সাথে থাকতে
চায় সে
তুমিই
যে
করেই হোক
আমার দেহ
থেকে বাকী
সব
নিষ্ক্রান্ত
হবে, চেপে
ধরে বের
করে দেব।
তোমার
মনের স্কুলে
তোমার
মনের স্কুলে
তুমি রাজ্যের
সবকিছু
শেখো
এবং সত্যিকারের
বড় পণ্ডিত
হয়ে উঠো
সবাই
হা করে
তোমাকে দেখে
কিন্তু
ভালোবাসার স্কুলে
তুমি সে
নাদান
শিশু
হয়ে যাও
নতুন করে
শিখতে থাকো।
ভালোবাসা
এসেছিল
ভালোবাসা
এসেছিল
ত্বকের
তলায় শিরা
বেয়ে
রক্তের
মতো বয়ে
গেছে
আমার
সত্তাকে নিষ্ক্রান্ত
করে
ভালোবাসা
দিয়ে পূর্ণ
করেছে
তবুও
আমার প্রতিটি
অঙ্গ
প্রতিটি
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
অবরুদ্ধ
হয়েছে,
জবরদখল চলেছে
যতক্ষণ
না আমার
নামছাড়া
অন্যকিছু
অবশিষ্ট থাকেনি।
প্রিয়
আমার, এতো
নিষ্ঠুর হয়ো
না
আমার সাথে
প্রিয়
আমার, এতো
নিষ্ঠুর হয়ো
না আমার
সাথে
তোমার
উপস্থিতিই হচ্ছে
আমার একমাত্র
উপশম
এটা
কেমন করে
হয় যে
আমার হূদপিণ্ড
থাকবে না
কিংবা
থাকবে না
আমার ভালোবাসা?
হয়
আমার হূিপণ্ড
ফিরিয়ে দাও
নতুবা
আমার
কাছে তোমার
উপস্থিতি অস্বীকার
কারো না।
প্রিয়
আমার এই
যাতনা
প্রিয়
আমার এই
নির্যাতন ও
যাতনা
আমাকে
সইতে হয়,
কারণ আমি
তোমার রূপে
আসক্ত
মানুষ
আমাকে জিজ্ঞেস
করে কোনটা
চাই-
তোমার
সান্নিধ্য না
স্বার্গে বসবাস?
বেয়াক্কেল
বেয়াকুফের দল,
যদি আমার
বন্ধুই
সেখানে
না থাকল,
তো স্বর্গের
কী মানে?
যন্ত্রণার
ফোঁপানি আর
অশ্রু ছাড়া
আজ রাতে
কিছু নেই
যন্ত্রণার
ফোঁপানি আর
অশ্রু ছাড়া
আজ রাতে
কিছু নেই
মুক্তির
কোনো পথ
নেই, ধৈর্য্যও
অবশিষ্ট নেই
গত
রাতে আমাদের
হূদয় কিছুক্ষণ
একসাথে ছিল
আমার
মনে হয়
সেজন্যই এভাবে
মূল্য দিতে
হচ্ছে।
ভালোবাসার
পথ
ধর্মের
পথ আর
ভালোবাসার পথ
দুটো
ভিন্ন দুই
সড়ক
ভালোবাসা
সেই আগুন
যা
বিশ্বাস ও
অবিশ্বাস দুই-ই
পোড়ায়
যারা
ভালোবাসার চর্চা
করে তাদের
ধর্মও
নেই বর্ণও
নেই।
দুঃখ
এই হূদয়
লুটে নিল
দুঃখ
এই হূদয়
লুটে নিল
আর
তোমার ভালোবাসা
তা জানালা
পথে
ছুঁড়ে
ফেলল, এভাবেই
যা গোপন
রয়ে যায়
সাধু
ও পয়গম্বরদের
কাছে,
ফিস
ফিস করে
কানে কানে
আমাকে তাই
শোনানো হলে।
আমাদের
জীবনের মোট
যোগফল হচ্ছে
একটি নিঃশ্বাস
আমাদের
জীবনের মোট
যোগফল হচ্ছে
একটি নিঃশ্বাস
যা
প্রিয়ের সান্নিধ্যে
কেটেছে।
যদিও
যাতনায় ভোগা
এই হূদয়ের
পুরনো অভ্যাস
যদিও
যাতনায় ভোগা
এই হূদয়ের
পুরনো অভ্যাস
আমি
তোমার সান্নিধ্যের
কথা ভাবতে
সাহস পাই
না
যে
আগুন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড
জ্বালিয়ে দিতে
পারে
তার
কাছে গুটিপোকার
কতটুকুই বা
গুরুত্ব।
যেদিন
ভালোবাসা জ্বলে
উঠেছিল
যেদিন
ভালোবাসা জ্বলে
উঠেছিল
প্রিয়,
তোমার কাছ
থেকে প্রেমিকেরা
জেনেছিল
কেমন
করে জ্বলে
উঠতে হয়
বন্ধু
আগুনের শিখা
জ্বেলে দিয়েছিল
যে
পথেই তোমার
কাছেই যাই,
আনন্দ
যে
পথেই তোমার
কাছে যাই
আনন্দ।
যে
ভাবেই বরণ
করা হোক,
সম্মান।
যে
চোখেই কেউ
তোমাকে দেখুক,
সৌন্দর্য।
যে
ভাষাতেই তোমার
নাম বলা
হোক, আনন্দ।
প্রিয়
আমাকে এই
কারাগার থেকে
বেরোবার পথ
দেখাও
প্রিয়
আমাকে এই
কারাগার থেকে
বেরোবার পথ
দেখাও
এ
জগতে আমাকে
অপ্রয়োজনীয় করে
তোলো
প্রার্থনা
করি সকল
মন থেকে
আমাকে মুছে
দাও
শুধু
তোমারটা বাদে।
দয়া
করো প্রিয়
যদিও
আমি বিস্মৃতি
ছাড়া অন্যকিছু
নই
তুমিই
তো ক্ষমার
সারাৎসার
তুমি
ছাড়া আর
সবার জন্য
আমাকে অপ্রয়োজনীয়
করো।
তুমি
যদি জনসমাগম
ছেড়ে না
দাও
তুমি
যদি জনসমাগম
ছেড়ে না
দাও
তুমি
একাকিত্বের পথ
খুঁজে পাবে
না
তুমি
যদি তোমাকে
ছেড়ে না
দাও
তোমার
আসল মূল্য
কখনো জানবে
না।
তোমার
যা কিছু
আছে সব
যদি
তোমার
প্রিয়তমকে নিবেদন
না করো
তাহলে
মিষ্টি যাতনাবিহীন
জীবন কাটাবে
অথচ
সে যাতনাই
জীবনটাকে বাঁচার
মতো করে
তোলে।
তোমার
জিহ্বার শ্রেষ্ঠ
ব্যবহার
তোমার
জিহ্বার শ্রেষ্ঠ
ব্যবহার
নিমগ্ন
থেকে বারবার
মুখে নাও
প্রিয়তমের নাম
রাতের
নিবিড় নির্জনতায়
তাই
হবে তোমার
সর্বোত্তম প্রার্থনা
বন্ধুর
কাছে পৌঁছার
সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত
পথ মেলে
নিঃস্বার্থ
সেবায় আর
তার সৃষ্টির
জন্য উদারতায়।
প্রার্থনায়
তুমি যতবার
মাটিতে সেজদায়
যাও
প্রার্থনায়
তুমি যতবার
মাটিতে সেজদায়
যাও
মনে
রেখো, তোমার
অহংকারের বোঝা
নামাতেই
সেজদা:
এ অহংকার
তোমার প্রিয়তমের
কক্ষে
প্রবেশে
বাধা হয়ে
দাঁড়ায়।
প্রিয়তম
বলল, এ
আমার মুখমণ্ডল
প্রিয়তম
বলল, ‘এ
আমার মুখমণ্ডল’
তখন
এক ঝুড়ি
গোলাপ পড়ে
আছে
কাঁধের
উপর রয়ে
যায় ঘন
অন্ধকার রহস্য
‘এ
আমার চুল’।
কস্তূরীর
ধুপকাঠি জ্বলছে
‘এ
আমার সৌরভ’
আগুন
চারদিকে, সমস্ত
সৃষ্টি ঘিরে
লেলিহান শিখা
‘এ
আমার আবেগ।’
যখন
বন্ধুর জন্য
প্রত্যাশা সত্যি
হয়ে উঠে
যখন
বন্ধুর জন্য
প্রত্যাশা সত্যি
হয়ে উঠে
সমস্ত
অস্তিত্ব পেছনে
রয়ে যায়
প্রিয়তম
আমার যুক্তির
কথা শুনতে
আগ্রহী নন
আমি
যুক্তি ছুড়ে
ফেলে দিই
এবং নিশ্চুপ
হয়ে যাই।
যে
সদ্বিবেচনা আমাকে
শেখানো হয়েছিল
তা
একঘেয়ে
হয়ে যায়,
বন্ধ করে
দিতে হয়,
অবিবেচনায়
নীরবতা এবং
আশীর্বাদ
আমার
প্রিয়তমের পায়ের
পাতায়
মাথা রেখে দিন পার করে দিই।





