ঢাকাকেন্দ্রিক আমাদের বর্তমান সাহিত্য ভুবন যে এক ভয়ানক দিকে ক্রমেই এগোচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বদান্যতায় অসংখ্য সাহিত্য পুরস্কারের ঘোষণায় কোন না কোন সাহিত্যগোষ্ঠী মারফত একদমই আনকোরা ও অপরিচিত কোনো লেখকের রীতিমতো পুরস্কারপ্রাপ্তি দিয়েই সাহিত্য জগতে পা রাখা—আজকের ঢাকার সাহিত্য ভুবনের ভয়ানক মারী দশা যখন যেকোনো সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে দেয়, তখন একদমই নীরব কোনো লেখকের চারশ চুয়াল্লিশ পাতার একটি ভারী বই যখন হাতে চলে আসে, যা শুধু ওজনে নয়, বিষয়বস্তু এবং নানা দিক থেকেই মনোযোগের দাবিদার, তখন ভরসা জাগে সবকিছু আমাদের একদম শেষ হয়ে যায়নি। আজাদ বুলবুলের ‘অগ্নিকোণ’ উপন্যাসটি নানা বিবেচনাতেই এই সাহিত্য মড়কের সময়ে আমাদের ভরসা জোগাতে পারে।
নোয়াখালীতে জন্ম নেয়া ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আজাদ বুলবুল চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সংলাপ রচনায় দক্ষ। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত সুবিখ্যাত ‘হালদা’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার হিসেবে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। চট্টগ্রামের হালদা নদী এশিয়ার একমাত্র স্বাভাবিক মাছ প্রজনন কেন্দ্র। সেখানকার জেলেদের নিয়ে রচিত তার জীবনঘনিষ্ঠ চিত্রনাট্যেও উঠে এসেছে চট্টগ্রামের জেলে সম্প্রদায়ের মুখের ভাষা। ঢাকার কফিশপে বসে ‘করছি-যাইছি’ বলেই যারা প্রমিত বাংলার হূদকম্প ঘটিয়ে দিচ্ছেন বলে ভাবেন, সেসব বিতর্কের বহু দূরে বসে একজন হরিশঙ্কর জলদাস বা একজন আজাদ বুলবুল সাধকের মৌন ব্রতে তাদের উপন্যাসে তুলে আনেন দূরের প্রাকৃত জনগোষ্ঠীর সত্যিকারের কথ্যভাষা, যার অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে আছে অগ্নিকোণ উপন্যাসে। তবে এ গ্রন্থ আলোচনা আজাদ বুলবুলের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সংলাপ রচনার দক্ষতার প্রশস্তি রচনার উদ্দেশ্যে লেখা নয়। কারণ শুধু সংলাপ দিয়ে তো একটি বই হয় না। উপন্যাসের মূল শক্তি তার বিষয়বস্তু, ভাষার দক্ষতা, কাহিনীবিন্যাস এসব নিয়েই।
লেখক হিসেবে আজাদের ন্যারেশন খুবই প্রচলিত গড়নের এবং এমনকি খানিকটা সেকেলেও হয়তো মনে হবে। কিন্তু তিনি তো বলতে বসেছেন এক দীর্ঘ আখ্যান। সেখানে ভাষা নিয়ে খুব কারিকুরি করার অবসর কই তার? মূলত ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামে মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ অস্ত্রাগার লুণ্ঠন তথা অগ্নিযুগের বীর স্বদেশী বিপ্লবীদের লড়াই, শিক্ষায় অগ্রসর চাটগাঁই হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবকদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময়েই শিক্ষায় অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকদের বার্মা গিয়ে টাকা রোজগার ও বর্মী সমাজের নারী স্বাধীনতার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক বর্মী নারী বিয়ে করা বা ক্ষেত্রবিশেষে শরিয়ত মতে বিয়ে করে বর্মী নারীদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা, যা ধীরে ধীরে উত্তপ্ত করতে থাকে বর্মী-বাঙালি/মগ-কালা/রোহিঙ্গা-রাখাইন সম্পর্ক, সে পরিপ্রেক্ষিতও ভয়ানক নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে এঁকেছেন তিনি। ১৯৩০-এর বার্মায় ভারতীয় তথা বাঙালী হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বার্মায় কাজ করছে। কলকাতার হিন্দু যুবকরা বড় চাকরিতে ব্যস্ত আর চাকরির ফাঁকে কারো কারো স্বদেশী আন্দোলনে মগ্নতা। গুজরাটি-পাঞ্জাবি-মাদ্রাজিরা ব্যবসায় হাত দিয়েছে। চট্টগ্রামের মুসলিম পুরুষ সেদেশে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করেই টাকা আয় করছে আর বিয়ে করছে পর্দার শাসনে না থাকা বর্মী নারীকে। বাঙালি বা ভারতীয় পুরুষ এত বেশি সংখ্যায় বর্মী নারী বিয়ে করছে যে দেখতে দেখতে বিদেশীদের প্রতি উদার বর্মী সমাজ ক্রুদ্ধ হয়ে উঠছে, ক্ষুব্ধ হয়ে যাচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মগুরুরা যা বহু পরের এক সংকটের অনেক আগাম আভাসকেই সূচিত করে। কীভাবে লেখক এ টেনশনটি ধরছেন? আবার সূর্য সেনদের লড়াইকে আঁকতে গিয়ে তা নিছক বায়োগ্রাফি বা জীবনী হয়ে ওঠেনি। কীভাবে করলেন তিনি কাজগুলো? তাহলে একটু উপন্যাসের বিস্তারে যাই—
উপন্যাস শুরু হচ্ছে ফতেয়াবাদ স্কুলের এক মুসলিম ছাত্র শামসুর স্বদেশী আন্দোলনে যোগদানের আকুতি থেকে। স্কুলের বদমেজাজি শিক্ষক কল্যাণ দত্ত স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ইদানীং নবম-দশম শ্রেণীর ছাত্রদের সঙ্গে অতীতের ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের শ্রদ্ধা-ভক্তির বেড়াজাল ভেঙে বন্ধু হয়ে উঠছেন, ‘জাঁদরেল শিক্ষকটি এখন সময় অসময়ে কানু, হরি, মতিলাল, গদা এসব হেজিপেজি ছাত্রদের সাথে নিচু গলায় ফুসুর ফুসুর করে।’ শামসু একদিন সেই কল্যাণ স্যারের কাছেই স্বদেশী আন্দোলনে দীক্ষিত হওয়ার জন্য সাহায্য চায়। কল্যাণ দত্ত অবাক হন। বাংলার মুসলিম স্বদেশী আন্দোলনে সেইভাবে সম্পৃক্ত ছিল না। তবু ছাত্রের আকুতি তাকে মুগ্ধ করে। এই শামসু রেঙ্গুন যাবে। সে তো পত্রিকা চালানোর কাজই করবে। কিন্তু গ্রামের উঠতি যৌবনের কামুক সুরুত জামাল? অবিবাহিত এই যুবকের কাজই হলো যুবতীদের উত্ত্যক্ত করে বেড়ানো। একবার এক যুবতীকে এমন উত্ত্যক্ত করার নিন্দনীয় প্রচেষ্টার পর সালিশের আগে মাঝরাতে কর্ণফুলী নদীতে সাম্পান চালিয়ে প্রথমে সে যায় চাটগাঁ শহর। সেখানে পতিতালয়ের এক শিক্ষিত, সুরুচিসম্পন্ন নারী বিনোদবালা, যে কিনা গোপনে স্বদেশী আন্দোলনে ব্রিটিশের সঙ্গে সংগ্রামে আহত বা পালিয়ে বেড়ানো ‘অনুশীলন’ বা ‘যুগান্তর’-এর অনেক বিপ্লবীকে আশ্রয় দেয়, তার কামরায় গিয়ে আশ্রয় চায়। বিনোদবালা তাকেও স্বদেশী ভেবে ভুল করে। অন্য স্বদেশীরাও তাকে স্বদেশী ভাবে এবং ঘটনার আবর্তে রেঙ্গুন গিয়ে তাকে কাজ করতে হয় স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি যে হাতেগোনা অভিজাত চাটগাঁই মুসলিম সহানুভূতিশীল ছিলেন, তাদেরই কারো হেকিমি ওষুধ তৈরির কারখানায়। রেঙ্গুনে আমরা আরো পাই এক মৌলভিকে যে ‘বোম্বাইয়া হাজি’। প্রথমে সে অন্য বাঙালি যুবকদের ‘মগ’ মেয়ের প্রেমে পড়তে নিষেধ করত। পরে নিজেই মসজিদের ইমামতির কাজ ছেড়ে এক মগ মেয়েকে বিয়ে করে চট্টগ্রামের গ্রামে আনে। তার বড় বউ এ বিয়ে মানতে না চাইলেও গ্রামের মাতব্বর রহম বলি বলে, ‘কতা বার্তা ঠিক ঠাক গরি কও মাইজ্যা বউ। আমিনুল্লাহ গুনাহর কাম ন গরে। রেঙ্গুইন্যা বেডিরে শরিয়ত মতো বিয়া গইজ্জে।’ রেঙ্গুন শহরে বাস করা চাটগাঁই বাঙালি মুসলিমদের ভেতর অবশ্য আছেন বার্মা অ্যাসেম্বলির সদস্য বারি চৌধুরীর মতো মানুষও। যিনি মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী তাকে বার্মায় মুসলিমদের জন্য একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানালে তিনি অটলভাবে জানিয়ে দেন, ‘দেড় কোটি বর্মির জন্য না বানিয়ে ১০ লাখ মুসলমানের বিশ্ববিদ্যালয় বানাব? মুসলমানরা কি পড়ালেখা করে? তাদের শিক্ষার হার কত? রোহিঙ্গা, জেরবাদি, বাঙালি, থম্বইক্যাদের আগে প্রাথমিকে-মাধ্যমিকে টেনে আনতে হবে। নতুবা ছাত্র জুটবে কোত্থেকে?’
তিনি মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর কথামতে মুসলিমদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তাদের কাছে চিরস্মরণীয় হওয়ার প্রস্তাব উড়িয়ে দেন। বলেন, ‘কেবল মুসলমানদের কাছে স্মরণীয় থাকলে তো চলবে না। মানুষের কাছে স্মরণীয় থাকতে হবে। ...বার্মাকে ভালোবাসি। এর মাটি, এর মানুষ, সবাই আমার আত্মার আত্মীয়।’ তিনি আরো জানান যে বর্মার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধের বৌদ্ধ ধর্মাচার তো কোনোভাবেই মুসলমানের অস্তিত্বের প্রতি তখনো পর্যন্ত বিরূপ নয়।
একইভাবে বার্মার এনানজ্যাঁও শহরের আর একজন সম্পন্ন বাঙালি মুসলিম রশীদ সিদ্দিকী আর এক বাঙালি যুবক শামসু বর্মী নারী-বাঙালি পুরুষের প্রেম নিয়ে উপন্যাস লেখার কথা শুনে সতর্কবাণী জানান, ‘হ্যাঁ— বিষয় ঠিকই আছে। কিন্তু বার্মায় তো এখন বর্মি-কালার বিবাহ নিয়ে চরম অসন্তোষ চলছে। দ্যাখো, সারা বিশ্বে যত বড় বড় যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটেছে, তার পেছনে আছে নারী। তোমরা যুগ যুগ ধরে তাদের সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করে ধর্ম ত্যাগ করাবে, ভাষা ভুলিয়ে দেবে, সংস্কৃতি বদলে দেবে; সব কিছু জেনে বুঝে বর্মিরা চুপ মেরে থাকবে?’
‘কিন্তু এসব তো জোর করে হয় না। দুজনের সম্মতিতে প্রেম হয়, পরিণয় ঘটে।’
‘প্রেম? পরিণয়! ফু! বর্মীদের অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে, দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে বাংলা আর ভারতের লোকেরা শোষণের ঘুঁটি কি বার্মাজুড়ে বসিয়ে রাখেনি? ব্যবসা, বাণিজ্য, চাকরি, জমি, সেগুন বাগান, নদীর জলযান— সব কিছুই তো তোমাদের কুক্ষিগত। বর্মিরা ক্ষুব্ধ। আমরা ভারতীয়রা, বাঙালিরা কখনো স্বীকার করব না তাদের ক্ষোভের কারণ আমরা। যুগ যুগ ধরে শোষক কখনো শোষণের দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেয়নি।’
‘শ্রীকান্ত’ বা ‘পথের দাবি’ উপন্যাসেও হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাংলা বা ভারতের পুরুষের নির্বিচারে বর্মী নারী বিয়ে করা আবার কখনো বিয়ে করে দেশে আসার সময় প্রতারণা করে ফেলে আসা প্রভৃতি ঘটনার উল্লেখ আছে। এসব কিছুই বার্মায় একাধিকবার বাঙালিবিরোধী দাঙার সূচনা করেছিল। একটা সময় অসংখ্য বাঙালি হিন্দুও সেই দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে বার্মা ছাড়তে বাধ্য হন। প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর পরিবার এমনই একটি দাঙ্গাতাড়িত পরিবার। মূলত বাঙালি বা ভারতীয়দের দিক থেকেও কিছু ঐতিহাসিক দায় হয়তো ছিল, যা আজ সম্পূর্ণ উল্টো সহিংসতার রূপ ধরছে আজকের মিয়ানমারে।
মূল কাহিনীতে ফিরে আসি। অগ্নিকোণ উপন্যাসটি এ কারণেই মজার যে সূর্য সেনের লড়াইকে চিত্রিত করতে গিয়ে এটা শুধুই কিছু ঐতিহাসিক নর-নারীর হাঁটাচলা, কথা বলার বিবরণ হয়ে ওঠেনি। ইতিহাসের মহামানব-মানবীদের পাশাপাশি পতিতালয়ের বিনোদবালা, যে কিনা কংগ্রেসের বন্যাত্রাণে তার পাড়ার মেয়েদের নিয়ে অর্থ দান করে এসে শুদ্ধ মনে সেই বিকালে আর কোনো খদ্দের পাড়ায় ঢুকতে দেয় না কিংবা রেঙ্গুনে নারী নিগ্রহের কারণে তল্লাট ছাড়া সুরুত জামালের মতো অতি সাধারণ মানুষদের স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার কাহিনীও আঁকে। এ উপন্যাসে একদিকে অগ্নিযুগের নেতা যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের মেম বউ নেলী সেনগুপ্তের চট্টগ্রামের গ্রামের বাড়িতে কাছারিঘরে হিন্দু-মুসলিম দর্শনার্থীদের জন্য শাড়ি পরে চা-জলখাবার এগিয়ে দেয়ার বিবরণ পাওয়া যায়। আছে চাটগাঁর ঐতিহ্যবাহী কুস্তি বা বলী খেলার বিবরণ। আছে চট্টগ্রাম শহরের দুই মেয়ে প্রীতিলতা আর কল্পনার কলকাতার কলেজ থেকে ফেরার পথে লুকিয়ে অস্ত্র নিয়ে আসার বিবরণ। আর অস্ত্রাগার লুণ্ঠন থেকে সূর্য সেনের মৃত্যু অবধি বিশাল কাহিনী তো আপনারা পড়েই নেবেন। সব কেন আমিই বলতে যাব? তবে একটিই ছোট্ট বা বড় অভিযোগ আছে লেখকের প্রতি। ২০০৬-এ এক বছর চট্টগ্রামে কাজ করার সময় অদ্ভুতভাবে সূর্য সেন বা প্রীতিলতাদের সময় নিয়ে আমার নিজেরও একটি উপন্যাস লেখার ইচ্ছা হয়েছিল। তবে আমার সুপ্ত বাসনা ছিল যে সেই উপন্যাসে সূর্য সেন বা প্রীতিলতারা চাটগাঁই বাংলায় কথা বলবেন। শুদ্ধ বা প্রমিত বাংলায় কথা বলবেন না। কারণ তারা তো চাটগাঁরই পুত্র-কন্যা ছিলেন। ঠিক আছে— তারা মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত নর-নারী ছিলেন। কিন্তু আমরা ঢাকার শিক্ষিতরা কি অবিকল কলকাতার শিক্ষিতের মতো সংলাপ বলি? কখনই না। আমার দুই পিএইচডি ডিগ্রিধারী বড় বোনও আমাকে ডাকার সময় বলে, ‘কিরে, আসতেছিস না ক্যান?’ আজাদ বুলবুল কি পাঠকের কাছে সহজ হওয়ার জন্যই অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের মুখে শুদ্ধ, প্রমিত বাংলা বসালেন? শুধু দরিদ্র বা প্রান্তিক চরিত্রগুলো চাটগাঁই বলছে? অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের মুখে বইয়ের ভাষা বসিয়ে কৌতুকোদ্দীপক ও বুদ্ধিদীপ্ত যে দারুণ চ্যালেঞ্জটা পাঠকের দিকে ছুড়ে দিতে পারতেন আজাদ, সুযোগ তিনি একটু অনবধানতাবশত হারালেন কি? অবশ্য সূর্য সেনের সাথিরা যখন গ্রামে মুসলিম চাষীপাড়ায় আশ্রয় নিচ্ছে, তখন আবার গ্রামবাসীর সাথে তারা চাটগাঁই ভাষায় কথা বলছে। ভাল লেগেছে রেঙ্গুনে যুবক অং সানের চরিত্রও।
অতিমানুষিক সততা আর পরিশ্রমে ১৯৩০-এর চট্টগ্রামকে স্বদেশী যুগের বিপ্লবী আর গোরা সাহেবদের রঙে, চট্টগ্রামের নানা জায়গার ভৌগোলিক বিবরণে আঁকতে পেরেছেন তিনি। ঢাকার অনেক তথাকথিত উদযাপিত যে লেখকেরা আমরা নানা ধান্দায় (বড় চাকরি, বড় ডিগ্রি, সামাজিক প্রতিষ্ঠা, বিদেশ যাত্রা ইত্যাদি ইত্যাদি) আসল লক্ষ্য বা ভালো উপন্যাস রচনার দীর্ঘ প্রস্তুতি আর পরিশ্রম, একাগ্র নিবিষ্টচিত্ততাটাই আর ধরে রাখতে পারি না, তিনি সেসব থেকে অনেক মোহমুক্ত হয়ে দীর্ঘ উপন্যাস রচনা করেছেন। নোয়াখালীর দাঙ্গা নিয়ে দ্বিতীয় উপন্যাসের কাজ করছেন বলেও তার বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে জানা গেল। ভাষা ও কাহিনীর বিবরণে আর একটু তীক্ষতা ও আধুনিকতার সমন্বয় তাকে আরো অনেক দূর এগিয়ে দিতে পারবে বলে আস্থা রাখা যায়।





