[কেরাণী পুরাণের লেখকের নাম পাওয়া যায় না। তবে বইয়ের নামপত্রে যা উল্লেখ ছিল তা এমন—

KERANI PURAN or A true picture of a kerani,

his home, health and his social status by Experience

কেরাণী পুরাণ।

প্রথম সংস্করণ, কলিকাতা, ৬৪/১ নং মেছুয়া বাজার স্ট্রীট,

মঙ্গলগঞ্জ মিশন প্রেসে শ্রী তারিণীচরণ দাস দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

১৮৮৬।

মূল্য দুই আনা]

 

আদি পর্ব্ব

বেলা ৯টা ১০টার সময় নানান রকমের পোষাক পরা ট্রাম-কারে, গাড়িতে, বা পদব্রজে দক্ষিণদিকে ব্যস্ত হইয়া চলিতেছেন, এরা কে? কাহার ধুতি চাপকান পরা, কাহার ধুতিকোট, কাহার পেন্টালুন চাপকান, কাহার বা পেণ্টালুন কোট; কাহার মাথায় ক্যাপ আছে কাহার বা খোলা মাথা; কাহার ঘড়ি ও সেফটি চেন। পোষাক পরিষ্কার, জুতোগুলি মন্দ নয়, চুল বেশ ফেরাণ, চেহারা ভদ্র লোকের মতন, কোমল দেহ এবং বোধ হয় কোমল প্রকৃতি। উহাদের নাম কেরাণী। কেরাণী? ঈ (ী) হইল কেন? স্ত্রীলিঙ্গে ব্যবহার হয়। হাঁ হাঁ কারণ আছে, স্ত্রীজাতির সঙ্গে উহাদের অনেক সৌসাদৃশ্য আছে। নারীর ন্যায় উহাদের শরীর কোমল এবং অপটু; বাজার হাটের সংবাদ বড় রাখেন না, গৃহের বাহিরে যাইতে বড় ভাল বাসেন না, বিদেশে গিয়া অবস্থা উন্নত করিতে মত নাই। কোন হাঙ্গামের মধ্যে নাই; নির্ব্বিরোধে কোন ক্রমে কাল যাপন করা জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। স্ত্রীলোকের মতন ভীরু স্বভাব, পাছে সাহেব বিরক্ত হন সর্ব্বদা এই ভয়, ব্যবসায় করিলে পাছে ক্ষতি হয়, শিল্প শিখিলে পাছে লোকে নিন্দা করে, চাষ করিলে পাছে “কোমলাঙ্গে” সূর্য্যের করস্পর্শ হয়, এই সকল ভয়েই তাঁহারা আকুল। সকলকেই ভয় করেন, কিন্তু দুঃখ দারিদ্র্য ও ঋণকে ভয় করেন না। সতী যেমন পতিকে কখন পরিত্যাগ করেন না, নানা প্রকার অসহ্য ক্লেশ বহন করিয়াও পতিতেই রত থাকেন, কেরাণীও যতই ক্লেশ কষ্ট পান্ না কেন, প্রাণের কেরাণীগিরি ছাড়েন না; দারিদ্রে হাড় মাটি, অন্নাভাবে আপনারও পরিবারের জীর্ণকায়; সন্তানের বিদ্যোপার্জ্জনের বন্দোবস্ত হয় না; রোগের চিকিৎসা ও ঔষধ পাওয়া ভার, ছেলে মেয়ের বিয়ে দেওয়া ত এক প্রকার অসম্ভব; তবুও আপনাদের প্রাণসর্ব্বস্ব জীবিতেশ্বর কেরাণীগিরি ছাড়িয়া আশ্রয়ান্তর গ্রহণ করেন না; এবং প্রাণান্তেও অপরকে বিধি দেন না। নারীর ন্যায় কেরাণীর সরল স্বভাব উকীল বাবুর মতন “হয়”কে “নয়” এবং ‘নয়’’কে ‘হয়” করিতে জানেন না। জমিদার মহাশয়ের মতন মামলা মকদ্দমা করিতে পারেন না। ব্যবসায়ী লোকেদের মতন এক প্রকার দ্রব্যের দর করিয়া অন্য প্রকার দ্রব্য চালাইতে ইচ্ছা রাখেন না। চাতুরী এবং বুদ্ধিকৌশলে আপনার উন্নতি সাধন করা কেরাণীর ধর্ম নয়; “কৃতবিদ্য অতি উন্নতিশীল” যুবাদের মত যথেচ্ছাচারকে ধর্ম্ম বলিয়া বিশ্বাস করিতে পারেন না এবং সংবাদপত্রের সম্পাদকদিগের মতন বাক্যুদ্ধে দেশে আগুন জ্বালাইতে পারেন না। এই সকল কারণেই “কেরাণী” লিখিতে হইলে ঈ ব্যবহার করিতে হয়।

কেরাণী লিখিতে গেলে ঈ (ী) লিখিত হইবার কারণ বিশদ রূপে বলিলাম। এখন “কেরাণী” নাম কেন হইল, প্রকাশ করিয়া বলি শুন। কে রাণী, ইঁহারা জানেন না বলিয়া ইহাদের নাম কেরাণী। রাণীর রাজ্যে বাস করেন, এবং তাহারই রাজ্যে খেটে মরেন, কিন্তু পরস্পরে জানা শুনা নাই। গবর্ণমেন্ট আপিসে অনেকে ভাল কাজ করে থাকেন, এবং উচ্চ বেতনও পান, এবং অনেক গুরুতর বিষয় উঁহাদেরই “নোট” এবং পরামর্শে মীমাংসা হইয়া থাকে; কিন্তু তাহা রাণীর কানে উঠে না, এবং তাহার জন্য জনসমাজের কাছেও কোন প্রশংসা নাই। ভুল হইলে তিরস্কার আছে এবং মারা পড়িতে তিনিই আগে মারা পড়েন,—যদিও তাঁহার কাজ তাঁহার উপরওয়ালা সাহেব বাহাদুরের হাত দিয়া যায়; কিন্তু গৌরব সাহেবের এবং নিন্দা তাঁহার। সেক্রেটেরিয়েট আপিসের কেরাণী বাবুই মুন্সেফ, ডেপুটি মেজিস্ট্রেট এবং সবজজ প্রভৃতির কার্য্য সমালোচনা করে মন্তব্য লেখেন; এবং তাহার উপরে “বাহাদুরেদের” পদোন্নতি অনেকটা নির্ভর করে; কিন্তু হুজুরেরা কেরাণীকে অতি হীন বলিয়া জানেন, এবং কাছে বসিতে দিতেও বড় ভাল বাসেন না। রাণী যদি কেরাণীকে জানিতেন, ও কেরাণী যদি রাণীকে জানিতেন, এবং কেরাণী যদি রাণীকে কোন কথা জানাইতে পারিতেন, তাহা হইলে কি, তাহার এরূপ দুর্দশা হইত?

রাণী নারীশ্রেষ্ঠ; লক্ষ্মীও নারীশ্রেষ্ঠ। তাই রাণী শব্দ লক্ষ্মী অর্থে আমার অভিধান অনুসারে ব্যবহার হয়। লক্ষ্মীকে কেরাণীরা চেনেন না বলিয়া তাহাদের নাম কেরাণী হইয়াছে। লক্ষ্মী কেরাণীর বাটী আসেন; কিন্তু প্রায় তিন দিনের অধিক আর থাকিতে স্থান পান না। নানা প্রকার উপায়ে কেরাণী লক্ষ্মীকে তাড়াইয়া দেন। যে কয়েকদিন লক্ষ্মী বাটীতে থাকেন, কষ্ট ও ঝনঝাটের সীমা নাই। মেলাই লোকের যাতায়াত এবং গোলমাল। কেরাণী শান্তিপ্রিয়; তাই লক্ষ্মীকে বাটীতে স্থান দেন না। তবে ইহার চলে কিসে? লক্ষ্মী পরম করুণাময়ী; তাই দয়া করে তিন দিনের পর যাইবার সময় তাঁহার সতাত ভগ্নী ঋণদেবীকে কেরাণীর বাটীতে রাখিয়া যান। এই ঋণদেবীই কেরাণীর পরম বন্ধু; ইহার প্রসাদে কেরাণীর খাওয়া পরা চিকিৎসা চলে; সন্তানদের লেখাপড়া শেখান, বিবাহ দেওয়া, স্ত্রীর গহনা ইত্যাদি সকল লেনেদন্ নগদ হয় না। কেবল “যৌতুক” আর পূজার “প্রণামীটা” নগদ দিতে হয়; এদুটা বিষয় যাহাতে ঋণদেবী হস্তে লন, ইহার জন্য অনেক চেষ্টা করিয়াছেন, কিন্তু এখনও কৃতকার্য্য হন নাই। ঋণদেবী কেরাণীকে সকল দেন বটে, কিন্তু উনুতে দুনো লাগান। সে যাহা হউক ঋণদেবীর কোলে কেরাণীর বাস; এমন কি দেবী কখন কখন গৃহ পর্য্যন্ত নির্ম্মাণ করে দেন, তাহা কিন্তু কেরাণীর সন্তানেরা প্রায় ভোগ করিতে পায় না।

আপিস পর্ব্ব

কেরাণী তিন প্রকার। কুলীন, মৌলিক এবং বংশজ। কুলীন ২০০ হইতে ৪০০, বংশজ ১০০ হইতে ২০০, এবং মৌলিক ৩০ হইতে ১০০ টাকা বেতন পান। ৩০ টাকার নীচে যাঁহারা পান তাঁহারা পচা মৌলিক এবং ৪০০ টাকার উপর যাঁহারা পান তাঁহারা মুখ্য কুলীন। বিদ্যা কিম্বা বুদ্ধি অনুসারে পদোন্নতি প্রায় হয় না। কিঞ্চিৎ কার্য্যদক্ষতা, সেলাম, তৈল, ভেট, পরনিন্দা, উপরচালাকী এবং সাহেবের “নেক নজরের” উপরেই পদোন্নতি নির্ভর করে। সকল শ্রেণীর কেরাণীর মধ্যেই বিদ্বান এবং মূর্খ উভয়েরই দর্শন পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিহ্নিত এবং সাবেক কলেজের বৃত্তিধারী দুদশ জনকেও কেরাণীদের মধ্যে পাওয়া যায় এবং তাঁহাদের ভিতর সংবাদপত্র লেখক, সমালোচক, বক্তা এবং গ্রন্থকার দেখা যায়। কিন্তু অধিকাংশ কেরাণী মা সরস্বতীর সঙ্গে বিবাদ করিয়া আপিসে প্রবেশ করেন। অধমতারণ কেরাণীগিরি না থাকিলে তাহাদের যে কি দশা হইত, তাহা কে বলিতে পারে? “পচা আদার ঝাল বড়”, সরস্বতীত্যাগী কেরাণী মহাশয়দের বড় জাঁক। কেহ ভাল নকল করিতে পারেন, কেহ বা ঠিক দিতে পারেন, কেহ বা হিসাব করিতে পারেন, কেহ বা কোন কাগজ কোথায় থাকে মনে করিয়া রাখিতে পারেন, কাহার বা নিয়মাবলী মুখস্থ থাকে, এই সকলের অহঙ্কারে কেরাণী আর বাঁচেন না। প্রত্যেকে আপনাকে বড় কাজের লোক মনে করেন এবং এই উপলক্ষ করিয়া অনেক সময় তুমুল বিবাদ লাগাইয়া দেন। এমন কি অশ্রাব্য এবং অবক্তব্য কথার আদান প্রদান হইয়া থাকে। অহঙ্কার! তুমি ধন্য, তোমার কি অসীম মহিমা? দরিদ্রকে ধনী মনে করাও, কুিসতকে সুন্দর মনে করাও, মূর্খকে পণ্ডিতাভিমানী করিতে পার! কেরাণীদের প্রায় বিবাদ হইয়া থাকে, কিন্তু বালকের ঝগড়ার মতন মনে থাকে না। এই মাত্র বিবাদ কলহ করিলেন এবং পর মুহূর্ত্তেই গলাগলি ভাব। ইহাদের আলাপ পেতনীর হাতের শাঁখার মতন কখন আছে কখন নেই, কিছু বুঝা যায় না। ইহারা বড় গল্পপ্রিয়, কাজ করিতে করিতে নানা প্রকার গল্প করেন, কিন্তু হাত বড় কামাই যায় না। মুখে গল্প হাতে কাজ; এটাই কেরাণীর বিশেষ গুণ। গল্পের বাঁধাবাঁধী কিম্বা কোন যোগাযোগ নাই; সাময়িক হুজুগ, পরনিন্দা আর আহারের গল্পই সাধারণত হইয়া থাকে। গল্প করিতে করিতে গর্মীও চড়ে যায় এবং গালি ও চেঁচামেচিও হয়। এমন কি অনেক সময় অধ্যক্ষ সাহেবের বজ্রধ্বনি না শুনিলে গোলযোগ নিবারণ হয় না।

বিদ্যাশূন্য কেরাণী যদি “হেডরাইটার” হন, তাহা হইলে তাঁহার অধীনস্থ কেরাণীদিগের ঘোর বিপদ। বড় বাবুর মুখ দিয়া কত কি বাহির হয়, গলার স্বর কাঁসার মত খন খন করে। “ভাল করিতে পারিব না মন্দ করিব, কি দিবি তা বল?” উপকার করিবার ক্ষমতা নাই কিন্তু অপকার করিতে বড় পটু; কোন নূতন প্রকার কাব্য বুঝাইতে পারেন না, ধমক দিয়াই সারেন এবং আপনার ভুল পরের মাথায় চাপাইতে পারিলে ছাড়েন না; পাছে তাঁহার “সিদে ভুজ্জির” ব্যাঘাত হয় এই ভয়ে সুশিক্ষিত যুবাকে আপিসে প্রবেশ করিতে দিতে নারাজ; “বন দেশে শিয়াল রাজা” হইয়া থাকিতে তাহার বড় চেষ্টা।

সুশিক্ষিত কেরাণীদের আচার ব্যবহার ও রুচি অন্য প্রকার। অশ্রাব্য কথা তাহাদের মুখে শোনা যায় না, আপিসে কলহ করেন না, এবং গল্প করিবার সময় কোন সামাজিক বিষয় লইয়া মতামত প্রকাশ করিয়া থাকেন। ইঁহাদের মধ্যে অনেকে কোন না কোন প্রকাশ্য সভার সভ্য এবং সেই সভার কার্য্যে আপনাদের কতক সময় ও চিন্তা দিয়া থাকেন। জ্ঞান লাভ করিতেও বিলক্ষণ ইচ্ছা আছে, সাবকাশ পাইলেই লেখাপড়া করিয়া থাকেন। নদের সকলেই পণ্ডিত নয়, সুশিক্ষিত কেরাণীর মধ্যে সকলেই যে সচ্চরিত্র, তাহা নহে। ইহাদের ভিতর শয়তানের প্রিয় চেলাও আছে। তাঁহারা সুরেশ্বরী ও বারাঙ্গনা দেবীর পূজাতে সর্ব্বস্ব আহুতি দিয়া থাকেন এবং অতি অল্পকাল মধ্যেই সিদ্ধিলাভ করিয়া ইহ সংসার ছাড়িয়া চলিয়া যা; স্ত্রী পুত্র পথের ভিখারী হয়।

কেরাণীর স্বাস্থ্য মন্দ নয়, আহার বিহারের আতিশয্যের অভাব এবং নিয়মিত সময়ে আহার এবং নিদ্রা এবং পরিমিত পরিশ্রম কেরাণীর স্বাস্থ্যের মূল কারণ। কেরাণীর ভাবনা চিন্তা কম এবং মস্তিষ্কের পরিশ্রম অধিক নয় এইগুলিই তাঁহার স্বাস্থ্যের অন্যতম কারণ, কেরাণীর মধ্যে অনেক বৃদ্ধ লোক দেখা যায় এবং তাঁহারা এমন সবল যে সামান্য পীড়া হইলেও না খাইয়াই দু-তিন দিন অনায়াসে কাব্য করেন, কিন্তু যুবা কেরাণীদের ভিতর এরূপ লোক অতি বিরল। “সিডেনটারি হ্যাবিট” অর্থাৎ দৌড়-ঝাঁপ করিয়া না বেড়ান পরমায়ু ক্ষয় এবং স্বাস্থ্য হানির একটী কারণ বলিয়া সাহেবেরা নির্দ্দিষ্ট করিয়াছেন। একথা ইউরোপে সত্য হইতে পারে কিন্তু এ দেশে এইটী যে খাটে না কেরাণীর জীবন তাহার প্রমাণ, আমাদের মহিলাগণ যেরূপ করিয়া কাল কাটান, তাঁহাদের ত ইংরাজের মতে সদ্যই যমের বাটী যাওয়া উচিৎ। ঘরের বাহিরে বাহির হন না, চলা ফেরা নাই কেবল বদ্ধ বায়ুতে ও বদ্ধ স্থানে চিরদিন বাস, কিন্তু আমাদের স্ত্রীলোকের মত বিশেষতঃ আমাদের বিধবাদের মতন কে সুস্থ এবং দীর্ঘজীবী? আমাদের প্রাচীন যোগীদের মতে যতই অঙ্গ-চালনা কম ততই আয়ুবৃদ্ধির ও স্বাস্থ্যের অধিক সম্ভাবনা, “বাঁশ মরে ফুলে আর মানুষ মরে বুলে” এই যে চলন কথাটী আছে ইহার মূলে বিলক্ষণ সত্য আছে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে অল্প পরিশ্রম ও শৈত্য সামগ্রী ভোজন করিলে রৌদ্র ও বৃষ্টিতে না বাহির হইলেই শরীর ভাল থাকে। যাঁহারা মদ মাংস সেবন করেন এবং ইংরাজী চালে চলেন তাঁহাদের স্বাস্থ্য প্রায়ই ভালো থাকে না। সাধারণ ভাবে কেরাণীর স্বাস্থ্য ভাল কিন্তু গোটা কত পীড়া আছে যাহা কেরাণীর প্রায় একচেটে; অর্শ, নাসা ও অম্বলের রোগ কেরাণীর ভিতর অনেক দেখা যায়। কিন্তু অম্বল রোগ কেরাণীগিরির জন্য জন্মে না তাহা আপিসের ময়রা মহাশয়ের অনুগ্রহেই জন্মিয়া থাকে। যদিও কেরাণীর মধ্যে অনেকেরই অর্থকষ্ট কিন্তু এই অনটনই অধিক পরিমাণে তাহার ধর্ম্ম এবং স্বাস্থ্য রক্ষা করিয়া থাকে। বিধাতার কি আশ্চর্য্য করুণা ও কৌশল! তিনি দুঃখকেও সুখের কারণে পরিণত করেন। যতই অর্থের সচ্ছলতা ততই ভোগ-বিলাস ও নানা-প্রকার ইন্দ্রিয় সুখের কামনা এবং যতই অধিক ভোগ ততই শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের হানি হয়।