কেরানির দৌড়
ক. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেরানি আবজাল এবং তার স্ত্রীর বাড়িঘর, জমিজমা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য অস্থাবর, সম্পত্তির মালিকানার যে হিসাব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অনুসন্ধিত্সু সাংবাদিকরা জানিয়েছেন তা দেখে বাংলার কেরানিদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা মহাভুল হবে। অধিকাংশই ছা-পোষা কেরানি।
খ. ডাক ও তার বিভাগের অধস্তন কেরানি (লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক) প্রণব কুমার মুখার্জি শেষ পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন এটাই কেরানিদের নিয়তি—এমনও যদি কেউ ভেবে থাকেন তাতেও ভুল হবে।
গ. ৫০ টাকা মাইনের কেরানি জর্জ বিশ্বাস আবজালের মতো ধনকুবেরও হতে চাননি, প্রণব বাবুর মতো রাজনৈতিক স্বপ্নও দেখেননি। তিনি এ টাকার মধ্যেই মেসে ব্যাচেলর জীবন কাটিয়ে ইচ্ছে হলে দু-একটা গরম কচুরি-পান্তুয়া খেয়ে যখন সুবিধে স্বরগম করে হয়ে উঠেছেন সংগীতের রাজকুমার দেবব্রত বিশ্বাস।
ঘ. কেরানি হিসেবে ব্যাংকে নাম লিখিয়ে ৩৯ বছর পর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর হয়েছিলেন এবং আট বছর সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন স্যার লেসলি ও’ব্রিয়েন। ব্যাংক কেরানির গভর্নর হতে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি নেই—কিন্তু ক’জন কেরানি নিজেকে নিয়ে অতদূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন?
ঙ. ১৯০৫ সালে বার্নে অবস্থিত সুইস প্যাটেন্ট অফিসের কেরানি আলবার্ট আইনস্টাইন কোয়ান্টাম থিওরি নিয়ে বিস্ময়কর কিছু আবিষ্কার করে পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেন। কেরানি হলেই আইনস্টাইন হওয়া যায় এমন নয়।
চ. সারা পৃথিবীর হার্টথ্রব ম্যাডোনা ডানকিন ডোনাটের ক্যাশ সহকারী কেরানি ছিলেন। ম্যাডোনাকে দিয়েও কোনো নারী কেরানিকে মূল্যায়ন করা সমীচীন হবে না।
কেরানিকাব্য
কেরানি বিশেষ করে বাংলার কেরানি আসলে কেমন? আমি কেরানি বর্ণনার যা কিছু পড়েছি তার মধ্যে সহি এবং লাগসই মনে হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের কেরানি বর্ণনা—
কেরানি আর গরুর কাঁধ
এই দুই-ই সমান দাদা।
এক নাগাড়ে জোয়াল বাঁধা
টানছে খেয়ে নুন আদা।।
দুইজনে যা জাবনা পায়
দশগুণ তার নাদনা খায়,
হটর হটর টানছে গাড়ি
মানে নাকো জল কাদা।।
দুইজনাতে কথায় কথায়
পাঁচন-গুঁতো ন্যাজমলা খায়,
ছ্যাকড়া টানে বোঝাও বহে
কভু ঘোড়া কভু গাধা।।
বড়ো সায়েব আর গাড়োয়ান
দুই স্যাঙ্গাতেই এক সমান,
হতে নাহি পারে হবেও নাকো
এমন সম্বন্ধ পাতান
গরিবের বউ বউদি সবার
বলে নে বাপ, নেই বাধা।।
কেরানিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও উপেক্ষা করেননি। হরিপদ কেরানিকে নিয়েই তো ‘বাঁশি’—কিনু গোয়ালার গলিতে দোতলা বাড়ির লোহার গরাদ-দেয়া একতলা ঘর পথের ধারেই। সেই ঘরে এক ভাড়ায় তার সঙ্গে একটি টিকটিকিও থাকে; তফাৎ আছে—হরিপদের অন্নের অভাব আছে, টিকটিকির তা নেই। হরিপদ সদাগরি আপিসের পঁচিশ টাকা বেতনের কনিষ্ঠ কেরানি।
হঠাৎ খবর পাই মনে
আকবর বাদশার সঙ্গে
হরিপদ কেরানির কোনো ভেদ নেই।
বাঁশির করুণ ডাক বেয়ে
ছেঁড়াছাতা রাজছত্র মিলে চলে গেছে
এক বৈকুণ্ঠের দিকে।
কেরানির মগজের স্বরাজ
ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের একটি বড় সাফল্য ভৌগোলিক বিচারে ভারতবর্ষের মতো বিশাল সুফলা ভূখণ্ড পেয়েছে, তার চেয়ে বড় সাফল্য ভারতের জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে তারা দাসানুবৃত্তির ওপরে ওঠার মতো মানুষ নয়। যতটা না ভৌতভাবে ভারত পদানত তার চেয়ে বেশি পাদপিষ্ট তার জনগণের বিভ্রান্ত মগজ। শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত লিখেছেন, ব্রিটিশ শাসনে বাঙালি মগজের স্বরাজ হারিয়েছে।
ব্রিটিশ শাসনের আগে হিন্দু-মুসলিম-শিখ নৃপতিরা ভারতের বিভিন্ন অংশ শাসন করেছেন—কিন্তু ব্রিটিশ শাসনে এ প্রভেদ হয়েছে যে, ‘সমগ্র ভারতবর্ষে বিদেশী ইংরেজের প্রভুত্ব স্থাপিত হইয়াছে। দেশি রাজ্য নামে অভিহিত অংশগুলিতেও বিদেশী ইংরেজের প্রভুত্ব স্থাপিত হইয়াছে...আমরা ইচ্ছা করিলেও রাষ্ট্রনৈতিক উন্নতির নিমিত্ত কোন রাষ্ট্রবিধি প্রণয়ন করিতে পারি না। এই অর্থে ইহা সত্য যে ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতে রাষ্ট্রনৈতিক সর্বনাশ হইয়াছে। ইংরেজ-রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হইবার প্রাক্কালে ভারতবর্ষে রাষ্ট্রনৈতিক যে সচেতনতা বা জাগৃতি ছিল না এখন তাহা ঘটিয়াছে বটে; কিন্তু ব্রিটিশ গভর্মেন্ট তাহা ইচ্ছা করিয়া ঘটায় নাই, তাহার অনিচ্ছাসত্বে ইহা ঘটিয়াছে।’
তবে এ জাগৃতি কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। দারিদ্র্যক্লিষ্ট বাঙালি দারিদ্র্য লাঘবে গোলার ধানের বদলে মুষ্টি চাল দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্রতী হয়েছে। তেমনি বাণিজ্যে লক্ষ্মীর বসতি জেনেও কেরানি হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অনুকরণপ্রিয় অনুৎপাদশীল কেরানি হয়েই যেন বিশ্বজয় করে ফেলেছে। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এ পরিস্থিতির একটি কাব্যিক বিবরণী দিয়েছেন—
বাঙ্গালি তোমার কেনা এ কথা জানে কে না
হয়েছি চিরকেলে দাস
করি শুভ অভিলাষ
তুমি মা কল্পতরু আমরা সব পোষাগরু
শিখিনি শিং বাঁকানো
কেবল থাকে খোল বিচিলি ঘাস।
কেরানির দেশের আপদ
কেরানিরা তো অবশ্যই চাকরিজীবী। কিন্তু চাকুরেরা তো পাপিষ্ঠ। কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কেরানি সংস্কৃতির একটি চিত্র তুলে ধরেছেন—
বরাবরই আসচি শুনে—চাকরেগুলোই দেশের পাপ—
লেখক বন্ধ্যা সম্পাদকে দিচ্চে তাদের অভিশাপ।
সবাই কবে হবে চাষা, তাড়ির দোকান খুলচে খাসা
কেউ বা ধোপা হয়ে তোফা কাপড়গুলো করবে সাফ
কারুর নাকি বড়ই দুখখু কেরানীরা দেশের আপদ।
ওরাই শুধু মানুষ কজন—তারাই নাকি খাঁটি শ্বাপদ।
কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কেরানি স্থানের জাতীয় সংগীত রচনা করেছেন—
ধাও ধাও চাকুরীক্ষেত্রে
ধাও—অর্থাৎ গিলে খাও যা তা
রক্ষা করিতে পৈতৃক কর্মে
শোনো—ঐ ডাকে service জাঁতা।
চলো অফিসে মুখে মাখিতে কালি
জয় ট্রাম কোম্পানি; জয় পানওয়ালী!
মাছিমারা কেরানি
বহু বছর আগে মাহবুবুর রহমানের আত্মজৈবনিক কিছু স্মৃতি কিছু ধৃতি গ্রন্থে পড়েছি, তিনি মূলত মাছিমারা কেরানি। কিন্তু ভীষণ দুর্ভাগ্য তার মাছি যে মারবেন, সে মাছিও নেই। মাছিমারার মানে সংসদ বাংলা অভিধান বেশ লিখেছে: ‘ভালমন্দ, শুদ্ধাশুদ্ধ বিচার না করিয়া অন্ধের মতো নকল করে এমন।’ এই অর্থটিই কেরানির সাথে প্রযুক্ত হলে বেশ ভালোই বোঝা যায়, কেরানি সাহেবের অনুকরণের সহি জ্ঞান থাকলেও কাণ্ডজ্ঞান বলে কিছু নেই। কিংবা থাকতে নেই। কেরানির মাছিমারার বেঙ্গল এপিসোডটি পুনরায় শোনানোর আগে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের পর্যবেক্ষণটি জানা প্রয়োজন।
অফিসে নাহি দেখাইব দণ্ড
মৌনি মুখে মারিব মাছি
ডরি না বড় বড়-বাবুর ফন্দ
বেরুবার বেলা যদি না পড়ে হাঁচি
টিকিয়া থাকিব, হব না ক্ষুদ্র-
ছুরি, ফিতা, পেন্সিল ও পেন্ডোন লুব্ধ।
ধাও ধাও চাকরি ক্ষেত্রে
চেপে যাও বাহিরের যত দরখাস্ত
পুণ্য সনাতন পৈতৃক অফিসে
উড়ে এসে জুড়িলে হবে না বরখাস্ত।
শ্রীনবকুমার কবিরত্ন ছদ্মনামা কবির এ কেরানিবীক্ষণ ভারতীতে ছাপা হয়েছিল ১৩২৩ বঙ্গাব্দের মাঘ সংখ্যায়, ঠিক ১০৫ বছর আগে। শতবর্ষ পেরিয়ে এলেও কেরানির গুণগত মানের পরিবর্তন ঘটেনি, তবে প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবনে কেরানির চাহিদা কমেছে। কেরানি এখনো মাছি মারেন।
কম্পিউটার টাইপরাইটার যুগের আগের কথা—স্বল্পসংখ্যক মুনশির জায়গায় কাজ করছেন বহুসংখ্যক কেরানি। একটি পৃষ্ঠা পুঙ্খানুপুঙ্খ নকলের শেষ পর্যায়ে এসে কেরানি সাহেব দেখলেন, কাগজের প্রান্তদেশে একটি মরা মাছি লেপ্টে আছে। কাণ্ডজ্ঞান থাকলে টোকা মেরে ফেলে দিতেন। না থাকাই তার নিষ্ঠাকে প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি তার নকলকৃত কাগজে শুদ্ধতা ও পরিপূর্ণতা আনতে উড়ন্ত মাছিদের বেশ ক’টাকে দু’তালুর চাপে কুপোকাত করে সমান আকৃতির একটি মাছি তার কপি-করা কাগজটির যথাস্থানে বসিয়ে দিলেন।
কেরানির ব্যস্ততা ও নিষ্ঠার জায়গাটি হচ্ছে মাছিমারা। যেহেতু মজুর হিসেবে খাটতে হয় না, চেয়ার-টেবিল দখল করে কাগজে-কলমে কাজ করতে হয়, কেরানিগিরিও হোয়াইট কলার জব। বছরের পর বছর একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কেরানির মানসিক উত্কর্ষ বাড়াতে না পারলেও তার দক্ষতা যে বাড়ায় তা প্রায় নিশ্চিত। অফিসাররা গাল খান তাদের বড় কর্তার—তুমি কি মাছিমারা কেরানি নাকি? কিংবা তুমি এই কেরানি-মানসিকতা নিয়ে অফিসার হলে কীভাবে?
আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে ঠিক এর বিপরীত বর্ণনার ক’জন কেরানিও পেয়েছি। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে বগুড়া কালেক্টরেটে পেশকার ও জুডিশিয়াল মুনশিখানার কেরানি হিসেবে পেয়েছিলাম অবসর গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে আসা আবদুল হাকিমকে। আমরা তাকে বলতাম মিস্টার সিআরপিসি অব নর্থ বেঙ্গল। তার মতো এমন আইন জানা, হুবহু আইন উপস্থাপন করতে পারা কোনো কেরানি কেন, অফিসারকেও দেখিনি। বগুড়াতেই কেরানি পদমর্যাদার নাজির মাহফুজুর রহমানকে পেয়েছিলাম—অসাধারণ ছিল তার কর্তৃত্ব, আমরা সমীহ করতাম, জেলার এমন বিশিষ্ট এলিটদের তিনি কারো ছিলেন মামা, কারো চাচা এবং অনেককেই তিনি জনসমক্ষে ‘তুই’ সম্বোধন করে বলতেন। কক্সবাজার কালেক্টরেটের আনোয়ার মিয়া ধনবান ব্যক্তি, চট্টগ্রামে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা-মসজিদ নিজের অর্থে নিজের জমিতে স্থাপন করেছেন। তাকে যখন জিজ্ঞেস করলাম, আপনার এ নগণ্য কেরানির চাকরি করার কী দরকার, তার জবাব: ‘সম্মানের জন্য চাকরি করি এবং সম্মান পুরোটাই পাই।’ সেখানকার আপার ডিভিশন ক্লার্ক নুরুল ইসলাম স্থায়ী ব্যাচেলর। কেরানির চাকরি করেন—টাকাটা গরিব স্বজনদের তো কাজে লাগে।
কেরানির পূর্বসূরি রামরাম বসুকে নিয়ে প্রমথনাথ বিশী লিখেছেন স্মরণীয় উপাখ্যান ‘কেরী সাহেবের মুন্সি’। ব্রিটিশ শাসন ফারসি জানা মুনশিদের দূরে ঠেলে দেয়, সৃষ্টি হয় কমবেশি ইংরেজি জানা নতুন প্রজন্মের মুনশি—তখন তাদের বলা হচ্ছে ক্লার্ক। আইন, পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন ও বিধি মান্য করা একটি বিশাল কেরানি ব্রিগেড তৈরি হয় ভারতের সর্বত্র। ঔপনিবেশিক শাসকের স্বার্থরক্ষা করে তাদের অনুকূলে বাংলার কেরানিকুল ‘স্মরণীয়’ অবদান রেখেছেন। আইনকানুন, বিধি, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র ইত্যাদিতে এবং অফিস ব্যবস্থা ম্যানুয়ালে ১৫০ বছরে এমন বড় কেনো পরিবর্তন আসেনি, যা কেরানি সংস্কৃতির ভিত নাড়িয়ে দেবে। কেরানি আমলাতন্ত্রের প্রাথমিক ও মৌলিক অংশ। সেবাগ্রহীতা প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীকে উপেক্ষা করতে পারেন, তাতে তার জীবনযাপনের তেমন হেরফের হবে না, কিন্তু কেরানিকে উপেক্ষা করলে টের পাবেন কাকে বলে লাল ফিতের দৌরাত্ম্য। বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ ও অভিযোগ, তার ভেতরে লুকিয়ে আছে সর্বনেশে কেরানিতন্ত্র। সরকারি অফিসাররা কদাচিৎ কেরানির পরামর্শের বাইরে গিয়ে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে: তারা কেরানির চোখ দিয়ে দেখেন, কেরানির মতো কথা বলেন, কেরানির মতোই তাদের বোধ ও বিচারশক্তি। রাষ্ট্রটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্লার্ক রিপাবলিক—কেরানি প্রজাতন্ত্র।
অফিসার অর্থ
একটি কেরানি কাহিনী দিয়ে এপিসোডটি শেষ করব। চাকরিজীবনের এক পর্বে আমি বঙ্গভবনে কর্মরত ছিলাম। আমার অফিস স্টাফদের একজন মহিউদ্দিন তখন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি, কাহিনীটি তার কাছ থেকে শোনা। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ একটি নথিতে এক সারিতে চার-পাঁচটি স্বাক্ষর দেখে প্রথম স্বাক্ষরদাতাকে ডাকলেন, তিনিই মহিউদ্দিন। সহকারী হিসেবে তিনি নথির সূচনা করে তার বিবেচনা অনুযায়ী প্রস্তাব দিয়ে অনুমোদনের জন্য সহকারী সচিবকে দিয়েছেন। সহকারী সচিব মহিউদ্দিনের স্বাক্ষরের ডান পাশে সই করে উপসচিবকে পাঠালেন, উপসচিব যুগ্ম সচিবকে, যুগ্ম সচিব সচিবকে এবং সচিব রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট দেখলেন, অফিস সহকারী ও তার মাঝামাঝি বিভিন্ন পর্যয়ে যে ক’জন অফিসার সই করেছেন তাদের নতুন কোনো ইনপুট নেই। সুতরাং তিনি সচিবকে তার রুমে ডেকে নিয়ে বললেন, এখন থেকে অফিস সহকারী সরাসরি আমার কাছে নথি পাঠাবেন। তার আদেশ বাস্তবায়ন হয়েছে এমন নয়। আমলাতন্ত্রের পূর্ব পদ্ধতিই বেশ বহাল আছে, এখনো।
খ্রিস্টজন্মের আড়াই হাজার বছর আগের প্রাচীন মিসরে হিসাব কেরানির অস্তিত্ব ছিল। এটাকে প্রাচীনতম ধরা হলে কেরানিতন্ত্রের বয়স সাড়ে চার হাজার বছর।
কেরানিরা বরাবরই ছোট বাবু, প্রকৃত বাবু হয়ে উঠতে পারেননি এ বাংলায়।
এমএ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা





