১৬ জুন রবিবার।—এখানে রবিবারে হাট হয়। সাহেব, মেম, নগরবাসী, ভদ্রাভদ্র সকল শ্রেণীর লোকই হাটে গিয়া এক সপ্তাহের উপযোগী আহারীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করেন। আমিও মহাজন-প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করিলাম। বেলা ৭টার সময়ে হাটে গমন করিলাম। হাটটি মিউনিসিপ্যালিটির। একটি বড় ঘর আছে, তথায় নানা রকমের মাংস ও শাক সবজী বিক্রয় হয়। ঐ ঘরের সম্মুখে ও রাস্তার দুই পার্শ্বে অনেক দোকানী পশারী বসিয়া নানাবিধ দ্রব্য, ছাগ, মেষাদি পশু এবং কুক্কুট কপোত ও হংসাদি পক্ষী বিক্রয় করিতেছে। হাটে প্রায় সকলপ্রকার খাদ্যদ্রব্যই পাওয়া যায়, কিন্তু দুর্মূল্য। সুলভের মধ্যে ‘কপি’, ‘মটরের সূঁটী’ ও শাক। একটা বড় বাঁধাকপির মূল্য দুই আনা। মটরের সুঁটী এক আনায় ১ সের। এক সের মেসর মূল্য ১৪ আনা অথবা এক টাকা। কলিকাতা হইতে বরফের বাক্সে বদ্ধ হইয়া মৎস আইসে, এবং তাহাই এখানকার লোকে আগ্রহের সহিত খরিদ করে। মেস রক্তের সম্পর্কও নাই—দেখিলেই ঘৃণা হয়। জিয়ন্ত মেসর মধ্যে কই, মাগুর ইত্যাদি। পাহাড়িয়া নদীতে মৎস পাওয়া যায়—শোল, বোয়াল খরসুল্লা, রঙ্গী, উড়ন্ত, আগর ও রোহিত মৎস এখানকার নদীতে জন্মায়, কিন্তু প্রায়ই স্বাদহীন। দুই হস্ত লম্বা পুইডাঁটার মূল্য এক আনা। এক পয়সায় ৪/৫টি ছোট কাঁচা আমড়া। শশাকে এখানে ক্ষীরা বলে। ক্ষীরা, কুমড়ার মত বড় ও মোটা হয়, একটির মূল্য দেড় আনা। এখনও কমলা লেবু পাওয়া যায়। কমলাকে এ দেশে ‘শান্তলা’ বলে। শান্তলা বড়ই মিস্ট, অসময় বলিয়া ফলগুলি শোলার মত হাল্কা ও মিষ্টতার অভাব হইয়াছে। নূতন গোল আলু উঠিয়াছে, দুই আনায় এক সের। এখানকার গোল আলু বড়ই সুস্বাদু। এখানে ভাল মিষ্টান্ন পাওয়া যায় না। সন্দেশ টাকায় এক সের। এক মণ কোক কয়লার মূল্য এক টাকা ছয় আনা। কাঁচা কয়লা ১৪  আনায় এক মণ। কাঠের কয়লার মূল্য এক টাকা। জ্বালানি কাঠ টাকায় তিন মণ। ভাল চাউল এক টাকায় এক মণ। দুধ টাকায় সাড়ে ১৫ সের। এক সের ভাল মাখনের মূল্য আড়াই টাকা। ডাইল প্রায় সিদ্ধ হয় না। পাকা ও কাঁচা আম্র বিস্তর। যতপ্রকার খাদ্য-দ্রব্য চক্ষে পড়িল, সমস্তই কিছু কিছু ক্রয় করিলাম। দুই জন নানীর পৃষ্ঠে জিনিস বোঝাই করিয়া বাসায় আনিলাম, এবং এক একটি করিয়া বুঝাইয়া দিয়া গিন্নির নিকট হইতে বিলক্ষণ প্রশংসা প্রাপ্ত হইলাম।