বিধ্বস্ত বাগদাদ। ফিকে হয়ে গেছে আন্দালুসিয়ার আলো। সেই জৌলুস নেই ইস্পাহান কিংবা ইস্তানবুলের। ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে ইউরোপের ছায়া ছড়িয়ে পড়ছে মাথার ওপর। মুসলিম দুনিয়ার এ ভাগ্য পরিবর্তন বদলে দেয় তাদের যাপিত জীবনকে। বাঁক আসে দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত সংগীতের ঐতিহ্যেও। একসময় যারা ইউরোপকে সমৃদ্ধ করেছিল নিজেদের সংগীত দিয়ে, এবার তাদের প্রভাবিত হওয়ার সময়। ইউরোপীয় আধুনিকায়নের স্রোত সবার আগে অনুপ্রাণিত করে মিসর, ইরান, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের অভিজাত শ্রেণীকে। তুরস্কে সুলতান তৃতীয় সেলিম, মিসরে মুহম্মদ আলি পাশা, ইরানে রেজা শাহ ক্ষমতায় থাকাকালে ব্যাপকভাবে সংস্কার আনেন শাসন ব্যবস্থায়। আদর্শ হিসেবে তাদের সামনে ছিল পরাক্রমশালী পশ্চিমা দুনিয়া। প্রথমদিকে এ প্রভাব শুধু সামরিক ও প্রশাসনে সীমাবদ্ধ থাকলেও ক্রমে সয়লাব হয়ে পড়ে শিক্ষা ও শিল্প।
পশ্চিমা সংগীতের বিবর্তনে প্রধান নিয়ামক সামরিক প্রয়োজন। সৈন্যবিন্যাস, নির্দেশনা ও পরিচালনার জন্য ব্যবহূত হতো হরেক রকম বাদ্যযন্ত্র। নতুন গান লেখা ও সুর আরোপের প্রয়োজনে শাসকরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনতেন সংগীতকার। ফলে মানুষও আগ্রহী হয়ে ওঠে সংগীতকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে। প্রতিষ্ঠিত হয় শিক্ষাকেন্দ্র। মুসলিম দুনিয়া থেকেও তরুণরা পশ্চিম থেকে নিয়ে আসে সংগীতের দারস। মিসরীয় শাসক মুহম্মদ আলি পাশার চতুর্থ সন্তান সাইদ পাশা ক্ষমতায় আসেন ১৮৫৪ সালে। ১৯৫৬ সালে সুয়েজ খাল খননে তার গৃহীত উদ্যোগ শেষ হয় ইসমাইল পাশার আমলে। খালের উদ্বোধন উপলক্ষে কায়রোতে স্থাপিত হয় অপেরা হাউজ। ২৪ ডিসেম্বর ১৮৭১ সালে ইতালিয়ান কম্পোজার জোসেপ ভার্দি সেখানে পরিবেশন করেন বিখ্যাত অপেরা ‘আইদা’। প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের সংস্কৃতিতে শুরু হলো নতুন যুগ। অপেরার পাশাপাশি প্রসারিত হলো পশ্চিমা সংগীতের রীতি ও পদ্ধতি। ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হলো স্থানীয় সংগীতকার ও তরুণরা। এতদিন সংগীত দল ‘তখত’ পরিবেশন করত ‘ওয়াসলা’। ওয়াসলা হলো একই মাকামের দশ থেকে বারোটি গানের সমষ্টি। তখত বিবর্তিত হয়ে ইউরোপীয় অর্কেস্ট্রার আদলে আত্মপ্রকাশ করল ‘ফিরকাহ’। কনসার্ট ও থিয়েটার হলের বাইরেও কফি হাউজ, বৈকালিক আড্ডা কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় হলো নতুন ধারার সংগীত। প্রচারিত হলো রেডিও ও টেলিভিশনে। এই সময় দেখা মেলে উম্মে কুলসুম, আবদুল ওয়াহহাব, ফরিদ আল আতরাশ এবং আবদুল হালিম হাফিজের মতো সংগীত তারকাদের। পশ্চিমা ধারার সঙ্গে মিসরীয় ঐতিহ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধনের একটা প্রবণতা স্পষ্ট হতে থাকে। নগরায়ণ এই প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করে তুলল। নতুন গড়ে ওঠা মধ্যবিত্ত শ্রেণী শক্তি উৎসের ভূমিকা পালন করল সংস্কৃতির এ পরিবর্তনে। যার ফলাফল হিসেবে বিশ শতকে আবির্ভাব ঘটে সাইয়িদ দারবিশ, রিয়াদ আল সোনবাতি, মোহাম্মদ আল কাসাবগি এবং জাকারিয়া আহমেদের মতো শক্তিশালী প্রতিভার। ইতালীয় অপেরা থেকে অনুপ্রাণিত সাইয়িদ দারবিশকে গণ্য করা হয় আধুনিক মিসরীয় সংগীতের জনক হিসেবে। ১৯৩২ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত হয় আরব সংগীত সম্মেলন। এ ঘটনা মিসরীয়দের জন্য সুযোগ করে দেয় ইউরোপীয় সংগীত শিক্ষা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে। সম্মেলন ও তার গৃহীত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সংগীতের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে অনেকটাই।
তুরস্কের সংগীতে আধুনিকায়নের বাতাস লেগেছে উসমানি শাসনামলেই। সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ ১৮২৬ সালে জানিসারি বাহিনী বিলুপ্ত করে ইউরোপীয় ধারায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত করেন। প্রথমে সামরিক প্রয়োজনে ও পরে দরবারে পরিচিত হয় পশ্চিমা সংগীতচর্চা। রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮২৮ সালে সংগীতের প্রশিক্ষক নিযুক্ত হন বিখ্যাত ইতালীয় সংগীতকার জোসেপ দোনিজেতি। তারপর ১৮৪৬ সালে আসেন ইতালীয় সংগীতকার ক্যাসিস্তো গুয়েতেলি ও ১৮৮০ সালের দিকে স্প্যানিশ সংগীতকার আরেন্দা পাশা। তাদের সঙ্গে আসে সংগীতের পশ্চিমা ধারা। সাগ্রহে রপ্ত করতে থাকে স্থানীয় তরুণেরাও। ১৯২৪ সালে আতাতুর্ক কামাল পাশার নেতৃত্বে অবসান ঘটে উসমানি যুগের। আরো উদারভাবে দরজা খুলে দেয়া হয় পশ্চিমা দুনিয়ার জন্য। কামাল পাশার সরকার তুর্কি তরুণদের সংগীত শিক্ষার জন্য অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্সে পাঠায়। স্থানীয় অভিব্যক্তির সঙ্গে ক্রমেই যুক্ত হতে থাকে পশ্চিমা সংগীতের তত্ত্ব। তুরস্কের পঞ্চপাণ্ডব হিসেবে পরিচিত পাঁচজন তুর্কি সংগীতকার এক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। আহমেদ আদনান সাইগুন, উলভি জেমাল এরকিন, জেমাল রেশিত রেই, হাসান ফেরিত আলনার এবং নেজিল কাজিম আকসেস বদলে দিয়েছে পরবর্তী ইতিহাস। আনাতোলিয়ার লোকজ উপাদান ও পশ্চিমা রীতির মিশেলে দেখিয়েছেন অভূতপূর্ব সাফল্য। অবশ্য নাগরিক শ্রেণী পরিবর্তনের এ স্রোতে দ্রুত মিশে গেলেও বেশ বিচ্ছিন্ন থেকেছে গ্রামীণ সমাজ। ১৯৩৫ সালে সরকার ধ্রুপদি সংগীতকে রেডিওতে সম্প্র্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গ্রামীণ সমাজ এ সিদ্ধান্তে ঝুঁকে গেল মিসরীয় রেডিও চ্যানেলের দিকে। মিসরে তখন আরবি সংগীতের আধুনিকায়নের যুগ। নতুন এ অভিমুখের জন্য তুরস্কে জন্ম নিয়েছে অ্যারাবেস্ক ঘরানার সংগীতচর্চা। ১৯৩৬ সালে জার্মান সংগীততত্ত্ববিদ হিন্ডেমিথের সহযোগিতায় তুরস্কে প্রতিষ্ঠিত হয় সংগীত বিদ্যালয়। সরকারি প্রচেষ্টায় সংগ্রহ করা হয় প্রায় ১০ হাজার লোকসংগীত। তুরস্কে আসেন হাঙ্গেরীয় সংগীতকার বেলা বার্তক (১৮৮১-১৯৪৫)। পশ্চিমা প্রভাবের একটা উদাহরণ হতে পারে লাইলা হানিম (১৮৫০-১৯৩৬)। প্রায় ২০০ সংগীত রচনা করেছেন তিনি, সবই পশ্চিনা ধাঁচ অনুসরণ করে। এছাড়া রোমানিয়ান লোঙ্গা ব্যবহারে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন সানতুরি এসেম বে। লোকজ উপাদান মিশিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন সেভকি বে। তুরস্কের এ নয়া আন্দোলন ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে নিকট প্রাচ্যের সংগীতকারদের মাঝে।
ইরানে সংগীতচর্চায় পশ্চিমা বাতাস জোরেশোরে লাগে পাহলভি শাসনামলে (১৯২৫-১৯৭৯)। তুরস্কের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় সব ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন। ১৯৩৪ সালে তেহরানে প্রতিষ্ঠিত হয় সংগীত বিদ্যালয়। ইউরোপ থেকে আনা হয় সংগীতজ্ঞ ও প্রশিক্ষক। শুরু হয় অপেরা, অর্কেস্ট্রা ও সংগীত দল গঠনের যুগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই ঝোঁক আরো শক্তিশালী রূপ লাভ করে। বিবর্তন এতটাই দ্রুত ছিল যে ১৯৭০ সালের দিকে তেহরানের জীবন যেকোনো ইউরোপীয় শহরের চেয়ে কোনো দিকে কম ছিল না। ছোট-বড় অনেক অপেরা কোম্পানি, সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও ব্যালে নাচের দল ছিল শহরজুড়ে। আয়োজন করা হতো সংগীতের বিভিন্ন উৎসব ও কনসার্ট। দেশ-বিদেশ থেকে তেহরানে আগমন করতেন খ্যাতনামা সংগীতবোদ্ধা। নতুন মাত্রা যোগ করে রেডিও ও টেলিভিশন। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগেই চলতে থাকে পশ্চিমা সংগীতের তত্ত্ব ও প্রশিক্ষণ। ইউরোপ থেকে সংগীতের দারস নিয়ে এসে পথিকৃতের ভূমিকা রাখেন আলি নকি উজিরি। প্রচলিত পারসিক সুরে আরোপ করেন ইউরোপীয় রীতি। পরিবর্তিত হয় পারসিক গানে রাদিফের প্রয়োগ। তার ছাত্রদের মধ্যে থেকে আবুল হাসান সাবা, রুহুল্লাহ খালেকি, জাভেদ মারুফি এবং হেশমাত সানজারি খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করেন। পশ্চিমা প্রভাবে সংগীত পরিবেশনের রীতিতেও আসে পরিবর্তন।
আরব বিশ্ব উল্লেখযোগ্য সময় যেহেতু ইউরোপের উপনিবেশ হিসেবে ছিল, জনজীবনের মতো সংগীতে পরিবর্তন আসাটা স্বাভাবিক। প্রথমদিকে মিসরীয় সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রভাবিত করেছে উপসাগরীয় দেশগুলোকে। আরব বিশ্ব তিনটি ধাপে সংগীতে পশ্চিমা উপাদান গ্রহণ করেছে। প্রথমত পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রগুলো আমদানি ও তাদের ব্যবহার রপ্ত করে। দ্বিতীয়ত ফনোগ্রাফের ব্যবহার প্রসারিত হওয়ার মাধ্যমে। আগে আরবি গান দীর্ঘ হতো ১ ঘণ্টার বেশি। অডিও রেকর্ডারের জন্য দৈর্ঘ্য কমে এল অবিশ্বাস্যরূপে। ক্যাসেট ও অডিও প্লেয়ার সহজলভ্য হয়ে ওঠায় জনপ্রিয় পশ্চিমা গানগুলো এল হাতের নাগালে। সর্বশেষ নিয়ামক হয়ে উঠেছে রেডিও আর টেলিভিশন। সৌদি আরবের নিকট ইতিহাসে সংগীতকার হিসেবে তারিক আবদুল হাকিম, সারাজ ওমর, গাজি আলি, মুহাম্মদ আল সিনান ও মুহাম্মদ শাফিকের নাম গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আবদুল হাকিমের ব্যক্তিগত রেকর্ডিংই তিন হাজার রিল। ১৯২০ সালে তায়িফে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সংগীত রচনা, সংগীতসংক্রান্ত নানা যন্ত্রপাতি ও লোকজ উপাদান সংগ্রহে ছিল গভীর আগ্রহ। ১৯৫২ সালে সামরিক বাহিনীতে ব্যবহূত সংগীত শেখার জন্য মিসর সফর করেন তত্কালীন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মানসুর বিন আবদুল আজিজের প্রস্তাবে। দেশে ফিরে কাজ করেন ওয়াদি আল সাফি, সামিরা আহমেদ, তালাল মাদ্দাহ, মুহাম্মদ আবদু, মুহাম্মদ কিন্দিল এবং নাজাত আল সাগিরার মতো আরব সংগীতের পথিকৃেদর সঙ্গে। স্যাটেলাইটের আগমন উপসাগরীয় অঞ্চলের সংগীতে নতুন বাঁক হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে আরব আমিরাত ক্রমেই পশ্চিমা ধারাকে গ্রহণ করে নিচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে আসা সংগীতকাররা প্রায়ই সেখানে আসেন। তরুণদের মধ্যে সংগীত নিয়ে ক্রমেই বেড়ে উঠছে আগ্রহ। পশ্চিমা সংগীতের টিভি চ্যানেলের সঙ্গে বেড়ে চলছে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংগীতে সংযুক্তি।
১৪৯২ সালে আন্দালুসিয়া থেকে নির্বাসিত মুসলমান ও সেফারদিক ইহুদিরা ঠাঁই নেয় উত্তর আফ্রিকায়। সঙ্গে করে নিয়ে আসে আন্দালুসিয়ান সংস্কৃতি। ঔপনিবেশিক যুগের আগে অবধি সেখানে প্রভাবশালী সংগীত ছিল গানওয়া, মালহুন ও নুবাত ঘরানার সংগীত। উপনিবেশ আমলে ত্রিশের দশকে মরক্কোয় জন্ম নেয় রাই ও শাবির মতো নতুন ধারা। লোকসংগীত হলেও মিসরীয় ও সিরীয় পপসংগীতের মতো মরক্কোর শাবিতেও রয়েছে ইউরোপীয় প্রভাব। আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে ষাটের দশকেই তরুণেরা ইউরোপীয় সংগীত নিয়ে সচেতন হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পশ্চিমা যন্ত্রপাতির সহযোগে সংগীত পরিবেশনের প্রথম ব্যান্ড ‘নাস আল গিওয়ানে’। তাকে অনুসরণ করে ক্রমে গড়ে ওঠা জিল জিলালা, লেমশাহেব ও ইজেনজারেন ব্যান্ডগুলো মরক্কোর মাটিতে জনপ্রিয় করে তুলে পপ সংগীত। পশ্চিমা ধারা থেকে প্রভাবিত হলেও অধিকাংশ ব্যান্ডই স্থানীয় ঐতিহ্য থেকে তুলে এনেছে শব্দ ও সমস্যাবলি। পরবর্তী প্রজন্মের ওপর ইউরোপীয় প্রভাব বেড়েছে। উদ্ভব ঘটেছে র্যাপ, হিপহপ, হার্ড রক এবং অন্যান্য পশ্চিমা ঘরানার সংগীতের।
ব্রিটিশ উপনিবেশে থাকাকালেই এখানে সংগীতের পশ্চিমা ধারার অনুপ্রবেশ ঘটে। দেশ ভাগের পর সেই রাস্তা আরো প্রশস্ত হয়। মুসলিম অভিজাতরা পরিচিত হতে থাকে বিটলস, পিংক ফ্লয়েড, লেড জেপলিন আর এলভিস প্রিসলির সঙ্গে। ১৯৯০ সালের গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘটনা ‘জুনুন’ ব্যান্ডের আত্মপ্রকাশ। চিরাচরিত সুফি সংগীতকে পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তারা হাজির করেছেন ‘সুফি রক’ নামে। অবশ্য গজল ও কাওয়ালি ধারাও এগিয়ে চলল মেহদি হাসান, তুফায়েল নিয়াজি ও নুসরত ফতেহ আলি খানের মতো সংগীতকারের হাত ধরে। আধুনিকায়নের স্রোতে যুক্ত হয়েছে বাঙালি বংশোদ্ভূত আলমগীর হক ও হাসান জাহাঙ্গীরের নামও। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কোক স্টুডিও সেই অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা। বিভাজনের পরও ভারতীয় মুসলিম মননও এগিয়ে চলছে নিজস্ব দ্যোতনায়। যার উদাহরণ অস্কারবিজয়ী এ আর রহমান।
২০০৩ সালে ‘আল-মুয়াল্লিম’ অ্যালবাম সাড়া ফেলে দেয় মুসলিম দুনিয়ায়। পশ্চিমা পরিবেশে বেড়ে উঠলেও শেকড়সন্ধানী সামি ইউসুফ। ক্রমে জনপ্রিয় হতে থাকে পপ-নাশিদ ও ইসলামিক পপ ধারণা। সংগীতজগতে পা রাখেন মাহের জেইন, মেসুত কুরতিস, হুমুদ ও হামজা নামিরা। ২০১২ সালে স্পেনের গ্রানাডায় আলি কিলারের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আল-ফেরদাউস এনসেম্বল’। যন্ত্রপাতি আধুনিক হলেও সুর ও কথায় স্বর্ণযুগের বাগদাদ ও আন্দালুসিয়ার ছাপ স্পষ্ট। সব মিলিয়ে মুসলিম দুনিয়া বর্তমানে অবস্থান্তর পর্ব পার করছে। পশ্চিমা স্রোতের সঙ্গে চলছে নতুন ভাবে উত্তরণের প্রচেষ্টা। আঞ্চলিকতার প্রভাবে সেই প্রচেষ্টা কিছুটা ব্যতিক্রম স্বভাবে ও আচরণে।
আহমেদ দীন রুমি: লেখক





