একটা জনপ্রিয় ধারণা প্রচলিত যে শাসক, রাজনৈতিক কৌশলে মোগল বাদশাহ জাহাঙ্গীর দুর্বল ছিলেন। তিনি স্ত্রী নূর জাহানের হাতের পুতুল ছিলেন—এমন কথা জনপ্রিয় ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলে প্রচলিত। এ প্রবন্ধ এমন ধারণার বিরুদ্ধে বিশ্লেষণ হাজির করবে। এক্ষেত্রে যে ইতিহাস তত্ত্বের ওপর এমন নেতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটি নিয়ে আলোচনা এবং পরবর্তী সময়ে তার আত্মজীবনী তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরীকে পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। এতে এক স্পষ্ট ও মৌলিক রাজনৈতিক কণ্ঠের সন্ধান পাওয়া যায়। এতে দেখা যায় জাহাঙ্গীর খুবই দক্ষভাবে তার শাসক, প্রকৃতিবিদ ও সংগ্রাহক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় করেছেন। শেষে আলোচিত হবে তার এই ডিসকোর্সের প্রভাব নিয়ে, বিশেষত মোগল অভিজাত ও ধর্মীয় নেতারা এসব নিয়ে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

অনেক প্রার্থনা, শপথ আর তীর্থযাত্রার ফসল ছিলেন তিনি। সেকালের সবচেয়ে ধনী ও গৌরবান্বিত শাসকের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি পেয়েছিলেন গোলাপের পাপড়ি বিছানো পথ। পুরো জীবনে তিনি তার ইচ্ছা ও প্রতিজ্ঞা পালনে দুর্বলতা দেখিয়েছেন। তার চেয়ে প্রতিভাবান ও দক্ষ মানুষের কৃপার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এসব ত্রুটি আরো গভীর হয়েছে তারুণ্য থেকেই তার এক আসক্তি (মদাসক্তি) থেকে, যা তার অকালমৃত্যু ডেকে এনেছিল। অতি মদাসক্তি ছিল মোগল পরিবারের সাধারণ পাপ।

জাহাঙ্গীরের শাসন নিয়ে প্রথম আধুনিক গবেষণা রচনা করেছিলেন বেণি প্রসাদ। তার গ্রন্থের (১৯২২) শুরুতেই তিনি জাহাঙ্গীরকে নিয়ে এমন কর্কশ কথাগুলো শুনিয়েছেন। বলাই বাহুল্য এ বাদশাহকে নিয়ে প্রচলিত সাধারণ কিছু ধারণা (তার চরিত্রের দুর্বলতার বড় একটি বিষয় ছিল মদাসক্তি) উঠে এসেছে এ লাইনগুলোয়। মোগলদের স্বর্ণযুগ (১৫৫৬-১৭০৭) বলে পরিচিত সময়কালের সম্রাটদের মধ্যে জাহাঙ্গীরকেই রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল বলে বিবেচনা করা হয়। উজ্জ্বল পিতার ধূসর উত্তরাধিকার যিনি মদ আর আফিমে ডুবে থেকে সময় কাটিয়েছেন, হঠাৎ ক্রুদ্ধ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অন্যদিকে ছিলেন শিল্পের সমঝদার, কৌতূহলী, প্রকৃতি বিজ্ঞানে আগ্রহী। ঔপনিবেশিক ও উপনিবেশোত্তর ইতিহাসবিদরা মূলত এমন ধারণাটিকেই বিস্তৃত করেছেন। শেষমেশ যে জনপ্রিয় মতটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেটি এমন—একজন সার্বভৌম শাসক, যিনি বিয়ের পর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব থেকে এক রকম স্বেচ্ছাবসর নিয়েছিলেন। নূর জাহানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল ১৬১১ সালে, সিংহাসনে বসার মাত্র ছয় বছর পর। বলা হয় এরপর থেকে ১৬২৭ সালে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাম্রাজ্য শাসন করেছে একটি জুন্টা, যার কেন্দ্রে ছিলেন নূর জাহান, সঙ্গে ছিলেন তার বাবা ইতিমাদ-উদ-দৌলা ও ভাই আসফ খান। কিছু সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে ছিলেন ভবিষ্যৎ সম্রাট শাহজাদা খুররম বা শাহজাহান।

এ প্রবন্ধে মনোযোগ দেয়া হবে জাহাঙ্গীরের স্মৃতিকথার ওপর। আমার চোখে রচনাটি তার শাসনামলের যেকোনো পুনর্মূল্যায়নের সূচনা বিন্দু। আমার মতে এটি প্রয়োজনীয় মনোযোগ পায়নি।


সার্বভৌম শাসক

আগেই যেমনটা বলা হয়েছে সব মোগল সম্রাটদের মধ্যে জাহাঙ্গীরকেই শাসন বিষয়ে সবচেয়ে কম আগ্রহী বলে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু তার আত্মজীবনীর নিম্নোক্ত অংশটি ভিন্ন চিত্র আমাদের সামনে হাজির করে—

‘জাহাঙ্গীরনামা’-তে ১২ বছর রাজত্বের ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ হওয়ার পরে আমি আমার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের কর্মচারীদের বললাম তার ঘটনাপঞ্জি একটি স্বতন্ত্র পুস্তকে সংযোজিত করে আরো কয়েকটি অনুলিপি প্রস্তুত করতে। এর কারণ হলো আমি তা আমার বিশিষ্ট কর্মচারীদের যাতে দিতে পারি এবং তারাও সে পুস্তক বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দিতে পারবেন। আর তথাকার শাসনভার যাদের হাতে তারা ও আমার অন্য শুভানুধ্যায়ীরা তাদের কর্মনীতির আদর্শ হিসেবে তা কাজে লাগাতে পারবেন।

এ থেকে বোঝা যায় খোদ জাহাঙ্গীর তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে যা ভাবতেন, সেটার মূল্যায়নে আধুনিক ইতিহাসবিদরা যা বলেছেন তাতে ভুল বোঝাবুঝির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তার স্মৃতিকথায় লিখিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অনুশীলনের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ইসলামের ভূমিকা

জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক ভাবনায় ইসলামের ভূমিকা এবং মুসলিম অভিজাত ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার ভূমিকার বিষয় দুটো ভিন্ন হলেও তারা পরস্পর যুক্ত। একদিকে আকবরের আমলে পাশে সরিয়ে দেয়া মুসলিম অভিজাত, উলেমাদের একটি বড় অংশের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন। জ্যেষ্ঠ পুত্র খসরুর বিদ্রোহ দমনে উলেমাদের সমর্থন আদায়ের জন্য তিনি তাদের বিস্তর সুবিধা দিয়েছেন। এ উদ্যোগ ফল দিয়েছিল, জাহাঙ্গীর ক্ষমতার লড়াইয়ে সাম্রাজ্যের প্রধান বিচারপতি মিরন সদর জাহান এবং উলেমা ও সুফিদের পৃষ্ঠপোষক প্রভাবশালী আমির শেখ ফরিদ বুখারির সমর্থন পেয়েছিলেন। উলেমাদের সমর্থন নিশ্চিত করতে জাহাঙ্গীর বিভিন্ন ইসলামী উৎসবে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করেন। খুসরোর বিদ্রোহ দমন এবং ক্ষমতা পোক্ত হওয়ার পর সম্রাট তার এ ধর্মঘনিষ্ঠ অবস্থান কিছুটা হালকা করেছিলেন। তবে জীবনের কখনই তিনি তার অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেননি। এমনকি ১৬১১ সালে উলামাদের পুরনো এক দাবি মেনে নেন, ফলে প্রধান বিচারপতি ও কাজিদের তার সামনে ঝুঁকে কুর্নিশ করতে হতো না। বিখ্যাত শেখ আহমেদ শিরহিন্দিকে গ্রেফতারের পেছনে ছিল উলামাদের এক অংশের দাবি। তারা নকশবন্দি তরিকার বিভিন্ন মতবাদকে ধর্মবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

কিন্তু এসব তোষণমূলক পদক্ষেপ থেকে এটা কোনোভাবেই বলা যাবে না যে জাহাঙ্গীর কঠোর ইসলামী আইন বাস্তবায়নের পথে হেঁটেছিলেন। বরং তিনি তার নিজের বাবার পথই অনুসরণ করেছেন। নিজেকে তিনি পীর হিসেবে গণ্য করতেন এবং অভিজাতদের মধ্যে ছিল তার শিষ্যরা। শাসন পরিচালনা বা আইনি কাঠামোয় তিনি শরিয়া প্রয়োগ করতে যাননি। রাজনৈতিক চিন্তা কিংবা কর্মের পেছনে ইসলাম ধর্মের শক্ত রেফারেন্স দেখা যায়নি। আর যেটুকু দেখা গেছে তা মূলত পরোক্ষভাবে। এ পরিপ্রেক্ষিত থেকে কাংগ্রা দুর্গ দখলের পর জাহাঙ্গীর যে গোঁড়া আচরণ দেখিয়েছে (দুর্গে গরু জবেহ) করেছেন, সেটাকে মেলানো কঠিন হয়ে যায়। তবে এ ঘটনা ধর্মীয় উগ্র আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না বরং ছিল মুসলিম রাজনৈতিক শক্তির কাছে দুর্গের পতনের নির্দেশক। সুফি ও উলামাদের সঙ্গে পিতার মতোই আলাপ-আলোচনা করতেন। কিন্তু এখানেও সম্রাট হিসেবে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক ছিলেন, উলামাদের কাছে তিনি কখনো রাজনৈতিক বিষয়ে উপদেশ চাইতেন না। প্রকৃতপক্ষে, বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে তিনি উলামাদের সমর্থন নিয়েছেন তাদের খুশি করে, কিন্তু একই সঙ্গে নিজে যে মতাদর্শ অনুসরণ করেছেন তা ইসলামী আইন থেকে উদ্ভূত নয় বরং শাসন পদ্ধতিসংক্রান্ত সাহিত্য থেকে যা চরিত্রগতভাবে অনেকটাই সেকুলার।

আখলাকি ঐতিহ্য

আখলাক বা নৈতিকতা বিষয়ে আত্মজীবনীতে বিশেষ কোনো কাজের কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু এর প্রভাব যে ভালো রকমই ছিল তা সম্রাটের লেখায় পরিষ্কার। তিনি মধ্যযুগের নীতিবিষয়ক সাহিত্য অনেক জায়গায় উল্লেখ করেছেন। এসব কাহিনীর প্রতি তার আকর্ষণ ছিল। এক্ষেত্রে তার একটি গল্প ছিল রাজা ও এক মালিকে নিয়ে। এ গল্পে সাম্রাজ্যের উন্নতিতে রাজার ভূমিকার গুরুত্বের কথা উঠে এসেছে। দ্বিতীয়ত, তিনি তার বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার বিবরণ শেষে একটি ম্যাক্সিম উল্লেখ করতেন। সর্বশেষ যে বিষয়টি উল্লেখ করা যায় তিনি পশুপাখিদের নিয়ে তৈরি গল্প খুব পছন্দ করতেন, যেগুলো ছিল মূলত নৈতিকতা ও রাজনীতি নিয়ে উপকথা।

ক্ষমতার চর্চা: মূল্য ও পদ্ধতি

ন্যায়বিচারের প্রতি জাহাঙ্গীর এতটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন যে তার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম নির্দেশনাটাই ছিল এ বিষয়ে—

আমার রাজ্যলাভের পরে আমি সর্বাগ্রে যে হুকুমটি জারি করেছিলাম তা ছিল ‘ন্যায়বিচারের শিকল’ সুদৃঢ় করার হুকুম। এটি করেছিলাম এজন্য যে যারা বিচারকার্যের ভারপ্রাপ্ত তারা যদি সে কাজে বিলম্ব করেন বা কোনো ন্যায়বিচার প্রার্থীর সঙ্গে কপট আচরণ করেন, তাহলে সেই নিগৃহীত ব্যক্তি এ ন্যায়-শিকলের কাছে এসে এটিতে নাড়া দিয়ে শব্দ তুললে আমার মন সেদিকে আকৃষ্ট হবে।

এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবেই জাহাঙ্গীর রাজা ডেভিড ও সাসানীয় শাসক আনুশিরওয়ানের আদর্শ অনুসরণ করেছিলেন। জাহাঙ্গীর অবশ্য এর পরে আর ‘ন্যায়বিচারের শিকল’-এর কথা উল্লেখ করেননি। এ থেকে বোঝা যায়, এটা যতটা না ছিল প্রশাসনের সক্রিয় উপাদান, তার চেয়ে বেশি প্রতীকী। আত্মজীবনীর বিভিন্ন অংশে দেখা যায় তিনি শুধু মানুষ নয়, পশুপাখির জন্যও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী ছিলেন। এছাড়া যেকোনো সামাজিক মর্যাদার মানুষের ক্ষেত্রেই তিনি নিরপেক্ষ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। ন্যায়পরায়ণ শাসকের দায়িত্ব কেবল সর্বোচ্চ পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই নয়, সঙ্গে প্রজাদের নিরাপত্তা ও উন্নতির দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। এক্ষেত্রে প্রজাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি সবার আগে চলে আসে। এজন্য বন্যপ্রাণী শিকার ছিল একটি জরুরি কাজ। শিকারে জাহাঙ্গীরের অনেক দুঃসাহসী তত্পরতার উল্লেখ পাওয়া যায়। সম্রাটকে তার প্রজাদের ক্ষমতাবানদের বলপ্রয়োগ থেকেও রক্ষা করতে হয়, বিশেষত এক্ষেত্রে তার নিয়োগ করা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের রোষ থেকে। পুরো জাহাঙ্গীরনামায় এমন অনেক কর্মকর্তার পদাবনতি, পদচ্যুত করা কিংবা ডেকে পাঠানোর মতো ঘটনার উল্লেখ আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব শাস্তি দেয়া হয়েছে স্থানীয় জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চালানোর দায়ে।

জাহাঙ্গীর তার আত্মজীবনী এবং আরো মাধ্যম ব্যবহার করে নিজের রাজনীতিকে জনগণের সামনে প্রকাশ করেছেন। মোগল অভিজাতদের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় জাহাঙ্গীর তার শাসনকে বৈধ ও স্থায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে পিতা আকবরের মতো জাহাঙ্গীর অভিজাতদের বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছিলেন অনেক কম। মহব্বত খানের ঘটনাটি অবশ্য ব্যতিক্রম। ধর্মীয় নেতাদের প্রভাবশালী অংশটি জাহাঙ্গীরের ডিসকোর্স ও নীতির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। বাস্তববাদী নীতি ও সহনশীলতা সমকালীন রাজনৈতিক-ধর্মীয় চাপ মোকাবেলায় তাকে সক্ষম করে তুলেছিল। গোঁড়া ধর্মীয় সম্প্রদায়টি মোগল সম্রাটের প্রতি তাদের আস্থা ফিরে পেয়েছিল। রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উলামাদের দুটো নীতিসংকলন জাহাঙ্গীরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল, যা স্পষ্টতই পরিস্থিতি বদলের বার্তা বহন করে। অবশ্য উলামা ও সুফিদের একটি অংশ রাষ্ট্র পরিচালনায় অসাম্প্রদায়িক নীতির বিরোধিতা করে গেছে, তাদের দাবি ছিল অমুসলিমদের আইনত অধীন ঘোষণা করার। তবে তারা কেউই শাসক হিসেবে জাহাঙ্গীরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। জাহাঙ্গীর অবশ্যই মোগল মতাদর্শের সূচনাকারী নন, তবে তিনি এর অন্যতম কারিগর। তার আত্মজীবনী রেনেসাঁ যুগের শেষ পর্যায়ের রাজকীয় প্রচারণার একটি মাস্টারপিস।

 

কোরিন লেফেভ্রে: Consolidating Empire: Power and Elites in Jahangir’s India 1605–1627 গ্রন্থের লেখক

 

অনুবাদ: এসএম রশিদ