মুমু বিষয়ক
পথের কাঁটা আর হব না
আর হব না চোখের বালি
তোমার আশা পূরণ হোক
আমি না হয় দূরেই থাকি।
রোদে ভিজে ফিরলে যখন
তখন দেখি ফিকে আকাশ
মেঘ গিয়েছে অচিনপুরে
যেমন আমি পাশে থেকেও
নেইকো আমি তোমার পাশে।
এমনি করে রইলে দূরে
তোমায় দেখে সেদিন থেকে
ঝরল নাকো নিমের পাতা।
সেদিন থেকে আমার কাছে
আর হলো না ভীষণ তিতে
নিমের গাছের কচি পাতা।
সেদিন থেকে ঠিক করেছি
আর হব না চোখের কাঁটা।
মুমু তোমার চোখের বালি
সেদিন থেকে আমার তুমি
কুয়োর জল, শীতলপাটি।
তাহা একমাত্র
বলিব বলিব করিয়াও আমার সেদিন
বলা হইল না।
ইতিমধ্যে একটি লোকাল,
একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত
এবং শেষে একটি মালবাহী
ট্রেন, চট্টগ্রাম হইতে ঢাকা,
ঢাকা হইতে সেই সকল রেলগাড়ির কামরাগুলি
হাঁকডাক পাড়িয়া চট্টগ্রাম চলিয়া
গেলেও তাহাকে
আমার বলা হইল না অথচ,
তাহাকে লইয়া
তিনবার চিড়িয়াখানায়, দুইবার জাদুঘরে
একবার আমার শাজাহানপুরের মেসে
লইয়া গেলে, মেসের একজন
মেসবাসী,
সেদিন আমাকে কুদৃষ্টিতে দেখিলেও
তিনি কোন প্রকার কুবাক্য আমার
প্রতি ছুড়িয়া দেন নাই।
মনে মনে তাহাকে ধন্যবাদ এবং শ্রদ্ধা জানাইয়া
সেই মেসবাসীর নিকট হইতে সুপরামর্শ চাইলে
তিনি বলিয়াছিলেন,
মেয়েলি গুণ্ডা
তিনি যে গুণ্ডা, এই বাক্যটি বলিবার
সুযোগ সেদিনও যেমন আসে নাই,
ভবিষ্যতে আসিবে কিনা তাহা একমাত্র
ঈশ্বরই জানেন।
আমি
পার্লামেন্ট প্রেমিকদের প্রতি আমার যথেষ্ট
দুর্বলতা আছে, তাদের বার্তা কথনে
আমি সব সময়ই অভিভূত,
সেই প্রেমিকদের একজন সেদিন বললেন,
গোপন সূত্রের সঙ্গে বিশ্বস্ত সূত্রের
দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।
ওরা প্রতিদিনই ঝগড়া করে আমার বাড়ির ছাদে।
কোর্ট কাছারিতে
গোপন সূত্র যেদিন সাক্ষ্য দিতে যায়
সেদিন বিশ্বস্ত সূত্র গিয়ে শোনে
কী বলে গোপন।
অথচ, গোপন একদিনও যায়নি
বিশ্বস্ত যতবার গিয়েছিল সাক্ষ্য দিতে
কাছারির ঘরে।
এদিকে আমার ঘর থেকে
গোপনে গিয়েছেন যিনি, তিনি তো
গোপনেই রেখেছেন হাত
তার বিশ্বস্ত বন্ধুর হাতে।
আমি নির্বোধ, ঘুণাক্ষরেও জানতে পারিনি
তাদের প্রেমাভিলাষ।
গোপন এবং বিশ্বস্ত বাহিরে শত্রু হলেও
গোপনে, গোপনে,
ভেতরে ভেতরে দুজনই ছিল দুজনার
আমি প্রেমাগ্র ছিলাম পার্লামেন্ট নিয়ে।
প্রিয় রোকেনেলি
করুণা হইল মাতুলকে দেখিয়া যদিও তিনি
বয়সের পরে
ন্যুব্জ হইলেও, স্মৃতিশক্তি ঠিক সেই আগের মতোই উজ্জ্বল।
এখনো তিনি চোখ বন্ধ করিয়া অতীত দেখিতে পারেন।
সেই কবে
কলিকাতার পার্ক সার্কাসে পাকিস্তান চাই বলিয়া
উনিশবার জিন্দাবাদ দিয়াছিলেন
এমনকি,
সেদিন একুশবার বলিয়াছিলেন
জিন্না ছাড়া
মুক্তি নাই, মুক্তি নাই, মুসলিমদের।
প্রিয় মাতুল সেদিন হঠাত্ কাঁদিয়া বলিলেন
শুনলাম,
চুক্তিযোদ্ধারা আমাকে নাকি খুঁজে গেছে একটু আগে।
খুঁজেটুজে লাভ নেই, কোনো।
প্রতি প্রত্যুষেই আমি স্বপ্নে দেখি
প্রিয় জিন্না আছেন দাঁড়িয়ে
আমার শিয়রে।
মাতুলের শেষ কথা শুনিলাম গতকাল।
মাঝি মাল্লারা যতই আসুক না কেন
আমি ভীত নই, বলিস ওদের।
যতক্ষণ থাকবেন জিন্না, আমার শিয়রের দক্ষিণে।





