খুব যত্ন করে আজ নিজেকে প্রস্তুত করছি আমি। এক বন্ধু এ বিখ্যাত স্যালুনে নিয়ে এসেছে। চুল কাটা থেকে মেকআপ সবকিছুই করে দিচ্ছে তারা। মূল্যটা একটু বেশি হলেও সার্ভিস মন্দ নয়। লাল টাই আর সিলভার কালার শার্ট কিনেছি আজকের জন্য। সব শেষে আয়নায় নিজেকে দেখে অবাক। খুব বেশি যে আকর্ষণীয় লাগছে তা নয়। কিন্তু সম্পূর্ণ অচেনা মনে হচ্ছে নিজেকে। আমার চুলে যে এ স্টাইল করা যায়, ভাবতে পারিনি। ফেসিয়াল করার জন্য মুখে লেগেছে লালচে আভা। এই প্রথমবার আমি টাইয়ে পিন লাগিয়েছি।
স্যালুন থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে দেখে গেটম্যান অবাক হয়। স্যার, আজ মনে হয় আপনার বাগদান?
না, না। আজ আমার ব্যাংকে জরুরি একটা অ্যাপয়েন্ট আছে। দোয়া করো আমার জন্য, যেন প্রমোশনটা পাই।
কিছু না ভেবেই আচমকা তার হাতে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিই। গেটম্যান খুশি হয়ে হাত তুলে দোয়া করে আমার জন্য।
ট্যাক্সিতে উঠে আমার হূত্কম্প বেড়ে যায় বহুগুণ। মনে হয় তার বাবাকে গুছিয়ে কোনো কথাই বলতে পারব না। গুড ইভনিং বলেই চুপ থাকতে হবে। এত কথা বলব ভেবেছি, অথচ উত্তেজনায় এখন কোনো কথাই মনে আসছে না। সবকিছু নির্ভর করছে ওর বাবার ব্যবহারের ওপর।
ওদের বাড়ির ডোরবেলে চাপ দিতেই ১১-১২ বছরের রোগা শুকনো একটা মেয়ে দরজা খুলে দেয়। ড্রইংরুমে বসতে দিয়ে ওর বাবাকে ডাকতে যায়। ড্রইংরুমের একটা নিজস্ব গন্ধ আছে। ভারী আসবাব আর বন্ধ দরজা-জানালার একটা গুমোট পরিবেশ বিরাজ করে বেশির ভাগ ড্রইংরুমে। একাকী বসে থেকে আমিও অনুভব করছিলাম, এ রুমটা বেশি ব্যবহার হয় না। ছোট ছোট ভেন্টিলেশন দিয়েই যা আলো-বাতাস যাতায়াত করে। গোধূলি বেলার আলো এসে এখন রুমটাকে আলোকিত করার কথা, কিন্তু তার পরিবর্তে হালকা বৈদ্যুতিক আলো। এ আলোতেই চোখে পড়ল একটা অয়েল পেইন্টিং। নীল সাগরের বুকে একটা খোলা নৌকা, দুই প্রান্তে দুই নাবিক লম্বা দাঁড় ডুবিয়ে বসে আছে। দুজনেরই মুখটা প্রায় ঢাকা পড়েছে লম্বা হ্যাটের কারণে। দেখে মনে হয়, ইউরোপের কোনো সাগরের ছবি। এ ছবির ডান পাশে বিয়ের পোশাকে এক নবদম্পতির ছবি। তার পাশে ছোট ছোট অনেক ছবি। বিভিন্ন বয়সী কিছু শিশুর ছবি। একটা ছবিতে ফেরাউনি যুগের নাচের পোশাকে এক বালিকাকে দেখে মনে হলো, এটা লায়লার ছবি।
আমার ছবি দেখায় বাধা পড়ে আচমকা ড্রইংরুমের দরজা খুলে যাওয়ায়। শার্ট, ট্রাউজার আর চটি স্যান্ডেল পরে তার বাবা আসে। চোখে চশমা, মুখটাও একটু গম্ভীর। তার বাড়িয়ে দেয়া হাত ধরে সালাম দিতে টের পেলাম খুব ঠাণ্ডা হাতটি।
জানালা খুলে দেব কি? এখানে বসন্তকালে শীতটাই বেশি লাগে। তাই জানালা বন্ধই থাকে।
জি। আর বসন্তকালের বাতাসে বেশ ধুলোবালিই থাকে। আমি তাকে সমর্থন জানিয়ে বললাম।
আপনাকে স্বাগত আমাদের বাড়িতে।
চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে তিনি বললেন। পায়ের ওপর পা তুলে বসেছেন বলে একটা পা বের হয়ে আছে স্যান্ডেলের ফাঁক দিয়ে। খুবই মসৃণ আর ধবধবে ফর্সা। গোড়ালিটা এত নিঁখুত যে, মনে হচ্ছে বড় একটা ডিম।
আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছিলাম না। তাই তার সুন্দর পায়ের দিকে তাকিয়েই এক নিঃশ্বাসে বলে যাই, আমি আপনার মেয়ে লায়লার সহকর্মী ছিলাম। লায়লাকে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা, বেতন ও পারিবারিক পরিচয় জানিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি।
কথা বলার ফাঁকে একবার চোরা চোখে দেখলাম, তিনি অন্যমনস্ক হয়ে আছেন। যেন আমার কোনো কথাই তার কানে যায়নি। একটু পরে মুখ তুলে বললেন, তো তোমার বাড়ি কোথায়?
আপার ইজিপ্ট এলাকায়। দ্বিতীয়বারের মতো তাকে বললাম।
তুমি কি সেখানকার আব্দুস সাত্তার বেগকে চেনো?
জি না।
কিন্তু তাকে তো সেখানকার সবাই চেনে। তিনি আপার ইজিপ্টের শিক্ষা বিভাগের ডিরেক্টর।
আসলে আমি কায়রোতেই পড়াশোনা করেছি স্কুল লাইফ থেকে। তাই হয়তো তাকে চিনতে পারছি না।
তার মুখ দেখেই বোঝা যায় তিনি সন্তুষ্ট হলেন না আমার এ উত্তরে।
ছোট মেয়েটা এ সময় লেবুর শরবত নিয়ে আসে।
নাও শরবতটা।
আপনিও নিন প্লিজ।
না। আমি হজমের সমস্যার জন্য মেনে-বেছে খাই।
কথাটা বলে অন্য পাশে মুখ ফিরিয়ে রাখলেন। বোঝাই যাচ্ছে, তিনি আমাকে পছন্দ করছেন না। একটু থেমে আবার বলেন, আমি আসলে খুব সম্মানিত বোধ করছি যে, তুমি আমার মেয়েকে বিয়ে করতে আগ্রহী। তুমি যোগ্য ও সেনসিবল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আজকাল এমন ভদ্র-নম্র ছেলে কমই পাওয়া যায়।
অনেক ধন্যবাদ। আমার সম্পর্কে এমন ধারণার জন্য কৃতজ্ঞ।
তবে বিষয় হচ্ছে কি বাবা। এ সময়ের মেয়েরা খুবই স্বাধীনচেতা। নিজেদের জীবনসঙ্গী নিজেরাই খুঁজে নেয়। আমাদের সময় মেয়েরা পরিবারের সিদ্ধান্ত মেনে বিয়ে করত। কিন্তু আমরা এখন মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করতে আগ্রহী। তাই বিয়ের বিষয়টাও তাদের ওপর ছেড়ে দিই। আগে যেমন মেয়ে মা-বাবার মত বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নিত। এখন তেমনি মা-বাবা মেয়ের পছন্দ নীরবে মেনে নেন। তবু আমরা তো রক্ষণশীল পরিবার। চাইলেও সবকিছু মুখ বুজে মেনে নিতে পারি না। লায়লা আর দশটা মেয়ের মতো নয়। ও কখনো আমার অবাধ্য হয়নি বা আমার অমতে কিছু করেনি। পড়াশোনা শেষে ও যখন চাকরি করতে চাইল, আমার আপত্তি ছিল। তবু ওর আগ্রহের জন্য রাজি হয়েছি।
জি আমি জানি। লায়লার কাছে শুনেছি।
কী শুনেছ আমি জানি না। তুমি আমার সহকর্মী আব্দুর সাত্তার বেগের নাম শোনোনি, অথচ তিনি খুব পরিচিত ব্যক্তি। এবার দয়া করে আমার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনো। লায়লার জন্য যা ভালো হবে না, তা আমি কখনই মেনে নেব না।
জি। বলুন যা বলতে চান।
লায়লার কাছে তোমার কথা একাধিকবার শুনেছি। ওর আগ্রহের কারণেই আমি বাধ্য হয়ে তোমার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছি। তার পরই জানতে পারি অনেক কিছু। অনেক কিছু।
উদ্ভ্রান্তের মতো পকেট হাতড়াতে থাকেন ভদ্রলোক, যেন আমার বিরুদ্ধে কোনো দলিল প্রমাণ খুঁজছেন পকেটে। কিন্তু তিনি বের করে আনলেন একটি রুমাল। ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, জানালাটা কি খুলে দেব?
আপনার ইচ্ছা।
জানালার দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তুমি তো মামার বাসায় থাকতে?
জি।
এখন কি একা থাকো?
জি।
তার সঙ্গে আর থাকো না কেন?
বুঝলাম না। এটা কেন বলছেন।
কেন মামার বাড়ি ছেড়েছ জানতে পারি কি?
আমি চাকরি করি এখন। তার সঙ্গে থাকার আর প্রয়োজন নেই।
সত্যি কি তাই? নাকি তোমার মামা তোমার ওপর ক্রুদ্ধ?
প্রশ্নই আসে না ক্রুদ্ধ হওয়ার।
ঠিক আছে, শুনে খুশি হলাম। তবে মাফ করো। আমি আরো কিছু নিতান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করব। মেয়ের বাবা হিসেবে এসব কথা জানা দরকার। আমি তোমার বাবার সমতুল্যই।
জি, ঠিক আছে বলুন।
আপার ইজিপ্টে তোমাদের বাড়ি-জমি কার নামে? তোমার বাবা না মায়ের নামে?
আমরা ধনবান নই। আমাদের খুব সামান্য জমি আছে চাষবাসের জন্য। সম্ভবত সেটা বাবার নামে। আমি পড়াশোনার জন্য ছোটবেলা থেকেই কায়রো আছি। তাই জমিজমার বিষয়ে তেমন জানি না।
কিন্তু আমি শুনেছি, জমি তোমার মায়ের নামে।
হতেও পারে। কিন্তু আমি এ প্রশ্নের কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না।
কিন্তু আমি পাচ্ছি। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে যাচ্ছে আমার। আচ্ছা, তুমি কায়রো থাকো অথচ এখানে তোমার চাচাদের বাড়িতে যাও না। কেন?
এ প্রশ্নের উত্তরে আমি বিব্রত হই। হাতের গ্লাসটা ভুল করে ট্রের বাইরে রাখি।
স্যার, এটা কি কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন?
অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
বাবার সঙ্গে চাচাদের সামান্য মনোমালিন্য আছে তাই।
এটা সামান্য কোনো ব্যাপার নয়। গুরুতর কোনো কারণ আছে এ মনোমালিন্যের ভেতর। তুমি কি অনুগ্রহ করে সে কারণটা বলবে?
হতে পারে জমিজমা নিয়ে কোনো বিরোধ।
আমার মনে হয় তোমার জন্মের আগে থেকেই চাচাদের সঙ্গে তোমার বাবার বিরোধ। তুমি হয়তো সবকিছু জানো না। তবু অনুরোধ করছি, যেটুকু জানো তা আমাকে খোলাখুলি বলো। তুমি আমার মেয়ের স্বামী হতে যাচ্ছ। আমার অধিকার আছে তোমার সবটুকু জানার।
আমি যতটুকু জানি বলেছি।
না। সবটুকু বলোনি। তবে অবশ্যই বলবে। কেন তোমার মামা কেন তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন?
আমি ঠিক জানি না। মামা খুব চাপা স্বভাবের।
তবু, তোমার ধারণা কী এ বিষয়ে?
হতে পারে মামি কোনো সন্তান দিতে পারেননি।
কিন্তু তোমার মামা তো ১১ বছর তার সঙ্গে সংসার করেছেন সন্তান না হলেও, আর এর পর তোমার মামা আর বিয়েও করেননি।
না, করেননি।
তাহলে সন্তান না হওয়াটা কি তালাকের কারণ হতে পারে?
না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
হঠাত্ তিনি এগিয়ে এসে আমার হাত ধরেন। কানের কাছে ফিসফিস করে বলেন, এটা কি সত্যি যে, তোমার মামির সঙ্গে তোমার কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল?
ডাহা মিথ্যা কথা। আমি চিত্কার করে বলি।
দয়া করে আস্তে কথা বলো। আমি বলছি না যে, এটাই সত্যি। তবে এমন কথাই ওরা বলেছে আমাকে।
কারা বলেছে এটা? যেই বলুক না কেন সে মিথ্যাবাদী এবং শয়তান।
তোমার চাচারা বলেছে এ কথা।
আপনাকে আমার চাচারা এ কথা বলেছে?
না। আমি তাদের মুখে শুনিনি। তবে আমার কানে এসেছে কোনোভাবে।
এখন কি মামার বাড়ি যাও?
মাঝেমধ্যে। ব্যস্ততার জন্য যাওয়া হয় না।
তোমার মামা কি আসেন তোমার কাছে? বা তোমার মামা কি তোমাদের গ্রামের বাড়িতে যান? মামির সঙ্গে ডিভোর্সের পরে কি আর গেছেন সেখানে?
গ্রামের বাড়িতে যান। তবে ঠিক শেষ কবে গেছেন, আমার মনে পড়ছে না।
আমি জানি, আগে তোমার মামা বছরে দু-একবার যেতেন তার ছুটি হলে। তোমার মা তার একমাত্র বোন। বোনের বাসায়ই আগে উঠতেন তিনি, কিন্তু ডিভোর্সের পর আর যাননি তোমাদের বাড়িতে।
অবাক হয়ে জানতে চাই, কেন যাবেন না ডিভোর্সের পর?
তিনি হো হো করে হেসে ওঠেন আমার কথায়। তার মুক্তোর মতো সাজানো সুন্দর দাঁতগুলো দেখা যায় হাসির সময়।
যে প্রশ্ন আমি তোমাকে করব, সে প্রশ্ন তুমিই আমাকে করছ? হাসতে হাসতেই বলেন তিনি।
আমি বিব্রত অপমানিত হয়ে পেইন্টিংটার দিকে তাকাই। ছবিটা কুয়াশাচ্ছন্ন দেখাচ্ছে এখন। আমার সারা শরীর ঘেমে উঠেছে। কলারটা ঢিলে করার জন্য হাত বাড়াই বোতামের দিকে, কিন্তু নতুন বোতাম সহজে খোলা যায় না।
আমি কি জানালাটা খুলে দেব?
জানালা খোলার চেয়ে জরুরি হলো আপনার কথাটা শোনা। কী বলতে চাইছেন আপনি?
কী বলতে চাইছি, আশা করি বুঝেছ এতক্ষণে?
আপনি কি লায়লার সঙ্গে আমার বিয়েতে রাজি নন? কোনোভাবে বিয়েটা ভাঙতে চাইছেন? এজন্য মিথ্যা গুজবে বিশ্বাস করে আমাকে সরাতে চান।
কঠিন মুখে তিনি বলেন, কিসের গুজব? কোনটা মিথ্যা জানতে পারি কি?
মামির সঙ্গে আমার সম্পর্কের গুজব।
তিনি আবার ঝুঁকে আসেন আমার দিকে। ফিসফিস করে বলেন, তুমি তো আপার ইজিপ্টের মানুষ। ওখানকার আরবদের এটাই চরিত্র। তুমি আমার চেয়ে ভালোই জানো ওখানকার মানুষের ট্র্যাডিশন সম্পর্কে।
কিসের ট্র্যাডিশন? পরিষ্কার করে বলুন জনাব। কী বোঝাতে চাইছেন ট্র্যাডিশন বলে?
আল্লাহ মাফ করুন। আমি যতটুকু শুনেছি তাই বলছি। তোমার মামা তোমার বাবার চাচাতো ভাইও। তবে এই মামা ছাড়া আর কোনো চাচার সঙ্গে তোমাদের সুসম্পর্ক নেই। তাই নয় কি?
জি।
তোমার মামাও বোনের স্বামী বলে এটুকু যোগাযোগ রেখেছিল। এজন্য তিনিও সবার রোষের শিকার হয়েছিলেন। তোমার বাবা সবার সম্পত্তি কুক্ষিগত করে নিয়েছে। বঞ্চিত করেছে সবার প্রাপ্য অধিকার থেকে।
আমি উদ্ভ্রান্তের মতো হেসে উঠি। কী বলব আর এ লোককে যে, সবকিছু নিজের মনের মতো সাজিয়ে বলছে।
তোমার চাচা ও আত্মীয়রা সবকিছু মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এত বড় অধর্ম আর অসম্মানকে মেনে নিতে পারেনি। সেটা হলো তোমার মামির সঙ্গে তোমার অবৈধ সম্পর্ক। তোমার মামাকে তারা প্রস্তাব দেয় বৌকে তালাক দিতে। না হলে তারা তোমাদের দুজনকেই হত্যার হুমকি দেয়।
ননসেন্স! নিশ্চয়ই আমার প্রতি ঈর্ষাকাতর কেউ আমার মানসম্মান নষ্ট করার জন্য এসব গল্প বানিয়ে বলেছে আপনাকে।
হতেই পারে। কিন্তু তুমি কীভাবে এ গল্পকে মিথ্যা প্রমাণ করবে?
হাজারটা প্রমাণ দিতে পারব আমি যে, এটা ডাহা মিথ্যা। কীভাবে আপনি আমাকে এত নীচ, চরিত্রহীন ভাবতে পারলেন। আমার মামি তো আমার মায়ের মতো। একমাত্র মায়ের সঙ্গেই তুলনা চলে তার।
ঠিক আছে। মানলাম তিনি ছিলেন তোমার মায়ের মতো, কিন্তু তুমিই বলো, মায়ের মতো একজন নারীকে নিয়ে এত জঘন্য রটনা কেন রটে?
কীসের রটনা! আমি শুনিনি এমন কোনো কথা।
আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, এত প্রচলিত কথা তুমি শোনোনি। তোমার চাচাদের সঙ্গে তো তোমার কোনো যোগাযোগ নেই জন্মের পর থেকেই। এমনকি তুমি তাদের ভালো করে চেনো না। তবে কীভাবে জানবে তারা কী বলছে?
জি। তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। কিন্তু তারা কি সত্যিই হত্যা করতে চেয়েছিল আমাকে আর মামিকে?
আমি জানি না। মেয়ের বাবা হিসেবে এর চেয়ে বেশি কিছু জানার প্রয়োজন অনুভব করিনি। আমি বলছি না তোমাদের সম্পর্ক ছিল, তবে ডিভোর্সটা তো সত্যি।
তাহলে?
তাহলে বাকিটুকু সত্যি বলে ধরতে হবে আমাকে। আর সেটা হলে তোমার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে অপারগ আমি। জানি না, তুমি কীভাবে এটা প্রমাণ করবে।
অবশ্যই এটা মিথ্যা। সত্য হলে এটা সবার মুখে মুখেই থাকত। আর আমাদের প্রতিপক্ষ চাচারা এজন্য আমাকে আর বাবাকে হত্যা করত।
এটা জনে জনে রটিয়ে বা তোমাদের হত্যা করে কি তোমাদের চাচারা নিজেদের মানসম্মান আরো নিচে নামাবে? পরিবারের গোপন কথা তারা গোপন রাখতে চেয়েছেন নিজেদের স্বার্থেই।
তাহলে কি আপনি এসব কথা আব্দুস সাত্তার বেগের কাছে শুনেছেন?
হাসালে আমাকে। চিন্তা করো তো, তার মতো উচ্চপদস্থ সম্মানীত কেউ মানুষ সম্পর্কে এত তুচ্ছ কথা বলতে পারেন কি?
তাহলে কোথায় পেলেন এসব কথা?
সেটা তোমার না জানলেও চলবে। তবে তোমাকে কথা দিচ্ছি, এটা আমিও গোপন রাখব। কারো সঙ্গে আলাপ করব না।
চিত্কার করে বলি আমি। কেন? কে বলেছে এটা গোপন রাখতে? ঢোল নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।
আমি পাগল নই। আর গলা নামিয়ে কথা বলো। এখানে চিত্কার করবে না।
কেন আস্তে কথা বলব। আপনি তো লায়লাকে এ গালগপ্প বলবেনই। তার চেয়ে ডাকুন, আমিই তাকে সব বলে যাই। শুধু মামি কেন, আপনি চাইলে খালা, ফুপি বা দাদি সবার সঙ্গেই আমার অবৈধ সম্পর্কের কথা স্বীকার করব।
আমাকে শান্ত করতে উঠে আসেন লায়লার বাবা। পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দেয়ার ছলে বলেন, শান্ত হও, ইয়াং ম্যান। যদি জানতাম এতটা রিঅ্যাক্ট করবে, তাহলে এ রকম কথা বলতাম না। তুমি এ বাড়ির অতিথি। এমন বালকসুলভ আচরণ তোমাকে মানায় না।
তো কী চাইছেন? চলে যাব।
আমি চাইছি ভদ্রোচিত আচরণ করো। পানি খাবে এক গ্লাস?
না, ধন্যবাদ।
দুঃখিত। সত্যিই আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। আমি ভাবিনি যে তুমি এ কথাগুলো জানো না।
এসব আজগুবি কথা জানি না বলে আমি ভালো আছি।
লায়লার বাবা তার সোফায় বসলেন। দুই হাত জোড়া করে খুব নম্র সুরে বললেন, আমি ক্ষমা চাইছি। এ কথাগুলো যে তোমাকে এতটা কষ্ট দেবে, বুঝতে পারিনি।
ঠিক আছে। দুঃখিত হওয়ার দরকার নেই। আপনি অনুমতি দিলে আমি এখন যেতে পারি।
না। একটু বসো বাবা। আমাদের কথা কিন্তু এখনো শেষ হয়নি।
আর কী কথা থাকতে পারে আমাদের। আমি বুঝেছি, আপনি আমার সম্পর্কে সব গুজবই বিশ্বাস করেছেন। আমাকে দুশ্চরিত্র লোক ভাবছেন। আপনি চান না, আপনার মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে হোক। আর যেহেতু আমার হাতে প্রমাণ করার মতো কিছু নেই, তাই অসত্য হলেও এটা সত্য বলে মানতে হবে।
আমি বলছি না কিন্তু যে, তুমি দুশ্চরিত্র। বরং তুমি গুজবের শিকার।
আপনি তবু তাই ভাবছেন।
আর আমি কিন্তু বলিনি, লায়লার সঙ্গে তোমার বিয়ে দেব না।
তাহলে এত কথা আসছে কেন?
কারণ বাবা হিসেবে আমি মেয়ের প্রতি একটু বেশিই সচেতন।
দেখুন আমি আর ধৈর্য ধরতে পারছি না। ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে না বলে যদি একটু স্পষ্ট করে বলতেন আপনার মতামত, তবে সুবিধা হতো।
ঠিক আছে। আমি স্পষ্ট করেই বলছি। তুমি একটা নামকরা ব্যাংকে আছ। এ পেশায় সুনাম রক্ষা করাটা খুব জরুরি। একবার যদি তোমার চরিত্রে দাগ পড়ে, তুমি কিন্তু আর ভালো করতে পারবে না।
তার মানে আপনি কি হুমকি দিচ্ছেন আমাকে? সবাইকে জানিয়ে দেবেন এসব গুজবের কথা? বলুন যা খুশি। আমার কিছুই যায় আসে না এতে।
না না। এমন ইচ্ছা আমার নেই।
তবে আমার পেশাগত জীবন নিয়ে কথা বলতে চাইছেন কেন? ব্যাংকে আমার অনেক সুনাম আছে। আর যদি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ব্যাপারে ইঙ্গিত করেন তো বলতে পারি, সে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে।
আরে এমন কোনো ইঙ্গিত তো আমি করিনি। আর অর্থ আত্মসাতের কথা তো শুনিনি।
আমার প্রতিপক্ষরা একবার আমাকে এ অভিযোগে ফাঁসাতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি। আমার দ্রুত পদোন্নতিতে তারা ঈর্ষাকাতর হয়েই এ ষড়যন্ত্র করেছিল। ব্যাংক প্রশাসন তদন্ত করে দেখেছে, আমি নির্দোষ। তবে আমার অবহেলা ছিল। ব্যাংকের কাছে অজানা নয় আমার চরিত্র ও কর্মদক্ষতা। আপনি কি শুনছেন আমার কথাগুলো?
অবশ্যই অবশ্যই। আমি সব শুনেছি।
শুনুন, আমি কিন্তু আত্মসাত্কারী বা চোর নই।
না। না। আমি তো এ রকম কোনো গুজবের কথাও বলছি না। আরে তোমার চোখে পানি কেন? কাঁদছ নাকি?
না। আমি খুব ঘামছি আসলে।
সেজন্যই তো প্রথম থেকে বলছি জানালাটা খুলে দিই। কিন্তু তুমি খুলে দিতে চাও না।
আমি কি আপনাকে নিষেধ করেছি? শুধু বলেছি এটা আপনার ইচ্ছা। যা খুশি করেন।
আমি একমনে তাকিয়ে আছি দেয়ালের ছবিটার দিকে। মনে হচ্ছে আমি এখন পেইন্টিংটাতে লাল-হলুদ কিছু রেখা ছাড়া আর কিছু দেখছি না।
আমার অসম্ভব ঘাম দেখে লায়লার বাবা পকেট থেকে রুমাল বের করে এগিয়ে দেন।
ধন্যবাদ। রুমাল আমার কাছে আছে।
কী হলো? তুমি কি কাঁদছ?
না। এটা ঘাম। কী আশ্চর্য আমি কাঁদব কেন?
চোখ বন্ধ করে মুখের ঘাম মুছে দেখি লায়লার বাবা এরই মধ্যে এক গ্লাস পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। গ্লাসটা হাতে নিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানাই।
সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে বলি, এ নৌকাটা তো ভেনিস শহরের, কিন্তু আশপাশের চিত্রটা ভেনিসের হয়নি। এটা একটা বড় ভুল এ ছবিতে।
লায়লার বাবা ঘুরে বসে ছবিটা গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখলেন। যেন তিনি প্রথম দেখছেন এ ছবি।
ঠিক। বাহ! তোমার দেখছি আর্টে ভালোই দখল আছে।
ওই সামান্যই। স্কুল-কলেজে যেটুকু পড়েছি আর কি।
তবু তোমার জ্ঞান ভালোই আছে। স্কুল-কলেজে আমিও তো আর্ট কালচার পড়েছি, কিন্তু তুমি না বললে তো এটা ধরতে পারতাম না।
একটু থেমে বাবা বলেন, আসলে লায়লা তোমাকে ভালোবাসে।
আমিও ভালোবাসি তাকে। সেজন্যই আজ এনগেজমেন্টের জন্য এসেছি।
কিন্তু তুমি নিজেকে আমার জায়গায় চিন্তা করে দেখো তো। তোমার মেয়েকে কি তুমি এমন কোনো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে, যার সম্পর্কে এত গুজব আছে?
যদি এত ভণিতা না করে এ কথাটা প্রথমেই বলতেন, তবে আমি লায়লা বা আপনাকে কখনই বিরক্ত করতাম না।
তুমি এভাবে নিও না ব্যাপারটা। আসলে এমন সব অকাট্য গুজব যে, বিশ্বাস না করেও উপায় নেই। আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, আমি কাউকে এমনকি লায়লাকেও এসব কথা কোনো দিন বলব না। তবে এ ব্যাপারে তোমার আন্তরিক সাহায্য চাই।
আমার কী সাহায্য?
তুমি যদি লায়লাকে বলো যে, আমি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করেছি, তবে সে খুব কষ্ট পাবে। আমাকে আজীবন ঘৃণা করবে। তখন হয়তো আমি বাধ্য হয়ে তাকে গুজবের কথাগুলো জানাব। তুমি নিশ্চয়ই এটা চাইবে না?
তবে কি আমি তাকে বলব যে, আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই আমি লায়লাকে প্রত্যাখ্যান করছি?
না না। এটা কেন বলবে। আমরা আরো কয়েকবার সাক্ষাত্ করব, তার পর নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য একটা কারণ বেরিয়ে আসবে। লায়লাকে বলব, আমরা একটা ব্যবসার প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করছি। বিয়ের ব্যাপারে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। এ সময়ের মধ্যে তুমি অন্য মেয়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করবে। ব্যাংকে তো সুন্দরী মেয়ের অভাব নেই। লায়লা যখন জানবে, তুমি আরো মেয়ের সঙ্গে প্রেম করো, তখন আর আমাদের কিছুই বলতে হবে না।
মানে কী? কী বলতে চাইছেন আপনি!
তুমি ভালো করেই বুঝতে পারছ কী বলতে চাইছি আমি। হাজারটা উপায় আছে তোমার সামনে। তুমি খুব সহজেই লায়লাকে বোঝাতে পারো যে, তোমার পক্ষে এ বিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। আর তোমাদের ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক আব্দুল ফাত্তাহকে চেন নিশ্চয়। তিনি আমার পুরনো বন্ধু। লায়লাকে তিনিই চাকরি দিয়েছিলেন। শুনলাম, হেলিওপলিসে তারা নতুন ব্রাঞ্চ খুলছেন। আমি বললেই তিনি তোমাকে সেখানকার ম্যানেজার করে দিতে পারেন।
তার মানে আপনি আমাকে এ অনৈতিক প্রস্তাব মানতে ঘুষ দিতে চাইছেন? লায়লার পরিবর্তে আপনি আমাকে প্রমোশনের লোভ দেখাচ্ছেন?
লোভ দেখাচ্ছি? একটু আগেই তুমি তো বললে, তোমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। এটাই তো সুযোগ নিজেকে এগিয়ে নেয়ার।
প্লিজ। নিজের হীন ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করার জন্য এসব আজেবাজে কথা টানবেন না।
রাগে শক্ত হয়ে ওঠে লায়লার বাবার মুখ। আমি কেন তোমাকে ঘুষ দিতে চাইব? আমি তোমার সহযোগিতা চাইছি। তুমি আমার প্রতি করুণা করবে, বিনিময়ে আমিও তোমাকে। ব্যস, এতটুকুই। আমার ইচ্ছা যে, তুমি লায়লার কর্মস্থল ত্যাগ করো আর তোমার চাওয়া মানে কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি লাভ করো।
কেন? জানতে পারি কি?
তুমি তো বললে, তোমার রিপোর্ট ক্লিন নেই। এই তো সুযোগ নিজের কালিমা মুছে যোগ্যতা প্রমাণের।
দরকার নেই আমার এ প্রমোশনের। আমি লায়লাকে ভালোবাসি। লায়লাও আমাকে খুব পছন্দ করে। আমি সব বুঝিয়ে বলব ওকে। নিশ্চয় ও বুঝবে আমাকে।
লায়লার বাবার ফর্সা কপালে মুক্তোর মতো চকচক করে ঘাম। ভীষণ দুশ্চিন্তায় তিনি সোফায় মাথা এলিয়ে দেন। একটু পরে ধীরে ধীরে বলেন, ভালো। এমন দুঃসাহস খুব ভালো। বহু লোকের এমন সাহস দেখেছি এ জীবনে। যাদের কমনসেন্স নেই, তারাই এমন সাহস দেখাতে পারে। তবে প্রকৃত সাহসী তারাই, যারা বাস্তবতাকে মেনে নিতে পারে।
আমি বাস্তবতা মেনেই সাহস দেখাচ্ছি।
না। তুমি বাস্তবতাকে অনুমান করতেও পারবে না।
আমি অনুমান নয় উপলব্ধিই করছি। আপনি আমার দুর্নাম ছড়িয়ে আমাকে অপদস্থ করবেন সবার সামনে। আমার চাকরিও কেড়ে নিতে পারেন। তবু আমি লায়লাকে সত্যটাই জানাব।
তুমি আসলেই জানো না, আমি কী কী করতে পারি। অপমান, চাকরিচ্যুত এগুলো মামুলি ব্যাপার। বিশ্বাস করো, তোমার মামা-চাচাদের মানসম্মান আমি এক মুহূর্তে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারি।
কেন? আপনি কেন এমন করবেন? আমাকে বদলি করেন, হত্যা করেন, যা খুশি করেন, কিন্তু আমার পরিবারকে কেন অপমান করতে চান?
কারণ তুমি আমার কলিজায় হাত দিয়েছ। আমার একমাত্র কন্যাকে পেতে চাইছ ছলনার মাধ্যমে। আদরের মেয়েকে তোমার মতো মানুষের হাতে তুলে দেয়া আর নিজ হাতে হত্যা করা একই কথা। আচ্ছা, তোমার মামা তো একবার আত্মহত্যা করার চেষ্টাও করেছিল, তাই না?
দয়া করে চুপ করুন। ঠিক আছে। আমি আপনার সব কথা মেনে নিচ্ছি। যা বলবেন তাই হবে।
যাক আমার অনুমানই ঠিক ছিল। আমি তোমাকে প্রথম দেখাতেই বুঝেছিলাম, তুমি একজন বুদ্ধিমান মানুষ। তবে এখুনি বের হয়ো না। শান্ত হয়ে একটু বসো আর তোমার মুখের ঘাম শুকিয়ে যাও।
আমি কিছুক্ষণ বসে একাকীই দরজা খুলে বের হয়ে আসি কোনো দিকে না তাকিয়ে। অন্যমনস্কতায় সিঁড়িতে পড়ে যাই পা হড়কে। দ্রুত নিজেকে তুলে ঝড়ের বেগে রাস্তায় চলে আসি। তখন শীতের আগমন ধ্বনি বাতাসে। শিরশিরে বাতাস বয়ে যায় মুখের ওপর দিয়ে। কাপড়ের ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে হাঁটতে থাকি উদ্ভ্রান্তের মতো। রঙিন আলোয় ঝলমল রাস্তার দুই পাশ। রাস্তা পার হতেই এক স্যালুনের বড় আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠি। কপাল কেটে একটু রক্ত গড়িয়ে পড়েছে। শার্টে মুখে ধুলোর দাগ। কোথায় সেই চকচকে ভাব! হঠাত্ কী ভেবে আমি ঘুরে দাঁড়াই। দ্রুত পায়ে আবার লায়লার বাড়ির সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠি। আজ তো আমাদের এনগেজমেন্ট!
(বাহা তাহির মিসরের খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক। রেডিও কায়রো ও জাতিসংঘে অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৩৫ সালে মিসরের গিজা শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে ‘খালাতি সাফিয়্যা ওয়া আদ দাইর’, ‘আল হুব ফিল মানফা’, ‘নুকতাতুন নুর’ উল্লেখযোগ্য। গল্পটি তার ‘আল খুতুবা’র অনুবাদ)





