সিসিলিয়ান মাফিয়া
সদস্যরা নিজেদের
সংগঠনকে কোসা
নস্ট্রা নামে
ডাকেন। সদস্যরা
নিজেদের পরিচয়
দেন ‘মেন
অব অনার’
হিসেবে। কোনো
মাফিয়া গোষ্ঠীর
একজন স্থায়ী
সদস্যই কেবল
নিজের এ
পরিচয় দিতে
পারেন। তার
আরেকটি নাম
আছে—মেড
ম্যান। একজন
স্থায়ী সদস্য
হলেই কেবল
তিনি মেড
ম্যান, তার
আগে নয়।
সিসিলিয়ান ও
আমেরিকান কোসা
নস্ট্রা অনেকটা
সিক্রেট সোসাইটি
কিংবা কোনো
রেজিমেন্টেড সংগঠনের
মতো পরিচালিত
হয়। এদের
আছে সুনির্দিষ্ট
শপথ, বুক
অব রুল।
কোসা নস্ট্রায়
যুক্ত হতে
হলে অবশ্যই
তাকে ইতালীয়
কিংবা ইতালীয়
বংশোদ্ভূত হতে
হয়।
কোসা নস্ট্রার
সাংগঠনিক কাঠামোয়
প্রথম পদটি
হলো সোলজার।
অর্থাৎ মেড
ম্যান হওয়ার
পরই মাফিয়া
গোষ্ঠীর যে
আনুষ্ঠানিক পদটি
কোনো সদস্য
পেয়ে থাকেন,
সেটাই সোলজার।
এরপর তিনি
ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতি
পেয়ে কাপোরেজিম,
কনসিয়েরে, আন্ডারবস
ও সংগঠনের
শীর্ষ পদ—
বস—গডফাদার।
এ হায়ারার্কি
১৯৩১ সালে
তৈরি হয়েছিল।
মাফিয়া বা
কোসা নস্ট্রা
কোনো একক
সংগঠন নয়।
বরং ফ্যামিলি
বা ক্লান
কাঠামোয় তৈরি
অনেক সংগঠন
স্বতন্ত্রভাবে তাদের
কার্যক্রম চালায়
এবং সেগুলো
মিলিতভাবে কোসা
নস্ট্রা হিসেবে
পরিচিত। এসব
সংগঠন স্বাধীনাভাবো
কোনো গ্রাম
বা শহরের
কোনো অংশে
সক্রিয় থাকে।
বিভিন্ন ক্লানের
মধ্যে সংঘাত
মীমাংসা করতে
১৯৫০-এর
দশকে তৈরি
হয়েছিল সিসিলিয়ান
মাফিয়া কমিশন।
সিসিলির বিভিন্ন
অংশে এমন
কমিশন গঠিত
হয়েছিল।
সদস্য সংগ্রহের
ক্ষেত্রে মাফিয়ারা
খুব সতর্ক।
গোপনীয়তা বজায়
রাখতে এর
বিকল্পও অবশ্য
নেই। গোপনীয়তা
তাদের অন্যতম
শক্তি। মাফিয়ার
সদস্য সংগ্রহ
করত এমন
সব পরিবার
থেকে, যাদের
পারিবারিক বন্ধন
দৃঢ়। এ
সংস্কৃতি তাদের
সংগঠনের প্রতি
অনুগত রাখত।
ছোটখাটো গ্যাং
বিচ্ছিন্ন বাবা-মা
বা ভাঙা
পরিবারের সদস্যদের
নিতে পিছপা
হতো না।
কিন্তু মাফিয়ারা
এ কাজ
করত না।
অনেক সংগঠন
সদস্য হওয়ার
ন্যূনতম যোগ্যতা
নির্ধারণ করত
কোনো হত্যাকাণ্ডে
যুক্ত থাকাকে।
নতুন সদস্যদের
দিয়ে যেন
সংগঠনের গোপনীয়তা
ফাঁস না
হয়, তাই
এমন সহিংস
পরীক্ষা নেয়া
হতো।
কোনো ক্লান
বা ফ্যামিলির
সদস্য হওয়ার
জন্য নির্দিষ্ট
আনুষ্ঠানিকতা ছিল।
এমনকি এ
প্রক্রিয়াকে তারা
‘ব্যাপ্টাইজম’
বলে সম্বোধন
করত। রীতিমতো
শপথ পড়িয়ে
নতুন সদস্যকে
গ্রহণ করা
হতো। আর
শপথ ভঙ্গের
একটাই শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড।
নতুন সদস্যের
অভিষেক অনুষ্ঠান
সিসিলি ও
আমেরিকান মাফিয়াদের
মধ্যে প্রায়
একই রকম
ছিল। অনুষ্ঠানে
অবশ্যই সেই
ফ্যামিলির অন্য
সদস্যরা উপস্থিত
থাকতেন। এরপর
নতুন সদস্যের
সামনে সংগঠনের
নিয়মাবলি পেশ
করা হতো।
এরপর শপথ
ও নতুন
সদস্যের একটি
অঙুল ছিদ্র
করে রক্ত
বের করে
তা এক
সন্তের ছবিতে
ছোঁয়ানো হতো।
তারপর ছবিতে
আগুন ধরিয়ে
দেয়া হতো
এবং নতুন
সদস্য ছবিটি
তার এক
হাত থেকে
অন্য হাতে
নিতেন।
বেশির ভাগ
মাফিয়া সংগঠনেই
এমন আচার-অনুষ্ঠান
পালিত হয়।
এসবের উদ্দেশ্য
ছিল সদস্যের
মধ্যে ভয়
তৈরি করা,
যেন সে
কখনো আনুগত্য
ভঙ্গের কথা
চিন্তা করতে
সাহস না
করে। খুব
জরুরি কারণ
ছাড়া কোনো
মেন অব
অনার কখনো
তার পরিবার
ত্যাগ করতে
পারে না।
ফিলাডেলফিয়ার এক
মাফিয়া মবস্টার
একবার বলেছিলেন,
‘একবার
পরিবারে সদস্য
হওয়ার পর
শপথ নেয়া
হয়ে গেলে
ফেরার কোনো
সুযোগ নেই।
একমাত্র মৃত্যুই
তাকে সে
সুযোগ দিতে
পারে। আর
হ্যাঁ, কাজের
কোনো অবসরও
নেই।’
মাফিয়া সদস্যরা
কখনো নিজের
ক্লানের পরিচয়
বাইরে প্রকাশ
করতে পারে
না। দ্বিতীয়জন
নিজের ক্লানের
হলেও না।
একমাত্র দুজনকে
চেনে এমন
তৃতীয় কেউ
দায়িত্ব নিয়ে
তাদের পরিচয়
করিয়ে দিতে
পারে। এফবিআইয়ের
অনেক এজেন্ট
ছদ্মবেশে মাফিয়া
ক্লানের মধ্যে
কাজ করে
এসব আনুষ্ঠানিকতার
সত্যতা দেখেছেন।
অন্তত ২০১৫
সালে গবেষণায়ও
এসব নিয়ম-রীতির
প্রচলন অব্যাহত
থাকার কথা
জানা যায়।
পরিচয়ের নিয়মসহ
মাফিয়া সংগঠনে
১০টি সাধারণ
আইন আছে,
যা তাদের
কাছে টেন
কমান্ডমেন্টস নামে
পরিচিত। বাকি
নয়টি নিয়ম
এ রকম—
১. বন্ধুর
স্ত্রীর দিকে
নজর দেয়া
যাবে না,
২. পুলিশের
সঙ্গে মেলামেশা
করা যাবে
না, ৩.
পাব ও
ক্লাবে যাওয়া
নিষিদ্ধ, ৪.
সবসময় কোসা
নস্ট্রার কাজে
প্রস্তুত থাকতে
হবে, এমনকি
স্ত্রী সন্তান
জন্ম দেয়ার
পথে থাকলেও,
৫. সংগঠনের
কাঠামোর প্রতি
শ্রদ্ধাশীল থাকতে
হবে, ৬.
স্ত্রীর প্রতি
সম্মান দেখাতে
হবে, ৭,
কোনো প্রশ্ন
করলে অবশ্যই
সত্য জবাব
দিতে হবে,
৮. অন্য
সদস্য বা
অন্য ফ্যামিলির
টাকা আত্মসাৎ
করা যাবে
না, ৯.
যাদের কোনো
অবস্থায়ই কোসা
নস্ট্রার সদস্য
করা যাবে
না: আত্মীয়দের
মধ্যে কেউ
পুলিশ থাকলে,
নৈতিকভাবে দৃঢ়
না হলে।
সূত্র:
মাফিয়া
রুলস: দ্য
রোল অব
ক্রিমিনাল কোডস
ইন মাফিয়া
অর্গানাইজেশন,
মরিজিও কাটিনো
এসএম রশিদ: লেখক





