মারিও পুজোর
বইয়ের কল্যাণে
গডফাদার শব্দটি
এখন যথেষ্ট
পরিচিত। অপরাধজগতে
বড় বড়
অপরাধী এ
নামে সম্বোধিত
হয়ে থাকেন।
দুর্ধর্ষ অপরাধীদের
কথা উঠলে
সবার মাথায়
পুরুষদেরই নাম
আসে। অন্যদিকে
অপরাধজগতে নারীদের
অংশগ্রহণ থাকলেও
তাদের হানি
ট্র্যাপে ব্যবহার
বা অপরাধীদের
মনোরঞ্জনের অনুষঙ্গ
হিসেবে উপস্থাপনের
একটি রীতি
দেখা যায়।
অথচ আদতে
দুনিয়ায় বহু
নারী অপরাধী
ছিলেন এবং
এখনো আছেন।
মাফিয়া জগতে,
বিশেষত ইতালীয়
মাফিয়াদের মধ্যেও
দুর্ধর্ষ নারী
ছিলেন। কখনো
কখনো এরা
এত সক্রিয়
হয়ে উঠেছিলেন
যে তারা
প্রশাসনের মাথাব্যথার
কারণে পরিণত
হন। এদের
মধ্যে কেউ
স্বেচ্ছায় অপরাধজগতে
এসেছিলেন, কেউ
পরিস্থিতির কারণে
অপরাধী হয়ে
ওঠেন।
প্রথমেই আসুনতা
মারেস্কার নাম
করা যায়।
পুপেত্তা
নামে
পরিচিত ছিলেন
তিনি। শব্দটির
অর্থ লিটল
ডল অর্থাৎ
পুতুল। কৈশোর
পেরোনো বয়সে
পুতুলের মতোই
সুন্দর ছিলেন
মারেস্কা। কিন্তু
কৈশোর পেরোতে
না পেরোতেই
অপরাধের সঙ্গে
যুক্ত হন।
মাত্র ১৮
বছর বয়সে
তিনি প্রকাশ্য
দিবালোকে একজনকে
গুলি করে
হত্যা করেন।
আন্তোনিও এসপোসিতো
নামে সে
লোকটি মারেস্কার
স্বামী প্যাসকেল
সিমোনেত্তিকে হত্যার
আদেশ করেছিল।
গত শতকের
পঞ্চাশের দশকে
মাফিয়ার মধ্যে
এ ধরনের
হত্যা ডাল-ভাত
হয়ে ওঠে।
এক দলের
লোকেরা অন্য
দলের লোকদের
হত্যায় মেতে
ওঠে। প্রতিহিংসায়
প্রতিদিন মৃত্যু
হতো কারো
না কারো।
এ সময়
প্রতিহিংসা থেকেই
ছয় মাসের
গর্ভবতী মারেস্কা
নেপলসের রাস্তায়
খুনটি করেছিলেন।
মারেস্কাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৯৫৯ সালে বিচারাধীন অবস্থায় তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে এমন কাজ আমি আবার করব।’ স্বাভাবিকভাবেই কারাবরণ করতে হয় এবং পুপেত্তা কারাগারেই সন্তানের জন্ম দেন। ১৪ বছর জেল খেটে তিনি মুক্তি পান এবং পুত্র প্যাসকালেনোর কাছে ফিরতে পারেন। কালোবাজারি পিতার কন্যা মারেস্কা এরপর নিজের জীবনভিত্তিক একটি সিনেমায় অভিনয় করেন। পরবর্তী সময়ে নেপলসে দুটো কাপড়ের দোকান দেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবন ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। তিনি মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী উমবের্তো আমাতুরোর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং তাদের যমজ সন্তান হয়। এর কিছুদিন পর সিমোনেত্তির সন্তান প্যাসকেরিনো একদিন একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে আমাতুরোর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। মারেস্কা ধারণা করেন যে আমাতুরো তার সন্তানকে হত্যা করে তাকে সিমেন্টে গেঁথে ফেলেছে।
আমাতুরোকে মারেস্কা
বারবার প্রশ্ন
করেও কোনো
উত্তর পাননি
কিন্তু তিনি
আমাতুরোকে ত্যাগও
করেননি। মারেস্কা
তার যমজ
সন্তানদের রক্ষা
করতে চাইতেন।
কিন্তু বাইরের
পৃথিবীতে মারেস্কা
কারো প্রতি
সহনুভূতিশীল ছিলেন
না। কেননা
পরবর্তী সময়ে
সাইরো গ্যালি
নামে একজনের
হত্যার পেছনে
মারেস্কার হাত
থাকার অভিযোগ
ওঠে। ১৯৮৩
সালে তিনি
এবং আমাতুরো
একই সঙ্গে
গ্রেফতার হন।
আলদো সেমেরারি
নামে এক
ফরেনসিক সায়েন্টিস্টকে
হত্যার অভিযোগ
ছিল তাদের
বিরুদ্ধে। মারেস্কা
ছেলেবেলা থেকেই
ক্রূর মানসিকতার
ছিলেন। ছেলেবেলা
থেকেই সতীর্থদের
সঙ্গে সংঘাতে
লিপ্ত হওয়ার
ঘটনা রয়েছে
তার জীবনে।
এর মধ্যে
আবার ১৯৫৩
সালে তিনি
একটি সুন্দরী
প্রতিযোগিতায়ও জয়ী
হন।
তবে মারেস্কার
চেয়ে দুর্ধর্ষ
ছিলেন মিস
পিন্টো। তার
অ্যাম্বুশ করার
প্রশিক্ষণ ছিল
এবং কাজটা
রীতিমতো ভালো
করতেন। পিন্টো
ছয়টি দলের
নেতা হিসেবে
এক জীবনে
কাজ করেছেন।
কোকেন ও
অন্যান্য অনৈতিক
ব্যবসার টাকা
অদায়ের দায়িত্ব
তার হাতে
ছিল। আর
তাদের কাজের
অন্যতম অনুষঙ্গ
ছিল মোটরসাইকেল।
একটি সাক্ষাত্কারে
তিনি বলেন,
‘আমরা
যখন কোনো
অপারেশনে যেতাম,
এ মোটরসাইকেল
ব্যবহার করতাম।
আমার অ্যাড্রেনালিন
রাশ বেড়ে
যেত সে
সময়।’ মারিয়ো
পেরেল্লার হয়ে
কাজ করা
মিস পিন্টো
কেমোরার মাফিয়া
বিকাশের একটি
বিশেষ সময়ের
প্রতিনিধি। বলা
চলে, তিনি
নারী মাফিয়া
বা কথিত
গডমাদারদের প্রতিনিধিত্ব
করেন।
অবশ্য পিন্টো
কখনো নিজেকে
‘বস’
হিসেবে দাবি
করেননি। নিজেকে
তিনি বস
মনেও করতেন
না। কিন্তু
এতে কোনো
সন্দেহ নেই
যে পেরেল্লা
পরিবারে এবং
পেরেল্লার দলের
লোকজন তাকে
ভয় তো
করতই, সম্মানও
করত। পরিচালক
লুক বেসন
১৯৯০ সালে
নিকিতা
নামে
একটি সিনেমা
তৈরি করেন
এবং এর
পর থেকে
মিস পিন্টো
লেডি
কেমোরা ও নিকিতা নামে পরিচিতি
লাভ করেন।
১৯৯২ সালে
তিনি তার
তিন বছরের
কন্যাসহ আটক
হন। ৩০
বছরের সাজা
হয়েছিল তার,
কিন্তু খুনের
কোনো অভিযোগ
না থাকায়
২৩ বছর
পর মুক্তি
পান।
এ আলোচনায়
মারিয়া লিকার্ডিকে
বাদ দেয়া
যায় না।
তার বিরুদ্ধে
এনড্রাংঘেটার সঙ্গে
যুক্ত থাকার
অভিযোগ রয়েছে।
বলে রাখা
ভালো, মারিয়া
লিকার্ডি অন্যতম
গডমাদার। ইতালীয়
পত্রিকা লা স্ট্যাম্পার মতে,
মারিয়া বিভিন্ন
ধরনের চাঁদাবাজি,
অপহরণ ও
অন্যান্য অপরাধমূলক
কাজের সঙ্গে
জড়িত। মারিয়া
মূলত তার
ভাই জেনারো
লিকার্ডি কর্তৃক
প্রতিষ্ঠিত ক্যামোরা
পরিবারের মাফিয়া
কার্যক্রমের সঙ্গে
জড়িত ছিলেন।
এএনএসএ নিউজ
এজেন্সির মতে,
লিকার্ডি লা ম্যাড্রিনা, অর্থাৎ
গডমাদার
বলে
তার সংগঠনের
কাছে পরিচিত
ছিলেন। নেপলসের
অ্যান্টি-মাফিয়া
ইউনিটের তথ্যমতে,
লিকার্ডি সাম্পিয়া
ও এর
আশপাশ অঞ্চলে
কার্যক্রম পরিচালনা
করেন।
অফিসাররা ২০০১
সালে লিকার্ডিকে
গ্রেফতার করেছিলেন।
মাফিয়া সম্পর্কিত
অপরাধের কারণে
গ্রেফতারের পর
তাকে আট
বছরের জেল
খাটতে হয়।
১৯৯৯ থেকে
তিনি পালিয়ে
বেড়াচ্ছিলেন। কেননা
তার নাম
ইতালির মোস্ট
ওয়ান্টেড ৩০
অপরাধীর তালিকায়
ছিল। বলা
হয়, ২০০৯
সালে জেল
থেকে বেরোনোর
পর পরিবারের
ব্যবসার দায়িত্ব
তিনিই হাতে
নেন। মারিয়া
লিকার্ডি ভালোমতোই
সেসব কাজ
সামাল দিচ্ছিলেন।
কিন্তু এ
সময় নেপলসের
পুলিশ মাফিয়াবিরোধী
কার্যক্রম শুরু
করে। ২০১৯
সালে মাফিয়া
পরিবারের প্রায়
১২০ জন
সদস্যকে আটক
করা হয়।
এ সময়
সায়াম্পিনোর এয়ারপোর্ট
থেকে আটক
হন মারিয়া।
মাফিয়ার অন্তঃকোন্দল
ও পুলিশি
অভিযানের ফলে
নানা সময়ে
মাফিয়া সদস্যদের
মৃত্যু হলে
ইচ্ছায় বা
অনিচ্ছায় অনেক
নারী মাফিয়ায়
যুক্ত হয়েছেন।
ফলে মাফিয়ার
ব্যবস্থায়ও নানা
পরিবর্তন এসেছে।
যেমন মিস
পিন্টো বলেন,
‘কয়েক
বছর আগেও
এ নারীরা
ঘরে বসে
ম্যাকারোনি আর
স্প্যাগেটি তৈরি
করতেন। বাচ্চাদের
দেখভালই ছিল
তাদের কাজ।
তারপর হঠাৎ
একদিন জানতে
পারেন, এখন
থেকে স্বামীর
জায়গা নিতে
হবে তার।
রাতারাতি তারা
এমন সব
ক্ষমতা পেয়ে
গেলেন, যাতে
তারা অভ্যস্ত
নন। নেপলসে
তাদের জন্য
বেশকিছু যুদ্ধ
হয়েছিল। ব্যাপারটা
অনেকটা বাচ্চাদের
হাতে বন্দুক
তুলে দেয়ার
মতো।’
আসরার আবেদিন: প্রাবন্ধিক





