মর্মাহত গল্পেরা যখন আকাশকে ঘিরে ফেলেছে, তখন পত্রিকার কলামে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি নাম উঠে আসে। নানা সফলতায় মণ্ডিত নামটির সর্বশেষ পরিচয় তিনি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত মাদ্রাজের উদার ও বন্ধুসুলভ গভর্নর। নিজস্ব কাফেলা আর কিছু ইতিবাচক সংকল্পকে সঙ্গে নিয়ে বাংলার গভর্নর হাউজের বাসিন্দা হতে সদ্য মাদ্রাজ ত্যাগ করেছেন। বিরাজমান নানা অসন্তোষ, অভিযোগ আর রাজনৈতিক অনৈক্যের অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাকে বাংলায় পাঠানো হয়েছে।
১৫ জানুয়ারি, ১৯১২ স্টেট সেক্রেটারি লর্ড ক্রুর লেখা বাংলার রাজনৈতিক আমলনামাসংবলিত একটি চিঠি লর্ড কারমাইকেলের হাতে পৌঁছায়। ক্রু বাংলার রাজনীতির বৈচিত্র্যময়তার জন্য তিন শ্রেণীর মানুষের কথা উল্লেখ করে কারমাইকেলকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার চেষ্টা করেন। তার এ তিন শ্রেণীর লোক হলো ব্রিটিশ আন-অফিশিয়াল ব্যক্তি, মুসলমান ও হিন্দু ভদ্রলোক। এ তিন শ্রেণীরই বাংলার রাজনীতিতে স্বতন্ত্র প্রভাব বিদ্যমান ছিল।
তৎকালীন সময়ে আন-অফিশিয়াল ব্রিটিশরা বাংলায় নানাভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল, ক্ষেত্রবিশেষ রাষ্ট্র ব্যবস্থার উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তেও তাদের প্রভাব লক্ষণীয় ছিল। ১৯১২ সালে ব্রিটিশ রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লি স্থানান্তর ছিল এ শ্রেণীর স্বার্থবিরুদ্ধ, এমনকি এ ব্যাপারে তাদের পরামর্শও উপেক্ষিত ছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল রাজধানী স্থানান্তরই অঞ্চলে ব্রিটিশ ও তাদের বাণিজ্যিক প্রভাবকে সংকটে ফেলবে। শঙ্কাটি তাদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয় আর এ অসন্তোষ পরে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
লর্ড ক্রু মুসলমানদের বাংলার রাজনৈতিক মাঠের অন্যতম খেলোয়াড় মনে করেন। যারা বঙ্গভঙ্গ রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং যাদের ধারণা এ রদে নানা পরিবর্তন তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এমনকি চাকরিবাকরি নিয়োগে ইংরেজি শিক্ষিত হিন্দুদের দখলে চলে যাবে বলে মুসলমানদের মধ্যে একপ্রকার অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
উনিশ শতকের শেষদিকে কিছু মুসলমান স্যার সৈয়দ আহমেদের সংগঠনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইংরেজি শেখার ব্যাপারে আগ্রহী হয় এবং চাকরিতে হিন্দুদের প্রতিযোগী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে। বঙ্গভঙ্গ তাদের এ সম্ভাবনার দুয়ার আরো প্রসারিত করে দেয়। এ ব্যাপারে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ ১৯০৬ সালের এক লেখায় উল্লেখ করেছেন আমাদের জন্য কল্যাণকর কিছু অপেক্ষা করছে। বঙ্গভঙ্গের ফলে নতুন ও সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ হিসেবে আমরা ভালো কিছু পাব। এ বাংলার ভবিষ্যৎ বাঙালি মুসলমানদের হাতেই তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তার এ আশা বঙ্গভঙ্গের পর বাস্তবতার রূপ নেয়। চাকরি নিয়োগে মুসলমানদের অগ্রাধিকার, মুসলিম শিক্ষা তহবিল গঠন, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ঢাকায় হাইকোর্ট স্থাপন, ঢাকাকে রাজধানী, চট্টগ্রামে বন্দর প্রতিষ্ঠা, নবাবরা সরকারের উপদেষ্টা পদে নিয়োগসহ বাংলার স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা উদ্যোগ গ্রহণ লক্ষণীয় হতে থাকে। এতসব আয়োজনের ফাঁকে ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি থেকে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা সব স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করে দেয়। ধারণা করা হয় তৎকালীন হিন্দুদের মন জোগাতেই ব্রিটিশ সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরে যার অপরিমেয় ক্ষতি মুসলমানরা সহ্য করতে হয় এবং তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। লর্ড ক্রু কারমাইকেলকে এ ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ নেভাতে দ্রুত ঢাকায় আসার এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে সমতাভিত্তিক সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেন।
ক্রুয়ের তৃতীয় শ্রেণীটি হলো হিন্দু ভদ্রলোক। যারা সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ আন্দোলনের জন্ম দেয়। এমনি তারা ভুপেন্দ্রনাথ বসুকে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান এবং পরবর্তী সময়ে তাদের দাবি মঞ্জুর হয়। তার পরও হিন্দু ভদ্রলোক ও ইংরেজ শাসনের দূরত্ব কমেছে বলে মনে হয়নি। কারণ রাজধানী স্থানান্তরের ব্যাপারটা ততদিনেও সবাই ভুলে যায়নি। এ ব্যাপারে ক্রু কারমাইকেলকে সচেতনতার পরিচয় দিতে বলেছেন।
ক্রুয়ের পরামর্শমতে ১৯২২-এর এপ্রিলে এসে কারমাইকেল বিভিন্ন গুণী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগপূর্বক নানা চুক্তি সই করেন। কৃষি খাত থেকে শুরু করে নদীবন্দর পর্যন্ত তিনি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেন সার্বিক উন্নয়নে জমিদারদের সরকারকে সহযোগিতা করার প্রয়োজন আছে। একা সরকারের পক্ষে সব সম্ভব না। শুধু দপ্তরে বসে না থেকে পক্ষে-বিপক্ষে সবার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে তিনি মনোযোগী হন। বাংলার সংস্কৃতি বিশেষত বাংলা ভাষাকে ধারণ করার ব্যাপারে তার আগ্রহ সবার কাছে তাকে আরো গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
ঢাকার নবাবের একটা রাজনৈতিক কৌশল হলো সরকারকে অত্যধিক চাপ নয় বরং সহযোগিতাই হবে অধিকার আদায়ের দুয়ার। ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত হিন্দুদের নিয়ে ইংরেজদের উদ্বিগ্নতা মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করবে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। পরে তাই হয়েছে, রাজনৈতিক ভারসাম্যতা নিশ্চিত করতে ইংরেজরা মুসলমানদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে শুরু করে। নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ও রাজনৈতিক সংস্কারে মুসলমানদের উপস্থিথ লক্ষণীয় হতে থাকে। বঙ্গভঙ্গ রদ তথা ১৯১১ সাল অবধি এ গ্রহণযোগ্যতা বহাল ছিল। রদ-পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। কারমাইকেল গভর্নর হিসেবে আসার পর পূর্বকৌশল অনুযায়ী নবাব সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করে নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মুসলমানদের অবস্থান তৈরি করেন।
মানুষের রাজনৈতিক অধিকারসহ যাবতীয় অধিকার আদায়ে লেজেসলেটিভ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান। যে কাউন্সিলে জনগণ সরকার ও সাম্রাজ্যের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে আর সরকার ও সাম্রাজ্য নিয়োজিত থাকবে জনগণের কল্যাণে। পার্লামেন্টারি সিস্টেমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এ গভর্নর বিশ্বাস করতেন সরকারের সঙ্গে যুক্ত হতে প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের আইনানুগ আলোচনা ও ক্ষমতার ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার।
কাউন্সিল নির্বাচনে মধ্যমপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের ফিরে আসা রাজনৈতিক কাঠামোয় একটা ইতিবাচক পরিবর্তনকে নির্দেশ করেছিল। কিন্তু নানা অজ্ঞতা আর কুসংস্কার তাদের কাউন্সিল নির্বাচনে জাতীয় শত্রুর কাতারে নিয়ে যায়। তবে তারা কারমাইকেলের মতো নতুন কাউন্সিলের ওপর ভিত্তি করেই পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের আশা করেছিলেন। তারা যদি নির্বাচনে হিন্দু ভদ্রলোকদের আস্থা লাভ করতে পারতেন, তবে সাংবিধানিক নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুজ্জীবিত হতো।
কিন্তু পর্যাপ্ত সাংগঠনিক দক্ষতার অভাব ও অপর্যাপ্ত অর্থ তহবিল এবং তৎকালীন রাজনৈতিক ভাষার বুঝতে না পারার কারণে মধ্যমপন্থী রাজনীতিবিদরা কাউন্সিল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারেনি। ভোটাররা মূলত স্থানীয় সম্মান, ধর্ম, জাত, ধনসম্পদ ও দান-খয়রাতকে নির্বাচনের মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। তারা এ মানদণ্ড ধরতে পারিনি। মধ্যমপন্থী হয়েও নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারণ ঘোচাতে না পারায় পরে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চের কাঠামোর অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাউন্সিল নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয় ১৮ জানুয়ারি, ১৯১৩। সেখানে কারমাইকেল জনগণকে
নির্বাচিত প্রতিনিধি ও জনগণের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি মনে করেন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অন্তত তিন শ্রেণীর মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। কিন্তু সাম্প্রদায়িক মনোভাব তার নির্বাচিত সভ্যদের জন্য যে সহযোগিতাপূর্ণ হবে না এ নিয়েও তিনি কম উদ্বিগ্ন ছিলেন না।
ব্রিটিশ সরকারবিরোধী মুজাহিদদের অন্যতম ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার রাজনৈতিক দক্ষতা ও আইনসভার সঙ্গে সংযুক্তি তাকে একজন অভিজ্ঞ আর বিচক্ষণ ভদ্রলোকে পরিণত করেছিল। সিভিল সার্ভিসে ভারতীয়দের ভোগান্তির এ ভুক্তভোগী রাজনৈতিক কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন বলে সংকল্প করেন। নানাভাবে তিনি ব্রিটিশ সরকারের অসংগতি জনগণের কাছে তুলে ধরেন। বঙ্গভঙ্গের সময় তিনি ভদ্রলোকদের সমাজে রাজনৈতিক সেতারি হয়ে ছিলেন। সুরেন্দ্রনাথ বাবুসহ জাতীয়তাবাদীরা নানাভাবে সরকার ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অপমান হয় এমন কার্যকলাপ শুরু করেছিল। প্রথমে কারমাইকেল তাদের সাহায্য কামনা করেছিলেন, কিন্তু তারা মনে করতেন কারমাইকেলকে সাহায্য করা রাজনৈতিক হত্যার নামান্তর। এ সুযোগে লুফে নিতে এগিয়ে আসে লর্ড ক্রুরের আন-অফিশিয়াল ব্রিটিশ দল।
কারমাইকেল ও মধ্যমপন্থী জাতীয়তাবাদীদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল রাজনৈতিক সহিংসতা। মধ্যমপন্থী জাতীয়তাবাদীদের নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য তাদের তাগিদ দেয়া হচ্ছিল। তারা কি সহিংসতার পক্ষে নাকি অহিংস? যখন শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা গ্রামে গ্রামে ডাকাতি করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তখন মধ্যমপন্থী জাতীয়তাবাদীরা মনে বিতৃষ্ণা থাকা সত্ত্বেও একটু বিপ্লবের স্বাদ মুখে নেয়। এই ভেবে তারা শান্তি পায় যে বাঙালি অন্তত কাপুরুষের জাতি নয়।
কারমাইকেল বিশ্বাস করেছিলেন ১৯০৮ সালের স্বৈরাচারী পদ্ধতিতে ফিরে গিয়ে মানুষ হত্যা হিতে বিপরীত হবে। গণমানুষের সহযোগিতা ছাড়া যা-ই করা হবে সবই বিপ্লবীদের পক্ষে যাবে। তিনি ঠিক করলেন ভদ্রলোকের মতামতকে সহিংসতার বিপক্ষে কাজ লাগানো যেতে পারে। সহিংসতা প্রতিরোধে আইনসভায় আইন পাস করা সমীচীন হবে। কিন্তু সে আইন সর্বসম্মতিক্রমে। নয়তো গণমানুষের সহযোগিতা পাওয়া যাবে না।
কারমাইকেলের এ উদার মনোভাব সরকারি মনোভাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভারত সরকারের অনেকেই তার এ উদারতার জন্য ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে কঠোর নীতি প্রয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সহকর্মীদের সমর্থনের অভাবে সেটা আর করা হয়নি। ক্ষমতা বিকাশের যে পথ প্রদেশগুলোয় তৈরি হয়েছে, সেটা নষ্ট করা যাবে না, সর্বোপরি স্টেট সেক্রেটারি লর্ড ক্রু প্রদেশের ইচ্ছাবিরুদ্ধ কোনো কিছুই সহ্য করবেন না।
সহিংসতা প্রতিরোধে একটাই পথ খোলা ছিল লর্ড ক্রু ও কারমাইকেলকে বোঝানো যে এখানে কঠোর নীতি প্রয়োজন। মি. ক্র্যাডক তাই করতে যান, কিন্তু সংশ্লিষ্টদের নীতি বোঝানো গেলেও তা প্রয়োগে কাউকে আগ্রহী করা যায়নি। ফলে তিনি সহিংসতাকে বাঙালি সমাজের কেবল একটি খারাপ দিক হিসেবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এখানে উল্লেখ্য, সমাজ নিয়ে মি. ক্র্যাডক আর লর্ড কারমাইকেলের অন্তর্দৃষ্টিতে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ করা গেছে। মি ক্র্যাডক বলেন, সহিংসতা কেবল একটি ঘুণেধরা সমাজের ফলাফল। বাঙালি সমাজ নতুন করে গড়ার প্রয়োজন আছে। অন্যদিকে কারমাইকেলের বয়ান হলো সন্ত্রাস বা সহিংসতা হলো ভদ্রলোকদের রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ। বাঙালি বিষয়ে ব্রিটিশদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এখানে প্রশংসনীয় ও কার্যকর হতে পারে।
কারমাইকেল দেখেছিলেন, মধ্যমপন্থী জাতীয়তাবাদীদের সাংবিধানিক পদ্ধতির প্রতি যে অনুরাগ আছে সেটা মোটেও লোক দেখানো নয়। শুরু থেকেই তিনি এটা চাইতেন যে বাংলায় তিন শ্রেণীর মানুষই মুক্ত সেকুলার আদর্শ মেনে রাজনীতি করুক। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে তিনি সংঘাতে জড়িয়েছেন, হেরেছেন। সর্বশেষ ভারতের ডিফেন্স অ্যাক্ট পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারমাইকেলে সংস্কার লেজিসলেটিভ কাউন্সিল এবং এর মাধ্যমে ভদ্রলোকের সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা ও চূড়ান্তভাবে দীর্ঘশ্বাসে রূপ নেয়।
ইমরান নাফিজ: লেখক









