মাহফিল থেকে
সেলুলয়েডে
আমীর
খসরুকে ভারতীয়
উপমহাদেশের ইতিহাসজুড়ে
নানা পরিচয়েই
স্মরণ করা
হয় এতে
সন্দেহ নেই—কবি,
সুফি, ইতিহাসবিদ,
ভাষাতাত্ত্বিক ইত্যাদি—কিন্তু
এ অঞ্চলের
জনমানসে তার
সবচেয়ে জনপ্রিয়
পরিচয় নির্মিত
হয়েছে তার
সংগীত সাধকের
সত্তাকে ঘিরেই।
উপমহাদেশজুড়ে ছড়িয়ে
থাকা চিশতিয়া
ঘরানার সুফি
আখড়া বা
নানা সময়ে
অনুষ্ঠিত অনুসারীদের
মাহফিলগুলোয় যেমন
আমীর খসরুর
লেখা কাওয়ালি
ও গজল
জনপ্রিয়—তেমনি
তা সাদরে
ঠাঁই করে
নিয়েছে আধুনিক
কালের সিনেমার
গান হিসেবে
কিংবা অত্যাধুনিক
লাইভ স্টুডিও
কনসার্টেও। আবার
ভারতীয় মার্গসংগীতেও
আমীর খসরুর
অবদান কম
কিছু নয়।
আমীর খসরুর
রচিত সংগীতে
কীভাবে তার
সময়ের মানুষের
থেকে আরম্ভ
হালের শ্রোতার
মনও মজে
চলছে এবং
কীভাবে তার
উদ্ভাবন উপমহাদেশের
সংগীতকে ঋদ্ধ
করেছে, সেসবের
যিকঞ্চিৎ বিবরণ
এ লেখায়
তুলে ধরার
চেষ্টা করা
হয়েছে।
তারানার জন্ম
যদিও তর্কাতর্কি হতে পারে, তাও এটা মোটামুটি স্বীকৃত সত্য যে তারানার ধারণা ভারতীয় মার্গসংগীতে এনেছিলেন আমীর খসরুই। কী করে তারানা উদ্ভাবন করলেন আমীর খসরু, তা নিয়ে একটা মজার গল্প প্রচলিত আছে। আমীর খসরু তখন নাকি সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির দরবারের অন্যতম সভ্য। খিলজীর দখলে নেয়া দেবগিরির রাজদরবারের সভা-গায়ক গোপাল নায়েককে সুলতান নির্দেশ দেন টানা ছয় সন্ধ্যা ধরে একটি নির্দিষ্ট রাগ গেয়ে চলতে (কেউ কেউ বলেন রাগটি ছিল কদম্ব)। যখন গোপাল রাগটি গাইছিলেন, পুরো সময়জুড়ে আমীর খসরু সুলতানের সিংহাসনের পাশে চুপচাপ বসে রাগটির সুর ও প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছিলেন। ছয়দিন ধরে গোপাল নায়েক রাগটি উপস্থাপন করার পর সপ্তম দিনে আমীর খসরু পুরো রাগটি নিজের গলায় গেয়ে পুরো দরবারকে হতভম্ব করে দেন। কারণ তার গায়কী ছিল সুর-তালে একদমই গোপাল নায়েকের অনুরূপ। যদিও তিনি রাগের বাণীর জায়গায় অর্থপূর্ণ কথা না বসিয়ে অর্থহীন ধ্বনি বসিয়ে দিয়েছিলেন। অনেকে বলেন, এভাবেই ভারতীয় মার্গসংগীতে জন্ম
নিয়েছিল
তারানার ধারণা।
যদিও একালের
সংগীত-গবেষকরা
ঘটনাটিকে সত্যি
বলে স্বীকার
করতে অনিচ্ছুক।
তাদের মতে,
এ নেহাতই
গালগল্প বা
‘আরবান
লিজেন্ড’।
কেননা রাগ
কদম্ব যদিও
খসরু মাত্র
ছয়দিনে আত্মস্থ
করেছিলেন—এমনটা
অসম্ভব। রাগ
কদম্ব এমনিতেই
অত্যন্ত জটিল।
এর বিপরীত
ধারণাও অবশ্য
আরেক দল
গবেষক পোষণ
করেন। তাদের
এ ঘটনা
সত্যি হওয়ার
সম্ভাবনাও কম
নয়। কারণ
রাগে বাণীর
বদলে ধ্বনি
উপস্থাপন করাটা
খসরুর পক্ষে
অসম্ভব কিছু
নয়। সুফি
ঐতিহ্যে জিকিরের
মাধ্যমে কণ্ঠে
নানা রকম
ধ্বনির চর্চা
করা হয়ে
থাকেই। লেখক
মনু কুলহরি
তাই মন্তব্য
করেছেন, সব
পক্ষের তর্ক-বিতর্ক
মাথায় রেখেও
তারানার উদ্ভাবনে
আমীর খসরুর
ভূমিকা যে
ছিল না—তা
বলা যাবে
না। বরং
তার ভূমিকা
রয়েছে এমনটা
ধরে নেয়াই
শ্রেয়তর।
রাগ ও
তালের উদ্ভাবন
তারানার প্রচলন ঘটানোর পাশাপাশি আমীর খসরু ভারতীয় রাগ ও পারসিক সুরের মিশ্রণে একাধিক রাগের উদ্ভাবন করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। গবেষক রাজা সুলতান মকসুদ একটি নিবন্ধে দাবি করেছেন, মোটমাট ১৩টি রাগ আমীর খসরুর দ্বারা প্রথমবারের মতো উপস্থাপিত হয়েছিল। রাগগুলো নিম্নরূপ: ১. মাঝ; ২. সাজগিরি; ৩. ইমন; ৪. ঊষা; ৫. মৌফাফিক; ৬. জিলাফ; ৭. ফারগানা; ৮. সরফর্দা; ৯. ভাকারা; ১০. ফেরদৌস; ১১. ঘনম; ১২. মুনম ও ১৩. জংলা। এছাড়া তিনি ২৪টি নতুন তাল উদ্ভাবন করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য তালগুলো হলো: ছপক, ঝাঁপতাল, ঝুমরা ইত্যাদি। আবার আরেকজন সংগীত গবেষক প্রেমানন্দ পাঞ্চাল খসরু কীভাবে ভারতীয় রাগের সঙ্গে পারসিক রাগ মিশিয়ে নতুন রাগ তৈরি করেছেন তার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী আমীর খসরু ভারতীয় গারা রাগের সঙ্গে একটি পারসিক রাগ মিলিয়ে তৈরি করেন রাগ মুজির; সাজগিরি রাগ নির্মাণে তিনি সহায়তা নেন পূরবী, গৌর, গুণ, কলি ও আরেকটি পারসিক রাগের; রাগ আয়মান তৈরি করেন
ভারতীয় রাগ
হিন্দোল ও
পারসিক রাগ
নওরোজের মিশেলে;
সারং, বসন্ত
ও একটি
পারসিক রাগের
মিশ্রণে তৈরি
হয় ঊষা
রাগ; টোড়ি
ও মালশ্রী
রাগের সঙ্গে
পারসিক সুর
মিলিয়ে তৈরি
হয় রাগ
মুভাফিক; পূরবী
রাগের সামান্য
পাল্টে নিয়ে
নির্মাণ হয়েছিল
গনম রাগের;
ভারতীয় খট
রাগের সঙ্গে
পারসিক শাহনাজ
রাগ মিলিয়ে
তৈরি হয়
জিল্্ফ; ১৬টি
আলাদা আলাদা
ভারতীয় রাগের
সঙ্গে একটি
পারসিক রাগ
মিলিয়ে তৈরি
হয় রাগ
ফারজানা। এ
তালিকা দীর্ঘ
হলেও উদ্ধৃত
করতেই হলো
খসরুর সাংগীতিক
দক্ষতার প্রমাণ
হিসেবে। সংগীতজ্ঞ
আবদুল হালিম
জাফরখান অবশ্য
মনে করেন,
পূর্বোক্ত রাগগুলোর
পাশাপাশি ইমন
কল্যাণ, সাহানা,
বসন্ত মুখরী
ও কাফি
রাগের উদ্ভাবকও
আমীর খসরু।
কাওয়ালি জনপ্রিয়করণের কাণ্ডারি ও
গজলের রচয়িতা
কাওয়ালির
উদ্ভাবক আমীর
খসরু কিনা—এ
নিয়ে অবশ্য
সংশয় গায়ে
মেখেও সিদ্ধান্তে
আসা মুশকিল।
আমীর খসরুর
বহু আগে
থেকেই কাওয়ালির
প্রচলন ছিল
বলে গবেষকরা
বলে থাকেন।
তবে পুরো
ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে
কাওয়ালির যে
বিপুল জনপ্রিয়তা—তার
শুরুয়াৎ যে
আমীর খসরুর
হাত ধরেই
হয়েছিল, তা
নিয়ে অবশ্য
সবাই নিঃসংশয়।
নিজামুদ্দিন আউলিয়ার
প্রশ্রয়ে ঈশ্বর
ও গুরুর
বন্দনায় অনেকে
একত্রিত হয়ে
কাওয়ালি গাওয়া
ও শুনার
যে প্রথা
বা অভ্যাস—তা
নিশ্চিতভাবেই আমীর
খসরুর একক
অবদান। কাওয়ালির
বাণীকে শিল্পিত
করার ক্ষেত্রে
খসরুর ভূমিকা
স্বীকার করতেই
হবে। এ
উপমহাদেশের বেশির
ভাগ সুফি
সমাবেশ ও
আখড়ায় সর্বদা
আমীর খসরুর
রচিত কাওয়ালিই
পরিবেশন করা
হয়ে থাকে।
আমীর খসরুর
লেখা কাওয়ালি
সংগীত যেমন
পরিশীলিত আবেগে
তীক্ষ,
তেমনি ভাষার
ঝংকারে মনে
গেঁথে যাওয়ার
মতোও। উপমহাদেশের
সুফিপন্থী মানুষের
মধ্যে তাই
এসব কাওয়ালির
এত জনপ্রিয়তা।
কাওয়ালি গানের
পাশাপাশি গজল
রচনাতেও আমীর
খসরুর অবদান
কম নয়।
তার লেখা
বহু জনপ্রিয়
গজল এখনো
অনেক শিল্পী
গেয়ে থাকেন।
এক হিসাব
অনুযায়ী, খসরুর
লেখা মোট
গজলের সংখ্যা
পাক্কা পাঁচ
হাজারের কম
নয়।
তিনি বাদ্যযন্ত্রের নির্মাতাও
সংগীত
রচনার পাশাপাশি
নিজামুদ্দিন আউলিয়ার
দরবারে বসে
আমীর খসরু
একাধিক বাদ্যযন্ত্র
নির্মাণ করেছিলেন
বলে জানা
যায়। তবে
এটি নিয়ে
গবেষকদের মধ্যে
মতান্তর আছে।
সেতার আমীর
খসরুর দ্বারাই
তৈরি হয়েছিল
এমন একটা
ধারণা বহুল
প্রচলিত। তবে
মনে হয়,
পারস্যে প্রচলিত
সেতারকে ভারতীয়দের
মধ্যে জনপ্রিয়
করার কাজটিই
শুধু সম্ভব
করেছিলেন। পণ্ডিত
রবিশঙ্কর তার
আত্মজীবনী ‘মাই
মিউজিক, মাই
লাইফ’-এ
বিষয়ে বলেছেন:
‘[আমীর
খসরুর] সাংগীতিক
প্রতিভার কারণে...
তাকে শ্রুতিধর
বলে ডাকা
হতো... তিনি
একাধিক বাদ্যযন্ত্রের
মোডিফিকেশনের কারিগর
ছিলেন, বিশেষ
করে সেতার...’।
রবিশঙ্করের মন্তব্যের
পর আর
বিষয়টি নিয়ে
সংশয় থাকার
কথা নয়।
আমীর খসরু
তবলাও তৈরি
করেছিলেন বলে
কিংবদন্তি চালু
আছে। আমীর
খসরুর আবির্ভাবের
বহু আগে
থেকেই ভারতীয়
উপমহাদেশে তালা
বাজানোর উপযোগী
একাধিক যন্ত্র
ছিল। কিন্তু
নির্দিষ্ট আকারের
ও দুই
অংশের তালযন্ত্র
তবলা নাকি
তারই উদ্ভাবন।
শুধু তবলাই
তিনি উদ্ভাবন
করেননি, তবলার
নানা ‘বোল’ও
তিনি নির্মাণ
করেছিলেন নিজের
গভীর সাংগীতিক
জ্ঞান দিয়ে।
বলিউড থেকে
পপ দুনিয়ায়
আমীর খসরুর রচিত একাধিক কাওয়ালি ও গজল হালের গায়কদের কণ্ঠে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সুফি সন্ত নিজামুদ্দিন আউলিয়াকে উৎসর্গ করে লেখা তার কাওয়ালি ‘আজ রং হ্যায়’ একাধিক বলিউড সিনেমায় যেমন গীত হয়েছে, তেমনি কোক স্টুডিওর মতো জনপ্রিয় সংগীতানুষ্ঠানে তা বারবার ভিন্ন ভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে উঠে এসেছে এবং প্রতিবারই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘রং’ প্রথমবারের মতো জনপরিসরে তুমুল জনপ্রিয়তা পায় সম্ভবত গত শতকের সত্তরের দশকে কিংবদন্তি নুসরাত ফতেহ আলী খান ও কাওয়ালি গায়ক ভাতৃদ্বয়
গোলাম ফরিদ
সাবরি ও
মকবুল আহমেদ
সাবরি বা
‘সাবরি
ব্রাদার্সের’ কণ্ঠে
অনবদ্য এক
যৌথ পরিবেশনায়।
এর প্রায়
৪০ বছর
পর পাকিস্তানের
কোক স্টুডিওর
আয়োজনে নুসরাত
ফতেহ আলী
খানের ভাতিজা
রাহাত ফতেহ
আলী খান
আবার গানটি
কণ্ঠে তুলে
নেন; সঙ্গে
থাকেন গোলাম
ফরিদ সাবরিরই
পুত্র আমজাদ
সাবরি। আমজাদ
সাবরি গানটি
রেকর্ড করার
কিছুদিনের মধ্যেই
পাকিস্তানের করাচি
শহরে সন্ত্রাসবাদীদের
গুলিতে মৃত্যুবরণ
করেন। তার
মৃত্যুর পাঁচ
মাস পর
গানটি প্রচারিত
হয়। ‘রং’-এর
গায়ে যেন
দুঃখের ছিটেও
লেগে গেল
তখন থেকে,
চিরদিনের জন্য।
‘আজ
রং হ্যায়’
বলিউডে প্রথমবারের
মতো ব্যবহূত
হয়েছিল শ্যাম
বেনেগালের ‘জুনুন’
সিনেমায়—১৯৭৮
সালে। বেনেগাল
অবশ্য গানের
মেজাজটাই পুরো
পাল্টে দিয়ে
সম্পূর্ণ ভিন্ন
এক প্রেক্ষাপটে
একে উপস্থাপন
করেন। রাস্কিন
বন্ডের ‘আ
ফ্লাইট অব
পিজিনস’ উপন্যাস
অবলম্বনে নির্মিত
‘জুনুন’-এর
প্রেক্ষাপট ছিল
১৮৫৭ সালের
সিপাহী বিদ্রোহ,
‘আজ
রং হ্যায়’
এরই সূত্র
ধরে উপস্থাপিত
হলো দ্রোহের
টগবগে প্রকাশ
হিসেবে। আবার
২০১৫ কবীর
খান নির্মিত
‘বজরঙ্গী
ভাইজান’ সিনেমায়
ফের ব্যবহূত
হলো গানটি,
আবহসংগীত হিসেবে।
পাকিস্তানের এক
বাকশক্তিরহিত শিশুকে
কী করে
মা-বাবা
দিল্লিতে নিজামুদ্দিন
আউলিয়ার মাজারে
এসে কথা
বলার ক্ষমতা
ফিরে পাওয়ার
আশায় নিয়ে
এসে হারিয়ে
ফেলে, পরে
হনুমানভক্ত পবনকুমার
(সালমান খান
এ চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন)
কী করে
শিশুটিকে তার
বাড়িতে ফিরিয়ে
দিতে এক
দুঃসাহসিক অভিযানে
নামে—তার
প্রেক্ষাপটে গানটি
ভারি লাগসই
নিঃসন্দেহে। আমীর
খসরুর বাণীর
অসাম্প্রদায়িক ‘স্পিরিট’
বজরঙ্গী ভাইজানের
দেশকালের মানচিত্র
ভুলে একটি
শিশুকে নিরাপদে
বাড়ি পৌঁছে
দেয়ার অভিযানের
সঙ্গে খাপে
খাপে মিলে
যায়। এছাড়া
পাকিস্তানের কোক
স্টুডিওর জন্য
‘আজ
রং হ্যায়’
গেয়েছিলেন উপমহাদেশের
দুই বিখ্যাত
কাওয়ালি শিল্পী
ফরিদ আয়াজ
ও আবু
মোহাম্মদ। ফরিদ-আবু
জুটি কাওয়ালির
যেকোনো সময়
সুর ইচ্ছামতো
ও স্বাচ্ছন্দ্য
বুঝে পাল্টে
নেয়ার প্রবণতা
কাজে লাগিয়ে
পুরো গানটি
উপস্থাপন করেন
মল্লার রাগে।
আমীর খসরুর
বাণী, কাওয়ালির
মেজাজ আর
রাগের ওপর
ভিত্তি করে
তৈরি করা
এই কম্পোজিশন
নিয়ে ফরিদ
আয়াজের মন্তব্য
ছিল এমন:
‘এটা
তো আমার
ভালো লেগেছিল।
এটাকে আমি
নিছক ‘সাউন্ড
টেস্ট’ বলে
গণ্য করি
না, এটা
ছিল রীতিমতো
মাহফিল-এ-শামা।
যত উপদান
আমাদের সামনে
ছিল সবগুলোই
নিয়ে এই
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
চলেছিল—আমীর
খসরু, এই
কাওয়ালি আর
নিরীক্ষার প্রবণতা—
সবকিছুই দারুণভাবে
মিশে গিয়েছিল।’
ফরিদ-আবু
যুগল আমীর
খসরুর লেখা
আরো গান
নতুনভাবে গেয়েছেন।
‘খবরম
রাশিদা’, ‘আদম’
বা ‘কঙ্গনা’—আমীর
খসরুর লেখা
গানগুলো তারা
নির্মাণ করেছেন
সম্পূর্ণ নতুন
আঙ্গিকে। তাদের
কণ্ঠে এ
গানগুলো শুনলে
যেন সত্যিই
স্তব্ধ হয়ে
যেতে হয়।
‘আজ
রং হ্যায়’
ছাড়াও আমীর
খসরুর লেখা
আরেকটি কাওয়ালি
গান উপমহাদেশংজুড়ে
ভারি জনপ্রিয়।
সেটি হলো
‘ম্যায়
তো পিয়া
সে নয়না
লাগা আয়্যি
রে’।
নুসরাত ফতেহ
আলী স্বয়ং
এ গান
বহুবার বহু
ম্যাহফিলে ও
রেকর্ডিংয়ের জন্য
গেয়েছেন। ফরিদ
আয়াজ ও
আবু মোহাম্মদের
যুগল পরিবেশনাতেও
গানটি বেশ
জনপ্রিয়। ভারতের
কোক স্টুডিওর
জন্য কম্পোজার
রাম সম্পত
গানটি নতুনভাবে
তৈরি করেন,
কণ্ঠ দেন
সোনা মহাপাত্র।
তবে সেই
সময় সোনা
মহাপাত্রের গায়কী
নিয়ে সমালোচনাও
কম হয়নি।
তবে সে
যা-ই
হোক, নানা
ভেদাভেদ ভুলে
উপমহাদেশের নানা
প্রান্তের শিল্পী
আমীর খসরুর
গান নিজেদের
কণ্ঠে আপন
করে নিয়েছেন
বরাবরই। সে
প্রচেষ্টায় ভুল
থাকতে পারে,
তবে কোনোটিই
অনান্তরিক নয়।
কেন তিনি
বিশিষ্ট
এ
উপমহাদেশের ঐতিহাসিক
ব্যক্তিত্ব হিসেবে
না যতটা,
তার চেয়ে
নিজের তৈরি
সংগীতের মাধ্যমে
আমীর খসরু
এখানকার গণমানুষের
মধ্যে যেন
আরো বেশি
করে বেঁচে
আছেন। সুফিবাদী
ঐতিহ্যের পরম্পরায়
অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
নিয়ে ঈশ্বরলাভের
সাধনায় রচিত
তার বাণী
তাই যেকোনো
সম্প্রদায়ের উদারমনা
ব্যক্তিকেই সমানভাবে
আকর্ষণ করে।
এ কারণেই
আমীর খসরুর
বাণী প্রাণের
অনিবার্য প্রেরণা
হিসেবে গীত
হয় যেমন
টেলিভিশন-চলচ্চিত্রে,
তেমনি সাধারণ
মানুষের মনেও
তা ঐশ্বরিক
প্রেমের উপাদান
হিসেবে বিরাজ
করতে থাকে।
মুহিত হাসান: নন-ফিকশন লেখক





