এমএফ মারের লেখা বইটির নাম স্কাইগার্ল। ১৯৫১ সালে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত। এটি আসলে এয়ারলাইন স্টিউয়ার্ডেসদের চাকরির ও কাজের হ্যান্ডবুক। সে সময় মাটিতে ও আকাশে সবচেয়ে গ্ল্যামারাস মেয়েদের হাতে কিংবা ব্যাগে এক কপি স্কাইগার্ল পাওয়ারই কথা।
তারও আগে এলেন চার্চ নামের সানফ্রান্সিসকো হাসপাতালের একজন রেজিস্টার্ড নার্স পাইলটের প্রশিক্ষণ নিয়ে যখন উড়োজাহাজ চালানোর আবেদন জানালেন, বোয়িং এয়ার ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির ম্যানেজার স্টিভ স্টিমসন জানিয়ে দিলেন বোয়িং নারী পাইলট নেবে না। তবে তিনি যদি নার্স হিসেবে যোগ দিতে চান তা বিবেচনা করা হবে। তার কাজ হবে উড়োজাহাজ উড্ডয়নের ভয়ে যারা কান্নাকাটি করেন তাদের প্রবোধ দেয়া। এলেন চার্চ রাজি হলেন।
তিনি যোগ দিলেন। তিনিই হলেন ইতিহাসের প্রথম নারী কেবিন ক্রু কিংবা স্টিউয়ার্ডেস কিংবা এয়ার হোস্টেস। তখন ১৯৩০ সাল। এলেন চার্চের পদবি হলো হেড স্টিউয়ার্ডেস, আর তিন মাসের পরীক্ষামূলকভাবে আরো সাতজন স্টিউয়ার্ডেস নিয়োগ দিলেন এলেন।
ব্যাট (BAT) বোয়িং এয়ার ট্রান্সপোর্ট তাদের ডাকত স্কাইগার্ল— আকাশবালিকা।
আকাশবালিকাদের তখন রেজিস্টার্ড নার্স হতেই হতো। বয়স পঁচিশের কম, ওজন ১১৫ পাউন্ডের নিচে, উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির বেশি না। যাত্রীদের লাগেজ ওঠানামা করানোর মতো শক্তিশালী হতে হতো, উড়োজাহাজে জ্বালানি ভরা থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ ঠেলে হ্যাঙ্গারে নেয়া পর্যন্ত আকাশবালিকা বিমানের সঙ্গে থাকবেন।
একবার দৃশ্যটি কল্পনা করুন তো এমিরাত এয়ারলাইনসের স্টিউয়ার্ডেসরা তাদের অতিকায় এয়ারবাস ৫৪০-এ জেট ফুয়েল ভরছেন কিংবা বাংলাদেশ বিমানের আকাশবালিকারা তাদের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ টারমাক থেকে ঠেলে ঠেলে হ্যাঙ্গারের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, অবশ্য এই কাজগুলো এখন আর আকাশ বালিকাদের করতে হয় না!
আকাশবালিকা-আকাশবালক সবাই এখন ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট। এয়ার হোস্ট/হোস্টেস এখন আর তেমন প্রচলিত পদবি নয়। তাদের কাজে পেশাদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীর আরাম ও নিরাপত্তা বিধান এবং এয়ারলাইনসের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই তাদের কাজ।
পৃথিবীর প্রথম ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট হেনরিক কুবিস যোগ দেন ১৯১২ সালে, এলেন চার্চ আসলেন আরো ১৮ বছর পর। লক্ষণীয়, উড়োজাহাজের সেবক-সেবিকাদের পদবি এসেছে সাগরের জাহাজ থেকেই। কেবিন বয়, স্টিউয়ার্ড, চিফ স্টিউয়ার্ড। যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল এয়ারওয়েজই উড়ন্ত উড়োজাহাজের কর্মীদের পদবিগুলো জনপ্রিয় করে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন এয়ারলাইনস (১৯২৮) এবং প্যান-আমেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজ (প্যান অ্যাম) তাদের স্টিউয়ার্ডদের দিয়ে উড়োজাহাজে প্রথম খাবার পরিবেশন করে। ১৯৩০ দশকের আর্থিক মহামন্দা জীবিকার সন্ধানে নরনারী সবাইকেই রাস্তায় নামিয়েছে। ট্রান্সকন্টিনেন্টাল ও ওয়েস্টার্ন এয়ারলাইনস ১৯৩৫-এর ডিসেম্বরে ৪৩টি এয়ার হোস্টেস পদ পূরণের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করলে আবেদন করেন দুই হাজার নারী।
তার পরই পুরুষ ব্যবস্থাপকদের চিন্তার জগতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এল। নার্সিং, টিচিং— এসব যেমন নারীদের কাজ হিসেবে চিহ্নিত, উড়োজাহাজের সেবামূলক সব কাজেই নারীকে মনে করা হলো অধিকতর উপযুক্ত। ১৯৩৬ থেকে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গেল। আস্তে আস্তে ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট বা স্টিউয়ার্ড পদ থেকে পুরুষের সংখ্যা আনুপাতিকভাবে হ্রাস পেতে শুরু করল। জুনিয়র ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট থেকে শুরু করে চিফ পার্সার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ চলে গেল নারীর অধিকারে।
আকাশবালিকা নিয়োগে ১৯৩৬ সালে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞাপনের সারাংশ:
যারা এয়ার হোস্টেস হতে চান তাদের অবশ্যই সুন্দর হতে হবে, ওজন ১০০ থেকে ১১৮ পাউন্ডের মধ্যে আর উচ্চতা ৫ ফুট থেকে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। বয়স কুড়ি থেকে ছাব্বিশ বছরের মধ্যে। বছরে চারবার শারীরিক সুস্থতার কঠোর পরীক্ষা হবে এবং প্রতিবারই উত্তীর্ণ হতে হবে।
১৯৬৬ সালে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। এটি শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন—
কিছু সংখ্যক স্টিউয়ার্ডেস নিয়োগ করা হবে। আবেদনের যোগ্যতা: হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েট, সিঙ্গেল (সন্তানহীন বিধবা কিংবা তালাকপ্রাপ্ত যোগ্য প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন), বয়স ২০ বছর (যাদের বয়স সাড়ে ১৯ বছর ভবিষ্যতে বিবেচনার জন্য তারাও আবেদন করতে পারবেন), উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি থেকে সর্বাধিক ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি; ওজন ১০৫ থেকে ১৩৫ পাউন্ড উচ্চতার আনুপাতিক হতে হবে। চশমা ছাড়া চোখের ভিশন ২০/৪০ হতে হবে।
আমেরিকায় আবেদনকারীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেই চাকরিচ্যুতি অনিবার্য।
আমেরিকার এয়ারলাইনগুলোয় শুরুতে রেজিস্টার্ড নার্স রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পরে শর্ত শিথিল করা হলে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নার্সরা সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেয়ায় উড়োজাহাজের সেবার জন্য আর রেজিস্টার্ড নার্স পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন এ যোগ্যতাটি বাদ দেয়া হয়।
বিবাহিত না অবিবাহিত, বয়স বেশি না কম, ওজন উচ্চতা সমানুপাতিক না তার চেয়ে বেশি— আকাশবালিকাদের নিয়ে এ ধরনের বিষয় উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো এয়ারলাইনসে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান এয়ার হোস্টেস হলেন রুথ ক্যারোল টেইলর। তিনি ১৯৫৭-এর ডিসেম্বরে মোহক এয়ারলাইনসে যোগ দেন এবং ১৯৫৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ ইথাকা থেকে নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্টের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বিয়ে করার কারণে তিনি ছয় মাসের মধ্যেই চাকরিচ্যুত হন।
চাকরিতে সমান অধিকার ও সমান সুযোগের দাবিতে কমিশনের কাছে আকাশবালিকাদের অভিযোগ স্তূপে পরিণত হতে থাকে। প্রথম দিকে একজন আকাশবালিকার ৩২ বছর পূর্তিতে তাকে চাকরি থেকে অবসর দেয়া হতো। পরে কোনো কোনো এয়ারলাইনস তা ৩৫ বছরে উন্নীত করে। উচ্চ আদালত এ বয়সসীমা অবৈধ ঘোষণা করেন। বিয়ে করলে চাকরি চলে যাবে— এ বিধানও অবৈধ ঘোষিত হয়।
প্যান-অ্যাম ১৯৭১ সালে কেবল আকাশবালিকা নেয়ার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করলে সম্ভাব্য আকাশবালকরা মামলা করলে আদালত সেক্স ডিসক্রিমিনেশনের অভিযোগে বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দেয়। শারীরিক ওজনের ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাও বাতিল হয়।
তার পরও নিয়োগের সময় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত মনকাড়ানিয়া সুন্দরীদেরই বাছাই করে থাকে।
টিডব্লিউএর (ট্রান্সকন্টিনেন্টাল অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন এয়ারলাইন) ডিসি-২ ১৯৩৬ সালের ৭ এপ্রিল সকাল ১০টা ২০ মিনিটে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফেয়্যারচান্সের তিন মাইল দক্ষিণ-পূর্বে ভূমি থেকে তিন হাজার ফুট উপরে পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বিধ্বস্ত হয়, উড়োজাহাজে আগুন লেগে যায়। পাইলট অটো ফার্গুসান এবং কো-পাইলট হ্যারি সি লিউইস এবং নয়জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। উড়োজাহাজের রেডিও লিংক বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং তুষারঝড়ের মধ্যে পাইলটকে এগোতে হচ্ছিল। আহত অবস্থায় বেঁচে যান এয়ার হোস্টেস নেলি গ্র্যাঞ্জারসহ তিনজন।
আহত নেলির কাপড়েও আগুন ধরে যায়। তিনি হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে একজন পুরুষ যাত্রীর কোট পরে প্রবল তুষারঝড়ের মধ্য দিয়ে ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার হেঁটে এসে লোকালয়ে পৌঁছেন এবং দুর্ঘটনার সংবাদ দেন এবং অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে আহতদের উদ্ধারের মিনতি জানান। নেলি গ্র্যাঞ্জার আকাশবালিকা হিসেবে সেবাব্রতের আইকনে পরিণত হন।
ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট নায়লা নাজির ১৯৮৫ সালে ফ্লাইট সেইফটি ফাউন্ডেশনের হিরোইজম অ্যাওয়ার্ড পেয়ে সাহসিকতায় স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৯৮১ সালের ২ মার্চ পিআইএর একটি উড়োজাহাজ করাচি থেকে পেশোয়ার যাওয়ার পথে হাইজ্যাক করে প্রথমে কাবুল এবং শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার দামেস্ক বিমানবন্দরে নেয়া হয়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে হাইজ্যাকার যখন নারী ও শিশুদের মুক্তি দেয় এবং নায়লাকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, তখন নায়লা সরাসরি জানিয়ে দেন যে, জাহাজের যাত্রীদের হাইজ্যাকারের হাতে ছেড়ে দিয়ে তিনি কোথাও যাবেন না। তখন তার বয়স কেবল ১৯ বছর পেরিয়েছে আর চাকরির তিন মাস। তার চোখের সামনে একজন যাত্রীকে গুলি করা হয়। তিনি অন্য যাত্রীদের নিয়ে আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করতে থাকেন। ১৩ দিন পর ৫৪ জন বন্দির মুক্তির বিনিময়ে জিম্মিদের ছাড়া হয়। এ সময় মরণোন্মুখ যাত্রীর একমাত্র সহায় ছিলেন এই তরুণী আকাশবালিকা। ব্রিটিশ এয়ারট্যুরস ফ্লাইটের অগ্নিদগ্ধ কেবিনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধদগ্ধ যাত্রীদের টেনে বের করেছেন আকাশবালিকা জোয়ানা টফ।
জীবন দিয়েছেন প্যান-অ্যাম ফ্লাইট ৭৩-এর সিনিয়র পার্সার ভারতীয় আকাশবালিকা নিরজা ভানোত। মুম্বাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী এ ফ্লাইটে যাত্রী ছিল ৩৬১ জন আর ১৯ জন ক্রু। চারজন সশস্ত্র হাইজ্যাকার ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬, জাহাজটিকে করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করায়। তারা জাহাজটিকে সাইপ্রাস নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। এক পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ফাস্ট অফিসার ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার ককপিটের ওভারহেড হ্যাচ দিয়ে বেরিয়ে যান, যাতে জাহাজটিকে অন্য কোথাও নিতে না পারে। এ অবস্থায় সিনিয়র পার্সার নিরজা ভানোত গোটা জাহাজের দায়িত্ব নেয় এবং তার দক্ষতার কারণে বহু যাত্রীর জীবন রক্ষা পায়। ফিলিস্তিনের আবু নিধাল অর্গানাইজেশনের হাইজ্যাকাররা যখন তিনটি শিশুর পায়ে আগুন দিতে যাচ্ছে, নিরজা আঁকড়ে ধরে শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা করেন। যাত্রী ও এয়ারলাইনের প্রতি আনুগত্য তাকে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করেনি। হাইজ্যাকাররা তাকে গুলি করে হত্যা করে। আর ২ দিন পর অর্থাত্ ৭ সেপ্টেম্বর ছিল তার ২৩তম জন্মদিন। ভারত সরকার তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার অশোকচক্র প্রদান করে।
কেলি ডানকান এয়ার ফ্লোরিডা ফ্লাইট ৯০-এর একমাত্র বেঁচে যাওয়া কেবিন ক্রু। ১৯৮২ সালের ১৩ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ফোর্ট লন্ডারডেইল হলিউড ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে হোয়াইট হাউজ থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে পোটোম্যাক নদীর ওপর ফোরটিনথ স্ট্রিট ব্রিজকে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয় এবং বরফঢাকা নদীতে ডুবে যায়। ৭৪ জন যাত্রীর মধ্যে চারজন এবং পাঁচজন ক্রুর মধ্যে একজন কেলি ডানকান প্রাণে বেঁচে যান। কেলি ডানকান তার নিজের জন্য রাখা লাইফ ভেস্টটি একজন আহত যাত্রীকে দিয়ে দেন। তিনি নিঃস্বার্থ অবদানের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন।
আকাশবালিকাদের এ ধরনের বীরত্বগাথার শেষ নেই। ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে যখন কাজে যোগ দেন তখন তিনি জানেন, যাত্রীর নিরাপত্তা রক্ষা এবং যাত্রীর আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য সর্বোত্তম সেবা প্রদান তার দায়িত্ব। কিন্তু যতই দিন যেতে থাকে তিনি বুঝতে পারেন হ্যান্ডবুকে লিখিত কাজের বাইরেও বহু কাজ তাকে করতে হয়।
মিষ্টি হাসি দিয়ে যাত্রীকে উড়োজাহাজে স্বাগতম জানানো থেকে শুরু করে নিরাপদ যাত্রার পর বিদায় জানানোর মাঝখানে যাত্রীর যত কিছু আবদার তাকেই মেটাতে হয়, সামলাতে হয়। যাত্রীর আবদারও বিচিত্র:
জানালাটা খুলে দাও, আকাশটা দেখি। কিংবা পাইলটকে বলো ডানদিকের ইঞ্জিনটা বন্ধ করে রাখতে। ইঞ্জিনের শব্দে আমার বাচ্চা ঘুমাতে পারছে না— কত কি!
আকাশবালিকা হাজাহ মারিয়ামের আকাশসেবায় মুগ্ধ হয়ে ব্রুনাইয়ের সুলতান তাকে বিয়ে করেন। আকাশবালিকা জেনিফার হোস্টেন ১৯৭০ সালে মিস ওয়ার্ল্ড নির্বাচিত হন। ইসরায়েলের আকাশবালিকা সারাকে বিয়ে করেন বেনয়ামিন নেতানিয়াহু। সুইডেনের রানী কুইন সিলভিয়াও এক জীবনে কেবিন ক্রু ছিলেন। লায়লা মারফি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি। প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন একজন আকাশবালিকা।
আকাশবালিকার জীবনে যন্ত্রণারও কমতি নেই, দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লালসার শিকার— অনেক ঘটনাই ঘটে। তার পরও আকাশবালিকার চাকরিটা স্বপ্নের মতোই। ঢাকায় ব্রেকফাস্ট, দুবাইয়ে লাঞ্চ, ইস্তাম্বুলে ইভনিং টি, ডিনার, ৫-৬ ঘণ্টার রাত্রিবাস। আবার যাত্রা নিউইয়র্কের পথে।
আকাশবালিকার জীবন তার কাছে যত একঘেয়েমিরই হোক না কেন, যারা মাটিতে তাদের কাছে এ এক স্বপ্নজীবন।






