ফটকাবাজির গূঢ় অর্থ পণ্যদ্রব্যের মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে জুয়া। স্পেকুলেটর মানে ফটকাবাজ, আরো সহজ কথায় জুয়াড়ি।
বহু বছর ধরে নোবেল সাহিত্য-পুরস্কার কে পাবেন, তার বেটিংয়ের পরিসর ও অর্থনীতির আকার ক্রমশ অনেক বেড়ে গেছে। এত দিনে এ জুয়া বেশ প্রাতিষ্ঠানিক খ্যাতি পেয়ে গেছে।
নোবেল জুয়ার পীঠস্থান ইংল্যান্ডে বিখ্যাত জুয়াড়ি সংস্থা ল্যাডব্রোক। এর পেছন পেছন উল্লেখযোগ্য আরো দুটির কথা বলতে হয়: ইউনিবেট এবং নাইসার অডস।
জুয়ার শুরুটা বছরের মাঝামাঝি থেকে, শেষ হয় অক্টোবরের প্রথম বা দ্বিতীয় বুধবার মধ্যরাতে (বৃহস্পতিবার নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ঘোষিত হয়)।
আর এই ল্যাডব্রোকের বাজির হিসাবে (সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত) ২০১৬-এর নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন জাপানি ঔপন্যাসিক হারুকি মুরাকামি। বাস্তবতা হচ্ছে, ক্রমাগত পাঁচ বছর শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেও হারুকি মুরাকামি নোবেল পুরস্কার পাননি। তাকে টেক্কা দিয়ে পুরস্কার নিয়ে গেছেন চীনের মো ইয়ান, ফ্রান্সের পাত্রিক মোদিয়ানো এবং এমনকি ‘আনসাসপেক্টেড ডার্ক হর্স’ বেলারুশিয়ান স্ফেতলানা অ্যালেক্সিয়েভিচ ২০১৬-এর ল্যাডব্রোক সম্ভাবনাগুলো দেখা যাক:
শীর্ষে জাপানি কথাসাহিত্যিক হারুকি মুরাকামি
দ্বিতীয় অবস্থানে সিরিয়ার কবি আদুনিস
তৃতীয় অবস্থানে মার্কিন ঔপন্যাসিক ফিলিপ রথ
চতুর্থ অবস্থানে কেনিয়ার ঔপন্যাসিক নগুই ওয়া থিয়োঙ্গো
পঞ্চম অবস্থানে স্পেনের কথাসাহিত্যিক হাভিয়ার মারিয়াস
ষষ্ঠ অবস্থানে আলবেনিয়ার ঔপন্যাসিক ইসমায়েল কাদারে
সপ্তম স্থানটিতে আছেন নরওয়ের কবি ও নাট্যকার জন ফর্সে
অষ্টম স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের কথাসাহিত্যিক ম্যারিলিন রবিনসন
নবম স্থানে চেক ঔপন্যাসিক মিলান কুন্ডেরা
দশম স্থানে রোমানিয়ার কবি ও ঔপন্যাসিক মার্সিয়া কাভারেস্কু
তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। শত নামের সমাহার— বহু পরিচিত নাম, কখনো শুনিনি এমন নামও আছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন রচনা ইংরেজি ভাষাভাষী বিভিন্ন ব্লগ, বিশেষ করে জেন্টল রিডার্স অনুসরণ করে সেই সব প্রতিবেদক ও ব্লগার ও সাহিত্যামোদীর পছন্দের একটি বিশ্লেষণ এবং সারসংক্ষেপ উপস্থান করা হচ্ছে:
গত বছর সুইডিশ একাডেমির পার্মানেন্ট সেক্রেটারি পদে রদবদল হয়েছে। সারা দানির্ভস দায়িত্ব পাওয়ার পর যে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করলেন, তিনি বেলারুশিয়ার সাংবাদিক এবং নন-ফিকশন লেখক স্ফেতলানা অ্যালেক্সিয়েভিচ। ঘোষণার সময় প্রচুর করতালি পড়ল। নিশ্চুপ রইলেন অনেকেই। তাহলে কি নোবেল পুরস্কার সাহিত্যের মূলধারা থেকে সরে যাচ্ছে? আজ সাংবাদিক, কাল থ্রিলার লেখক, পরশু গীতিকার সবাই এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। তার কারণে কি পদ্য মার খাবে গদ্যের কাছে কিংবা নাটকের কাছে কাব্য? মহিলা নোবেল লরিয়েটের সংখ্যা কি বেড়ে যাবে?
জেন্টল রিডার্স ব্লগের একটি সমীক্ষা:
চিনুয়া আচেবেকে পুরস্কৃত না করাটা সুইডিশ একাডেমির জন্য একটি গ্লানিকর বিষয়। আচেবে প্রয়াত। আফ্রিকান লেখকদের মধ্যে এখন আলোচনার শীর্ষে নুগুই ওয়া থিয়োঙ্গো। (জন্ম: ১৯৩৮)। কেনিয়ান এ ঔপন্যাসিক আফ্রিকার উপজাতীয় গিকুয়ু ভাষায় লিখে থাকেন। সমাজসচেতন থিয়োঙ্গোর গোটা পরিবার কেনিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িত, এমনকি তার মাও ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত। নাটক দিয়ে তাঁর শুরু। সেরা উপন্যাস ‘উইপ নট, চাইল্ড (১৯৬৪), দ্য রিভার বিটউইন (১৯৬৫), এ গ্রেইন অন উইট (১৯৬৭) উইজার্ড অব দ্য ক্রো (২০০৬)। পুলিত্জার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার পেয়েছেন। জাদুবাস্তবতায় গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ধারার এ ঔপন্যাসিককে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।
সোমালিয়ার ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন ফারাহ নোবেলের আর একজন দাবিদার। ন্যাদাইন গার্দিমার তাঁকে বলেছেন আফ্রিকার সর্বশ্রেষ্ঠ কণ্ঠস্বর, সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাদাতা। নুরুদ্দিন ফারাহ (জন্ম ২৪ নভেম্বর, ১৯৪৫) ভারতের চন্দ্রিগড়ে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন, সে সময়ই সোমালি ও ইংরেজি ভাষায় লিখতে শুরু করেন। তাঁর উপন্যাস ‘ফ্রম এ ক্রুকড রিব (১৯৭০), এ নেকেড নিডল (১৯৭৬), সুইট অ্যান্ড সাওয়ার মিল্ক (১৯৭৯) সারডিন (১৯৮১), ক্লোজ সিসেম (১৯৮৩) ম্যাপস (১৯৮৬) সিক্রেটস (১৯৯৮), লিংকস (২০০৪) নটস (২০০৭) ক্রসবোনস (২০১১) এবং হাইডিং ইন প্লেইন সাইট (২০১৪)।
২৮ বছর বয়সে বুকার প্রাইজ পেয়ে নাইজেরিয়ার কবি ও ঔপন্যাসিক বেন ওকরি (১৯৫৯) পোস্ট মর্ডান ও পোস্ট কলোনিয়াল ধারার প্রধান প্রতিনিধি। তাঁকে গার্সিয়া মার্কেস কিংবা সালমান রুশদির সঙ্গে বিভিন্ন সময় তুলনা করা হয়েছে। ১৪ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের একটি কোর্সে ‘ছোট’ বলে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি বলেন, তিনি দৈবযোগে জেনেছেন তাঁর কাজ কবিতার চর্চা করা। তার বড় ধরনের স্বীকৃতি বরং কথাসাহিত্যে ‘দ্য ফেমিশড রোড’ উপন্যাসের জন্য ১৯৯১ সালে বুকার প্রাইজ পান।
আফ্রিকার উল্লেখযোগ্য নোবেল প্রাইজ দাবিদার হতে পারেন মরক্কোর আবদেললতিফ লাব্বি, লিবিয়ার ইব্রাহিম আল-কোনি, লেবাননের ইলিয়াস খাওরি।
ইরানি-জার্মান কবি এইচএ সায়েহ বিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইরানি কবি।
ইসরায়েলের কথাসাহিত্যিক অ্যামোজ ওজ (জন্ম ৪ মে, ১৯৩৯) নিঃসন্দেহে সে দেশের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক প্রতিনিধি। আরবিসহ ৪২টি ভাষায় তার রচনাবলি প্রকাশ হয়েছে। নোবেল পুরস্কারের জন্য ক’বছর ধরে উচ্চারিত হচ্ছে তাঁর নাম। সেরা উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে— হোয়ার দ্য জেক্যাল হাউল (১৯৬৫), এলসহোয়ার পারহ্যাপস (১৯৬৬), এ পারফ্যাক্ট পিস (১৯৮২), ব্ল্যাক বক্স (১৯৮৭), প্যান্থার ইন দ্য বেজমেন্ট (১৯৯৫)।
অ্যাঙ্গোলার প্রধান লেখক আর্তুর কার্লোস মরিসিও পেসতানা দো সানতোস (জন্ম ১৯৪৯) সে দেশের প্রধান কথাশিল্পী, পেপেটেলা ছদ্দনামে লেখেন। পর্তুগিজ পিতা ও অ্যাঙ্গোলান মাতার সন্তান পেপেটেলা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ বামপন্থী আন্দোলনগুলোয় সক্রিয় ছিলেন। ‘মায়োম্বি’ তাঁর বহুল পঠিত ও অনূদিত উপন্যাস। সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন, তা ছেড়ে লেখালেখি ও আন্দোলন নিয়ে পড়ে আছেন। তাঁর উপন্যাস মূলত নির্যাতিত গণমানুষের কাহিনী।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নাট্যকার ও কবি উইলমা স্টকেনস্ট্রম (জন্ম ৭ আগস্ট ১৯৩৩) অভিনয়ও করতেন, উপন্যাসও লিখেছেন। তিনি একই সঙ্গে কবিতায় এবং উপন্যাসে হার্টজগ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর উপন্যাস ‘দ্য এক্সপেডিশন টু দ্য বাওবাব ট্রি’ আফ্রিকান ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী জেএম কুিজ। পৃথিবীর প্রধান ভাষাগুলোয় তিনি অনূদিত হয়েছেন। নোবেল পুরস্কারের জন্য তিনি একজন যোগ্য প্রার্থী।
মোজাম্বিকের প্রধান লেখক মিয়া কুয়োটোর রচনা তাঁর সহিংস স্বদেশ মূর্ত। অ্যান্টোনিও এমিলিয়ো কুয়োটো (জন্ম ৫ জুলাই ১৯৫৪) পর্তুগিজ অভিবাসী পরিবারের সন্তান। কিন্তু উপনিবেশবাদী পর্তুগিজ সরকারের উত্খাতের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া ছেড়ে পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপনিবেশবিরোধী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘স্লিপওয়াকিং ল্যান্ড’ বিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ এক ডজন আফ্রিকান উপন্যাসের একটি। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ সব শাখায়ই তিনি দেশসেরা। মোজাম্বিকের আঞ্চলিক ভাষাকে পর্তুগিজে পাঞ্চ করে তিনি একটি স্বতন্ত্র ইউরো-আফ্রিকান ভাষা সৃষ্টি করেছেন।
মিসরের অশীতিপর ঔপন্যাসিক বাহা তাহির (জন্ম ১৯৩৫) আরবি ভাষার একজন উল্লেখযোগ্য কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক। গামাল আবদাল নাসেরের সমর্থক বাহা তাহির নিজের প্যান-আরব পরিচিতি নিয়ে গর্বিত। তাঁর উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘ইস্ট অব দ্য পামস (১৯৮৫), কালাত দুহা (১৯৮৫), আন্ট সাফিয়া অ্যান্ড দ্য মোনাস্টেরি (১৯৯১), লাভ ইন এক্সাইল (১৯৯৫), দ্য পয়েন্ট অব লাইট (১৯৯৯) এবং সানসেট ওয়াসিস। মিসর তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা করতেই পারে।
বহু বছর ধরে নোবেল পুরস্কারের মৌসুমে যে নামটি বারবার উচ্চারিত হচ্ছে, সেই আদুনিস (জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৩০) এবারো কি তালিকা থেকে ফসকে যাবেন! সিরিয়ার এ কবি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। আলী আহমেদ সায়িদ এসবার, আদুনিস ছদ্মনামেই বহুল পরিচিতি তাঁর। বিংশ শতকে আরবি কবিতার আধুনিকতায় উত্তরণে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ইংরেজি কবিতার ধারা যেমনটি টিএস এলিয়টের হাতে নতুন রূপ পেয়েছে, আদুনিসের হাত ধরে আরবি কবিতা বিশ্বসভায় উঠে এসেছে। তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে দ্য সঙ্গস অব মিহাইয়ার দ্য দামাসিন, এ টাইম বিটউইন অ্যাশেস অ্যান্ড রোজেস। ২০০০ পৃষ্ঠার তিন খণ্ডের আল-কিতাব আরবি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গীতিকাব্যিক দলিল।
আদুনিস ক্যালিগ্রাফির সাহায্য নিয়ে অনেক চিত্রকর্ম করেছেন, ২০১২-তে এর প্রদর্শনীও হয়েছে। অনুবাদক হিসেবেও তিনি সেরাদের একজন। টমাস ট্রান্সট্রোমারকে আরব বিশ্বে পরিচিত করিয়েছেন। সা জন পার্সসহ ইউরোপের আরো ক’জন কবির কবিতা অনুবাদ করেছেন।
১৯৮৮ থেকে প্রতি বছরই সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম আসছে। এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গণযুদ্ধে তাঁর মাতৃভূমি সিরিয়া বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে রক্তাক্ত মানচিত্রে পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাস এবং হত্যাযজ্ঞ নিত্যকার ঘটনা। এমন অবস্থায় আদুনিসের ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি ঘটলে তা মরুভূমিতে একটি মরূদ্যান সৃষ্টির ঘটনা বলে বিবেচিত হবে। ২০১৬তেও যদি প্রত্যাখ্যাত হন, সম্ভাবনার অবসান হয়তো এখানেই ঘটবে, অমৃতের সন্তান মানুষ অমরত্ব কখনো পায়নি।
এশীয় কবি ও কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে এ ব্লগে আরো যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— দক্ষিণ কোরিয়ার ফেমিনিস্ট কবি কিম হাইসুন, ভারতীয় তামিল কথাসাহিত্যিক সি এস লক্ষ্মী, ভারতীয় অনিতা দেশাই; জাপানের ঔপন্যাসিক তেরু মিয়ামতো, ভিয়েতনামের কবি হোয়াঙ্গ থি ই নি, চীনের কথাসাহিত্যিক ক্যানজু (মূল নাম দেঙ্গ জিয়াহুয়া), দক্ষিণ কোরিয়ার উপন্যাসিক হোয়াঙ্গ সক-ইয়ঙ্গ এবং মুন চাঙ্গ হি, জাপানের কবি শুনতারো তানিকাওয়া।
এত দিন ধরে বহুল আলোচিত কোরিয়ান কবি কো উন-ও উল্লেখিত হয়েছেন কিঞ্চিত্ পরিমাণে। ইউরোপের লেখকদের মধ্যে রয়েছেন নরওয়ের লেখক ও কবি ও নাট্যকার জন ফসে, হাঙ্গেরির কথাসাহিত্যিক লাসলো কারসনহোরকাই, ফিনল্যান্ডের কবি সিরক্কা টুরক্কা, নেদারল্যান্ডসের কবি ও কথাসাহিত্যিক সিস নুটবুম, এস্তোনিয়ার কবি জান কাপলিনস্কি, পোল্যান্ডের কথাসাহিত্যিক ম্যাগদালেনা টুল্লি, হাঙ্গেরির প্রুস্ত হিসেবে খ্যাত পিটার নাদাস, রাশিয়ার কথাসাহ্যিতিক লুদমিলা পেত্রুশভস্কায়া, রোমানিয়ার মার্সিয়া কার্তারেস্কু, স্পেনের হাভিয়ার মারিয়াস, আইসল্যান্ডের জাইবর এলিফাসন, চেক রিপাবলিকের পিতর ক্রাল, গ্রিক কবি কি কি দিয়ামুলা, পর্তুগালের ঔপন্যাসিক আন্তোনিয়ো লোবো আন্তিউনিস, এস্তোনিয়ার কবি দোরিস কারেভা, পোল্যান্ডের প্রধান কবি আদম জাগায়েভস্কি, স্পেনের ঔপন্যাসিক এদুয়ার্দো মেন্দোজা গাররিগা, ফিনল্যান্ডের সুইডিশভাষী কবি তুয়া ফরস্ট্রম, স্লোভেনিয়ার ঔপন্যাসিক ড্রাভো ইয়াঙ্কার, বেলজিয়ামের লিওনার্দো নোলেনস, রাশিয়ার মিখাইল সিসকিন। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ থেকে পছন্দ করা হয়েছে জেরাল্ড মুরনেনকে।
এ কালে লাতিন আমেরিকান লেখক নেমে এসেছেন সহজ-সরল ও আটপৌরে বর্ণনায়, দক্ষিণের এবং লাতিন আমেরিকার আমজনতার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
এ নতুন যুগের লেখকদের মধ্যে আছে আর্জেন্টিনার রিকার্দো পিগলিয়া, গুয়াতেমালার রদ্রিগো রে রোসা, হাইতির ফ্রাঙ্কেটিন, উরুগুয়ের সার্সে-মেইয়া, আর্জেন্টিনার সিজার আইরা।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য থেকে দীর্ঘদিন ধরে ক’টি নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য উচ্চারিত হয়ে আসছে, তার মধ্যে রয়েছে— ফিলিপ রথ, জয়েস ক্যারোল ওটস, টমাস পিনশন, ডন ডেলিলো, মার্গারেট অ্যাটউড, আয়ান ম্যাকউইন, এএস বিয়াট কিংবা মার্টিন অ্যামিস।
সব বেটিং এজেন্সির তালিকার শীর্ষে জাপানের হারুকি মুরাকামি। সুইডিশ একাডেমি কি বুঝে গেছে মুরাকামি কোনোভাবেই কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি কিংবা কেনজাবুরো ওয়ের পরিমাপের লেখক নন?
কেনিয়ার উপন্যাসিক নগুই ওয়া থিয়োঙ্গোর নাম ঘোষিত হলে সুইডিশ একাডেমি ‘আফ্রিকান নেগলেক্ট’ অভিযোগের দায় থেকে খানিকটা ছাড় অবশ্যই পেয়ে যাবে। ‘ইন্ডিয়া ড্রাউট’ বা ভারতীয় খরা সৃষ্টি অভিযোগ থাকলেও অমিতাভ ঘোষ ছাড়া অন্য কোনো নাম প্রস্তাবিত দীর্ঘ তালিকায় আছে কিনা বলা যায় না।
ফিলিপ রথ কি হতে পারেন? শেষ আমেরিকান বিজয়ী টনি মরিসন ১৯৯৩ সালে যখন পুরস্কার পেলেন— প্রশ্নটা তখন থেকেই তাহলে ফিলিপ রথ কখন পাবেন?
২০১৫তে স্ফেতলানা আলেক্সিয়েভিচের নোবেল প্রাপ্তি সহসা সাবেক সোভিয়েতের কারো পাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে। আগের বছর ফরাসি পাত্রিক মোদিয়ানো পুরস্কৃত হয়েছেন, কাজেই ফ্রান্সের সম্ভাবনাও নেই, ২০১৩ এলিস মুনরো নোবেল প্রাপ্তি মার্গারেট অ্যাটউডের সম্ভাবনা রহিত করেছে বলা যায়, এক স্থানে দুজনকে দেয়ার নজির তো ছিলই (১৯৬৬-১৯৭৪)। তখন মার্গারেটকে অন্তর্ভুক্ত করলেই হতো। আপাতত চাইনিজ, সুইডিশ কারো সম্ভাবনা উজ্জ্বল নয়। লাতিন আমেরিকানও নয়, ব্রিটেনও সম্ভবত বাদ যাবে। ১৯৮৯-এর পর স্পেন দেশীয় কেউ নোবেল পাননি— ২৭ বছর পর হাভিয়ার মারিয়াস কি পেতে পারেন? সিরিয়ার আদুনিস কিংবা কোরিয়ার কো উন এন নয় কেন? ২০১১তে একজন কবি পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার (টমাস ট্রান্সট্রোমার)। পাঁচ বছর পর কবিতায় প্রত্যাবর্তন ঘটতেই পারে?
আমরা যেসব নামের সঙ্গে অধিক পরিচিত, মিলান কুন্ডেরা সালমান রুশদি, আদুনিস, থিয়োঙ্গো, অ্যামোস ওজ, ইসমায়েল কাদারে, কো উন, জয়েস ক্যারোল ওটস, পিটার ক্যারে, নুরুদ্দিন ফারাহ, হিলারি ম্যানটেল— তাদের কেউ পুরস্কৃত হলে পরিচিতির আনন্দ সঙ্গে যোগ হতো।
বলাই বাহুল্য, এটি অক্টোবর স্পেকুলেশন। নিবন্ধ যখন লিখতে শুরু করি, তখন যে তালিকা ছিল (৫ অক্টোবর ২০১৬), এরপরে দেখি প্রিয় লেখকের জন্য যারা বাজি ধরেছেন, তারা তালিকাটি কিছুটা বদলে দিয়েছেন। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অপরিবর্তিত শীর্ষে হারুকি মুরাকামি, তার পর আদুনিস, তার পর ফিলিপ রথ এবং নগুই ওয়া থিয়োঙ্গো। পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন জয়েস ক্যারোল ওটস, ষষ্ঠতে ইসমায়েল কাদারে, হাভিয়ার মারিয়াস নেমে গেছেন সপ্তমে, জন ফসে অষ্টম, কো উন নবম এবং জন ব্র্যানভিল দশম স্থানে।
পুরস্কার ঘোষণার আগের দিন পর্যন্ত এ তালিকায় আরো পরিবর্তন ঘটবে। বলাই বাহুল্য, এ তালিকা দেখে সুইডিশ একাডেমি নোবেল লরিয়েট নির্ধারণ করবে না।
তবুও টাকা থাকলে বাজি ধরতে তো সমস্যা নেই।
বাজিতে যারা এগিয়ে, এমন আরো কিছু নাম: একাদশ স্থান: ক্লদিয়া মাগরিস, দ্বাদশ: উরসুলা লে গিন, ত্রয়োদশ: ম্যারিলিন রবিনসন, চতুর্দশ: নাবাল এল মাদাবি, পঞ্চদশ: মিলান কুন্ডেরা, ষষ্ঠদশ: টমাস পিনশন, সপ্তদশ: লিডিয়া ডেভিস, অষ্টাদশ: সিস নুটবুম, ঊনবিংশ: বব ডিলান, বিংশতম: লেস মারে।
ল্যাডব্রোকের শত নামের মধ্যেই নেই, এমন কারো নাম যদি সুইডিশ একাডেমির পার্মানেন্ট সেক্রেটারি সারা দানিউস ঘোষণা করেন, অবাক হওয়ার কথা নয়।
নোবেল পুরস্কারের শুরুটাই এমন। লেভ তলস্তয় ১৯০১ সালের পুরস্কার পাচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত, সুইডিশ বুদ্ধিজীবীরা তাকে আগাম অভিনন্দন পাঠালেন। পুরস্কারের অর্থে তলস্তয় নির্যাতিত দুখোবোর সম্প্রদায়ের জন্য জাহাজ কিনে তাদের কানাডা পাঠাবেন, এটাও ঘোষিত হলো।
পুরস্কৃত হলেন প্রায় অখ্যাত কবি সুলি পু্রধোম।





