নওরোজের উৎস নিয়ে রহস্য থাকলেও প্রচলিত বিশ্বাস এই যে পারস্যের ধর্মগুরু জরাথুস্ত্র নবায়ন ও আশার প্রতীক হিসেবে এ উৎসবের প্রবর্তন করেছিলেন। পারস্যে উৎসবটি ফারওয়াদিন মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত চলত।
মহাকবি ফেরদৌসীর ‘শাহনামা’ অনুযায়ী, নওরোজ পৌরাণিক রাজা জামশেদের আকাশ জয়ের গৌরবময় স্মৃতিকেও স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা বলছে, প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার কৃষিভিত্তিক সমাজেও এর শিকড় থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি ছিল মূলত প্রকৃতির উর্বরতা ও নবপ্রাণের স্পন্দনকে বরণ করে নেয়ার এক লোকজ উৎসব।
পারস্যের শেষ সাম্রাজ্য সাসানীয় রাজবংশের শাসনামলে ‘নওরোজ’ বছরের শ্রেষ্ঠ উৎসব হিসেবে পরিগণিত হতো। এ সময়ে উপহার আদান-প্রদান, প্রজাসাধারণের সঙ্গে সম্রাটের সরাসরি সাক্ষাৎ এবং বন্দি মুক্তির মতো সুসংহত প্রথা ও ঐতিহ্যের সূচনা ঘটে। জরাথুস্ত্রয় পুরোহিতরা এ সময় মদ, স্বর্ণমুদ্রা ও শস্ত্র উপহার দেয়ার মাধ্যমে সম্রাটের প্রতি তাদের আনুগত্য ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতেন।
সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মধ্য এশিয়ায় ইসলামের আগমনেও নওরোজের জৌলুস কমেনি। মুসলিম শাসকরা তাদের জাঁকজমক ও শৌর্য প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন ভূমিতে স্থানীয়দের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি লাভের একটি সুযোগ হিসেবে এ উৎসবকে ব্যবহার করতেন। খেলাফতের পতন এবং পারস্য রাজবংশগুলোর পুনরুত্থানের পর আল-বিরুনি ও আবু সাঈদ গার্দেজির মতো ইতিহাসবিদদের লেখায় নওরোজের সাংস্কৃতিক গুরুত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গণ্ডি পেরিয়ে এটি মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজদরবারে রাজনৈতিক ও সাম্রাজ্যিক গুরুত্ব অর্জন করে।
ঐতিহাসিকভাবে নওরোজের বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্ষমতার পালাবদলে এ উৎসব বারবার নতুন মাত্রা ও তাৎপর্য পেয়েছে। তবে রাজদরবারে এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব সবসময়ই অটুট ছিল। ইরানি ইতিহাসবিদ এহসান ইয়ারশাতারের মতে, নওরোজ হলো ইরানের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য উৎসব; যা জরাথুস্ত্রয় পারস্য থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হলেও এটিই একমাত্র উৎসব, যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
পারস্য পার হয়ে এ উৎসব ভারতীয় উপমহাদেশেও আসে। ইতিহাসবিদ রাজশ্রী ঘোষের মতে, ঘুরি বংশের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে নওরোজের আগমন ঘটে এবং তাদের রাজনৈতিক উত্তরসূরি মামলুকরা এ ধারা অব্যাহত রাখে।
কিছু পণ্ডিতের মতে, ইলবারি তুর্কিরা সাংস্কৃতিক দিক থেকে ছিল মূলত ‘ইরানি’। তারা তাদের আদি উপজাতীয় পরিচয় আড়াল করতে এবং ইসলামী বিশ্বের অভিজাত সংস্কৃতির সমকক্ষ হতে পারস্যের রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানগুলো গ্রহণ করেছিল। দিল্লির সুলতানদের কাছে ইরান ছিল মর্যাদা-সম্মান ও শৌর্য-মহিমার প্রতীক। ইতিহাসবিদ এসএনআর রিজভী ও পুনম পান্তের মতে, সুলতানদের বিশেষ মর্যাদা ও ক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যেই রাজদরবারে নওরোজ উৎসব এবং ‘সিজদা’ (সম্রাটের পা চুম্বন) বা ‘জমিনবোস’-এর (ভূমিতে মাথা নত করা) মতো প্রথাগুলো চালু করা হয়েছিল।
মামলুক বংশের নবম সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ভারতে প্রথম নওরোজ উৎসবের প্রবর্তন করেন। আমির খুসরোর ‘কিরান-উস-সাদাইন’ কাব্যে এ উৎসবের বিশদ বর্ণনা থেকে এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। খসরু তার লেখায় চমৎকার কারুকার্যময় খিলান, সোনালি কাজ করা পর্দা, রঙিন রাজকীয় ছাতা এবং সাজানো কৃত্রিম গাছ ও পাখির কথা উল্লেখ করেছেন, যা উৎসবের জৌলুস ও উদযাপন বাড়িয়ে দিত।
মোগল আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে ‘নওরোজ’ একটি জাতীয় উৎসবের মর্যাদা লাভ করে। প্রথম মোগল সম্রাট বাবরের কাছে নওরোজ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন, কারণ এদিনে তিনি মেওয়ারের রাজপুত রাজা রানা সাঙ্গাকে পরাজিত করার জন্য যুদ্ধযাত্রা শুরু করেছিলেন। সেই যুদ্ধে বড় জয়ের পর থেকে নওরোজ তার কাছে অত্যন্ত শুভদিন হিসেবে গণ্য হতে থাকে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ১৫২৮ সালের চান্দেরি যুদ্ধে, যা তিনি নওরোজের দিনই শুরু করেছিলেন।
ইতিহাসবিদ ব্লেকের মতে, পারস্যের সাফাভিদ রাজদরবারের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনার কারণে বাবর নওরোজ উদযাপন থেকে বিরত থাকতেন। রাজসভার ইতিহাসবিদ শেখ জাইন খানের ‘তাবাকাত-ই-বাবরি’ গ্রন্থেও বলা হয়েছে যে বাবর নওরোজের মতো প্রথা পালন করতেন না। এ বর্ণনা থেকে ধারণা করা হয় যে বাবর ব্যক্তিগতভাবে এ উৎসবে অংশ নিতেন না বা কোনো আয়োজন করতেন না।
অন্যদিকে ইতিহাসবিদ ঘোষ এ মতের বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, বাবর নওরোজের প্রতি কোনো বিদ্বেষ পোষণ করতেন কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বাবর তার মায়ের দেহাবশেষ সমাহিত করার জন্য ‘বাগ-ই-নওরোজী’ (নওরোজ বাগান) স্থানটিকেই বেছে নিয়েছিলেন।
বাবরের ছেলে সম্রাট হুমায়ূনের জীবনী (হুমায়ূননামা) পাঠ করলে বোঝা যায়, জ্যোতির্বিদ্যা এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতি হুমায়ূনের গভীর অনুরাগ ছিল। তার এ আগ্রহই নওরোজ উদযাপনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল। মূলত নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন এবং শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি এ উৎসব পালন শুরু করেন। উৎসবের আয়োজনে থাকত সম্রাটের আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহণ, রাজদরবারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান এবং সম্রাটের প্রশংসা করে কবিতা পাঠ।
হুমায়ূননামা থেকে আরো জানা যায়, ১৫৪৬ সালে কান্দাহার ও কাবুল বিজয়ের স্মৃতির সঙ্গেও নওরোজ উদযাপনের একটি নিবিড় সম্পর্ক ছিল। একই সময়ে সম্রাট আকবরের খতনা বা সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠানটিও উদযাপিত হয়। এভাবে নওরোজ কেবল একটি উৎসবই ছিল না, বরং এটি হয়ে উঠেছিল হুমায়ূনের উত্তরসূরিদের গৌরব ও ভবিষ্যৎ ঐতিহ্যের বার্তা প্রচারের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
হুমায়ূনের ছেলে সম্রাট আকবরের শাসনামলে নওরোজ উৎসবের গুরুত্ব অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়। তার সময়ে নওরোজ উদযাপন কেবল একটি উৎসব ছিল না, বরং এটি উপমহাদেশের স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মোগলদের মিশে যাওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো নওরোজের মাধ্যমে আকবরের ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারতা, সহনশীলতার প্রতিফলন ঘটত।
নওরোজ উদযাপনের পাশাপাশি আকবর ‘ইলাহি পঞ্জিকা’ প্রবর্তন করেন, যেখানে মহাবিষুবের দিনটিকে বছরের শুরু হিসেবে ধরা হতো। এ নতুন গণনা পদ্ধতি সাম্রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এর ফলে পুরো রাজ্যে একই সময়ে কর আদায় করা সহজ হয়, সরকারি লেনদেনে স্বচ্ছতা আসে এবং সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে কাজের সমন্বয় তৈরি হয়। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণেও নওরোজ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন নওরোজের প্রথম দিনেই সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণের বার্ষিকী বা ‘জুলুস’ পালিত হতো, যা প্রতি বছর তার ক্ষমতা ও আধিপত্যকে নতুন করে জাহির করার সুযোগ করে দিত।
ইতিহাসবিদ রিজভী ও পান্ত আকবরের দরবারে নওরোজের প্রভাবের পেছনে কিছু আদর্শিক কারণও তুলে ধরেছেন।
তবে ইতিহাসবিদ ঘোষ আকবরের সময়ে নওরোজ উদযাপন নিয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন। তার মতে, সম্রাট আকবরের সময় নওরোজের উপহার বা উৎসব আয়োজনের খুব একটা বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না। ঐতিহাসিক বদায়ুনীর লেখা বিশ্লেষণ করে ঘোষ দেখিয়েছেন, আকবরের কাছে নওরোজ ছিল মূলত ছোট-বড় সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সেনাপতিদের একত্র করার একটি বিশেষ উপলক্ষ। এদিনে পদমর্যাদা নির্বিশেষে সবাইকে সম্রাটের জন্য উপহার নিয়ে এসে তাকে অভিবাদন জানাতে হতো।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে নওরোজ এক ভিন্ন রূপ নেয়। এ সময়ে উৎসবটি অনেকটা প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে; কে কত দামি উপহার দিয়ে বা আনুগত্য দেখিয়ে সম্রাটকে সবচেয়ে বেশি খুশি করতে পারেন, দরবারিদের মধ্যে সেই লড়াই চলত।
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে, নিকোলাও মানুচ্চি এবং তাভার্নিয়ের মতো ইউরোপীয় পর্যটকদের বর্ণনায় সম্রাট শাহজাহানের আমলেও নওরোজের জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব বা ‘জশন’ এর কথা জানা যায়। তবে তার রাজত্বের শুরু থেকেই এ উৎসবের প্রতীকী গুরুত্ব কমতে শুরু করেছিল। শাসনের দশম বছরে শাহজাহান ‘ইলাহি পঞ্জিকা’ ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলে নওরোজ তার আগের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলে। দরবারি ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ আমিন কাজভিনির মতে, একদল উলেমার ক্রমাগত চাপের মুখেই জাহাঙ্গীরের ছেলে শাহজাহান এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, কারণ তারা ইসলামী রীতির বাইরে কোনো প্রথা পালনের বিরোধী ছিলেন।
তবে সামাজিক পঞ্জিকা হিসেবে ‘ইলাহি পঞ্জিকা’ বাতিল করা হলেও, এর ওপর ভিত্তি করে প্রচলিত অন্য আচার-অনুষ্ঠানগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। যেমন সূর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত রীতিগুলো নিয়মিত পালন করা হতো।

‘তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরি’র পাতায় নওরোজের বর্ণনা
এমনকি শাহজাহান প্রতি বছর সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে নিজেকে সোনা-রুপা দিয়ে ওজন করার প্রথাটিও বজায় রেখেছিলেন, যা প্রমাণ করে যে এটি তখনো মোগল দরবারের একটি বড় আয়োজন ছিল। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, নওরোজের আড়ম্বর তখনো বেশ চমকপ্রদ ছিল। বিশেষ করে ১৬৫০ সালে শাহজাহানাবাদকে নতুন রাজধানী করার পর সেখানে নওরোজের সবচেয়ে বিস্ময়কর উৎসব পালিত হয়। এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে মোগলদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে উৎসবটি তখনো সম্মানের আসনে ছিল।
শাহজাহানের ছেলে সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামল শুরু হওয়ার মাধ্যমে বসন্তের এ উৎসবটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইতিহাসবিদ ব্লেকের মতে, আওরঙ্গজেবের কঠোর স্বভাবই রাজদরবারের সংস্কৃতি বদলে ফেলতে এবং নওরোজ উদযাপন বন্ধ করতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল।
তবে ইতিহাসবিদ ঘোষ মনে করেন, এর পেছনে আরো বেশকিছু কারণ থাকতে পারে। আওরঙ্গজেব কিন্তু হুট করেই সব বন্ধ করেননি; তিনি কিছুকাল সম্রাটের তুলাদানের মতো নওরোজের কিছু রীতি ধরে রেখেছিলেন। ঘোষের ধারণা, ওলামাদের সঙ্গে টানাপড়েন এবং নিজের সামাজিক ও নৈতিক অবস্থান মজবুত করার তাগিদেই তিনি নওরোজ বিলুপ্ত করার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ উৎসবটি মূলত সম্রাটের উচ্চ আদর্শ তুলে ধরার একটি মাধ্যম ছিল।
আওরঙ্গজেবের আমলে সৌর পঞ্জিকা এবং নক্ষত্র গণনা নিষিদ্ধ করা হয় এবং পুরোপুরি হিজরি পঞ্জিকা চালু করা হয়। এর ফলে হিসাবরক্ষণ ও অর্থ বিভাগে বেশ জটিলতা দেখা দেয়। এ সমস্যা মেটাতে তিনি অডিট বা হিসাব পরীক্ষার কাজের জন্য ইলাহি মাসের হিসাব রাখার একটি নতুন পদ্ধতি চালু করেন। এমনকি তার শাসনের ১১তম বছর পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে সম্রাটের সৌর জন্মদিন পালন করা হতো। তা সত্ত্বেও রাশিফল বা নক্ষত্র গণনা নিষিদ্ধই ছিল। সম্রাট তার ভাগ্য নির্ধারণে জ্যোতিষীদের পরামর্শ বা নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করার ঘোর বিরোধী ছিলেন। নিজের চলাফেরা বা কাজ নিয়ন্ত্রিত হয় এমন সব প্রথার প্রতি তার ছিল তীব্র উদাসীনতা। মূলত আদর্শিক ও কৌশলগত নানা কারণেই আওরঙ্গজেব রাজদরবারকে নতুন করে সাজিয়েছিলেন।
মোগল সাম্রাজ্যের শেষ দিকে যখন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অবনতি ঘটছিল, তখন নওরোজ উৎসব আবারো তার পুরনো জৌলুস ফিরে পেয়েছিল। সম্রাট মুহাম্মদ শাহর রাজদরবারের বর্ণনা থেকে জানা যায়, এ উৎসবে দান-খয়রাত হিসেবে মুক্তা ও চুনী বিলিয়ে দেয়া হতো এবং উচ্চপদস্থ আমির-ওমরাহরা সম্রাটের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। এছাড়া নাচ-গান এবং হাতি-ঘোড়া বা পশুর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল।
রাজদরবার এবং বিভিন্ন প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ এ উৎসবকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল, বিশেষ করে অযোধ্যা এবং বাংলা অঞ্চলে। তবে ধীরে ধীরে নওরোজের আমেজ যখন আরো বেশি ধর্মীয় রূপ নিতে শুরু করে, তখন এর জনপ্রিয়তা মূলত মুসলিম সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন দোভাষীর স্ত্রী মিসেস মীর হাসান আলী এ সমাজকে বোঝাতে ‘মুসলমান সমাজ’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
বর্তমানে উৎসবটি ভারতে প্রধানত পারসি এবং শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে টিকে আছে। তারা আজও এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।
রুদ্র ইকবাল: সহসম্পাদক, বণিক বার্তা








