গড়াই নদীর এপারে এসে দাঁড়ায় ইয়াসমিন। নদী আর সে রকম জলভরা নেই।

কুড়ি বছর আগেও নদীর বুকে ছোট ছোট চর দেখেছিল ওরা। সেই চর ব্যাপক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে নদীর বুকে। নৌকা চলছে থেমে থেমে। সাবধানে। জেগে ওঠা চরের গায়ে গোত্তা দিয়ে লগি ঠেলে ঠেলে যেতে হচ্ছে মাঝিদের। কোথাও চরে আটকে গেছে নৌকা। মাঝিদের সাথে পারাপারের যাত্রীও হাত লাগিয়ে নৌকা টানছে, হেঁইয়ো...

খেয়া মাঝিরা অবশ্য আগের মতোই ব্যস্ত। ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছে নৌকায়। যাত্রীরাও কেউ কেউ নিত্য মালপত্র নিয়ে নৌকায় চড়ে বসছে। ঘরে ফেরার আনন্দ তাদের চোখেমুখে। কেউবা কেবল ঘুরে বেড়ানোর খুশিতে একেকটি খালি নৌকায় চড়ে বসেছে। ফুরফুরে গলায় ডাকাডাকি করছে অন্য সঙ্গীদের।

নিজের ভেতর প্রবল এক ডাক শুনতে পায় সে। বহুদিন পর ঝনঝন করে খুলে যাচ্ছে বুকের বদ্ধ দরোজা। কুড়ি বছর আগে কে যেন বলেছিল, রবীন্দ্রনাথ সব পারে। স-ব! সত্যি পারে। স্মৃতি দরোজার বদ্ধ তালা কেমন খুলে যাচ্ছে তা তা থইয়া থইয়া করে!

কয়েক পা পেছনে হেঁটে সহকর্মীকে ডাকে ইয়াসমিন, এই যাবি? চল্ ওপারে যাই! ঘুরে আসি রবি কুঠিবাড়ি। সহকর্মীর বিস্ময় আকাশছোঁয়। ফিল্মফেয়ার পত্রিকা ছুড়ে ফেলে সোৎসাহে বলে ওঠে, টেগোরস কুঠিবাড়ি। ওয়াও বস্! আমি রাজি। চলো চলো এক্ষুনি ছুটি!

থ্রি কোয়ার্টার ঢোলা জিন্স, ফুলহাতা শার্ট আর গলায় ঝোলানো শ্যালে উড়িয়ে লাফিয়ে নামে ইয়াসমিনের সহকর্মী, তার চেয়েও বড় বন্ধু অন্তরা।

যাব কী করে! গাড়ি কি যেতে পারবে এই নদীপথে?

সামান্য ওইটুকু সময়ে মন স্থির করে নিয়েছে ইয়াসমিন। নৌকা, হ্যাঁ, ওর ইচ্ছা নৌকা করে যাবে। ঠিক কুড়ি বছর আগের মতো। অন্তরা কুর্ণিশ করে। মজা করে বলে, জো হুকুম স্যাডি কুইন। হয়ে যাক জার্নি বাই বোট।

ড্রাইভারকে অন্য রাস্তা ধরে কুঠিবাড়ির সামনে চলে যেতে বলে ওরা। এরপর ঘণ্টা পিছু একটা নৌকা ভাড়া করে। নৌকার পাটাতনে আরাম করে গুছিয়ে বসে অন্তরা বাচ্চা মাঝিকে বলে, ডিয়ার ভাইয়া মাঝি, একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিও কেমন। বহুদিন নদী দেখি না।

অল্প বয়সী মাঝিটি বাতাসে লুঙ্গি সামলে লগি চালাতে থাকে চর বাঁচিয়ে।

ইয়াসমিন বোঝে, অন্তরা এই মাঝিকে বকাবে। বাতাসে উড়ে যাচ্ছে মাঝির চুল। তরুণ ডুমুরপাতার মতো ঝকঝক করছে মাঝির কপাল। অন্তরা কয়েকবার লাভলি লাভলি বলে জানায়, শি ফিলস আর্জ। হোয়াট এ ফিলিংস ডিয়ার।

যা খুশি করুক। ইয়াসমিন পাত্তা দেয় না অন্তরাকে। ওরা দুজনই উভকামী। কিন্তু এ মুহূর্তে স্মৃতিমগ্নতায় বিভোর ইয়াসমিন ওসব নিয়ে ভাবছে না। ও ফিরে যাচ্ছে অতীত দিনে। কী আশ্চর্য, এভাবেও ফেরা যায়!

কুড়ি বছর আগে ঠিক এই বয়সের এক কিশোর মাঝি তাদের নিয়ে এসেছিল গড়াই নদীর এপারে। তখনো গড়াই এভাবে মরেনি। সেই নৌকায় সুমিত ছিল। ইয়াসমিন পরেছিল নতুন পাওয়া শাড়ি। বাতাসে হলুদ অরগান্ডি ফুলেফেঁপে উড়ছিল। সে এক বাঁধনহারা প্রজাপতি উড়ান। শাখা-পলা হাতে শাড়ি সামলাতে সামলাতে ইয়াসমিন দেখেছিল ভারী চশমার আড়ালে সুমিতের চোখে যুদ্ধজয়ের উল্লাস। তাকিয়ে আছে ওর সিঁথির দিকে। সিঁথিজুড়ে সিঁদুরের লাল বিছানায় শুয়েছিল ছোট্ট এক রুপার টিকলি। সকালের রোদ্দুরে চকচক করছিল বিজয় পতাকার মতো।

এই সিঁদুর পরা নিয়েই সেদিন সকালে সুমিতের ভাই-ভাবি রাগারাগি করেছে। ভাবি বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, শোনো ভাই, তোমরা তো চলে যাবে। পাড়ার লোক যখন আমাদের বলবে, আপনার ভাই কি হিন্দু মেয়ে বিয়ে করেছে? তখন কী বলব আমরা? বলব যে, আমার ভাই এসব বাছবিচারের সমাজ মানে না?

সুমিত তেরিয়া হয়ে ভাই-ভাবিকে বলেছিল, হ্যাঁ বলে দেবেন, আমি এসব মানি না। আমি আমার মতো করে থাকি। কে কী বলল, তাতে আমার কিচ্ছু আসে যায় না।

তখনকার ইয়াসমিনের কাছে সুমিতের যেকোনো কথা, কাজ, ইচ্ছা ছিল স্বপ্নাদেশের মতো। সে কেবল জপে, সুমিত সুমিত সুমিত!

অন্তরা জমিয়ে নিয়েছে কিশোর মাঝির সাথে। সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ও জানতে চায়, ডার্লিং তুমি কি মাঝি হইয়া থাকবা সারা জেবন?

ছেলেটি লাজুক হাসে, না, আমি পুলিশ নালি আর্মিতে যোগ দিব।

এক চোখ ছোট করে অবাক হয়ে অন্তরা বলে, সে কি! ডাক্তার হইবা না, ইঞ্জিনিয়ার হইবা না, আর্মি যাইবা, পুলিশ হইবা। মাস্টারও হইতে পারতা— কথাটি বলে আকাশে ধোঁয়া ছাড়ে অন্তরা।

ইয়াসমিন খোঁচাটা নেয়। এনজিওর চাকরির আগে একটি বেসরকারি কলেজে মাস্টারি করত সে। অন্তরা তাই সুযোগ পেলেই ওকে পচায়। চরের বুকে লগি চেপে ছেলেটি জানায়, আমাগের বড় অভাব। পুলিশ হলি রেশন পাবানি। ভাই-বোন, মা-বাবা, বুড়ি দাদি...

অদ্ভুত রকম চুপ করে যায় অন্তরা। সিগারেটের ধোঁয়ায় গড়াইয়ের হলুদ বুক ঝাপসা হয়ে আসে। খণ্ড খণ্ড চরের বুকে দু-একটি রুপালি বালি পড়ন্ত রোদ্দুরে ঝিকিয়ে উঠছে। চকিতে অন্তরা ভাবে, ওদের কি অভাব ছিল? নিজের ফ্ল্যাট, গাড়ি, বাবার মোটা মাইনের ভালো চাকরি, সচ্ছল সুন্দর আত্মীয়স্বজন। তাহলে?

একটি উড়ন্ত প্লেট ওর মায়ের পায়ের কাছে পড়ে ভেঙে যায়। পা চেপে বসে পড়ে মা। এক টুকরো শব্দ বেরোয় না মায়ের মুখ থেকে। কিশোরী অন্তরা পর্দার আড়ালে ভয়ে চুপসে কাঁপছে। ভাইটা ছুটে আসে, মা মা, তোমার লাগেনি তো?

পরমুহূর্তে বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে বাবার গায়ে। বাবাও দুহাতে ছোট্ট শরীরটাকে তুলে ছুড়ে দেয় মায়ের দিকে। ভাইয়ের দুচোখে আগুন। বাবার চোখেও আগুন, শুয়োরের বাচ্চা, থাক তোর মাকে নিয়ে। দেখি কী খাস, কেমনে চলিস।

বাবা চলে গেল। হাসপাতালে অক্সিজেন নাকে ভাইটা শোঁ শোঁ করে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। চাচাতো ভাই মুখ কালো করে ফিরে আসে, ছোট চাচা আসবে না। বলেছে, অতুল তার ছেলে না। মরুক-বাঁচুক তাতে ওনার কোনো দায় নেই।

আহ্ নৌকার পাটাতনে শুয়ে পড়ে অন্তরা। বহু উঁচুতে দুটি চিল উড়ছে। এই মরা নদীতে কি মাছ আছে? হয়তো আছে। মাছেদের খুব কষ্ট হচ্ছে। ওদেরও বড় অভাব। জল, স্রোত আর শ্যাওলার অভাবে বালিচাপা হয়ে আছে মাছেদের সংসার। ভাইটা মরে গেছে বাতাসের অভাবে! বুক চেপে ধরে ও। বুকের ভেতর এত চর! এক ফোঁটা জল নেই যে কান্না আসবে!

ইয়াসমিন খুলে ফেলে হাইহিল। কেমন উষ্ণ বালি। পা আরো গভীরে ডুবিয়ে দিলে জমে থাকা নরম কোমল ঠাণ্ডায় ডুবে যাবে পা। সেই ঠাণ্ডা শরীরে কাঁপন আনে অনাস্বাদিত আদরেরা। সত্যি কি অনাস্বাদিত? কুড়ি বছর আগে কুঠিবাড়ির পেছনে কিছুদূর গিয়ে ওরা পদ্মা নদীকে পেয়েছিল। অস্পর্শ মায়া ফেলে সাদা চাদরের কোল ছড়িয়ে দিয়েছে পদ্মার চর। দূরে বা আশপাশে কিছু দীর্ঘ শনঝোপ ছাড়া কিছু নেই। ধাঁ ধাঁ নির্জন সোনারুপা দুপুর। সেই চরে সুমিত ওকে নিয়েছিল। কী লজ্জা! নদী দেখল, আকাশ দেখল, দূরের শনবন মাথা দুলিয়ে চিরল হাসি দিল। দুহাতে চোখ ঢেকে সংকীর্ণ আড়ষ্টতায় নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছিল ইয়াসমিন। সুমিত স্পষ্ট বিরক্ত হয়ে বলেছিল, এসব ন্যাকামি ভালো লাগে না। এখানে কে দেখছে? দেখলেই বা কী? আমরা তো বিয়ে করেছি নাকি!

সুমিত কি জানে, নির্জনতারও নিবিড় ঘন দৃষ্টি আছে! কবিতা যখন লেখে তখন নিশ্চয়ই জানে, নারীর শরীর কিছু আড়াল চায়। বৃক্ষের অথবা পাতার, ছায়ার কিংবা অন্ধকারের।

অনেক পরে ইয়াসমিন বুঝেছিল, কবি মানেই শুধু কবিতার সাথে সম্পর্ক। বাদবাকি অতি সাধারণ কবিরা। তারাও বউ পেটায়। সন্তানকে বঞ্চিত করে। লাম্পট্যে তুখোড়। প্রেমিকাকে অনায়াসে ফেরি করে দিতে পারে সংস্কৃতির উদ্বাহু অবাধ বাজারে। কেবল কবিতাকে মুখোশ করে ঢেকে রাখে নিজেদের অতি সাধারণ চেহারা।

অন্তরা চলে যায় পরিপাটি চুল-দাড়িময় এক গাইডকে সাথে নিয়ে। ইয়াসমিন কুঠিবাড়ির আশপাশে ঘুরে ঘুরে চেনা গাছগুলোকে খুঁজে বেড়ায়। আমগাছটা তেমনই আছে। এখানে একটি ছবি তুলেছিল সুমিত। দুই ডালের মাঝখানে সোফার মতো উঁচু জায়গায় ইয়াসমিন পুতুলের মতো বসেছিল। সুমিত চেঁচিয়ে বলেছিল, চিয়ার বেবি। চিয়ার! ইয়াসমিন হেসেছিল। সুমিত যদি তখন কাঁদতেও বলত, ইয়াসমিন নিশ্চিত কেঁদে ফেলত!

অনেক কিছুই তার চেনাজানা। কেমন জীবন্ত হয়ে উঠছে সব স্মৃতি। সুমিত কি ওর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে কখনো ঘুরে গেছে শিলাইদহ? পদ্মার চরে সেই মেয়েটি কি নিঃসংকোচ ছিল শরীর দেয়ানেয়ায়? জ্বালা করে ওঠে ওর চোখ। আর তখনই বোঝে, ঘাটা জেগে আছে; স্মৃতির মতো অমোঘ অমোচনীয় যন্ত্রণায়।

বুঝলে বস্ হেভভি চুজি ছিল তোমার রবীন্দ্রনাথ। এই গণ্ডগ্রামে বাথটাব, কমোড, টেনিস কোর্ট ভাবা যায়! শুধু বোটটা ক্ষয়ে গেছে গো! অন্তরার ফর্সা মুখ লাল। সুমিতের মুখেও রক্ত জমেছিল রোদ্দুরে। আঁচল দিয়ে ঢেকে দিতেই শক্ত চোয়ালে বলেছিল, আমি লিপস্টিক নই, রাখো এসব লাল্টুপানা।

বারান্দার ছায়ায় মাথা গুঁজে শুয়ে পড়ে অন্তরা। মাথার ভেতর মায়ের মুখ। ডিভোর্সের কাগজে সই দিয়ে মা জানিয়েছিল, কিছুই চাই না, কেবল ছেলেমেয়ে ছাড়া। বড় চাচার গুলশানের বাসায় সবার ঘৃণাকে উপেক্ষা করে শেয়ালের মতো হেসে বাবা বলেছিল, ও রকম ছেলেমেয়ে বছরে কয়েকবার জন্ম দিতে পারি আমি। দরকার নেই ছেলেমেয়ের। আর কী আশ্চর্য, মুহূর্তে বাবা লোকটা হয়ে গেল একটি স্পার্ম ব্যাংক। ক্ষারিত জমি হয়ে অন্তরা বহুবার বহু পুরুষের ভল্ট খুলে উচ্ছন্নে দিয়েছে স্পার্মগুলো। দেখেছে, মায়া নয় বরং পুরুষের ভল্ট ভরে ওঠে ভোগের আনন্দে।

হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে অন্তরা বলে, বস্, আজ নাকি পূর্ণিমা। রাতটা থেকে যাই না কেন এখানে? অবাক হয় ইয়াসমিন। থাকবি মানে! কোথায় থাকবি এই বনজঙ্গলে?

অন্তরা সহজেই মিটিয়ে ফেলে থাকার সমস্যা, রাতটা আমরা মাইক্রোতে থাকব। ড্রাইভার খুঁজে নেবে কোনো থাকার জায়গা। চলবে?

রাজি হয় ইয়াসমিন। এত কাজ আর ভালো লাগে না। বিদেশী এনজিওতে ছুটি থাকে না বললেই চলে। কেবল কাজ আর কাজ, সাথে টাকাপয়সার ঝমঝমি। তাও বিদেশী টাকা। ওরা পেমেন্ট নেয় ডলারে। মাঝে মাঝে ঝিংকু পার্টি। পাঁচতারা হোটেলের ঝকমারি আলো-আঁধার। তাতে রঙিন জল আর দেহসুখ। অবশ্য এ কাজ আছে বলেই ওরা ওদের অতীত ভুলে থাকতে পারে। পারছে বাঁচতে।

পদ্মার চরে বসে আছে ওরা। খুব আস্তে করে চাঁদ উঠে এসেছে। আলুথালু ভেজা জ্যোত্স্না দুধের মতো গলে গলে পড়ছে। অন্তরা গাইছিল, মেঘ বলেছে যাব যাব, রাত বলেছে যাই...

হঠাৎ গান থামিয়ে শ্যালেটা উড়িয়ে দেয় জ্যোত্স্নায়। এই শুরু...তারপর বিবসনা হয়ে এক অদ্ভুত অপার্থিব সুরেলা আওয়াজ করে সাদা চরে ছুটতে থাকে অন্তরা।

চমকে ওঠে ইয়াসমিন। কবে কোথায় কোন অরণ্যে সমুদ্রের ধারে পর্বতের কন্দরে বরফের হিমিকায় জলভরা নদীর কূলে সৃষ্টির প্রথম দিনে রাতে প্রহরে প্রহরে সেও তো গেয়েছিল এই গান! চাঁদের মুখে পূর্ণতার প্রাগৈতিহাসিক হাসি। সব পাওয়ার আনন্দ ছাপিয়ে ঝাঁপিয়ে ঝরিয়ে দিচ্ছে অক্ষয় জ্যোত্স্না। জ্বলে ওঠে ইয়াসমিন। তেতে ওঠে মন। অপূর্ণতার আগুনে দগ্ধ শরীর থেকে খুলে ফেলে সভ্যতার দেয়া পোশাকি মুখোশ। এক অনন্য সুর-ছন্দে ইয়াসমিনও গেয়ে ওঠে আর্ত আহ্বানে।

জ্যোত্স্না ধরা দুটি নারী চৌথালি রাত পর্যন্ত আদি পুরুষের স্মরণে অবিরাম ডেকে যায়। ধরিত্রীতে এখনো পুরুষ জন্মায়নি। কিছু পুরুষ কেবল নারী মাংসের খোঁজে শিকারি হয়েছে মাত্র।

 

অলঙ্করণ: সুজান