নব্বই বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুকে কিছুতেই অকালমৃত্যু বলা যাবে না। ঈশ্বর বা ধর্মে কাস্ত্রো বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু মৃত্যু যে অনিবার্য, সেটা জানতেন। একটা বয়সের পর তাঁর মতো বিপ্লবীর পক্ষেও যে শারীরিক অসামর্থ্য বা জরা অজেয় হয়ে ওঠে, অভিজ্ঞতা থেকে তাও নিশ্চয় বুঝেছিলেন। ছোট ভাই রাউলের হাতে রাষ্ট্র ও পার্টির দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পর থেকে তাই এক রকম তৈরি হয়েই বসেছিলেন, কখন ডাক আসে। আজ থেকে সাতান্ন বছর আগে, তখনকার ছাব্বিশ বছরের যুবক ফিদেল অল্প কয়েকজন সঙ্গী, অসীম সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে তাঁর নিজ দেশ ও জনগণের জন্য এক ভিন্নতর ভবিষ্যত্ রচনার কাজ শুরু করেছিলেন। ঘরের কাছে প্রবল পরাক্রান্ত শত্রুর উপস্থিতি ও হিংস্র মুখব্যাদান, শত ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতা কোনো কিছুই তাঁকে থামাতে বা পিছু হঠাতে পারেনি। তাঁর এই সাফল্য হয়ে উঠেছিল সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সাহস ও প্রেরণার উত্স। সেদিন যে আদর্শ বা বিশ্বাস (ফিদেল কথাটার মানেও কিন্তু
বিশ্বাসী) তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল, জীবদ্দশায়ই তার অবক্ষয় তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। সমাজতন্ত্রের বিপর্যয় বা সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের পতন, যেভাবেই তাকে অভিহিত করি না কেন, এই বিশাল ঘটনাটির কথা বাদ দিলেও, মৃত্যুর আগে রাউলের নেতৃত্বে নিজ দেশ কিউবার বাজার অর্থনীতির দিকে মুখ ফেরানো কিংবা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের প্রচেষ্টাকে তিনি কীভাবে দেখেছেন? হয়তো পরিবর্তিত বিশ্ব-বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দায় হিসেবে তিনি একে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু সর্বান্তঃকরণে মেনে নিতে পেরেছেন কি? শেষজীবনে পার্টি পত্রিকা গ্রানমাতেই মাঝে মাঝে নিবন্ধ লিখে সরকারের কোনো কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নিজ ভিন্নমতের কথা জানান দেওয়া ছাড়া তাঁর আর বিশেষ কিছু করারও বোধহয় ছিল না।
বাস্তবতার কথা যদি ওঠে, ১৯৫২ সালে কাস্ত্রো ও তাঁর সঙ্গীরা যেদিন মানকাদা সেনাশিবিরে আক্রমণ চালান কিংবা ১৯৫৯ সালে তাঁরা যখন স্বৈরশাসক বাতিস্তার পতন ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন, সেদিনকার বিশ্ব বা মহাদেশীয় বাস্তবতা তাঁদের জন্য কতটা অনুকূল বা সহায়ক ছিল? হ্যাঁ, বিশ্বপরিসরে সেদিন একটি শক্তিশালী সমাজতান্ত্রিক শিবিরের অস্তিত্ব ছিল সত্যি। কিন্তু সেই শিবিরের কোনোরকম সাহায্য-সহায়তা নিয়ে তো তাঁরা ক্ষমতা দখল করেননি। আর লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেকগুলো দেশই তখন পর্যন্ত ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের নিগড়ে। অনেক দেশেই প্রতিষ্ঠিত ছিল মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সামরিক জান্তার শাসন। বিপ্লবোত্তর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর নৈতিক ও বৈষয়িক সমর্থন অবশ্য কিউবা পেয়েছে। কিন্তু সেটাই কাস্ত্রো ও তাঁর সহযোদ্ধাদের সাহস
ও শক্তির প্রধান উত্স ছিল না। যা তাঁদেরকে ঘরে-বাইরে সকল বিরুদ্ধতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে তা হলো, ব্যাপক জনগণের সমর্থন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে নেওয়া যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ এবং তা বাস্তবায়নে নেতৃত্বের সদিচ্ছা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্তই কাস্ত্রো ও তাঁর দলের পেছনে জনগণের এই সমর্থনকে নিশ্চিত করেছে। না হলে কিউবা বিপ্লবের আগে-পরে, বলা যায় ১৯৫০ ও ’৬০ দশকজুড়ে এশিয়া-আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশই ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ছিন্ন করে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে কিংবা সেসব দেশে সামরিক শাসনের অবসান ঘটেছে। সেসব দেশেও অনেক জাতীয়তাবাদী নেতা বা বীরের আবির্ভাব আমরা লক্ষ করেছি। সেসব নেতারও অনেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর সমাজতান্ত্রিক ধাঁচে দেশ নির্মাণ কিংবা শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাকে তাঁদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের কথা বলেছেন। কিন্তু অচিরেই দেখা গেছে, খোলনলচে পাল্টানো দূরের কথা, পুরনো ঔপনিবেশিক বা স্বৈরাচারী শাসকদের ফেলে যাওয়া জুতোতেই তাঁরা পা গলিয়ে চলছেন। মোটামুটি তাদের কায়দাতেই দেশ শাসন করছেন। একনায়কতান্ত্রিক বা একদলীয় ব্যবস্থা তাঁরা কায়েম করেছেন নিজেদের ক্ষমতাকে সুরক্ষিত করার স্বার্থে, তাকে দীর্ঘস্থায়িত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে। এক পর্যায়ে তাঁদের নামে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে বিলাসী জীবন যাপনের। নিজের ও পরিবার-পরিজনের নামে অর্থবিত্তের পাহাড় গড়ার। বিদেশে অর্থ পাচারের। তাঁদের কেউ কেউ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কথাবার্তা বলে দেশে-বিদেশে একটা বীরের ভাবমূর্তি হয়তো গড়ে তুলেছেন। আর তা করতে গিয়ে তাঁরা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চক্ষুশূল হয়েছেন। তাদের ষড়যন্ত্র ও হামলার শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিককালে যেমনটি আমরা লক্ষ করেছি ইরাক ও লিবিয়ার বেলায়। সফলভাবে বহিঃশক্তির মোকাবেলা তাঁরা করতে পারেননি। দেশের ভেতরেও জনগণের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেননি। এখানেই কাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁদের তফাত।
কমিউনিস্ট রাষ্ট্রপদ্ধতি অনুযায়ী কিউবাও পরিচালিত হয়েছে একদলীয় শাসনব্যবস্থার অধীনে। কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষনেতা এবং রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কাস্ত্রো অত্যন্ত দৃঢ় হাতে দেশটি শাসন করেছেন। বিরুদ্ধ মত প্রকাশের সুযোগ সেখানে সীমিত বা একেবারে নেই বললেও চলে। এর পক্ষে দেওয়ার মতো যুক্তিও নিশ্চয় অনেক আছে। আমেরিকার নাকের ডগায় বসে, ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্ষুদ্র এক দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা যে এতদিন তার স্বাধীন ও সার্বভৌম অস্তিত্ব বজায় রাখতে পেরেছে, তা কি না হলে সম্ভব হতো? ১৯৬১ সালে বে অব পিগসে হামলার ঘটনাটির কথা বাদ দিলেও, কাস্ত্রোর প্রাণনাশেরই চেষ্টা হয়েছে নাকি ছয় শতাধিক বার। এর মধ্যে কয়েকটি হত্যা পরিকল্পনার কথা সিআইএর সাবেক কর্মকর্তারাই পরবর্তীকালে স্বীকার করেছেন। সমর্থক-অনুরাগী তথা ব্যাপক দেশবাসীর ভালোবাসা ও সরকারের তরফে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাই সম্ভব করেছে সকল চক্রান্তকে নস্যাত্ করে কাস্ত্রোকে এতকাল বাঁচিয়ে রাখতে, গত ২৫ নভেম্বর তাঁকে স্বাভাবিক মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত অবধি পৌঁছে দিতে।
আশ্চর্য যে ২৫ তারিখেই কাস্ত্রোর মৃত্যু ঘটল। আর তাঁর নশ্বরদেহ দেশের বাতাসে ও মাটিতে মিলিয়ে গেল ২৬ তারিখে। নিজের জীবনে যে ২৬ সংখ্যাটির তাত্পর্য উল্লেখ করে একত্রিশ বছর আগে (১৯৮৫) ব্রাজিলীয় যাজক ও সাংবাদিক ফ্রেই বেত্তোকে এক সাক্ষাত্কারে কাস্ত্রো বলেছিলেন, ‘আমার জন্ম ১৯২৬-এ। আমি যখন সশস্ত্র সংগ্রাম করি তখন আমার বয়স ছিল ২৬। আমার জন্মতারিখ ১৩, যা আবার ২৬-এর অর্ধেক। বাতিস্তা ক্যু করল ’৫২-তে, যা ২৬-এর দ্বিগুণ। তাই তো, ব্যাপারটা ভেবে দেখতে হচ্ছে, ২৬ সংখ্যাটার মধ্যে বেশ একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি।’
প্রায় অর্ধশতাব্দী কাল কাস্ত্রো যাকে বলে একনায়কতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কিউবা নামক দেশটির শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন। প্রথম ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও পরের ৩০ বছর রাষ্ট্রপতি হিসেবে। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াবার পরও আরও পাঁচ বছর তিনি কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির ফার্স্ট সেক্রেটারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের নেতা, এমনকি বিপ্লবের নায়কের মতো তাঁর জীবদ্দশায় সে দেশের কোনো সড়ক, বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নামকরণ তাঁর নামে হয়নি। কোথাও তাঁর কোনো মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মিত হয়নি। সড়কের ধারে তাঁর ছবি-সংবলিত বিলবোর্ড দেখা যায়নি। লেনিন-উত্তর সোভিয়েত ইউনিয়ন, মাওয়ের চীন, কিম-ইল-সুংয়ের উত্তর কোরিয়াসহ বাকি কমিউনিস্ট দেশগুলোর সঙ্গে তুলনায় নিঃসন্দেহে এটি একটি ব্যতিক্রমী ব্যাপার। বিপ্লবের পর পরই কিউবায় আইন করে জীবিত কোনো বিপ্লবীর নামে এ ধরনের কিছু করা নিষিদ্ধ করা হয়। সে দেশে নামকরণ ও মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে হোসে মার্তির মতো ঐতিহাসিক বীর, স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা, কবি-লেখক ও শিল্পীদের নামে। এ প্রসঙ্গে নিকারাগুয়ার বিশিষ্ট কবি ও সাবেক মন্ত্রী টমাস বোর্জকে ১৯৯২ সালে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কাস্ত্রো বলেছিলেন: ‘নেতা হিসেবে আমার কথা বলতে পারি, অন্যের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নিজের ভাবমূর্তি এবং খ্যাতিকে বাড়ানো আমার কাছে ভয়ঙ্কর অন্যায় একটি ভাবনা বলে মনে হয়।’ ইতিহাসের যে দুজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন কাস্ত্রোর খুব প্রিয়, তাঁরা হলেন সিমন বলিভার (১৭৮৩-১৮৩০) ও হোসে মার্তি (১৮৫৩-১৮৯৫)। বলিভিয়া, পেরু ও ভেনেজুয়েলাসহ দক্ষিণ আমেরিকার ছয়-ছয়টি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সিমন বলিভার। খ্যাতি ও ক্ষমতার শীর্ষ থেকে তিনি একদিন একাকী নিরুদ্দেশের পথে বেরিয়ে পড়েন। কলম্বিয়ার সান্টা মার্টার শহরতলির এক খামার বাড়িতে নিঃসঙ্গ ও কপর্দকশূন্য অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বলিভারের এই দৃষ্টান্ত স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কাস্ত্রোকে অনুপ্রাণিত করে থাকতে পারে। আর কিউবার জাতীয় বীর, কবি ও মনীষী হোসে মার্তির প্রায় দু-হাজার পৃষ্ঠার রচনাবলি কাস্ত্রো খুঁটিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর একটি বাক্য কাস্ত্রোর খুব প্রিয় ছিল: ‘জগতের যত বিজয় গৌরব সব একটা শস্যের দানার মধ্যে পুরে রাখা যাবে।’ কাস্ত্রোর মন্তব্য: ‘কী অসাধারণ চিন্তা, কী বিনয়!’
এই যে এতকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত কিউবার কাস্ত্রো-বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে এসেছে, তাঁর দুঃশাসন ও নিষ্ঠুরতার সত্য-মিথ্যা নানা গল্প প্রচার করেছে, তারাও কেউ এ-যাবত্ কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহার কিংবা বিলাসী জীবন যাপনের অভিযোগ করেছেন বলে শোনা যায়নি। এটি কম বড় ব্যাপার নয়। কিউবার প্রতিবেশী লাতিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশের এবং সাধারণভাবে উন্নয়নশীল বিশ্ব বলে পরিচিত পৃথিবীর নানা অঞ্চলের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে তুলনা করলে এটি প্রায় অবিশ্বাস্য ও রীতিমতো অবাক হওয়ার মতো একটি বিষয়। কমিউনিস্ট দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এক হোচিমিন ছাড়া এমন দৃষ্টান্ত বেশি পাওয়া যাবে না।
কাস্ত্রোর আমলে কিংবা অদ্যাবধি কিউবায় গণতন্ত্রহীনতা, একনায়কতান্ত্রিক বা একদলীয় শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব, ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন বা নিগ্রহ তথা সাধারণভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদি যে অভিযোগ করা হয়, কাস্ত্রো তাঁর নিজের মতো করে সে বিষয়গুলো দেখেছেন এবং তার ব্যাখ্যা বা জবাব দিয়েছেন। যেমন বৈষম্যপূর্ণ সমাজে কেবল ভোটদানের অধিকারকে যে গণতন্ত্র বলে চালানো হয়, তিনি তাঁর সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ধনীরা সেখানে টাকা-পয়সা দিয়ে ভোট কেনে। একেবারে ছোটবেলাতেই এ ব্যাপারে তাঁর কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তিনি দেখেছেন তাঁর ভূস্বামী পিতা এলাকার অধিকাংশ ভোট নিয়ন্ত্রণ করতেন। টাকা দিয়ে সমর্থিত প্রার্থীর জন্য ভোট কিনতেন। প্রচারকাজে নিয়োজিত লোকদের টাকা দিতেন। বালক কাস্ত্রো যে ঘরে ঘুমোতেন, সেখানেই ছিল একটি সিন্দুক। নির্বাচনের সময় খুব সকাল থেকেই ঘন ঘন সে সিন্দুকের ডালা খোলা আর বন্ধ করার ক্যাচক্যাচ শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যেত। গণতন্ত্রের বড়াই করা আমেরিকার নির্বাচন সম্পর্কে তাঁর অভিমত হলো, সেখানে একটি শ্রেণী বা দলই দুই নামে একই উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতি করছে। আর তা হলো, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থরক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের সময় সেখানে প্রার্থীদের পক্ষে কেবল বিজ্ঞাপন বাবদই যে কোটি কোটি ডলার খরচ করা হয়, তার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সেখানে নির্বাচন মানেই টাকার খেলা! এমন যে বিশ্বসংস্থা জাতিসংঘ, সেখানেও গণতন্ত্রহীনতার চূড়ান্ত নমুনা হিসেবে তিনি স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, সদস্য দেশগুলো সবাই মিলে একমত হয়ে যদি একটি প্রস্তাব আনে, তারপরও একটি মাত্র স্থায়ী সদস্য তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা নাকচ করে দিতে পারে। এমনকি জনসংখ্যার দিক থেকেও যদি দেখা যায়, পাঁচ কোটি মানুষের একটি দেশের ভেটো ক্ষমতা আছে, অথচ আশি কোটি মানুষের দেশ ভারতের তা নেই। এ প্রসঙ্গে কাস্ত্রোর মন্তব্য: ‘সত্যি কথা বলতে কি, জাতিসংঘে এক প্রাগৈতিহাসিক সুবিধাবাদিতার নীতি বিরাজ করছে। আমি তাই সব সময় বলি, গণতন্ত্র নিয়ে কিছু বলবার আগে জাতিসংঘের ভেতরে গণতন্ত্র আনো।’
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে সমাজতন্ত্রের পতনের জন্য তিনি ওই সব দেশে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি নয়, উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাদী পদ্ধতি গ্রহণ ও ভোগবাদকে উত্সাহিত করার নীতিকেই দায়ী করেছেন। দেশগুলোর এই পরিণতির ব্যাপারে তাঁর বন্ধু ও সহযোদ্ধা চে গুয়েভারা যে অনেক আগেই তাঁর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন সেকথারও উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমার মনে আছে পুঁজিবাদী পদ্ধতিতে সমাজতন্ত্র নির্মাণের ঘোর বিরোধী ছিলেন চে।... সেই ’৬০-এর দশকের গোড়াতেই ভবিষ্যত্ দ্রষ্টার মতো পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর বর্তমান সমস্যাগুলোর স্পষ্ট পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।’ গর্বাচেভের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়নে পেরেস্ত্রোইকাকে কাস্ত্রো একটি ‘শুভ সূচনা’ হিসেবেই দেখেছিলেন। তবে তাঁর মনে হয়েছে গর্বাচেভ খুব তাড়াহুড়ো করে সবকিছু করতে গিয়েছিলেন। রাতারাতি অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন তিনি। অগ্রাধিকার নির্বাচন না করে এভাবে একসঙ্গে অনেককিছু করতে গিয়ে বিপর্যয় ডেকে আনা হয়েছে। ভুল সংশোধন করতে গিয়ে শেষে পার্টি ও রাষ্ট্রকেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কাস্ত্রোর বক্তব্য এখানে একটু বিশদভাবেই উদ্ধৃতিযোগ্য বলে মনে করি। টমাস বোর্জকে দেওয়া পূর্বোক্ত সাক্ষাত্কারেই তিনি বলেছিলেন: ‘আসলে সোভিয়েত ইউনিয়ন আত্মধ্বংসের এক অবিশ্বাস্য উদাহরণ। এই ধ্বংসযজ্ঞে কেউ যোগ দিয়েছে না জেনেশুনে, কেউ জেনেশুনে। আসলে সেখানে যে লাগামহীন ব্যাপারগুলো চলছিল, তাতে এর ধ্বংস হওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু ছিল না। আমরা সেই শুরু থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের এই সব লাগামহীন কাণ্ড লক্ষ করে আসছি। আমি মনে করি না গর্বাচেভ এই ধ্বংস প্রক্রিয়ায় সচেতনভাবে যোগ দিয়েছেন। আমার নিশ্চিত ধারণা, তিনি সমাজতন্ত্রকেই উন্নত করার জন্য সংগ্রাম করতে চেয়েছিলেন।’ তারপরও যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ধ্বংস হলো, তার দায়দায়িত্ব নেতা হিসেবে গর্বাচেভের ওপর বর্তায় বৈকি! তবে কাস্ত্রো মনে করেছেন, এককভাবে কেউ এর জন্য দায়ী নয়, যৌথভাবে সকলেই দায়ী। কাস্ত্রোর মতে, ‘সাম্রাজ্যবাদীরা সোভিয়েত ইউনিয়নকে কখনোই ভাঙতে পারত না যদি ভাঙার কাজটা সোভিয়েতরা নিজেরাই শুরু না করত।’ সোভিয়েত ইউনিয়নে গর্বাচেভ পেরেস্ত্রোইকা শুরু করার ‘অনেক আগেই’ কিউবায় সংশোধন ও সমাজতন্ত্রের উন্নত সংস্করণের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় বলে কাস্ত্রো দাবি করেছেন। আগামীতে কাস্ত্রোহীন কিউবায় এই প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তা শেষ পর্যন্ত কোনদিকে গতি নেয়, সেটা দেখার বিষয়।
কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে কাস্ত্রো বলেছেন, সবচেয়ে বড় মানবাধিকার হলো মানুষের মৌলিক চাহিদার নিবৃত্তি। তাঁর মতে, সমাজে বৈষম্য ও বঞ্চনা বজায় রেখে যেমন গণতন্ত্র, তেমনি মানবাধিকারের কথা বলাও অর্থহীন। আর এই মৌলিক চাহিদা নিবৃত্তির দিক থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিউবার সাফল্য তুলনাহীন। এই অর্থে যে বিশ্বের উন্নত পুঁজিবাদী বা সমাজতন্ত্রী কোনো দেশই এ ব্যাপারে তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। জনসাধারণের জন্য বিনা মূল্যে চিকিত্সা ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধির কথা এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। জনসংখ্যানুপাতিক চিকিত্সকের হারে কিউবার অবস্থান দুনিয়ায় শীর্ষে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই এ কথার স্বীকৃতি দিয়েছে। আর মানের অবনয়ন না ঘটিয়েই দেশটি তার সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কিউবার এই অর্জনের ফলভোগী কেবল তার নিজ দেশের নাগরিকরাই নয়। সদ্যস্বাধীন ও উন্নয়নশীল অনেক দেশেই জনসাধারণকে চিকিত্সা সেবা দিতে কিউবা তার ডাক্তার ও নার্স পাঠিয়েছে। নানা দেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা কিউবায় চিকিত্সা ও প্রযুক্তিবিদ্যা শিখতে যায়।
কিউবায় মত প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব এবং সে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন-পীড়নের যে-অভিযোগ করা হয়, তার অনেকটাই হয়তো সত্যি। অন্যান্য কমিউনিস্ট দেশের সঙ্গে এক্ষেত্রে তার কমবেশি মিল থাকবারই কথা। কমিউনিস্ট নয়, কিন্তু একব্যক্তিক কিংবা একদলীয় শাসনে পরিচালিত, এমনকি গণতান্ত্রিক নামধারী অনেক দেশেও তো বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতার একইরকম অবস্থা আমরা লক্ষ করি। তবে বিপ্লবোত্তর রাশিয়ায় ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবকালীন চীনে ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি যে প্রতিহিংসা ও লাঞ্ছনার ইতিহাসের সঙ্গে আমরা পরিচিত, এবং অন্যান্য দেশেও যুদ্ধ-বিপ্লবের ইতিহাসে যা অল্পাধিক দেখা যায়, সে তুলনায় মনে হয় কিউবায় কি বিপ্লবের সময় কি পরবর্তীকালে কমই সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে কাস্ত্রো নিজে খুব জোর দিয়ে যে দাবিটি করেছেন তা হলো, ‘আমাদের ২৫ মাসের যুদ্ধে এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি। আমরা বরং সব যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দিয়েছি। আমরা কেন যুদ্ধে জিতলাম? আমাদের ওই মানবিক রণনীতির কারণেই। ... আমরা এই নীতিতে অটল থেকেছি। আমাদের এখানে কাউকে হত্যা করা হয়নি, কোনো বন্দির ওপর নির্যাতনের নজির নেই। ... গুমখুন, সন্ত্রাস এসব তো লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু গত ৩৩ বছরে আমাদের দেশে এসব ঘটনার নজির নেই।’ কাস্ত্রোর এই দাবির সঙ্গে কেউ পুরোপুরি একমত হবেন কি হবেন না, সে ভিন্ন কথা। কিন্তু যে-আমেরিকা কিউবারই একটি অংশ গুয়ানতানামো দখল করে সেখানে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ কারাগার ও নির্যাতন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে, তারাই যখন কিউবার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে, তখন তা খুব হাস্যকর শোনায় না কি?
বাল্যে কিছুকাল ধর্মীয় স্কুলে পড়ালেখা করলেও, কাস্ত্রো ঈশ্বর বা ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না। তবে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে তিনি গুরুত্ব দিতেন। তিনি যখন বাতিস্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, তখন দেখেছেন তাঁর মা-নানিরা তাঁর জন্য প্রার্থনা করছেন, তাঁর সাফল্য কামনায় সন্তদের কাছে মানত করছেন। বিষয়টি তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। এ প্রসঙ্গে ফ্রেই বেত্তোকে তিনি পরে বলেছিলেন, ‘আমি কখনোই তাদের সঙ্গে তর্ক করতাম না। কারণ আমি দেখতাম ওই বিশ্বাস তাদেরকে কী প্রচণ্ড শক্তি, সাহস আর স্বস্তি দিয়েছে। ওই বিশ্বাস ছিল অত্যন্ত গভীরভাবে অনুভূত, একান্ত নিজস্ব একটি ব্যাপার, যা তাদের সত্তারই অংশ।’ বাইবেল তিনি খুব ভালোভাবে পড়েছিলেন, বক্তৃতায় প্রায়ই তা থেকে উদ্ধৃতি দিতেন। যেমন বলতেন, ‘যিশু গরিবদের খাওয়ানোর জন্য তাঁর অলৌকিক ক্ষমতায় রুটিকে দ্বিগুণ করে দিয়েছিলেন, আমরা বিপ্লবের মাধ্যমে সে কাজটাই করতে চাচ্ছি। আমরাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেব স্কুল, হাসপাতাল, কারখানা, গবেষণা কেন্দ্র সবকিছু।’ যিশুকে তিনি গরিবের বন্ধু ও বিপ্লবী বলে মনে করতেন। বক্তৃতায় বলতেন, ‘যে গরিবকে প্রতারণা করে, সে যিশুকেই প্রতারণা করে।’ পুঁজিবাদীরা ধর্মকে যে তাদের শোষণের স্বার্থে ব্যবহার করে, তার মোকাবেলায় কাস্ত্রো এভাবে ধর্মের ইতিবাচক ও বিপ্লবী শিক্ষাটাকে কাজে লাগিয়েছেন। লাতিন আমেরিকায় একদল ক্যাথলিক ধর্মযাজকের উদ্যোগে লিবারেশন থিওলজি প্রচারের সঙ্গে সমান্তরালভাবেই নাস্তিক কাস্ত্রো এ কাজটি করেছেন।
পৃথিবীতে কেবল সফল ব্যক্তিরাই যে বীর বা নায়ক হিসেবে স্মরিত, পূজিত হন, তা কিন্তু নয়। ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাঁদের জীবনাবসান ঘটেছে তাঁদেরও অনেকে তাঁদের আদর্শ, দেশপ্রেম, জনগণের জন্য ভালোবাসা, ত্যাগ ও আত্মোত্সর্গের দৃষ্টান্তের জন্য ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। যুগোত্তরে মানুষকে উদ্বুদ্ধ, অনুপ্রাণিত করেন। তাঁদের ব্যর্থতার ওপর দাঁড়িয়ে, এমনকি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীকালে অন্যরা নতুন ইতিহাস নির্মাণে ব্রতী হয়েছেন। আমাদের ইতিহাসেই এমন দুজন মহানায়ক আছেন সূর্যসেন ও সুভাষ বসু। বলিভিয়ার জঙ্গলে চে গুয়েভারার মৃত্যুও ব্যর্থ অভিযানের মধ্যেই ঘটেছিল। কাস্ত্রো সেদিক থেকে বিশ্ব-ইতিহাসের অত্যন্ত সফল নায়কদের একজন। তাঁর রাজনৈতিক মত বা দৃষ্টিভঙ্গি, শাসননীতি ইত্যাদির সঙ্গে একমত না হয়েও যে কাউকে একথা স্বীকার করতে হবে।
তবে একজন ব্যক্তি, তা তিনি যত প্রতিভাবান বা মহানই হোন, কখনো সীমাবদ্ধতার উর্ধ্বে নন। কাস্ত্রো এ বিষয়ে সচেতন ছিলেন, হয়তো সতর্কও। এ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য: ‘ব্যক্তি হিসেবে আমাদের ভূমিকা খুবই সীমিত এবং আমাদের উচিত ওই সীমাবদ্ধ ভূমিকাটিকেই সঠিকভাবে পালন করা। একজন বিপ্লবী হিসেবে আমি আমার জীবনকে এভাবেই দেখি।’ কোনো তত্ত্ব বা ধারণাকে অনড়, অপরিবর্তনীয় বলে মনে করার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অনমনীয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক তত্ত্ব বা রাজনীতিবিদের চিন্তাধারাকেই গ্রহণ করা উচিত নয়। সারাজীবনই আমি বদ্ধমূল ধারণার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। আমাদের সংগ্রাম করা উচিত যেন কোনো মেধাবী রাজনীতিবিদ বা বিপ্লবীর চিন্তাধারা একটি অনড় বদ্ধমূল ধারণায় পরিণত না হয়। কারণ সব চিন্তাধারাই একটি নির্দিষ্ট স্থান, কাল এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।’ কিউবায় সমাজতন্ত্র নির্মাণ করতে গিয়ে কাস্ত্রো ও তাঁর সঙ্গীরা সোভিয়েত বা চীনা মডেল হুবহু অনুসরণ করেননি। এ ব্যাপারে গোড়ার দিকে তাঁদের যে ভুলত্রুটিগুলো হয়েছিল, পরে অভিজ্ঞতার আলোকে তা শুধরে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে সারা পৃথিবীর বিপ্লবী ও সমাজ পরিবর্তনকামী মানুষের জন্য এই শিক্ষাটাই হতে পারে কাস্ত্রোর মহান উত্তরাধিকার।
[নিবন্ধে ব্যবহূত সবকটি উদ্ধৃতি চন্দন ঘোষ ও রাখাল রাজ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত চেতনা পত্রিকার ৭ম বর্ষ ১ম সংখ্যায় (২০০২) প্রকাশিত ও শাহাদুজ্জামান অনূদিত ফিদেল কাস্ত্রোর একাধিক সাক্ষাত্কার থেকে নেওয়া হয়েছে।]
লেখক: প্রাবন্ধিক ও গবেষক, morshedshasan@gmail.com





