ভ্যাকসিন মানুষের
কয়েকটি রোগ
নির্মূল আর
তা মোকাবেলার
মধ্য দিয়ে
আধুনিক চিকৎসা
বিজ্ঞানের চর্চাপদ্ধতি
পুরোপুরি বদলে
দিয়েছে। যদিও
এই সেদিন
আঠারো শতকের
শেষের দিকে
একেবারে সেকেলে
আর সবচেয়ে
অপরিণত অবস্থায়
এ পথচলার
শুরু। দুই
শতাব্দীরও বেশি
সময় ধরে
মানবজাতি ভ্যাকসিনের
সুফল ভোগ
করে এলেও
কার্যকর ভ্যাকসিনগুলো
আবিষ্কারের এ
পথচলা ছিল
খুবই দীর্ঘ
ও বন্ধুর।
এ কাজে
প্রয়োজন ছিল
একদল সাহসী
গবেষণা পথিকৃৎ
ও নিবেদিতপ্রাণ
চিকিৎসকের। সতেরো
শতকের নব্বইয়ের
দশকে এডোয়ার্ড
জেনারের সৃষ্টিকর্ম
থেকে প্রথম
যেভাবে আধুনিক
ভ্যাকসিনের যাত্রা
হয়, চলমান
করোনা মহামারীর
প্রকোপে এ
দীর্ঘ বাধ্য
ছুটির টান
টান উত্তেজনার
মাঝে তা
অনুসন্ধান করার
চেষ্টা করব।
ভ্যাকসিনের এ
ইতিহাসের শুরু
গুটিবসন্তের গল্প
দিয়ে। সংক্রামক
গুটিবসন্ত ব্যাধির
প্রকোপে রোগীর
শরীরে স্থায়ী
বিকৃতির সৃষ্টি
হতো, এমনকি
প্রায়ই এটি
হতো মারাত্মক
প্রাণঘাতী। শত
শত বছরজুড়ে
মানবজাতির মাহামারীর
কারণ হিসেবে
রোগটি এর
দোর্দণ্ডপ্রতাপ বজায়
রেখেছে। খ্রিস্টপূর্ব
১৫৭০ থেকে
১০৮৫-এর
মধ্যবর্তী অথাৎ
১৮-২০তম
মিসরীয় রাজবংশের
মমিগুলোর চেহারায়
গুটিবসন্তের মতো
দেখতে ত্বকের
ক্ষতগুলোতে এর
প্রাচীনতম প্রমাণের
সন্ধান মেলে।
তবে ধারণা
করা হয়,
খ্রিস্টপূর্ব ১০
হাজার বছর
আগেকার কাছাকাছি
কোনো এক
সময় উত্তরপূর্ব
আফ্রিকায় প্রথম
কৃষিভিত্তিক বসতি
গড়ে ওঠার
সময় সর্বে
প্রথম গুটিবসন্ত
দেখা দেয়।
পনেরো-ষোলো
শতকের মাঝামাঝি
কোনো এক
সময় ইউরোপে
গুটিবসন্ত প্রবেশ
করে এবং
স্পেনীয় ও
পর্তুগিজ আগ্রাসীদের
মাধ্যমে তা
নব্য বিশ্বে
পৌঁছে যায়,
যেখানে এর
প্রকোপে বিপুলসংখ্যাক
স্থানীয় জনগণ
নিহত হয়।
ভ্যারিওলা ভাইরাসের
সংস্পর্শে গুটিবসন্তের
বিস্তার লাভ
করে এবং
সাধারণ সর্দি-জ্বরের
মতো সাধারণত
এর সংক্রমণের
শুরু হয়।
এরপর রোগী
জ্বর, আলস্য,
পেশির বেদনা
ও মাথাব্যথায়
ভোগে। তারও
কয়েক দিন
পর শরীর
ও মুখের
ত্বকে এক
ধরনের ফুসকুড়ি
দেখা দেয়,
সঙ্গে মুখ,
গলা ও
নাকের ভেতর
ক্ষত তৈরি
হয়। তরলে
ভরা এ
ফুসকুড়ির সংখ্যা
বাড়তে বাড়তে
একসময় এতে
ত্বকের বড়
একটা অংশ
ছেয়ে যায়।
তৃতীয় সপ্তাহ
পর্যন্ত রোগী
বেঁচে থাকলে
এগুলো মামড়িতে
পরিণত হয়
এবং ত্বক
থেকে খসে
পড়তে থাকে।
আঠারো শতকে
গুটিবসন্ত ইউরোপজুড়ে
এতটাই বিস্তার
লাভ করে
যে এক
পরিসংখ্যানে দাবি
করা হয়,
তখন প্রতি
বছর এর
প্রকোপে প্রায়
চার লাখ
লোক মারা
যেত। এমনকি
ইউরোপের পাঁচজন
সম্রাট পর্যন্ত
রাজত্বকালে গুটিবসন্তে
আক্রান্ত হয়ে
মারা যান
বলে জানা
যায়। গবেষকেরা
হিসাব কষে
দেখেছেন, এ
রোগে আক্রান্তদের
২০ থেকে
৬০ ভাগ
ও শিশুদের
৮০ ভাগের
ক্ষেত্রে মৃত্যুবরণের
মতো ঘটনা
ঘটতে দেখা
গেছে। সেরে
ওঠাদের বেশির
ভাগের শরীরেই
কোনো না
কোনো স্থায়ী
দাগ থেকে
গেছে, যাদের
অসংখ্য লোক
তাদের ঠোঁট,
নাক বা
কানের কিছু
অংশ হারিয়েছে।
গুটিবসন্ত আক্রান্তের
কর্নিয়ায়ও ক্ষত
সৃষ্টি করে
এবং এ
ধরনের রোগীদের
তিন ভাগের
এক ভাগ
সম্পূর্ণ অন্ধ
হয়ে যায়।
আগেকার পণ্ডিতেরা
গুটিবসন্তে বেঁচে
যাওয়াদের এ
রোগ থেকে
নিরাপদ হয়ে
ওঠার বিষয়টি
স্বীকার করে
গেছেন। খ্রিস্টীয়
প্রথম সহস্রাব্দের
গোড়ার দিকে,
চৈনিক বৈদ্যরা
গুটিবসন্তের ফুসকুড়ি
থেকে খসে
পড়া বস্তু
একজন নিরোগ
রোগীর শরীরে
টিকা দিতে
এবং এর
থেকে প্রস্তুত
পাউডার নস্যি
আকারে নাক
দিয়ে টানার
প্রচলন করেন।
টিকা হলো
ভ্যাকসিনেশনের সেকেলে
রূপ এবং
এক্ষেত্রে ভ্যারিওলেশনকে
রোঝায়, যার
মানে ভ্যারিওলা
ভাইরাস থেকে
সুরক্ষা। তুর্কির
ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের
স্ত্রী লেডি
মেরি ওয়ার্টলি
মন্টেগিউ কনস্টান্টিনোপলে
অবস্থানকালে গুটিবসন্তের
টিকা সম্বন্ধে
জানতে পারেন।
এ ব্যাপারে
উদ্যমী হয়ে
১৭২০ সালের
দিকে তিনি
লন্ডন ফিরে
আসেন। তখনকার
দিনে কমবেশি
সবারই জানা
ছিল যে
গুটিবসন্ত থেকে
বেঁচে যাওয়ারা
মাহামারীর প্রদুর্ভাবকালে
এ রোগ
থেকে রেহাই
পান। ঘটনাক্রমে
এশিয়ায় গুটিবসন্ত
থেকে সুরক্ষিত
থাকতে গুটিবসন্ত
রোগের উপাদান
নস্যি হিসেবে
নাক দিয়ে
টানত। ১৭২১
সালে লন্ডনে
গুটিবসন্তের মহামারী
চলাকালে লেডি
মন্টেগিউ তার
চার বছর
বয়সী মেয়েকে
গুটিবসন্ত রোগের
বস্তু দিয়ে
টিকা দেন।
পরবর্তীকালে যুক্তরাজ্যজুড়ে
ভ্যারিওলেশন বা
টিকা নামে
পরিচিতি পায়।
আঠারো শতকে
ইউরোপ ও
উত্তর আমেরিকায়
এর প্রচলন
হয়। এ
সময় সাধাণত
যে পদ্ধতি
অবলম্বন করা
হতো তা
হলো গুটি
বসন্তের মামড়ি
থেকে তৈরি
পাউডার বা
পুঁজে পূর্ণ
ফুসকুড়ি থেকে
পৃথক করা
তরল নিয়ে
তা সুস্থ
ব্যক্তির ত্বকে
আঁচড় কেটে
তার ওপর
ঘষা। এ
সময় রোগীর
দেহে গুটিবসন্তের
মতো ফুসকুড়ি
দেখা দিলেও
পরিণতিতে সচরাচর
অসুখ ততটা
গুরুতর হতো
না। এ
ভ্যারিওলেশন মোটেই
ঝুঁকিহীন ছিল
না। কেননা
ভ্যারিওলেট করা
ব্যক্তি নিজেই
গুটিবসন্তে আক্রান্ত
হতো অথবা
এ প্রক্রিয়ার
কারণে সিফিলিসের
মতো অজান্তে
অপবাহিত অন্য
কোনো রোগে
ভুগত।
১৭৫৭ সালে
ভ্যারিওলেশনের মাধ্যমে
চিকিৎসা দেয়া
হাজার খানেক
শিশুর মাঝে
আট বছর
বয়সী এডোয়ার্ড
জেনারও ছিলেন।
ছেলেবেলায় বিজ্ঞান
ও প্রকৃতির
প্রতি জেনারের
ছিল ভীষণ
আগ্রহ, যা
তাকে চিকিৎসাশাস্ত্র,
শল্যচিকিৎসা, এমনকি
প্রাণিবিজ্ঞান পর্যন্ত
অধ্যয়নে অনুপ্রাণিত
করে। ঘটনাক্রমে
তিনি লন্ডনের
বাইরে ইংল্যান্ডের
পল্লী এলাকায়
স্থায়ীভাবে বসবাস
করতে থাকেন
এবং চিকিৎসাবিদ্যা
অনুশীলন শুরু
করেন। অনুশীলনের
অংশ হিসেবে
জেনার তার
রোগীদের ভ্যারিওলেশ
সম্পন্ন করতেন।
তার সেই
গ্রাম্য পরিবেশ
থেকে তিনি
জানতে পারেন
যে গোয়ালিনী
ও অন্যান্য
যে লোকেরা
গোবসন্তের সংস্পর্শে
আসে, তাদের
শরীরে স্বল্পসংখ্যক
ফুসকুড়িসহ তুলনামূলকভাবে
কম সংক্রমণ
দেখা দিলেও
পরবর্তী সময়ে
তারা আর
গুটিবসন্তে আক্রান্ত
হয় না।
তিনি আরো
দেখতে পান
যে এসব
লোকদের তিনি
সফলভাবে গুটিবসন্তের
টিকা দিতে
পারছেন না।
এ যোগসূত্র
লক্ষ করে
জেনার এ
সিদ্ধান্তে আসেন
যে গোবসন্ত
কেবল গুটিবসন্ত
থেকেই সুরক্ষা
দেয় না,
বরং সুরক্ষার
একটি উদ্দশ্যপ্রণোদিত
প্রক্রিয়া হিসেবে
তা এক
ব্যক্তি থেকে
অন্য ব্যক্তিতে
হস্তান্তরিতও হতে
পারে।
১৭৯৬ সালের মার্চে জেনারের সঙ্গে স্যারা নেলমস নামে এক গোয়ালিনী তরুণীর সঙ্গে দেখা হয়, যার গায়ে গোবসন্তের কাঁচা ক্ষত ছিল। জেনার তার এ ক্ষতের উপাদান ব্যবহার করে জেমস ফিপসকে টিকা দেন। শিশুটির মৃদু জ্বর ও ক্ষুধামান্দ দেখা দিলেও ১০ দিন পর সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়। জুলাইয়ে জেনার শিশুটিকে আবারো টিকা দেন। এ সময় কোনো রোগ দেখা না দেয়ায় জেনার সিদ্ধান্তে পৌঁছেন, সুরক্ষা সম্পন্ন হলো। আজকে আমরা জানি যে গোবসন্ত ভাইরাসের পরের সেই সংক্রমণ থেকে সংক্রমিত ব্যক্তি একই ধরনের এন্টিজেনের উপস্থিতি থেকে গুটিবসন্তের ভাইরাসকে চিনে নিতে পারে এবং আরো বেশি কার্যকরভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
জেনার গোবসন্তের
সাহায্যে শিশুদের
টিকা প্রদান
অব্যাহত রাখলে
একই ফলাফল
পান। তিনি
প্রক্রিয়াটির নাম
দেন ভ্যারিওলে
ভ্যাকসিন—গোবসন্ত।
বর্তমানে এর
ইংরেজি করা
ও সংক্ষিপ্ত
রূপ ‘ভ্যাকসিনেশন’।
সে সময়
তিনি এর
কথা না
জানলেও জেনার
এমন এক
বুনিয়াদ প্রস্তুত
করে যান,
পরে যা
রোগ উপশমকারী
প্রাণবন্ত ভ্যাকসিনে
পরিণত হয়।
বর্তমানে হাম,
মাম্পস, পীতজ্বর
ও অন্যান্য
আরো অনেক
অসুখসহ খুবই
সাধারণ ভ্যাকসিনগুলো
একই পদ্ধতি
অনুসরণ করে
প্রস্তুত হচ্ছে।
অন্যান্য জীবন্ত
প্রাণী ও
ভ্রূণওয়ালা ডিমসহ
বহিরাগত পোষকের
মধ্য দিয়ে
বাহিত করে
ভাইরাসকে কাহিল
করা যেতে
পারে। এ
ধরনের প্রতিটি
ভাইরাসের সন্তানসন্ততিরা
ধীরে ধীরে
পরিবর্তী সময়ে
হয়ে মানুষের
দেহে শক্তিশালী
সংক্রমণ সৃষ্টির
সক্ষমতা হারায়।
এ ধরনের
দুর্বল, কম
ক্ষতিকর ভাইরাসগুলো
খুব সহজেই
ইমিউন তন্ত্রের
পক্ষে লড়াই
চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি
সুরক্ষা নিশ্চিত
করতে পারে।
গুটিবসন্ত জয়
করার এ
চেষ্টায় এডোয়ার্ড
জেনারই সর্বপ্রথম
ব্যক্তি নন
এবং তার
সঙ্গে সমস্যাটা
নিশ্চিত বিদায়ও
নেয়নি। তবে
সুচিন্তিতভাবে ভ্যাকসিনেশন
ব্যবহারের মধ্য
দিয়ে একটি
সংক্রামক রোগ
নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে
তার এ
কাজ প্রথম
বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার
প্রতিনিধিত্ব করে।
পরের বছরগুলায়
গুটিবসন্তের ভ্যাকসিনেশনের
চর্চা বিশ্বময়
ছড়িয়ে পড়ে
এবং চূড়ান্তভাবে
লাখ লাখ
লোকের জীবন
বাঁচায়। ১৯৮০
সালে বিশ্ব
স্বাস্থ্য সম্মেলন
থেকে সারা
বিশ্ব গুটিবসন্তমুক্ত
হওয়ার কথা
ঘোষণা করা
হয়। জেনারের
কাজ বিজ্ঞানীদের
কল্পনাকে ছুঁয়ে
ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের
মঞ্চ প্রস্তুতের
মাধ্যমে বিশ্বকে
আধুনিক ভ্যাকসিন
গবেষণার যুগে
পৌঁছে দিয়েছে।
তার হাত
ধরেই ইমিউনোলজি
বিজ্ঞানের শুরু।
তার পরও
সময়ের সঙ্গে
তার বিস্ময়কর
আবিষ্কারের খুঁটিনাটি
জিনিসপত্রের অনেক
কিছুই বিস্মৃত
বা হারিয়ে
গেছে। এমনকি
গ্রাম্য যে
পরিবেশের মধ্যে
জেনার কাজ
করতেন, আর
সমাজ ও
চিকিৎসাবিদ্যা যে
শৈল্পিক অবস্থানে
ছিল, বর্তমানে
তা উপলব্ধি
করা কঠিন।
এডোয়ার্ড জেনার
ছিলেন গ্লস্টেশার
অতিসাধারণ এক
গ্রাম্য ডাক্তার।
একই ধরনের
গোবসন্তের বস্তু
সূচি প্রয়োগের
মাধ্যমে গুটিবসন্ত
প্রতিরোধ সম্ভব,
এটা আবিষ্কারের
পর ১৭৯৮
সালে তার
গবেষণাপত্র ছাপা
হলে রানী
তার ছেলেমেয়েদের
ভ্যাকসিন প্রয়োগ
করান। এতে
তার অনুশীলন
সঙ্গে সঙ্গে
গ্রহণযোগ্যতা পায়
এবং পার্লামেন্ট
তাকে সারা
জীবন পেনশন
অনুমোদনের জন্য
বাছাইয়ে ভোট
দেয়। তার
চেয়ে বিস্ময়কর
হলো, রাজা
তৃতীয় জর্জ
তাকে নাইট
উপাধিতে ভূষিত
করেন এবং
তিনি সুখে-শান্তিতে
জীবন যাপন
করতে থাকেন।
এডোয়ার্ড জেনার
১৭৪৯ সালে
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম
কাউন্টি গ্লস্টেশায়
জন্মগ্রহণ করেন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছেলেবেলায়ই
তিনি তার
বাবা-মাকে
হারান এবং
বড় ভাইয়ের
দ্বারা লালিত-পালিত
হন। এ
পরিবারের অধিক
টানাপড়েনের কারণে
তিনি পারিবারিক
রীতি অনুসারে
যাজকের প্রশিক্ষণ
নিতে অক্সফোর্ড
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
হতে পারেননি।
তবে এর
বদলে তিনি
১৩ বছর
বয়সে একজন
স্থানীয় চিকিৎসকের
অধীনে শিক্ষানবিশ
হিসেবে যোগ
দেন। তিনি
চমত্কার একজন
ছাত্র বলে
প্রমাণিত হলে
ছয় বছর
পর তাকে
লন্ডনের সেন্ট
জর্জ হাসপাতালে
পাঠানো হয়।
সেখানে বিশ্ববিখ্যাত
একজন শল্য
চিকিৎসক জন
হান্টার তাকে
গ্রহণ করেন।
এ সময়
হান্টারের সঙ্গে
থাকা জোসেফ
বাঙ্কের সঙ্গে
তার দেখা
ও বন্ধুত্ব
গড়ে ওঠে।
যিনি একজন
জীববিজ্ঞানী হিসেবে
ক্যাপটেন কুকের
বিশ্বপরিভ্রমণের প্রথম
অভিযান থেকে
১৭৭১ সালে
সবে ফিরে
এসেছেন। হান্টারের
সুপারিশে জেনার
সেই অভিযানের
নমুনা গোছাতে
ও ক্যাটালগ
তৈরিতে বাঙ্ককে
সহায়তা করেন।
বাঙ্ক পেশাগতভাবে
সম্মানজনক অবস্থান
লাভসহ ৪০
বছরেরও বেশি
সময় রয়্যাল
সোসাইটির প্রেসিডেন্টের
দায়িত্ব পালন
করেন। এভাবে
পেশাগত জীবনের
শুরুতেই জেনার
তার প্রজন্মের
বিজ্ঞানী, চিকিৎসকদের
এক ব্যতিক্রমী
সম্প্রদায়ের মাঝে
প্রবেশ করেন।
সেন্ট জর্জের
প্রশিক্ষণ শেষ
হওয়ার এক
পর্যায়ে হান্টার
তার শিক্ষকতা
ও হাসপাতালে
ব্যবচ্ছেদের জন্য
তার সহকারীর
পদ সাধেন।
তার পরও
জেনার এ
প্রস্তাব ফিরিয়ে
দিয়ে পশ্চিম
অস্কফোর্ডের গবাদি
খামারের জেলার
ছোট্ট গ্রাম,
নিজ মফস্বল
শহর বার্কলে
ফিরে আসেন।
সেখানে টানা
২০ বছর
অবস্থান করে
আশপাশের খামারের
লোকদের চিকিৎসা
করেন। এর
মধ্যে থেকেই
তিনি প্রকৃতি
বিজ্ঞান অধ্যয়নের
সময় বের
করে নেন
এবং স্যার
জোসেফ বাঙ্কের
অনুপ্রেরণায় কোকিলের
বংশ বৃদ্ধির
আচরণ বিষয়ে
প্রবন্ধ রয়্যাল
সোসাইটিতে পাঠান।
ঘটনাক্রমে ৩৯
বছর বয়সে
তিনি রয়্যাল
সোসাইটির ফেলো
মনোনীত হন,
সাধারণ একজন
পল্লী চিকিৎসকের
জন্য যা
ছিল বড়
ধরনের সাফল্য।
২০ বছর
বিনা পারিশ্রমিকে
সাধারণ প্র্যাকটিসের
পর তার
দীর্ঘদিনের দুই
বন্ধুর সুপারিশে
১৭৯২ সালে
জেনার সেন্ট
এন্ড্রিউজ ইউনিভার্সিটির
পক্ষ থেকে
এমডি ডিগ্রিতে
ভূষিত হন।
সোহরাব সুমন: কবি
ও লেখক





