অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে তার জীবদ্দশায় একটি কথা প্রচলিত ছিল—সিমলায় গিয়ে মি. জ্যাকবের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা হচ্ছে ভারতে এসে তাজমহল না দেখার মতো। মানুষটি রহস্যময়, জাদুকর, হীরা ব্যবসায়ী ও গুপ্তচর। তিনি দুনিয়ার হীরা কেনাবেচার অন্যতম আলোচিত ঘটনার হোতা। ব্রিটিশ ও রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যে চলা গ্রেট গেমেও তার অংশগ্রহণ ছিল। প্রখ্যাত সাহিত্যিক রুডইয়ার্ড কিপলিংও তার সান্নিধ্যে এসেছিলেন, প্রভাবিত হয়েছিলেন। জ্যাকবকে তিনি অমর করে রেখেছেন তার ক্ল্যাসিক উপন্যাস কিমে। কিপলিং কিম উপন্যাসে তাকে বর্ণনা করেছেন লুর্গান সাহেব নামে, যাকে বলা হয়েছে ‘হিলার অব সিক পার্লস’।
জ্যাকবের উদ্ভব কুয়াশাচ্ছন্ন অতীত থেকে, পরে তিনি হয়েছেন অষ্টাদশ শতকের শেষভাগের দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত এক হীরা ব্যবসায়ী, জাদুকর ও গুপ্তচর।
জ্যাকব ছিলেন কৌশলী ও ধূর্ত ব্যবসায়ী এবং সম্মোহনী ক্ষমতার এক জাদুকর, তিনি তার ক্রেতাকে একটি মাত্র মূল্যবান রত্নের জন্য পুরো সিংহাসন ত্যাগ করতেও রাজি করিয়ে ফেলতে পারতেন!
ঔপনিবেশিক ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত অ্যান্টিক ডিলারে পরিণত হয়েছিলেন জ্যাকব। তার ক্রেতাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের ভাইসরয়, জমিদার, রাজরাজড়া। বলা হয়, জ্যাকব তার কর্মজীবনে অন্তত ৫ কোটি পাউন্ড মূল্যমানের হীরা, অন্যান্য রত্ন, অলংকার ও অ্যান্টিকের কেনাবেচা করেছিলেন। জ্যাকবের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনা ছিল হায়দরাবাদের নিজামের কাছে দুনিয়ার অন্যতম বড় হীরা দি ইম্পেরিয়াল বিক্রি।
এ হীরা জ্যাকব ও হায়দরাবাদের নিজামকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে যায়। বহু বছর চলেছিল এ হীরার মামলা।
দারুণ কৌতূহলোদ্দীপক আর রোমাঞ্চকর ডায়মন্ড জ্যাকবের কাহিনী...






