একটি বাংলা লাইব্রেরির শেলফে পাওয়া অজ্ঞাত রচনা এবং উনিশ শতকের কলাকাতার ‘জনতা’সংক্রান্ত এর আলোকপাত সম্পর্কে জোশুয়া এনরিখের মন্তব্য। অনুবাদ: শওকত হোসেন

ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্যের উত্তরপাড়া জয়কৃষ্ণ লাইব্রেরির তাকে খুবই ব্যতিক্রমী একটি রচনা লুকিয়ে আছে। ১৮৩৩ সালের ক্যালকাটা কোয়ার্টারলি সাময়িকীসংলগ্ন ৬৬ পাতার এই সংকলনটি উপরের প্রতীক এবং ‘কলাকাতা উদাসীন সমিতি’ শিরোনাম বহন করছে। গোটাকতক খণ্ডিত পঙিক্ত এবং ‘নিম্নলিখিত বিষয়ে অনুসন্ধান’ চালানোর ঘোষণা দিয়ে এর শুরু...

প্রথমত, তিন দফা খাবার এবং ডেজার্ট

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত এক দফা খাবার

তৃতীয়ত, কান্ট, টোরি, হুইগ, রেডিক্যাল, চরম বা উদার, চিকিৎসা বা সাহিত্য, সামরিক বা বেসামরিক, জাতীয় কিংবা ব্যক্তি, যা-ই হোক তাদের সব শাখায় কপটতা, ভণ্ডামি এবং অসম্ভাব্যতা। (পৃষ্ঠা ৩)

এর পরের বিবরণ হালকা রসিকতা, অনর্থক সাহিত্যিক কচাকচানি ও শৌখিন দর্শনের মিশেল মাত্র। ‘আমার সুপ্রিয় স্বদেশবাসী এবং আমি,’ দৃশ্যপট সাজাচ্ছেন একজন সদস্য, ‘আমরা শাসক গোত্র কলকাতায় লেখালেখি করছি এবং টেবিল ঘিরে বসে হক অ্যান্ড শ্যাম্পেইন সাবাড় করছি’ (পৃষ্ঠা: ২২)। আরেকজন বিশেষত ‘মদ শীতল করার পদ্ধতি’র কথা উল্লেখ করে বলছেন, ‘কলকাতায় জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরির শিল্পকলা কতদূর অগ্রসর হলো?’ (পৃষ্ঠা: ৩৩) অন্যত্র মদের তালিকা করতে গিয়ে আস্ত একটা পৃষ্ঠা শেষ করা হয়েছে। স্পষ্টই এটা একটা সমিতি, যেখানে হূদয় ক্লান্ত হলে কোট ছুড়ে ফেলে টেবিলে পা তুলে দিতে পারে।’ (পৃষ্ঠা: ৭) ডিনারে কবিতা ও আধিবিদ্যিক বিষয়ের উপাদানের বাক্যে সাজানো সদস্যদের এলোমেলো কথাবার্তা আধুনিক পাঠকরা ছাপার অক্ষরে দেখে অভ্যস্ত নয়। আবার অতীতের পাঠকরাই বা কেন দেখতে চাইবেন, তাও স্পষ্ট নয়।

উনিশ শতকের গোড়ার দিকের কলকাতা ইতিহাসবিদদের নিয়ে বিশেষভাবে আচ্ছন্ন ছিল। প্রাচীন বর্ণনায় এটাই প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের দার্শনিক ঐতিহ্যের উচ্চাভিলাষী সংশ্লেষের প্রয়াস প্রত্যক্ষকারী এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এক ধরনের আগাম (ব্যর্থ হলেও) প্রবণতা তৈরি করা ‘বাংলার রেনেসাঁর’ পটভূমি ছিল। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা কলকাতার বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক বলয়কে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী কিংবা সংস্কারের বৈশ্বিক যুগের বৃহত্তর পটভূমিতে স্থান দিয়েছে। প্রায় আধা মিলিয়ন কসমোপলিটন নাগরিকের আবাস বাংলার রাজধানী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শহর এবং একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। ১৮২০-এর দশক নাগাদ কলকাতা বিভিন্ন সভাস্থল, বিকাশমান সংবাদপত্র ও অগুনতি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন—লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রায় পোয়া শতক আগের বিভিন্ন কলেজিয়েট প্রতিষ্ঠানের কথা বাদ দিলেও—নিয়ে গর্ব করত। বহু সমসাময়িকদের পক্ষে এগুলো ব্রিটেনের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনকে রূপদানে আবির্ভূত ‘জনতার’ সমতুল্য ছিল।&dquote;&dquote;

কিন্তু কলকাতার ‘জনতার’ অবস্থা এর মেট্রোপলিটন প্রতিপক্ষের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে ভিন্ন ছিল। ব্রিটেনে ‘জনমত’ জোরালো মর্যাদা পাওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ ভারতও ভীষণভাবে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু উল্টোভাবে। তখনকার সিংহভাগ সময়জুড়েই সভা-সামাবেশ ও সংবাদপত্রকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধাচরণকারী সম্পাদকরা হয় নিষেধাজ্ঞা কিংবা দেশান্তরের শিকার হয়েছেন। এদিকে কলাকাতার হবু জনতা এর সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তির সময়েও লক্ষণীয়ভাবে বিভক্তি ধরে রাখে। ভারতীয় ও ইউরোপীয় সংস্কারকরা বিশেষ করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মতো বিশেষ কিছু রাজনৈতিক প্রশ্নে একাট্টা হলেও তাদের একই দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের অংশীদার হওয়ার ব্যাপারটা আদৌ স্পষ্ট ছিল না। ইউরোপীয় অংশ প্রধানত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেসামরিক কিংবা সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ছিল। তাদের অল্পজনেরই ভারতে স্থায়ীভাবে বসতি করার ইচ্ছা ছিল। কেউ কেউ স্থানীয় সংস্কৃতি ও সমাজে নিজেদের সংশ্লিষ্ট করলেও একটা বড় অংশ জোরালোভাবে ঘরের আরামদায়ক পরিবেশকে আঁকড়ে থাকে। ১৮১০ থেকে ১৮৩০-এর দশকে দায়িত্বশীল সরকারের দাবি অনুরণিত হতে শুরু করলে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ ও টাকাকড়ি ত্যাগের প্রায়োজন দেখা দিলে শহরের কয়জন ইউরোপীয় বাসিন্দা এর সাথে লেগে থাকবে, সেটা অনিশ্চিত ছিল। রঙের এই বিভাজনের সাথে গোত্র, শ্রেণী আর ধর্মের সাথে সম্পর্কিত অনান্য বিষয়ও জড়িয়ে যেতে পারত। সুতরাং সমসাময়িকদের—ফলে ইতিহাসবিদদেরও—ভেতর ব্রিটিশ আদলে আদৌ কলাকাতায় কোনো জনতার অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে—এবং থেকে থাকলে—দেশীয় সমাজের কতটা অভ্যন্তরে এটি পৌঁছতে পেরেছে, সেটা নিয়ে বিতর্ক ছিল। ভারতের জমিনে ‘জনগণের’ প্রতিষ্ঠান শিকড় ছড়াতে পারবে?&dquote;&dquote;

উপরে শুরুতে উল্লেখ করা কাল্পনিক ‘ভারতীয় উদাসীন সমিতির’ বিবরণে এ ধরনের প্রশ্নের সূচনা লক্ষ করা যেতে পারে। সমিতির নিয়ম মোতাবেক এটি ‘জনতা’ শাখায় ‘কপটতা, ভণ্ডামি এবং অসম্ভাব্যতার’ প্রতি নিবেদিত; ‘একান্ত কপটতা’ এবং ‘একান্ত ভণ্ডামি’ বরাবর নিষিদ্ধ বিষয়। (পৃষ্ঠা ৩) তবু গোটা টেক্সটজুড়ে জনতা ও ব্যক্তি, উন্মুক্ততা এবং বদ্ধতার ধারণা নিয়ে খেলা হয়েছে এবং মিলেমিশে গেছে। ‘পাবলিক ডিনার’ ঘোষণা করেছেন একজন সদস্য, ভুল নামকরণ: এই ধরনের অনুষ্ঠানে, ‘বুদ্ধিমান লোক আগেই খাবার খেয়ে নেন এবং তারপর বক্তব্য রাখেন বা “জনতার” কাছ থেকে নিজের সুবিধা আদায় করেন।’ (পৃষ্ঠা ৩০) সমিতির সংবিধান এ ধরনের বিভাজন তৈরির ক্ষেত্রে অন্য একটি কৌশলও উল্লেখ করেছে। ‘সদস্য সংখ্যা’ বলছে একটি বিধি, ‘যোগদানের আবেদন অথবা সমিতিতে যোগদানের অনুরোধ কিংবা যাদের যোগদানের অনুরোধ জানানো হয়নি বা আবেদন করেননি, তাদের ভেতর কঠোরভাবে সীমিত থাকবে।’ (পৃষ্ঠা: ৪) এভাবে হাস্যকর ব্যাখ্যার সুবাদে গোষ্ঠীটি সবার কাছে উন্মুক্ত ঠেকলেও অন্য একটি নিয়ম বলছে, ‘একটি গোপন কমিটি নিয়োগ করা হবে...অবশিষ্টদের পক্ষে খাবার গ্রহণ, মদ পান ও চিন্তাভাবনার জন্য।’ (পৃষ্ঠা: ৪) একজন সদস্য যেমন বলেছেন, ‘সম্ভবত জনতা নিজেই খাবার গ্রহণ, মদ পান এবং চিন্তা করতে চাইতে পারে—কিন্তু সেটা কখনই হবে না...আমাদের অবশ্যই কাকে কাকে আমাদের দলে যোগ দেয়ার অনুমতি দেয়া হবে, সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট হতে হবে, নইলে বেশি দিন আর যোগদানের উপযুক্ত থাকবে না।’ (পৃষ্ঠা: ৭) সমিতির গোত্রীয় ধরনের গঠন ও আচার-আচরণ এবং বিশেষ করে প্রতীকে এ ধরনের বিচ্ছিন্নতা আরো শক্তিশালী হয়েছে, প্রতীকের ‘রহস্যময় অর্থ’ কেবল কমিটির সদস্যরাই জানতে পারবেন: যেহরি দে রোহান, গ্লেনগিয়েল, উইলফ্রেড, লিঙ্কন, বার্কলি ও ক্যান্ডিডে।’ (পৃষ্ঠা: ৪)&dquote;&dquote;

রচনার উত্তরপাড়া লাইব্রেরির কপির বিভিন্ন টীকাটিপ্পনী উচ্চতর সমাজকে ঘিরে থাকা কুয়াশার খানিকটা দূর করছে। কমিটির গোপন সদস্যদের মুুদ্রিত নামের পাশেই কেউ একজন কলকাতার ইউরোপীয় সমাজের প্রধান ব্যক্তিত্বদের নাম লিখে রেখেছেন। যেমন ধরা যাক, ‘উইলফ্রেড’কে ক্যালকাটা উইকলিসহ বিভিন্ন প্রকাশনার লেখক ও সম্পাদক ডেভিড লেস্টার রিচার্ডসন হিসেবে শনাক্ত করা হযেছে। এছাড়া আইনজীবী থিওডোর মেরেডিথ পার্কারকেও শনাক্ত করা হয়েছে। এই শনাক্তকরণ সঠিক ধরে নিলে এরা ছিলেন সম্মানিত ‘জনতা’, সৌন্দর্যপিপাসু হিসেবে যাদের বর্ণনা ‘উদাসীন’ রচনাকে এক ধরনের বিস্তৃত কৌতুকের চরিত্র জুগিয়েছে। অবশ্য কৌতুক নকশায় স্থান পেতে বাস্তব জীবনের সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো সম্পর্কে মোটামুটি অন্তরঙ্গ ধারণা থাকা দরকার ছিল। আপাতদৃষ্টিতে এত কম শ্রোতাবিশিষ্ট কোনো রচনার মুদ্রিত হওয়ার বিষয়টা কলকাতার হবু ‘জনতার’ ক্ষুদ্র আকারেরই আভাস দেয়। (পৃষ্ঠা: ৫৪) অন্যত্র, পার্কারের প্রতিনিধি ‘এ গোষ্ঠীটি পর্যাপ্তভাবে প্রকাশনার সব ধরনের প্রয়োজনীয়তাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিস্তৃত’ (পৃষ্ঠা: ৩৪) হওয়ার কারণে পত্রিকায় প্রকাশের উদ্দেশ্যে রচিত একটা লেখা আবৃত্তি করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কলকাতার সংস্কারকরা পত্রিকাকে বৃহত্তর বিশ্বের সাথে সংযোগের উপায় হিসেবে চিন্তা করে থাকলেও এ মাধ্যমটির বিস্তার বরং তার বদলে খোদ ইউরোপীয় অভিজাত গোষ্ঠীর প্রতিই মনোযোগ স্থির করেছিল বলে মনে হয়। ‘পুরুষদের মন অধিকার করে রাখা সাধারণ জনস্বার্থের অল্প কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’সহ তারা পরিচিতজনদের নিয়ে গল্পগুজব করত বা দেশের স্মৃতিচারণ করত। (পৃষ্ঠা: ৫৪)&dquote;&dquote;

এদিকে, রচনার সামান্য অংশই ভারত অথবা ভারতসংশ্লিষ্ট হওয়ার ব্যাপারটা চোখে পড়ার মতো। কলকাতা স্কুল সোসাইটি অথবা কৃষি ও উদ্ভিদবিদ্যা সোসাইটির মতো বেশির ভাগ গোষ্ঠীই বাঙালি অভিজাত গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এমনকি ইংরেজিভাষী পত্রিকাও ‘স্থানীয়’ লেখকদের লেখা প্রকাশ করেছে। ক্যালকাটা কোয়ার্টারলিতে টীকার পর উল্লেখিত ‘সূচনামূলক মন্তব্যে’ “এই অল্প ক’বছরেই ভারতের স্থানীয়দের জ্ঞানবিজ্ঞানে অর্জিত দ্রুত অগ্রগতি” এবং একটি প্রকাশনার অঙ্গীকার হিসেবে ‘এই দেশের লক্ষ লক্ষ প্রজার অবস্থার উন্নতি সাধনের’ কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু ‘লক্ষ লক্ষ প্রজা’ সম্পর্কে উদাসীনদের ভেতর সামান্যই আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ ট্রান্সপ্লান্টদের বিচ্ছিন্নতা, পরিবেশ থেকে তাদের স্থানচ্যুতিকে প্রহসনের অংশ বলেই মনে হয়। (ভলতেয়ারের একটি প্রধান রচনা ও টমাস মুরের একটি ছোট রচনা থেকে নেয়া ‘উদাসীন’ এর অর্থ ‘পরোয়া না করা’)। সোসাইটির ডিনারের মেনুতে এমনকি স্থানীয় উপকরণের নামও ফরাসি ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে। সদস্যরা বলতে গেলে বিশেষভাবে পাশ্চাত্য রাজনীতি, দর্শন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিরল ক্ষেত্রে দৃশ্যপটে পুবের আবির্ভাব ঘটলেও সেটা তির্যক ও উদ্ভট ঢঙে, যেমন সোসাইটির সভাস্থলের সাজসজ্জা: ‘সাদা সিল্কের তুর্কি তাঁবু...ফিকে নীল ও সোনালি রঙের অটোমান...প্রচুর পিঙ্গল মখমল পর্দা।’ (পৃষ্ঠা: ৫)

এটা পরিহাসের ব্যাপার যে ভারতীয় পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলার মতো এত সামান্য বিষয় থাকা সত্ত্বেও তাদের জন্য খোলা একেবারে প্রথম লাইব্রেরিটিতে এটি সংরক্ষিত হয়েছে। কলকাতার সামান্য উজানে উত্তরপাড়া লাইব্রেরিটি ১৮৫৯ সালে ধনী সংস্কারক জয়কৃষ্ণ মুখার্জি প্রতিষ্ঠা করেন। এর সূচনার দিকে এই ‘উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানটি’তে বাংলা ও সংস্কৃতের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার কয়েক হাজার রচনা ছিল। উপরের তলায় বিভিন্ন সভা, ভাষণ ও অন্যান্য টাউন হল অনুষ্ঠানের জন্য কামরা আর সম্প্রদায়ের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য ‘বাছাই করা ফল ও ফুলের একটা বাগান...।’ জ্ঞানের বিপুল বিস্তারের লক্ষ্যে লাইব্রেরিটি আশপাশ এলাকায় বই বিলি করেছে এবং অগ্রসর পাঠ-পরীক্ষায় উতরে যাওয়া যে কারো জন্য স্বর্ণ পদকের ব্যবস্থা করেছে। উদাসীন সমিতির ইতিহাসে পাওয়া ভারতীয় জনগণের আরো বিস্তৃত, আরো প্রশান্ত ছবি ধারণ করছে এটা। ইতিহাসবিদরা সাধারণভাবে ১৮৩০-এর দশকের গোড়ার দিকের সময়কে স্বর্ণকাল হিসেবে দেখে এসেছেন, কলকাতার গোড়ার দিকের সংস্কৃত ‘জনতার’ কথা নেই বলা হলো। তবু এখানে পর্যালোচিত রচনার মতো লেখাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এই ‘জনতা’র সমস্ত অনুপ্রেরণা নিয়ে কত ক্ষুদ্র্র ছিল। শতকের পরবর্তী সময়ে কল্পিত ভারতীয় জনতা জনপ্রিয়, জাতীয়তাবাদী ভিত্তির ওপর নির্মিত হয়েছে, মুষ্টিমেয় বিচ্ছিন্ন ব্রিটিশ ট্রান্সপ্লান্ট হিসেবে সারাংশায়িত যোগ্যদের চেয়ে প্রকৃত পক্ষেই বহুদূরে অবস্থান করেছে।&dquote;&dquote;

প্রাক-আধুনিকতা গঠনের ভঙ্গুরতা ও পচন ‘উদাসীন’ টেক্সটের ভেতরও প্রবাহিত হয়েছে এবং শেষ পাতাগুলোয় সমিতির ওপর লাগাতার বিপর্যয় এসে পড়েছে । প্রথমত, বেশ কয়েকজন সদস্য ডিনারে খাওয়া মাশরুমের কারণে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর পার্কার চরিত্র পর্যবেক্ষণ করছে, ‘আমার চোখ নাকি আমাদের মাথার উপরের মোমদানিগুলো আমার সাথে প্রতারণা করছে, আধটন ওজন নিদ্রালু হাওয়ায় এপাশ-ওপাশ দোল খেয়ে চলেছে, যেন শক্তিশালী কিন্তু অদৃশ্য কোনো হাত ওটাকে চালাচ্ছে?’ (পৃষ্ঠা: ৫৮) রিচার্ডসনের চরিত্রটির চূড়ান্ত ভূমিকম্প সবকিছু ধ্বংস করে দেয়ার আগে ‘প্রো বোনো পাবলিকো’ নামে একটা সনেট লেখার মতো সময়ই পেয়েছে। (পৃষ্ঠা: ৬০)