আমার বন্ধু কালাম একজন স্থপতি। আর্কিটেক্ট হিসেবে খুব নামডাক তার। চাকরির পাশাপাশি নিজের একটা ফার্ম আছে। দিনে দিনে ফুলেফেঁপে উঠতে থাকে তার বিজনেস। ফার্মগেট থেকে গুলশানে স্থানান্তর করে অফিস আর বাসা। এবার তার নিজের বাড়ি। যুদ্ধের আগে তিনি শুধু চাকরি করতেন। সরকারি স্থপতি, ঢাকার বুকে বাড়ি বানাতে চাইলে তার নকশাতেই বাড়ি হতো। স্বাধীনতার পর তিনি ব্যবসা শুরু করলেন বন্ধুর সঙ্গে। তার ফার্মের নাম হয় ‘কালাম অ্যান্ড মহিদ বিল্ডার্স’। মহিদ আমাদের আরেক বন্ধু। মহিদ তার নানার অঢেল সম্পত্তি পেয়েছে। জমি মহিদের আর নকশা কালামের। কেঅ্যান্ডএম নামের বিল্ডিংগুলোর ভীষণ চাহিদা। আকাশচুম্বী এ ভবনগুলো নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই বিক্রি হয়ে যেত। এমন চমত্কার সব ডিজাইনের ফ্ল্যাট বানায় কালাম যে, ক্রেতারা অন্য কোম্পানির ফ্ল্যাট কেনার কথা চিন্তা করে না।

‘অরুণোদয়’ ঢাকার একভাবে চেনা বসতি। ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী মানুষের স্বপ্নের আবাসস্থল কালামদের এ অরুণোদয়। গুলশানের অফিস কাম বাসায় থেকেও কালামের ইচ্ছা ছিল স্ত্রী নন্দিনীর মনের মতো আরেকটা ডুপ্লেক্স বাড়ি বানানো। সেই বাড়ি তৈরি হলো অরুণোদয়ের একদম ঈশান কোণে। কালাম এখন নতুন বাড়িতেই থাকে।

ম্যাট্রিক পাসের পর থেকে কালাম আর মহিদের সাথে আমার যোগাযোগ নেই বললেই চলে। ওরা দুজনই চার-পাঁচটা লেটার নিয়ে পাস করেছিল। এরপর ওরা ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়। আর আমি সেকেন্ড ডিভিশনে পাস করার পর আর্থিক প্রয়োজনে মিটফোর্ড হাসপাতালে লিভ রিজার্ভিস্টের চাকরি পাই আমার এক ফুপার সুপারিশে। তারপর জয়েন করি ফুড অফিসের কেরানির পদে। ১০টা-৫টা অফিস করি। সকালবেলা চারটা মুখে গুঁজে অফিস যাই। একটা বই আকারের টিফিন বক্সে মরিয়ম পরোটা আর আলু ভাজি দেয়। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে বারান্দায় বসি। মেয়ে হালিমার হাত দিয়ে এক কাপ চা পাঠায় মরিয়ম, সেই সাথে নোটিসও আসে।

আব্বু, মা বলেছে চাল একদম শেষ। চাল কিনতে হবে আজই।

ফুড অফিসের কেরানির বাড়িতে চাল শেষ হয় ঘন ঘনই। স্ত্রীর হাতে লাগানো শিম গাছে অজস্র শিম ধরেছে। মসুরি তাহলে এখনো আছে।

অভাবের জন্যই একদিন খুঁজে বের করতে হয় কালামকে। সে তো আমার স্কুলের বন্ধু। বাল্যবন্ধু বিপদের সময় খুবই ভরসাস্থল। প্রথম প্রথম আমাকে মুখ ফুটে বলতে হয়েছিল, কালাম! আমাকে ৫০০ টাকা দিবি ভাই? আগামী মাসে মাইনে পেলেই শোধ করে দেব। কালাম আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলত, এই টাকা তোকে শোধ করতে হবে না। আর তুই এবার ফুড অফিসের চাকরিটা ছেড়ে দে। আমার অফিসে চলে আয়। তুই তো নাইট কলেজ থেকে বিকম পাস করেছিস। তোর মতো বিশ্বস্ত লোক দরকার আমার। দুই বন্ধু এক সাথে কাজ করলে অনেক ভালো লাগবে। কাজের চাপে হাসতে ভুলে গেছি হীরু। এখন থেকে দুজন জমিয়ে আড্ডা দেব। শালা মহিদটা হুট করে মরে আমাদের হাসিটা কেড়ে নিয়েছে। তুই কাছে থাকলে আবার আগের মতো হাসতে পারব।

কেঅ্যান্ডএম কোম্পানির চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আছে। আছে দক্ষ উচ্চডিগ্রিধারী অনেক কর্মকর্তাও। তা সত্ত্বেও আমাকে কেন কালামের দরকার, তা বোঝা গেল কিছুটা। সেই কিশোর বয়সে আমরা যেমন গলা ফাটিয়ে হইচই করতাম, অমনি করে বিশিষ্ট শিল্পপতি নামকরা স্থপতি কালাম চৌধুরী আবার আনন্দ করতে চান। সঙ্গে ছোটবেলার জানে জিগার দোস্ত হীরুকেও চান।

বন্ধুর অফিসে জয়েন করে বেশ সচ্ছল হয়ে ওঠে আমার সংসার। হালিমা এখন ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ে। কিন্তু নতুন দুশ্চিন্তা ভর করেছে মাথায়। হালিমা প্রায়ই বেশ রাত করে বাড়ি ফেরে। এক ছোকরা তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যায়। মরিয়ম খুব চিন্তিত মেয়ের চালচলনে। দুজনই সিদ্ধান্ত নিই, দ্রুতই মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। অফিসে লোনের জন্য আবেদন করি। ভালো ঘর-বর পেতে হলে অবশ্যই মোটা অংকের প্রয়োজন।

মহিদ মারা গেছে বেশ কয়েক বছর আগেই। ওর ছেলেরা এখন যথেষ্ট বড় হয়েছে। বিল্ডার্স কোম্পানিতে তারা আর থাকতে চায় না। কেঅ্যান্ডএম কোম্পানি এখন ভাঙনের মুখে। প্রপার্টির ন্যায্য ভাগ চায় মহিদের ছেলেরা। প্রাণের বন্ধু মহিদ, যাদের মনে হতো এক দেহ দুই প্রাণ, সেই বন্ধুর ছেলেরা এখন সম্পত্তির জন্য উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছে কালামের সাথে। অনেক ক্ষোভ-রাগ তাদের মধ্যে। তারা বলতে চাইছে, তাদের বাবাকে সাদাসিধে পেয়ে ঠকিয়েছে কালাম। যদি ন্যায্য পাওনা বুঝে না পায়, তাহলে তারা মামলা করার জন্য প্রস্তুত। এ বিরোধে শুধু বিখ্যাত এ প্রতিষ্ঠান নয়, ভেঙে গেল কালামের হূদয়টাও। কালামের জন্য আরো বিপদ অপেক্ষা করছিল। অংশীদারদের সাথে বিরোধ যখন চরমে, তখন আমাদের প্রিয় নন্দিনী ভাবি কালামের চাচাতো ভাইয়ের সাথে পালিয়ে যান। সদ্য চাকরি পাওয়া এ দেবরের সাথে বেশ কিছুদিন থেকেই সখ্য গড়ে উঠেছিল নন্দিনী ভাবির। কালামের একমাত্র সন্তান আবু নাসিম মায়ের ব্যাপারটা টের পেয়েছিল অনেক আগেই। তাই মায়ের চলে যাওয়ায় অবাক হয়নি। কিন্তু সারাক্ষণ কর্মব্যস্ত কালামের এটা বুঝতে ও মেনে নিতে খুব বেগ পেতে হয়। সে ভেবে পায় না, কিসের অভাব ছিল নন্দিনীর? এত প্রাচুর্য, এত সুখ-সুবিধা! কোথাও কোনো ঘাটতি তো ছিল না। কালামের ব্যবহারে পাগলামো ছিল হয়তো, কিন্তু কখনো তো মনে হয়নি, নন্দিনী তার সাথে অসুখী। দামি বাড়ি-গাড়ি। সোনা আর ডায়মন্ডে মুড়ে দিয়েছিল নন্দিনীকে। এত এত সুখ ছেড়ে সদ্য চাকরি পাওয়া এক ছোকরার সাথে কীভাবে জীবন যাপন করবে নন্দিনী। কালাম বিগত কয়েক বছরের ফ্ল্যাশব্যাক করে। নন্দিনী প্রচুর সিনেমা দেখত। উত্তম-সুচিত্রার হারানো সুরের সেই গানটা মাঝে মাঝেই গুন গুন করে গাইত। কানে কানে শুধু একবার বলো, তুমি যে আমার!

মাঝে মাঝেই অফিস থেকে ফিরে দেখত, চাচাতো ভাই ইরশাদ আর নন্দিনী সিনেমা দেখছে। কালামের মনে এটা নিয়ে কখনো কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয়নি। ইরশাদ তাকে এত অপমান করবে কখনো ভাবেনি। সবচেয়ে বড় কথা, নন্দিনীকে সে খুব ভালোবাসত। শ্রদ্ধা করত তার ব্যক্তিত্বকে। এতটা বিশ্বাসঘাতকতা কীভাবে নন্দিনী করল। অথচ ছেলে আবু নাসিম নির্বিকার। একটি কথাও উচ্চারণ করে না মাকে নিয়ে। কালাম অফিসে যাওয়ার সময় আয়নার সামনে টাই বাঁধতে বাঁধতে খেয়াল করে, বেশ বুড়িয়ে গেছে সে। বহুদিন সে নিজের দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারেনি।

একদিন অফিসে এসেই কালাম উপস্থিত হয় আমার রুমে। হীরু! একটু আমার রুমে আসবি? কথা ছিল জরুরি।

কালাম সাধারণত ফোন করেই আমাকে ডাকে। আজ নিশ্চয়ই জরুরি কিছু। মুখোমুখি বসি আমরা। হঠাৎ কালাম ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে। আমি বিব্রত হয়ে পড়ি। আমি ইচ্ছে করেই যেন এড়িয়ে চলতাম কালামকে। কারণ এত বিপদে তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই।

তবু বললাম, কালাম! কী হয়েছে? কাঁদছিস কেন?

কালাম আমার হাত দুটি জড়িয়ে ধরে বলল, তোর কাছে একটা জিনিস চাইব, দিবি?

কেঅ্যান্ডএম কোম্পানির বদান্যতায় হীরু ওরফে হায়দর আমীন, ডিরেক্টর অব অ্যাকাউন্টস। তার বস তার কাছে কিছু চাইছে মিনতি করে। না দেয়ার প্রশ্নই আসে না।

কালাম তোর জন্য আমার জান হাজির। বল, আমার কাছে এমন কী আছে, যা তুই এভাবে চাইছিস। আমি কী দেব ভেবে তো পাচ্ছি না।

হীরু! বাড়িটা আমার বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগছে রে। তোর মেয়ে হালিমাকে আমার ছেলে আবু নাসিমের বউ করে আনতে চাই। শূন্য বাড়িটা আবার ভরে উঠবে। হালিমাকে আমাকে দিবি না ভাই? তুই তো দেখেছিস, ও কেমন অন্যমনস্ক হয়ে গেছে। বিদেশ চলে যাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ভার্সিটির পড়া শেষ না হতেই। ছেলেটা একটু ঘরমুখো হোক। আমার এ ব্যবসা কে দেখবে সে চলে গেলে।

আমি বাড়ি গিয়ে প্রথমে দুই রাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করলাম। আমার মেয়ে হালিমা কেঅ্যান্ডএম বিল্ডার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের একমাত্র পুত্রবধূ হবে! আমার এত সৌভাগ্য আমি কী দিয়ে বরণ করি বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিন্তু এ যে কত বড় বিপদ ডেকে আনবে বুঝিনি। হালিমা কিছুতেই আবু নাসিমকে বিয়ে করতে রাজি নয়। কারণ আবু নাসিম নেশাগ্রস্ত। আর চারুকলার রুমার সাথে যে তার প্রেম ছিল, সেটাও ক্যাম্পাসে সবাই জানে। হালিমা এক কথায়ই এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। কিছুতেই তাকে রাজি করানো সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে এক বিকালে কালামকে জানাই মেয়ের মতামত। কালাম উত্তরে কিছু বলে না। হয়তো আশা করেনি, এমন কিছু শুনতে হবে।

আমি জোরগলায় বন্ধুকে আশা দিই। হালিমার কথা শোনা যাবে না কালাম। আমরা যা চাই তা-ই হবে। মরিয়ম ওকে বোঝাচ্ছে। তুমি কিছু ভেবো না। মেয়েরা এমন একটু-আধটু অমত করেই থাকে বিয়েতে।

কালাম আমার হাত ধরে বলে, না। জোর করিস না ভাই। মেয়ের মত নেই, এটা স্পষ্ট। এ বিয়ে হবে না।

ওদিকে মরিয়ম নামাজ শেষে হাত তুলে মোনাজাত করে, আল্লাহ তুমি তো ক্বলবের মালিক। তুমি হালিমার মনকে আবু নাসিমের জন্য নরম করে দাও। তুমি তো সবই পারো।

মামলা-মোকদ্দমার পর কেঅ্যান্ডএম কোম্পানি ভেঙেই গেল। একটা কোম্পানির নাম হলো কালাম কনস্ট্রাকশনস আর আরেকটা মহিদ অ্যান্ড সন্স। গুলশানের অফিসটা মহিদ অ্যান্ড সন্স পেল। কালামকে সরে যেতে হলো উত্তরার ছোট দুই কামরার একটা অফিসে। অফিসের সেই জৌলুস নেই। ব্যবসায় বড় ধস নামে। ফ্ল্যাট বিক্রি কমার পাশাপাশি আর্কিটেক্ট হিসেবেও কালামের চাহিদা কমে গেল। কেউ তেমন আর আসে না।

এদিকে কালামের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার পোশাক-পরিচ্ছদ আর আচরণে খুব পরিবর্তন এসেছে। কেতাদুরস্ত স্যুট পরা কালাম এখন পাজামা-পাঞ্জাবি ধরেছে। মাথায় সারাক্ষণ টুপি। মুখভর্তি সাদা-কালো দাড়ি। যেন হাজিপুর বেগুনিয়ার পীর সাহেব। ইদানীং সেই পীর সাহেবের দরবারেও যাতায়াত শুরু করেছে কালাম। শুনেছি, এখনো বাইয়াত নেয়নি। তবে দারসে বসে মাঝে মাঝেই। হুজুরের মতো বলতেও চেষ্টা করে, দমে দমে হরদম আল্লাহকে স্মরণ করো তবেই শান্তি। তবেই মিলবে মুক্তি।

আর সব আর্কিটেক্টের মতোই কালামও তার নকশায় প্রাধান্য দিত জীবন্ত মানুষের সুখ-সুবিধার। খুব অল্প জায়গার মধ্যেই সব রকম সুবিধা রাখার চেষ্টা করত। খেলার মাঠ কমে গেছে বলে ছোটখাটো করে একটু খেলার জায়গা রাখত; দোলনাসহ ছোট একচিলতে জায়গা শিশুদের খেলাধুলোর জন্য। সেই কালামের ডিজাইনে এখন প্রাধান্য পাচ্ছে মৃতরা। এ শহরে মানুষের কবর দেয়ার জায়গা নেই। তাই কালামের অদ্ভুত চিন্তা জাগে।

কালাম বলে, এ যানজটের শহরের অবস্থা দেখো। ২ মিনিটের রাস্তা পার হতে ২ ঘণ্টা লাগে। মানুষের সপ্তাহের যেদিনই মরুক, তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে মর্গে ছুটির দিনের জন্য। টাকা খরচ করে হিমাগারে ফেলে রাখছে আত্মীয়রা। তাই কালামের নকশায় হাই রাইজ বিল্ডিংয়ের সর্বনিম্নের তালায় থাকছে মৃতদের থাকার সুব্যবস্থা। তার ওপরে গ্যারেজ। আর যদি কেউ এক বা দোতলা বাড়ির ডিজাইন করে তো বাড়ির এক পাশে কবরস্থান। মিস্টার ও মিসেস দুজনই যেন মৃত্যুর পরও পাশাপাশি থাকতে পারেন, তাই দুজনেরই কবরের স্থান থাকে নকশায়।

ডিজাইন করাতে এসে মানুষ ভয় পায়। সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য তারা টাকা খরচ করতে রাজি, কিন্তু মরার জন্য ভাবতে নারাজ। অথচ কালাম এ নতুন আইডিয়ায় খুব খুশি। কবর নিয়ে যে কি ঝামেলা হয় এ শহরে! ভাবে, সবাই তার মতোই খুশি হবে এ আইডিয়ায়। অথচ এ সুন্দর পরিকল্পনার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে একটা ক্রেতাও আসে না। মানুষ তার শেষ পরিণতি এত প্রত্যক্ষভাবে অগ্রিম দেখতে চায় না। কালামের বানানো সর্বশেষ নয়তলা ‘ইল্লিয়ুন’ ভবনের একতলায় আমি থাকি। আর দোতলায় কালাম। বাকি সব ফ্ল্যাট ফাঁকা। আকর্ষণীয় ছাড় দেয়ার কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পরও কেউ আসে না।

ঈদুল আজহার দিন ভোরে জাতীয় ঈদগাহে যাওয়ার জন্য ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বলে কালাম। ড্রাইভার যখন গাড়ি বের করছে, তখন কালাম নেমে আসে। খারাপ লাগায় বসে পড়ে কেয়ারটেকারের চেয়ারে। তবে সেই শেষ বসা। ঈদগাহে আর যাওয়া হয়নি কালামের। ড্রাইভার এসে দেখে, মেঝেতে পড়ে আছে কালাম। ইল্লিয়ুন ভবনে কালামের বানানো কবরস্থান কালামকে দিয়েই উদ্বোধন করা হয়। নিজের ডিজাইনের কবরেই অন্তিম শয়ানে আমার বন্ধু কালাম।