কথার সাথে বাদলের দেখা হবে আজ প্রায় ছয় বছর পর। সেই উপলক্ষে বাদল অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে একটু বেশি পরিপাটি হয়ে ঘর থেকে বের হয়েছে। দেখা হবে সন্ধ্যার পর। দুজনেরই অফিস শেষে স্টেডিয়ামের ওইদিকটায় যেকোনো একটা রেস্টুরেন্টে বসার কথা আগে থেকেই ফেসবুকে হয়ে আছে। ভাগ্যিস ফেসবুক ছিল। না হয় কে কাকে এই ব্যস্ত নাগরিক দিনে খুঁজে পায় বা আগ বাড়িয়ে খুঁজে নেয়। তার পরও বাদল পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হলেই ইনিয়ে বিনিয়ে কথার খোঁজ নিত। কেউ কোনো ঠিকঠাক খবর দিতে পারত না। অফিসের কাজের ফাঁকে একদিন ফেসবুক ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ চোখে পড়ল ‘পিপল ইউ মে নো’ নামে একটা অপশন। সেখানে কয়েকটা ক্লিক করতেই একটা পরিচিত নাম চোখে পড়ায় মাউস পয়েন্টার থেমে গেল। সাথে আটকে গেল চোখ। জিনিয়া জাহান কথা। একটু ভেতরে ঢুকে প্রোফাইল চেক করে দেখল, তেমন কিছু লেখা নেই ডিটেইলে। কেবল লিভ ইন চিটাগং, আর পড়াশোনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, এটুকু তথ্য। প্রোফাইল পিকচারে একটা নীল রঙের প্রজাপতির ছবি। কিছুটা দোনামনা করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে রাখল। সে ভাবল, কত কিছুই তো হয়, হোক না একটা ‘যদি লাইগা যায়’।
এর মধ্যে কাজের ফাঁকে অফিসে বাদল মাঝে মধ্যেই চেক করে নেয় তার রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট হয়েছে কিনা। দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করার পরে একদিন তার আশা পূরণ হলো। সাথে মেসেজ ইনবক্সে একটা ছোট কথা— হাই, কেমন আছিস?
বাদল উত্তর করল, ভালো আছি, তুই কেমন আছিস? তোকে আমি প্রায় পাগলের মতো খুঁজেছি। এখন কোথায় আছিস বল?
সঙ্গে সঙ্গে কোনো উত্তর পেল না। কথা যে এখন অনলাইনে নেই। আর থাকলেও ফেসবুকে এ মুহূর্তে অ্যাক্টিভ নেই। বাদল অস্থির হয়ে থাকে, কখন উত্তর পাবে। সে তার এ অফিস-বাসা-অফিস করা নিরানন্দ জীবনে অনেক দিন পর হয়তো আবার ভালো লাগা খুঁজে পাবে।
কথা আর বাদল একই সাবজেক্টে পড়ত, একই ইয়ারে। ক্যাম্পাসে একে অন্যের সঙ্গে প্রায় আঠার মতোই লেগে থাকত। খুব ঘনিষ্ঠজন ছাড়া বাইরের সবাই মনে করত, এদের মধ্যে প্রেম আছে। ক্যাম্পাসে এগুলা হরহামেশাই হয়। কিন্তু বস্তুত এরা খুব ভালো বন্ধু ছিল। সেই সময়টা কথার সঙ্গে নাবিল নামে এক বড় ভাইয়ের প্রেম ছিল। নাবিলকে বেশ কয়েকবার বাদল দেখেছে। দু-তিনবার নিজেই কথাকে নাবিলের সঙ্গে এক ট্যাক্সিতে তুলে দিয়ে অনর্থক মন খারাপও করেছে। কিন্তু সে নিজেও জানত না যে, তার গোপন মনে কথার প্রতি একটা প্রেম গোপনেই ছিল। ক্লাসের অন্য মেয়েরা কথাকে ঠিক হিংসা করত কি দেখতে পারত না, সেটা বোঝাটা একটু কঠিন। তার চলাবলায় একটা চড়ুই পাখির মতো উচ্ছলতা আর উদ্দামতা ছিল। ববকাট চুলে তাকে আরো উচ্ছল লাগত, যখন সে অন্য মেয়েদের মতো রপ্ত করা হাঁটাচলা না করে নিজস্ব একটা ঢঙে হাঁটত। লজ্জা-শরমের মাত্রা বাঙালি নারীদের যে মাত্রায় থাকা দরকার, লোক দেখানোর খাতিরে সেটুকুই ছিল। একবার তো বাদল অবাক হয়ে গেছে একটা ঘটনায়। সেদিনও বাদল কথাকে তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে এক গাড়িতে তুলে দিয়ে এসেছিল। ক্যম্পাসে ক্লাসের সময় শেষ হলেই কথা কোত্থেকে যেন জাহির হয়। বাদল ও কথার বাসা কাছাকাছি থাকার কারণে একসঙ্গে তারা প্রায়ই রিকশায় করে ফিরত। সেদিন কথার ফাঁকে ফাঁকে দুজনই নানা কথা বলছিল। কথা একটা চোখ টিপে বাদলকে অবাক করে দিয়ে বলল, জানিস, আজ আমার বয়ফ্রেন্ড আমাকে কিস করেছে! বলেই সে নিজে লজ্জা পেল এবং সেদিন বাদল আর কথা বলতে পারল না। কেবল তাকিয়ে ছিল ফাল্গুন মাসের বসন্ত বাতাসে কথার উড়ু উড়ু ববকাট চুলের দিকে।
এমএ পরীক্ষা চলছিল সে সময়টায়। বাদল ভেবেছিল, পড়ার চাপে হয়তো কথার মনমেজাজ স্বাভাবিক নেই। তাকে দেখতে খুব অস্থির লাগত। একদিন বাড়ি ফেরার পথে কথাকে জিজ্ঞেস করেই ফেলল, আচ্ছা তোর কী হয়েছে রে? এত মন মরা কেন? কথা প্রথমে বলল, না কিচ্ছু না। এমনিতেই ভালো লাগছে না। তাহলে কি পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে? না রে সেটা হচ্ছে কিন্তু সেটাই কারণ না। কিছুক্ষণ পর কথার চোখের দিকে চেয়ে দেখল, সেটা ভেঙে জল গড়িয়ে পড়ছে। মেয়েটার জন্য তার বুকে একটা গভীর মায়া তো সেই অনেক দিন ধরেই আছে। কিন্তু আজ সেটা নতুন একটা মাত্রা পেল। কথার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে গেলে সে আপত্তি জানাল না। কথার গলা ভারী করে কান্না এল। সে কাঁদতে কাঁদতেই বলল, জানিস, নাবিলের বিয়ে হয়ে গেছে গত শুক্রবার। এই বলেই কান্নার শব্দ আরো বেড়ে গেল। রিকশাচালক ঘাড় ঘুরিয়ে একবার যেন সহমর্মিতা জানাল। বাদলের ভীষণ রাগ হলো। নিজের এত কাছের বন্ধুর জন্য কিছুই করার নেই ভেবে আরো মন ভারী হয়ে গেল তার। কান্নার একটা সময় কথা বাদলের কাঁধে মাথা রেখেছিল একটিবারের জন্য। রিকশাচালক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকানোর কারণে সে আবার মাথা সরিয়েও নিয়েছিল। কে জানে কী ছিল তার মনে। বাদলের মনে এ ব্যাপারটা গেঁথে গেল। পরীক্ষার মাঝেও সে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবল কয়েকবার, কিন্তু সে ভাবনা পাকাপাকি কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারল না। একে তার অস্থির মন, আবার পড়ার চাপ।
পরীক্ষা শেষে বহুবার মোবাইল ফোনে কথাকে কল দিল। কিন্তু তার নম্বর বন্ধ। অন্য বন্ধুদের কথার ব্যাপারে সে আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করতেও সংকোচ করে। পাছে আবার কে কী মনে করে। কিন্তু একদিন সাহস করে সে আরো বড় একটা ব্যাপার ঘটিয়ে দিল। কথাদের বাসা সে চিনত। একবার গেছেও সে সেই বাসায়। তার বড় ভাই নাটক করত একটা দলে। সে নাটকের টিকিট আনতে কথাদের বাসায় সেই বাদলের প্রথম ও শেষবার যাওয়া। নাটক দেখতে দেখতে কথার হাত মনের অজান্তে সেবার হলঘরে কয়েকবার ধরে ফেলেছিল বাদল। সেদিন তার প্রথম মনে হয়েছিল, এ মেয়েটা কি শুধুই তার বন্ধু, নাকি আরেকটু বেশি কিছু। সেবার বাসায় নক করার পর ভেতর থেকে বড় গোঁফওয়ালা এক মধ্যবয়সী এসে বলল, কাকে চাই? জি এটা কথাদের বাসা না? না, এটা পারুলদের বাসা। বলেই দরজা প্রায় লাগিয়েই দিচ্ছিল। বাদল সংকোচে কী বলবে ভাবতে ভাবতে যখন সিঁড়ি দিয়ে নামতে যাবে, তখন সেই লোক বলল, গত মাসে আমরা নতুন এসেছি। আগের তারা কোথায় আছে, বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞেস করুন। বাড়ির মালিককে আর জিজ্ঞেস করা হলো না। কথার সঙ্গে আর দেখা হলো না বাদলের।
আজ আবার দেখা হবে। বাদল তাই খুব খুশিতেই আছে। সে এখনো বিয়ে করেনি। দু-চারটা পাত্রি তার মা আর বোনেরা মিলে এরই মধ্যে দেখেছে। কিন্তু বাদলের এদের কাউকে ভালো লাগেনি। এখন এই এতদিন পর কথার সঙ্গে আবার দেখা হবে ভেবে তার মন পুলকিত। সে তো ফেসবুকে কথাকে জিজ্ঞেস করেছে, তার হাজব্যান্ড কী করে। কথা বলেছে, তার হাজব্যান্ড নেই। তার মানে কথার বিয়ে হয়নি এখনো। এটাই তার মন বেশি ভালো থাকার কারণ। সে ঠিক করেছে মনে মনে, আগে কথার সঙ্গে দেখা হোক। তাকে এবার সে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। কথা রাজি থাকলে এ বিয়ে হতে সমস্যা নেই। আর এখন দুজনই চাকরি করে। ভালোই হবে। অনেক দিনের পুরনো প্রেম আবার বাসা বাঁধে মনে।
অফিস থেকে বের হয়ে একটা স্যালুনে ঢুকে শেভ করে নেয় বাদল। বেশি করে আফটার সেভ লাগিয়ে দিতে বলে নাপিতকে। এতদিন পর আবার কথার সঙ্গে দেখা হবে। কিছুতেই তাকে যেন বাজে না দেখায়। ছাত্রজীবনে সে মোটেই পোশাকসচেতন ছিল না দেখে কথা কতবার তাকে ল্যাবেন্ডিস বলেছে। কে জানে, পোশাকে কেতাদুরস্ত হলে হয়তো কথা তাকে ভালোবাসতেও পারত। এসব ভাবতে ভাবতেই সে চলে যায় তাদের আগে থেকে ঠিক করা জায়গাটায়। বাদল ওয়েটারকে ডেকে কী মেনু ভালো হবে, তা জেনে নিল আগেভাগেই। শিরদাঁড়া সোজা হয়ে বসেছে, যাতে তাকে আরো ম্যানলি লাগে, আর শার্টের ইস্ত্রির ভাঁজ যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, এই ভয়ে। কথাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রাজি না হওয়ার কোনো কারণ নেই। এখন সে ভালো বেতনের চাকরি করে। পজিশনও ভালো। আর ছেলেমানুষের চেহারা যতটা হলে চলে, তার চেয়ে একটু বেশি রকম সে দেখতে।
এর মধ্যে কয়েকবার ফোন করে ফেলেছে কথাকে। পথের জ্যাম আর কথার অফিস থেকে বের হতে একটু দেরিই হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে তাদের দেখা হলো। বাদলকে দেখে কথার প্রথম কথা ছিল, কি রে ল্যাবেন্ডিস, তুই এত স্মার্ট হলি কীভাবে?
বাদল নিজেকে সামলে বলল, দিন বদলাইছে না বন্ধু। আমিও বদলেছি।
হুম, তাই তো দেখছি!
ওয়েটার এসে অর্ডার নিয়ে গেল। খাবার দেয়া হলো। খেতে খেতে পুরনো দুই বন্ধু যেন ফিরে গেল ছাত্রজীবনের দিনগুলোয়। দুজনই ভুলে গেছে, মাঝে অনেকগুলা বছর তাদের জীবনের চলে গেছে। অনেক পুরনো স্মৃতি আর পুরনো ভুল নিয়ে কথা বলতে বলতে কোথা দিয়ে ২ ঘণ্টা চলেই গেল, তারা দুজনই টের পেল না। কথাকে গাড়িতে তুলে দিতে এগিয়ে এসে এতক্ষণে সে অনেক সাহস নিয়ে তার গোপন কথাটি বলবে বলবে করছে। কথা জিজ্ঞেস করল, কি রে কিছু বলবি? মেয়েরা ছেলেদের চোখ পড়ে ফেলার এক অদ্ভুদ শক্তি নিয়ে জন্মায়। সে জানে, বাদল তাকে কী বলতে চায়। কিন্তু সে কেবল বলে, আচ্ছা থাক, আরেক দিন বলিস। এই বলেই গাড়িতে উঠে পড়ে।
ফোনে আলাপ হয় অনেকবার, ফেসবুকে কথা হয়। কিন্তু বাদল আর তার মনের কথা ঠিক গুছিয়ে বলতে পারে না। এর মধ্যে বাদল অস্থির হয়ে গেলে কথা আরেকদিন দেখা করার জন্য রাজি হয়। সেদিন তারা দুজনই একটু বেশি সময় নিয়ে দেখা করে সিআরবি শিরীষতলায়। বাদল আজ প্রতিজ্ঞা করেছে নিজের কাছে, যেভাবেই হোক আজ সে কথাকে বিয়ের কথা বলেই ফেলবে। সে কারণে তার অস্থিরতা যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিকালের নরম বাতাসেও সে ঘামছে একটু একটু করে। কথা তার কথা শুরু করল, আচ্ছা বাদল, তুই একবারও কি জানতে চাইছিস, এই কয়েক বছরে আমি কী করেছি, কোথায় ছিলাম? বাদল ঘাম মুছতে মুছতে বলল, না, চাইনি। বাদল এবার কথা গুলিয়ে হড়বড় করে বলে ফেলে, শোন কথা, আমি তোকে ভালোবাসি। এ কথাটা এতগুলে বছর তোকে বলতে পারিনি। আজ বলে ফেললাম। সে আর কিছু বলার আগেই কথা বাদলকে থামিয়ে দেয়। শোন দোস্ত, আমি জানতাম, তুই আমাকে কী বলতে চাস। কিন্তু আমার জীবনে কী ঘটে গেছে, সেটা তুই জানিস না। আগে আমার কাছ থেকে শোন, তারপর যদি মনে হয়, তুই আমাকে বিয়ে করতে চাস, আমি রাজি। বলেই কথা তার কথা শুরু করল।
জানিস তো, আমার বাবার আরেকটা বিয়ের পর আর আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। আমার এমএ পরীক্ষার পর ভাইয়া বউ নিয়ে আলাদা হয়ে গেল। আমি মা আর ছোট ভাইটাকে নিয়ে তখন বিপদে পড়ে যাই। ভাইয়া যে টাকা আম্মাকে সংসার খরচের জন্য দিত, তাতে আমাদের চলতে খুব কষ্ট হতো। এমনকি টিউশনির টাকা দিয়ে কয়েক মাস কষ্ট করে ছোট একটা বাসায় আমরা সবাই থাকতাম। সেই খুব খারাপ সময় ভাইয়া একটা পাত্র আনে আমার জন্য। আমেরিকায় সেটল। আমি কিছু ঠিকমতো বোঝার আগেই আমার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। বিয়ের আগে একবার মাত্র দেখা লোকটাকে। আগের বউ মারা গেছেন বলেছে বিয়ের সময়। পরে জানতে পারলাম, তাদের ডিভোর্স হয়েছে। সে যা-ই হোক, বিয়ের ছয় মাসের মাথায় আমাকে ট্যুরিস্ট ভিসায় আমেরিকা নিয়ে যায়। আমি সেই সময়গুলো কেমন যেন ঘোরের মধ্যে থাকতাম। বাদল অবাক হয়ে কথা শুনছে। আমার হাজব্যান্ড নেশা আসক্ত, এটা বুঝতে আমাকে দুদিন কষ্ট করতে হলো না। কাজ শেষে বাসায় এসে গোসল দিয়ে আমাকে নিয়ে, আমার শরীর নিয়ে প্রায় সারা রাতই খাবলাতে থাকত। দিন দিন সে এমন অবস্থায় গেল যে, আমাকে একবার ধরলে আর ছাড়তেই চাইত না। আমি ভয়ে ওয়াশরুমে ঘাণ্টর পর ঘণ্টা বসে থাকতাম আর কাঁদতাম। দেশে কাউকে ফোনে এসব কিছুই বলতাম না। বলেই বা কী লাভ হতো, বল? কথা কথা বলছে ঠিকই, তার চোখ দিয়ে সমানে পানি ঝরছে!
একদিন হলো কি, সে রোজ যেমন নিয়ম করে বাসায় আসত, সেদিন এল না। আমি ভয় না পেয়ে বরং খুশি হয়েছিলাম। পরদিনও বাসায় ফিরল না। আমি খাই, ঘুমাই, একটা ফোন কলও আমি তাকে দিই না। কারণ সে আমাকে তার যৌন দাসী ছাড়া আর কিছু ভাবে না। এটা আমি জানতাম। তিনদিন পর দেশ থেকে তার বাবা ফোন করে তার খবর জিজ্ঞেস করল। আমি উত্তর দিতে পারলাম না। তার কয়েক ঘণ্টা পর সে যেখানে কাজ করত, তারা এসে খবর দিল, এলএসডি নেশা আসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে একটা নির্জন রাস্তায় সে মারা গেছে। বিশ্বাস করো, শুনে আমার একটুও খারাপ লাগেনি। বরং একটা অচেনা মুক্তির স্বাদ আমার অন্তরে খেলা করেছে সেই সময়। দেশে ফিরে এলাম মরদেহ নিয়ে। পরের সপ্তাহেই বুঝলাম, আমি মা হতে যাচ্ছি। কী করব কিছু ভেবে পেলাম না। এরপর কাউকে না বলে আমি অ্যাবরশন করাই। মনের কষ্টে আমি কিছুদিন পাগল পাগল ছিলাম। সবাই মনে করত, আমি বুঝি স্বামীর শোকে এমন করছি। কিন্তু এ সত্যটা আমি আজ প্রথম তোকেই বললাম। কথা শেষ করে চোখ মুছতে মুছতে কথা এবার বাদলের নাম ধরে ডাকল, বাদল, এবার তুই সময় নে। ভেবে বল, আমার সঙ্গে জীবন জড়িয়ে তুই কতটা সুখী হবি। বাদল চুপ করে সিঁড়িতে বসে আছে মাথা নিচু করে। কথা একটা সিএনজি ডেকে গাড়িতে উঠে গেল। এরপর কয়েকবার কথা বাদলের ফোনে ট্রাই করেছে। সে ব্যস্ততার ভান করেছে, ফেসবুকে নক করেছে। কোনো উত্তর পায়নি। অবশেষে কথা কয়েকটি হা-হা-হা হাসির ইমো দিয়ে তাদের সমস্ত আলাপের উপসংহার টানল।






