মনন কাপুর। অনুবাদ: মাহমুদ আলম সৈকত
১৮৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন মির্জা আসাদুল্লাহ খাঁ গালিব, যার কাব্যচর্চার ধারা বেশ বলিষ্ঠ আর পাণ্ডিত্যর্পূণ, বাগ্মিতায় ভাস্বর। যিনি তার হেঁয়ালিতে ভরা অথচ প্রাণ-প্রাচুর্যের আকর গজলগুলোতে স্বীয় জীবন ও তার যাত্রার অভিজ্ঞতা এবং ঘটনাগুলো নিয়ে কেবল গবেষণাই করেননি, বরং তীক্ষ নজর রেখেছিলেন। এমনকি বেঁচে থাকতে গালিব তার সৃষ্টির জন্য প্রাপ্য প্রশংসাটুকুও ঠিকঠাক জোটাতে পারেননি। তবুও আজ তার নাম উর্দু কবিতার সমার্থক। তার পঙিক্তগুলো, যা সময়ের হিসাবে বেশ খানিকটা এগিয়েই ছিল, তা আজ শুধু উর্দুতেই পঠিত হচ্ছে না, দেশ-কাল-ভাষা-সীমানা পেরিয়ে সারা বিশ্বেই গালিব চর্চিত হচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গালিবের রচনা আজ আমেরিকান সাহিত্যের ঐতিহ্যে পোক্ত আসন গেড়েছে।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি ইংরেজ অনুবাদক এডওয়ার্ড ফিেজরাল্ড ওমর খৈয়ামের রুবাইয়াত-এ-ওমর খৈয়াম অনুবাদ করার পর থেকে পশ্চিমা অনুবাদকরা ক্রমাগত ইন্দো-ইসলামিক ভাবধারায় রচিত কবিতার গভীরতা অনুধাবনের চেষ্টা করছেন। পশ্চিমা বিশ্বের ফার্সি গজল অনুবাদে প্রথম প্রয়াস জার্মান অনুবাদক এবং কবি জোহান উল্ফগঙ গোয়থে, জোসেফ ভন হামার-পাস্তল, ফ্রেডরিখ রুকার্ট ও অগাস্ট ভন প্লাতের হাতে ধরে, যারা গালিব বেঁচে থাকা সময়েই হাফিজের গজলগুলো জার্মান ভাষায় অনুবাদের কাজে হাত দেন। ওদিকে প্রথিতযশা স্প্যানিশ কবি ফেদেরিক গার্সিয়া লোরকা তার দিওয়ান দেল তামারিতের মাধ্যমে ফার্সি গজল ও কাসিদাকে (লোরকা যদিও ‘গাসেলাস’ বলতেন) জনপ্রিয় করে তুলছিলেন। তবে গজলের সুললিত ধারাটি আমেরিকান কবিদের মনোযোগ আকর্ষণ করে গালিবের মাধ্যমে, যা ওই অঞ্চলের কাব্য কাঠামোয় বেশ ভালোভাবেই জায়গা করে নিয়েছে।
পশ্চিমে গালিব
১৯৬৯ সালে মির্জা গালিবের শততম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে বসবাসকারী পাকিস্তান বংশোদ্ভূত শিল্প-সাহিত্য সমালোচক এযাজ আহমদ গালিবের গজলের একটি সংকলন প্রকাশ করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল গালিবের কবিতা-গজলকে আমেরিকা তথা ইংরেজি ভাষীদের কাছে পরিচিয় করিয়ে দেয়া, যাতে গালিবের চিরন্তন কাব্য সুষমার রসাস্বাদনে তারা ঋদ্ধ হতে পারে। পাশাপাশি উনিশ শতকের মহান সৃষ্টিকে বিশ শতকের বাতাবরণে মুক্ত হাওয়ায় সঞ্চালন করা। এযাজ জানিয়েছেন, ‘এ কেবল নিছক অনুবাদ প্রকল্পই নয়, বরং এটি যুগ ও ইতিহাসের মুখোমুখি করে দিয়ে কবির সঙ্গে কবির আলাপ, পরম্পরাগত ও স্বীয় ভাষার সঙ্গে কথোপকথনের অভিপ্রায়’ হিসেবেই গালিবের গজল অনুবাদের প্রয়াশ। এ মর্মে তিনি গালিবের গজলের আক্ষরিক অনুবাদ এবং টীকা-ভাষ্যগুলো তুলে দেন আমেরিকান অনুবাদক এবং কবি অ্যাদ্রিয়েন রিখ, ডব্লিউএস মরভিন, ডেভিড রে, মার্ক স্ট্র্যান্ড ও উইলিয়াাম হান্টদের হাতে। গালিবের গজলের সর্বোত্তম উপস্থাপনের নিমিত্তে যারা অনুবাদের যেকোনো পদ্ধতি বেছে নেয়ার জন্য মুক্ত ছিলেন।
গীতল, ছন্দোবন্ধ গজলের রচনা পদ্ধতিকে অক্ষরে অক্ষরে প্রতিস্থাপন করতে পারা না গেলেও এযাজ আহমদ চেয়েছিলেন গালিবের গজলে যে নিগূঢ় কথা, সারমর্ম রয়েছে, সেসবের শুলুকসন্ধান যেন ওই অনুবাদে পাওয়া যায়। আর তাই অনুবাদকদের গজলের আনুষ্ঠানিক কাঠামো মেনে চলতে বলা হয়নি এবং মুক্ত পয়ার ব্যবহারের স্বাধীনতাও দেয়া হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, অনুবাদের মধ্য দিয়ে ভিন্ন ভাষা সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়া যায়, কিন্তু সম্পূর্ণ অধিকার করা যায় না। যা-ই হোক, উল্লিখিত কবি-অনুবাদকসহ আরো বেশ কয়েকজন লেখক এ প্রকল্পে ভাগীদার হন। সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলো, একই গজল অনুবাদ করতে দেয়া হলো একাধিক কবিকে। যার প্রতিক্রিয়াও হলো বেশ চিত্তাকর্ষক। গালিবকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার এ অভিনব পদ্ধতি পরবর্তী সময়ে অনেককেই উদ্বুদ্ধ করেছে। সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্যটি হলো, আমেরিকান অনুবাদক এলিয়ট ওযয়েইনবার্গারের নাইনটিন ওয়েজ অব লুকিং ওয়াং ওয়েই (১৯৮৭)। এ লেখাজোকা প্রকল্পে এলিয়ট যুক্ত করেন উনিশজন সমকালীন কবি-অনুবাদককে, যারা প্রত্যেকেই একটি কবিতা তাদের মতো করে অনুবাদ করতেন। সে যাক, গালিব প্রসঙ্গে ফিরে যাই। এযাজ আহমদের গজলস অব গালিব নামের সেই সংকলন থেকে একটি উদাহরণ দেয়া প্রাসঙ্গিক হবে। গালিবের একটি দ্বিপদী আছে, ‘বহশত-এ-আতিশ-এ-দিল সে শব-এ-তনহায়ি মে/সুরৎ-এ-দুদ রাহা সায়া গুরেজা মুঝ সে’। (সরল বাংলায়: একাকী রাতে, হূদয়ে আগুনের এমন উন্মত্ততা/আবছায়ায় মিলিয়ে যায় ধোঁয়ারূপী মুখাবয়ব)
ডব্লিউএস মারভিন এর অনুবাদ করেন:
ইন দ্য লোনলি নাইট বিকজ অব দ্য এঙগুইশ
অব দ্য ফায়ার ইন মাই হার্ট
দ্য শ্যাডো স্লিপড ফ্রম মি লাইক স্মোক
আদ্রিয়ান রিখ লিখলেন:
থ্রু দ্য বনফায়ার মাই গ্রিফ লিট ইন দ্যাট ডার্কনেস
দ্য শ্যাডো ওয়েন্ট পাস্ট মি লাইক আ উইশপ অব স্মোক
মার্ক স্ট্রান্ড লিখলেন:
দ্যাট লোনলি নাইট ফায়ার ইনহ্যাবিটেড মাই হার্ট
অ্যান্ড মাই শ্যাডো ড্রিফেট্ড ফ্রম মি ইন আ থিন ক্লাউড অব স্মোক
—‘গজলস অব গালিব’ (১৯৬৯)
প্রথা ভাঙার ক্ষণ
অনুবাদ বিষয়ে সাহিত্য সমালোচক হ্যারল্ড ব্লুমের ভাবনা এ রকম: ‘কবিতায় অনুবাদকের স্বাধীনতা মানে হলো শব্দ বা বাক্যাংশের অর্থের স্বাধীনতা, তা এমন এক স্বাধীনতা, যা নিজের মানে নিয়েই স্বয়ংসম্পূর্ণ’। যা-ই হোক, মৌলিক ভাবের আগল ভেঙে কাঠামোয় নতুন রূপ দেয়াকে অনেকেই অন্যায্য মনে করেন। এযাজ আহমদের এ প্রয়াশও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক কবি ও পণ্ডিতের দ্বারা। তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য পরীক্ষিত সিং, যিনি আহমদের দৃষ্টিভঙ্গির দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন, অনুবাদে যথেচ্ছা স্বাধীনতায় মূল পাঠের প্রতি আনুগত্য ও ফলাফলের সত্যতা কতটা অক্ষুণ্ন থাকে। মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমার কাছে এ কেবলই চৌদ্দ লাইনের একটি কবিতাকে সনেট নামে ডাকার মতোই।’
যদিও এ অভিপ্রায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু পশ্চিমে এর প্রভাব বরং সর্বজনমান্যই হয়। গালিবের সেই কবিতা সংগ্রহটি আমেরিকার কবিসমাজে একটি বাঁকবদল হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে আছে। আদ্রিয়ান রিখ, ফিলিস ওয়েব ও জন হল্যান্ডারের মতো কবিরা এ কাব্য কাঠামো আশ্রয় করে ইংরেজিতে গজল রচনা শুরু করেন। ১৯৭০-এর দশকে তাদের গজলগুলোতে নারীবাদী বিষয়বস্তু ও যুদ্ধবিরোধী ভাবানুভূতি অন্তর্ভুক্ত হতে থাকে। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে আরেক বিদ্বজ্জন আগা শহীদ আলী আমেরিকায় গজল নিয়ে ব্যাপক কাজ শুরু করেন। মূলত গালিবাশ্রয়ী গজল। তিনি উর্দু ও ফার্সি ভাষার রচনা কৌশল যেমন—মাজমুন-আফ্রিনি বা বিষয়বস্তু সৃষ্টি, কাফিয়া বা ছন্দ পরিকল্প ও রাদিফ তথা ধ্রুবকের সফল ব্যবহার করে দেখান, যা মার্কিন মুলুকে গজলের জয়জয়কার ফেলে দিতে সক্ষম হয় এবং রচনা কৌশলগুলো মার্কিন কবিদের দ্বারা ব্যবহূত-সমাদৃত হতে শুরু করে।
এগিয়ে চলার পথে
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে গালিবের গজল প্রকাশের পর থেকে তার কবিতার প্রতি পশ্চিমাদের আগ্রহ দ্রুত বেড়েছে। আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল রাইটিং প্রোগ্রামের পরিচালক ক্রিস্টোফার মেরিল আমাদের জানান, ‘আজকের দিনে তরুণ কবিদের অবশ্যপাঠ্য হয়ে উঠেছে গজল, এতটাই আবশ্যিক যে প্রত্যেক এমএফএ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে তোতাপাখির মতো মুখস্থ করতে হয়!’ আর এসবই গালিবের চিন্তাধারা, তার জাদুকরি ভাষা ও দুঃখ প্রকাশের ভঙ্গির কাছে ঋণী, যা বিভিন্ন সময়ে প্রাসঙ্গিক তো বটেই, ভিন্ন ভাষায় ও ভিন্ন বাতাবরণেও সমুজ্জ্বল। ফ্রান্সিস ডব্লিউ প্রিচেটের মতো বিদ্বজ্জন, যিনি তার বেশির ভাগ সময় তুলে দিয়েছেন গালিবের সমস্ত কবিতা ও তার উত্তরাধিকার সংরক্ষণের জন্য, এখনো কাজ করে চলেছেনে এ ডেজার্টফুল অব রোজেস বা ‘এক গোলাপের মরুভূমি’ নামের সাহিত্য প্রকল্পে। আর প্রকল্পটি যে কেবল আমেরিকার সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে তা-ই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের কাছে গালিবকে প্রবেশযোগ্য করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিভিন্ন কবি ও অনুবাদক নতুন মানে খোঁজার প্রয়াশে গালিবের গজলগুলো আবার ইংরেজিতে অনুবাদ করার চেষ্টা করেছেন।
গালিবের গজলগুলোর এন্ড্রু ম্যাককর্ডকৃত দীপ্তিময় অনুবাদ, যেখানে তিনি কাফিয়া ও রাদিফকে সুসংহতভাবে পরিচালিত করেছেন। গালিবের আসনকে পাকাপোক্ত করে দিয়েছেন ইংরেজি কাব্যধারায়। তারই একটি উদাহরণ উপস্থাপন নিচে রইল। প্রথমে আমরা গালিবের উর্দু গজলটি পড়ে নিই—
লাজিম থা কি দেখো মেরা রাস্তা কোই দিন অউর
তানহা গ্যয়ে কিউ? আভ রাহো তানহা কোই দিন অউর
মিট যায়েগা সর, ’গর তেরা পাত্থর না ঘিসেগা
হুঁ দর পে তেরে নাসিয়া-ফরস কোই দিন অউর
আয়ে হো কাল অউর আজ হি ক্যহতে হো কি যাউ
মানা কি হামেসা নেহি, আচ্ছা, কোই দিন অউর
জাতে হুয়ে ক্যহতে হো, কয়ামত কো মিলেঙ্গে
ক্যায়া খুব! কয়ামত কা হ্যায় গোয়া কোই দিন অউর
হা এ্যয় ফলক-এ-পির, জাবাঁ থা আভি আরিফ
ক্যায়া তেরা বিগাড়তা যো না মরতা কোই দিন অউর?
তুম মাহ-এ-শ্বব-এ-চারদাহুম থে, মেরে ঘর কে
ফির কিউ না র্যহা ঘর কা বো নকশা কোই দিন অউর?
তুম কৌন সে অ্যয়সে থে, খারে দাঁদ-ও-সিতার কে?
করতা মালাকুল মউত তাক্বাজা কোই দিন অউর?
মুঝসে তুমহে নফরত সহি, না-য়ার সে লাড়ায়ে
বাচ্চো কা ভি দেখা না তামাশা কোই দিন অউর?
নাদাঁ হো যো ক্যহতে হো কি কিউ জিতে হো গালিব
কিসমত মে হ্যায় মরনে কি তামান্না কোই দিন অউর?
এবার এন্ড্রু ম্যাককর্ডকৃত ইংরেজিটি পাঠ করে নিই।
শ্যুড ইউ নট লুক আফটার মি অ্যানাদার ডে?
হোয়াই ডিড ইউ গো অ্যালোন? আ লিভ ইন অনলি অ্যানাদার ডে।
ইফ ইওর গ্রেভস্টোন ইজ নট ইরেজড ফার্স্ট মাই হেড উইল বি
জেনিউফ্রেকটিং অ্যাট ইউর ডোর, ইন এনি কেস, ইটস মি অ্যানাদার ডে।
ইয়েস্টারডে ইউ কেম অ্যান্ড নাউ ইউ সে, ‘শ্যাল আই গো টুডে?’
ওকে, ইটস নট ফরএভার, বাট ইট ওয়াজ ফর, শিওরলি, অ্যানাদার ডে।
অ্যাজ ইউ লেফট ইউ সেইড টু মি, ‘উই উইল মিট আন জাজমেন্ট ডে।’
দ্যাটস রিচ! আফটার দিস ডেস্ট্রাকশন কুড দেয়ার বি অ্যানাদার ডে?
ইন মাই হাউজ ইউ অয়ার দ্য ফোর্টিন্থ নাইট অব দ্য মুন
হোয়াই দিস ডার্ক হাউজ? ওএইন স্লোলি অ্যানাদার ডে।
অ্যান্ড আই সে টু দি এনশিয়েন্ট স্কাই, ‘আরিফ’ ওয়াজ স্টিল ইয়াং অ্যান্ড নৌইং
হোয়াট ওয়াজ ইট টু ইউ ইফ হি শ্যুড ডাই অ্যানাদার ডে?
হ্যাড ইউ এনমিটি উইথ মি অর অ্যান আর্গুমেন্ট উইথ দ্য সান
স্টিল ইউ উড স্টে টু ওয়াচ দ্য চিলড্রেনস গ্লি অ্যানাদার ডে।
বাই নো মিনস হ্যাড দ্য ইন্টারভেল আব স্যাডনেস অ্যান্ড হ্যাপিনেস এক্সপায়ারড
ইউ আর গন বাট ইউ অয়ার মেন্ট টু মেক ডু উইথ মি অ্যানাদার ডে।
অনলি আ ফুল আস্কস মি, ‘ গালিব হোয়াই আর ইউ অ্যালাইভ?
মাই ফেইট ইজ টু লঙ ফর দ্য ডে আই উইল নট বি অ্যানাদার ডে।
(উর্দু গজলটির বাংলা তর্জমা এখানে প্রাসঙ্গিকভাবেই জুড়ে দেয়া হলো। তর্জমাটি মূল উর্দু গজলের। বাংলা অনুবাদকের সংযোজন।)
আমার পথে তাকিয়ে থাকো, এমনই তো স্বতঃসিদ্ধ
কেন ছেড়ে গেলে? এখন না হয় ক’টা দিন একাই থাকো
তোমার দ্বারপ্রান্তে শিলালিপি আছে রাখা ওই
মাথা কুটি তাতে ভ্রান্ত দিনের পর
এই তো এলে কাল, এখনই বলছ—যাই!
দাবি আমার এ চিরকালের নয়, বেশ, ক’টা দিনই থাকো
‘হাসরের মাঠে দেখা হবে’ বলে গেলে যাওয়ার আগে
বলো কি! কেয়ামত তো সেই কবেই ঘটে গেছে
হে দিগন্তঈশ্বর, কিছু ইচ্ছে বাকি রয়ে যায় তবু
যদি ক’দিন বাদে মৃত্যু দিতে, কি-ই বা হতো তাতে
আমার ঘরে, তুমি ছিলে চতুর্দশীর চাঁদ
দেখো, ঘরের ছায়া মিলায় হাওয়ায়, জ্যোত্স্না লুটপাট
কে হে তুমি এমন: এসেছ ন্যায়বিচারী
ঘোষণা করো মৃত্যু পরোয়ানা, হায় আহাজারি
মানছি ঘৃণা করো, বন্ধু তুমি অবান্ধবেরই হলে
তুমি কি শিশুর হাউই খেলা দেখোনি কোনোকালে
বোকা বটে! শুধাও কেন বাঁচি!
কপালজুড়েই মৃত্যু রেখা, জীবনভর আঁকি





