অনুবাদ: মুম রহমান
ওয়াকিং আউট
চার্লস বুকোস্কি
ভ্যান গখ তার কান কেটে
সেটা দিয়েছিল
এক বেশ্যাকে
যে এটি ছুড়ে ফেলেছিল
ভয়াবহ
ঘৃণায়।
ভ্যান,
বেশ্যারা চায় না
কর্ণ যুগল
তারা চায়
টাকা।
আমি মনে করি সেই কারণেই তুমি ছিলে
দারুণ মহান
চিত্রকর: তুমি
বুঝতে পারোনি
এর বেশি
কিছু।
তারা ভরা রাত
টুপাক শাকুর
এক সৃষ্টিশীল হূদয়, আবিষ্ট হয়ে আছে সন্তুষ্ট করতে
এই ঘুমন্ত আর পাত্তাহীন সমাজকে
তুমি তাদেরকে দিয়েছিলে রাত্রির তারামালা
এবং তুমি তাদেরকে দিয়েছিলে
বুনো সূর্যমুখীর তোড়া
কিন্তু তোমার জন্য কেবল ছিল অবজ্ঞা
এবং তবুও তুমি নিজেকে ঢেলে দিয়েছিলে খ্যাতিতে
আর সেটা দারুণ গর্বিত ভঙ্গিতে পৃথিবীকেই দিয়েছিলে
কিন্তু তারা গ্রহণ করতে পারেনি তোমার শ্রেষ্ঠ শিল্পকে
হূদয় থেকে।
তাই সেই তারা ভরা রাতেই তুমি আমাদের দিলে
এবং তুমিই আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নিলে
এমন এক জিনিস যার স্বীকৃতি আমরা দিইনি কোনোদিন
তোমার জীবন।
আত্মপ্রতিকৃতি
ডেরেক ওয়ালকট
ভ্যান গখের নিঃসঙ্গতা।
ভ্যান গখের নম্রতা।
ভ্যান গখের শঙ্কা।
তিনি আয়নার দিকে তাকালেন
এবং নিজেকে আঁকতে শুরু করলেন।
তিনি আবিষ্কার করলেন সেখানে কেউ নেই
কেবল, ভিনসেন্ট ভ্যান গখ।
তা তো যথেষ্ট নয়।
তিনি একটা কান কেটে ফেললেন।
তিনি আয়নায় তাকালেন:
ওই তো ওখানে ভিনসেন্ট ভ্যান গখ
একটা ব্যান্ডেজ মোড়ানো কান।
এটা তার প্রতিকৃতির অনুরূপ
তিনি রয়ে যাওয়ার প্রয়াস করলেন,
প্রথমত, তাকে অবশ্যই বিলীন হতে হবে,
তারপর তাকে ফিরে আসতে হবে প্রশমিত হয়ে
আর সকল শঙ্কার ঊর্ধ্বে
একটি নিঃসঙ্গ প্রক্রিয়ায়,
যখন আয়না দাবি করবে না
কোনো বেদনা কিংবা খ্যাতি নয়
কোনো হ্যাঁ বা না নয়
কিংবা হয়তোবা, অথবা একদা, অথবা
না। সেখানে কেউ নেই,
ভিনসেন্ট ভ্যান গখ নন,
নম্র, ভীত আর একাকী,
কেবলই একটি গল্প।
একটি সত্তা।
ভ্যান গখের প্রার্থনা
য়ানুস পিলিন্সকি
গমক্ষেত্রে একটি যুদ্ধের পরাজয়
আর আকাশে এল বিজয়।
পাখি, সূর্য আবার পাখি।
রাত্রিরে, আমার জন্য কী অবশিষ্ট রইল?
রাত্রি, কেবল এক সারি বাতি,
হলুদ রঙের এক জ্বলজ্বলে দেয়াল,
আর নিচে বাগানে, গাছগুলোর মাঝে
মোমের সারির মতো, জানালার শার্সি;
সেথায় একদা বাস করেছিলাম, বাস করি না আর—
আমি বাঁচতে পারি না এখন যেখানে একসময় বেঁচেছিলাম, যদিও
সে ছাদ আমাকে ঢেকে রাখত
প্রভু, তুমি আমাকে ঢেকে রেখেছ অনেক আগেই।
তারা ভরা রাত
অ্যান স্যাক্সটন
সেটা আমাকে আটকে রাখে না ভয়াবহ প্রয়োজনীয়তায়—আমার কি শব্দটি বলা উচিত—ধর্মের। তারপর আমি বাইরে যাই রাত্রিতে তারাদের ছবি আঁকতে।
—ভিনসেন্ট ভ্যান গখ, ভাইকে লেখা চিঠি
শহরটির অস্তিত্ব নেই
কেবল যেখানে এক কালো চুলের বৃক্ষ হারায়
এক ডুবন্ত নারীর মতো উষ্ণ আকাশে।
শহরটি স্তব্ধ। রাত্রি তপ্ত হয় এগারোটি
নক্ষত্র নিয়ে।
ও তারা ভরা রাত! এইভাবেই
আমি মরতে চাই।
সে নড়ে ওঠে। তারা সবাই জীবিত।
এমনকি গোলাকার চাঁদ স্ফীত হয় তার কমলা নিগড়ে
শিশুদের আলোড়িত করে, দেবতার মতো, তার চোখ দিয়ে।
বৃদ্ধ অদেখা সাপ গিলে ফেলে তারাদের।
ও তারা, তারা ভরা রাত! এইভাবেই
আমি মরতে চাই।
রাত্রির ধাবমান পশুর মতো,
সেই বিশাল ড্রাগন শুয়ে নেয়, ফালি করে
আমার জীবন কোনো পতাকা নেই,
উদর নেই,
ক্রন্দন নেই।
বিমূর্ত অতীত
এমএইচ মোবারক
পৃষ্ঠাভরা মুদ্রণ
প্রচ্ছদের রঙে-
আকাশসীমায় দাগ পড়েছে আজ।
অন্ধকারটা বেশ স্বাধীন
এরপরও বেপরোয়া চারপাশ,
মুখ্য ভূমিকায় নেকড়েরাত্রি ও নারী।
বিমূর্ত অতীত
একাকী সমুদ্রের জল-
গায়ে মেখে নিয়েছে সব চিহ্নের দাগ।
জোছনা ধোওয়া রাত-
বৃষ্টি ভেজা দুপুরে এসে হার মেনেছ,
একটু আড়ালেই মুছে যাচ্ছে-
সব কোলাহল।






