রজার ইবার্ট ভাষান্তর: মামুনুর রশিদ তানিম
স্ট্যানলি কুব্রিক; জগতের মহত্তম চলচ্চিত্র পরিচালকদের একজন, সম্ভবত সবচেয়ে স্বনির্ভর ও আত্মসমাহিত, ৭১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করলেন। ‘২০০১: আ স্পেস ওডিসি’ সিনেমার এ স্রষ্টা রোববার ভোরবেলায় লন্ডনের উত্তরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
গত শতকের চলচ্চিত্র নির্মাতারা যখন তাঁদের চিত্রকল্পগুলোকে সাহসী স্বপ্নদর্শীদের ঢঙে সাজাচ্ছিলেন, তখনো কিন্তু কুব্রিক ছিলেন তাঁর স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল। চলচ্চিত্রে পূর্ণ স্বাধীনতার ব্যবহার, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কোনো রকম হস্তক্ষেপকে অবজ্ঞা করার সাহস এবং প্রচার, ভাবমূর্তি এসবের প্রতি উদাসীনতাই কুব্রিককে এক ধরনের কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। তিনি প্রচলিত বাণিজ্যিক প্রথার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে বিখ্যাত সব সিনেমা নির্মাণ করেছেন। মৃত্যুর ক্ষণকাল আগেই টম ক্রুজ ও নিকোল কিডম্যান অভিনীত গাঢ় কামজ থ্রিলারধর্মী সিনেমা, ‘আইজ ওয়াইড শাট’-এর কাজ সম্পন্ন করেন কুব্রিক। টম ক্রুজ ও নিকোল কিডম্যান দুজনই কুব্রিকের কঠোর দাবিদাওয়া মেনে তাঁদের কেরিয়ারের এক বছরেরও বেশি সময় দেন এ সিনেমার পেছনে। অবশ্য কুব্রিক এ সিনেমা নিয়ে কাজ করছিলেন দীর্ঘ সময় ধরে, ওয়ার্নার ভ্রাতৃদ্বয় সেটি গত বছর মুক্তি দিতে পারার আশা করলেও সেই আশায় ঝামা ঘষে দেন কুব্রিক।
‘কুব্রিক কাজটা শেষ করেছিলেন।’ তাঁর বন্ধু জো হ্যামস রোববার আমাকে বলেন। ‘বৃহস্পতিবার রাতে নিউইয়র্কে টম, নিকোল, দুই স্টুডিও নির্বাহী টেরি সেমেল ও বব ডালি—এই চারজনের জন্য সিনেমার একটি প্রিন্ট প্রদর্শন করা হয়েছিল। তাঁরা সবাই সিনেমাটি পছন্দ করেছেন।’
স্টুডিওটির কার্যনির্বাহী সহসভাপতি হ্যামস বললেন, ‘কুব্রিকের মৃত্যু বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো ছিল। দিনে ১৮ ঘণ্টা করে প্রতিদিন কাজ করছিলেন তিনি। এমন বিশুদ্ধতাবাদী একজন মানুষ ছিলেন তিনি।’ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পৌঁছলেও হ্যামস জানালেন, মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঘুমন্ত অবস্থায় হার্ট অ্যাটাককেই গণ্য করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ওয়ার্নার ভ্রাতৃদ্বয়ের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি নির্ধারিত হয়েছে কুব্রিকের, যাতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ আছে; কুব্রিক তাঁর পছন্দ অনুযায়ী সিনেমা বানাবেন, তিনি যে খরচ নির্ধারণ করবেন, সে খরচেই এবং যেভাবে সিনেমার প্রিন্ট স্টুডিওর হাতে তুলে দেবেন, সেভাবেই মুক্তি দেবে স্টুডিও। এমনকি একসময় যখন দাপুটে পরিচালকদের সিনেমার ‘ফাইনাল কাট’ অধিকার ছিল নিজেদের হাতে, তখনো এ রকম স্বাধীনতা অকল্পনীয় ছিল। হ্যামস বললেন, ওয়ার্নার স্টুডিওতে শুধু কুব্রিক ও ক্লিন্ট ইস্টউডই এ স্বাধীনতা পেয়েছেন। এ দুজন যা চাইতেন, তা-ই পেতেন।
কুব্রিক কালেভদ্রে নিজের ছবি তুলতেন এবং সাক্ষাত্কারও দেননি অনেক বছর ধরে। ব্যবসায়িক কার্যাবলির অধিকাংশই তিনি ফোনেই সম্পন্ন করতেন। ইংল্যান্ডের গ্রামাঞ্চলে নিজস্ব বাড়িতেই কুব্রিক তাঁর সিনেমার সম্পাদনা ও শব্দগ্রহণের ব্যবস্থা করে রেখেছেন এবং লোকেশন বাছাইয়ের জন্য ভ্রমণ না করে বরং নিজেই নিজের লোকেশন সৃষ্টির জন্য বিখ্যাত তিনি। তাঁর ভিয়েতনাম সিনেমা ‘ফুল মেটাল জ্যাকেট’-এর সম্পূর্ণ চিত্রগ্রহণ হয়েছে ইংল্যান্ডে এবং মহাবিশ্বর গল্প নিয়ে নির্মিত ‘২০০১: আ স্পেস ওডিসি’রও তাই। অনেকেই ‘২০০১: আ স্পেস ওডিসি’কে এই শতকের সেরা সিনেমা হিসেবে অভিহিত করেন।
স্পেস ওডিসি; দৈর্ঘ্য অনুযায়ী খুবই স্বল্প সংলাপের এক মহাকাব্য, যার স্পেশাল ইফেক্টগুলো এখনো পুরনো মনে হয় না তার চমত্কারিত্বের জন্য, এর দুর্বোধ্য এক সমাপ্তি যা নিয়ে বিতর্ক চলে আজো এবং স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটারকেও পেছনে ফেলে দেয়া কাষ্ঠবৎ মানবচরিত্রের সন্নিবেশ ঘটানো এ সিনেমা নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে অননুকরণীয় সিনেমা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সে সময়। মহাকাশে প্রদক্ষিণরত নভোচারীদের কাছে যখন জানতে চাওয়া হয়েছিল, মহাকাশ আসলে দেখতে কেমন, জবাবে তারা বলেছিল, ‘স্পেস ওডিসিতে দেখানো দৃশ্যের মতো।’
বিগত বছরগুলোতে কুব্রিক খুব ধীরেসুস্থে নিজের ছন্দে কাজ করেছেন। কুব্রিকের প্রতিপত্তি এতটাই উঁচুতে ছিল যে ক্রুজ, জ্যাক নিকলসনের মতো বড় তারকারা বাধ্য হতেন তাঁর আদেশ মেনে অন্যান্য কাজকে স্থগিত রেখে তাঁর সিনেমার শুটিংয়ের জন্য দীর্ঘ শিডিউল দিতে। এমনকি প্রত্যেকটা শটের জন্য অনেকবার টেক দিতেও আপত্তি করতেন না।
কুব্রিকের এই অসংখ্যবার টেক নেয়ার ব্যাপারটা সম্পর্কে তাঁর সিনেমা ‘ফুল মেটাল জ্যাকেট’-এর অভিনেতা ম্যাথিউ মডিন প্রশ্ন তুললে তিনি তাঁকে জানান, ‘দ্য শাইনিং সিনেমার শুটিংয়ের সেটে জ্যাক নিকলসন তাঁর সংলাপগুলো সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিয়ে আসতেন। ছয় টেকের পর তিনি সংলাপগুলো বুঝতে পারতেন। ২০ টেকের পর সংলাপগুলোর মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারতেন। ৫০ টেকের পর তিনি সেগুলো মজা করে বলতে পারতেন। আর ১০০ টেকের পর তিনি সেগুলো দর্শকদের অনুভব করাতে সক্ষম হতেন।’
‘তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পর্যায়ের খুঁতখুঁতে একজন ব্যক্তি’, কুব্রিককে স্মরণ করতে গিয়ে এই উচ্চারণ করেন পরিচালক গ্রেগরি নাভা, যিনি ‘আইজ ওয়াইড শাট’-এর স্প্যানিশ ভাষার সংস্করণে কুব্রিকের পরামর্শ মেনে কাজ করেছিলেন। গ্রেগরি নাভা এও যোগ করেন, কুব্রিক দিনে ডজনখানেকবার ফোন করতেন তাঁকে। ডিটেলের কোনো কাজই ছোট ছিল না কুব্রিকের কাছে।
প্রকৃতপক্ষে কোন কোন সিনেমা হলে তাঁর সিনেমাগুলো দেখানো হচ্ছে, সেটির যাবতীয় তথ্যাদি কুব্রিকের নিজস্ব কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকত এবং কোথাও তাঁর সিনেমা কম ফোকাসে অথবা ভুলভাল আলোয় দেখানো হচ্ছে, এমন খবর কুব্রিক শুনতে পেলে সেই প্রক্ষেপণ দপ্তরে তাঁর ফোন বেজে ওঠার ঘটনাও অশ্রুত নয়।
দ্য শাইনিংয়ে তাঁর কাজ নিয়ে বলতে গিয়ে শেলি ডুভাল একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি মাসের পর মাস ধরে চিত্কার করে গেছি। আমি ভেবেছিলাম, আমি বোধ হয় পাগল হয়ে যাব। কুব্রিক একেবারে সঠিক শটটাই চেয়েছিলেন। সিনেমায় একটা দৃশ্য ছিল, যেখানে হোটেল করিডোরের তিন অংশজুড়ে লং ট্র্যাকিং শটে ক্যামেরা অগ্রসর হচ্ছিল অভিনেতা রবার্টস ব্লোসমের দিকে এবং এ দৃশ্যটা তিনি ৯০ বার ধারণ করেছিলেন, কেননা তিনি চাইছিলেন প্রতিবারই যেন ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারের ক্রসহেয়ারটা অভিনেতার ঠিক কপালের ওপর থাকে।’
১৯২৮ সালে ব্রংক্সে জন্ম নেয়া কুব্রিক সবকিছুই দ্রুত শুরু করেছিলেন; মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘লুক’ ম্যাগাজিনের আলোকচিত্রী হিসেবে প্রথম চাকরি পান এবং ২২ বছর বয়সেই দুটো স্বল্পদৈর্ঘ্যের প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে ফেলেন। কুব্রিকের শাসন-বাসনার শুরুটা সম্ভবত সেই দিনগুলোতেই: চটকদার সাময়িকীগুলোর আলোকচিত্রীরা তখন রীতিমতো ডাকাতে স্বভাবের ছিল; ছবি তোলার জন্য নিজেদের ইচ্ছামতো তারা চড়ে বেড়াত এবং কুব্রিক তাঁর প্রথম দুটি সিনেমায়, যেগুলো তিনি নিজ খরচে নির্মাণ করেছিলেন, ফিয়ার অ্যান্ড ডিজায়ার (১৯৫৩), যেটাকে তিনি অস্বীকার করেছিলেন পরে, ও কিলার’স কিস (১৯৫৫)-এ ঠিক এই কায়দাই অবলম্বন করেছিলেন।
‘কিস’-এরও ভক্ত দল ছিল, কিন্তু এর পরবর্তী দুই সিনেমা দিয়েই কুব্রিক এক স্বতন্ত্র প্রতিভারূপে উদিত হয়েছেন। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ডাকাতির ঘটনা নিয়ে নির্মিত ‘দ্য কিলিং’ (১৯৫৬)-এ ছিলেন স্টার্লিং হ্যায়ডেন এবং ‘পাথস অব গ্লোরি’ (১৯৫৭)তে অভিনয় করেন কার্ক ডগলাস, যেটিকে বিবেচনা করা হয় অদ্যাবধি শ্রেষ্ঠ ‘অ্যান্টি-ওয়ার’ সিনেমা হিসেবে। তিন বছর পর কার্ক ডগলাস, কুব্রিককে মহাকাব্যিক ছবি ‘স্পার্টাকাস’-এর পরিচালক হওয়ার জন্য জোরাজুরি করেন, যে সিনেমাটি কুব্রিক পরবর্তীকালে অপছন্দ করেন বলে জানিয়েছিলেন, যদিও এ সিনেমারও বিশাল ভক্তশ্রেণী রয়েছে।
অংশত, হলিউডের হস্তক্ষেপের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে কুব্রিক ইংল্যান্ডে ফিরে যান এবং ১৯৬২ সালেই নির্মাণ করে ফেললেন ‘ললিটা’; জেমস ম্যাসন, শ্যালে উইন্টারস, পিটার সেলারস এবং সিনেমার নামরূপী সেই বালিকা-লাস্যময়ীর চরিত্রে স্যু লিয়্যনকে নিয়ে। অনেকেরই বিশ্বাস ছিল ভ্লাদিমির নবোকোভের উপন্যাসকে সিনেমায় রূপ দেয়া সম্ভব হবে না; কুব্রিক নায়িকাকে ১২ বছরের পরিবর্তে ১৫ বছরের করেছিলেন কেবল এবং সিনেমাটি জনপ্রিয়তা ও সমালোচকপ্রিয়তা দুটোই পায়।
কিন্তু কেরিয়ারের প্রথম দিকে শ্রেষ্ঠ সাফল্য কুব্রিক লাভ করেন ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ’ (১৯৬৩) দিয়ে। পারমাণবিক যুদ্ধকে কৃষ্ণ-কমেডির রসদ হিসেবে ব্যবহার করা এ সিনেমায় আরো একবার সেলার্সের দেখা পাওয়া যায়, তাও তিন-তিনটি চরিত্রে এবং হ্যায়ডেনকে দেখা যায় ‘জেনারেল জ্যাক ডি. রিপার’ চরিত্রে অভিনয় করতে। আজো সতেজ ও নতুন মনে হয় এ সিনেমাকে।
এর সফলতা কুব্রিককে তাঁর অবশিষ্ট কেরিয়ারকে নিজের শর্তে নির্মাণের ক্ষমতা জুগিয়েছিল। ১৯৬৮ সালে কুব্রিক তাঁর সেরা শিল্পকর্ম ‘২০০১: আ স্পেস ওডিসি’ প্রযোজনা করেন, যেটি শ্রেষ্ঠ ১০ সিনেমার বহু তালিকায় স্থান করে নেয় পরে। এ সিনেমার সফলতা আরো বিস্ময়কর ছিল এ কারণে যে এর কোনো গল্প ছিল না, স্পষ্টতই স্পেস ওডিসি ছিল একটি নিরীক্ষাধর্মী সিনেমা, যা সভ্যতার প্রথম হাতিয়ার ব্যবহারকারী বানর থেকে শুরু করে সর্বশেষ অস্ত্র মহাকাশযানে চড়ে মানুষের তার জন্মগ্রহ ছেড়ে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনুসরণ করেছিল।
কুব্রিকের ‘আ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ’ (১৯৭১)-এ তারকা ম্যালকম ম্যাকডয়েলকে দেখা যায় নিকটভবিষ্যতের ভয়ংকর কল্পপৃথিবীর হিংস্র এক চরিত্র হিসেবে। এ সিনেমায় উচ্চারিত ভবিষ্যত্বাণীগুলো এতটাই ভীতিকর ছিল যে ব্রিটেনে আজো সিনেমাটি নিষিদ্ধ। উইলিয়াম থ্যাকারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এবং রায়ান ও’নিল অভিনীত পিরিয়ড-চলচ্চিত্র ‘ব্যারি লিন্ডন’ (১৯৭৫) কুব্রিকের কম সাফল্য পাওয়া সিনেমাগুলোর একটি। স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে হরর সিনেমা ‘ দ্য শাইনিং’ (১৯৮০) নিয়ে এবং তাঁর সেই বিখ্যাত সংলাপ ‘‘হিইইইয়ার’স জনি” নিয়ে তারপর এলেন জ্যাক নিকলসন।
“‘ফুল মেটাল জ্যাকেট’ (১৯৮৭) শুরু হয়েছিল মেরিন সেনাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের দৃশ্য দিয়ে (কুব্রিক সত্যিকারের একজন কসরত প্রশিক্ষক, আর. লি এর্মিকে ভাড়া করেছিলেন এ চরিত্রের জন্য) এবং তারপর ভিয়েতনামের যুদ্ধের ফুটেজের দৃশ্য সংযোজনের মাধ্যমে এগিয়ে চলে সিনেমাটি। তারপর আসে দীর্ঘ বিরতি, যেহেতু পরিচালক তখন নানা রকম প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলেন, তবে সেগুলো কখনই ক্যামেরা পর্যন্ত গড়ায়নি। তার মধ্যে একটির নাম ছিল ‘এআই’, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত এ সিনেমায় হয়তো ‘২০০১’-এর কম্পিউটার, হ্যাল ৯০০০-এর প্রত্যাবর্তন ঘটত।”
এখন আর একটি ছবিই বাকি আছে: ‘আইজ ওয়াইড শাট।’ পুরোপুরি গোপনীয়তা রক্ষা করে নির্মিত এ সিনেমা অস্বাভাবিক সব যৌন দৃশ্যে ভরপুর বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবারের প্রদর্শনীর আগে ওয়ার্নার স্টুডিওর কর্মকর্তারা ২ মিনিটের ট্রেলার ছাড়া সিনেমাটির আর কোনো ফুটেজ দেখতে পাননি, যে ট্রেলারখানাও এতটাই দঃসাহসী ছিল যে আমাকে জানানো হয়েছিল, ওয়ার্নার স্টুডিওর এক কার্যনির্বাহী সেটি দেখার পর নাকি বলেছিলেন, ‘স্ট্যানলি যে স্টুডিওর লোগোটি ট্রেলারে বাদ দিলেন, আমি জানি না এতে আমার ক্রুদ্ধ হওয়া নাকি স্বস্তি পাওয়া উচিত।’
একসময় যখন বড় সিনেমাগুলোর একদিনের শুটিং খরচ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার ছিল, তখনো কুব্রিকের সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রে মাসের পর মাস কিংবা বছরের লম্বা শুটিং শিডিউল সম্ভবপর হতো। কারণ কুব্রিক নির্ভুলভাবে জানতেন তাঁর কোন জিনিসটি চাই এবং তিনি যতটা সম্ভব কম লোকজন ব্যবহার করতেন বলেই।
মডিন আমাকে বলেছিলেন, “তিনি অপচয়ে বিশ্বাস করতেন না। ‘ফুল মেটাল জ্যাকেট’-এ কখনো মাত্র ছয়জন লোক নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। একদিন তাঁর কথা অনুযায়ী যথাযথভাবে সেট তৈরি করা হলে তিনি বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে বলেন, ‘এই সেট ঠিকঠাক আছে এবং এর আর বদলও হবে না, তাই এখানে আমার আর তোমাকে প্রয়োজন নেই।’ তিনি লোকটিকে তাঁর বাড়িতে তার বসানোর কাজ করতে পাঠিয়ে দিলেন।”






