বিলাভেড: টনি মরিসন

বিলাভেড যুক্তরাষ্ট্রের দাস ব্যবসা যুগের পলাতক ক্রীতদাস সেথের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা বেদনা, সাহস ও সন্ত্রাসের গল্প, যার প্রাক্তন ‘মালিক’ তাকে ফিরিয়ে নিতে আসে। এটি ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত আমেরিকান উপন্যাসগুলোর পুনর্লিখন (তাদের সাদা-কালো আর শ্যামলা-ফর্সা চিত্রকল্পের ব্যবহারসহ), যা সত্যিকার ট্র্যাজিক চরিত্র অর্জন করে এবং এতটাই সুকল্পিত ও সুলিখিত যে তা পাঠকদের পরাজিতের বোধের পরিবর্তে বিজয়ীর অনুভূতি দেয়।

 

দ্য ব্যারন ইন দ্য ট্রিস: ইতালো কালভিনো&dquote;&dquote;

এ দীর্ঘ গল্পটি সাধারণত দ্য ক্লোভেন ভিসকাউন্ট ও দ্য ননএক্সিস্ট্যান্ট নাইট-এর সঙ্গে একই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত থাকে। এ তিনটি গল্পই অসাধারণ সব রোমাঞ্চকর ঘটনার মজাদার বয়ান, যা কেবল সেকালের জীবন ও সময়কেই উপস্থাপন করে না, পাশাপাশি কালভিনো নিজেই বলেন, আমাদের সময়কেও উন্মোচন করে অনিবার্যভাবে। বৃক্ষবাসী ব্যারন বালকবেলা থেকেই তার নিজের জমিদারির জঙ্গলে বাস করতে শুরু করেন এবং তার মৌলিক বুদ্ধিমত্তার জোরে তাকে কখনই বৃক্ষ থেকে অবতরণ করতে হয় না। নাপোলিয়ঁর যুদ্ধগুলোর সময়ে ও তার আগের পটভূমিকায় রচিত এ আধুনিক দার্শনিক গল্পটি মূলত অষ্টাদশ শতকের দর্শন গল্প থেকেই উত্কলিত। এটি বুদ্ধির দীপ্তি ও বিস্ময়ে পরিপূর্ণ।

 

অ্যাবা অ্যাবা: অ্যান্থনি বার্জেস&dquote;&dquote;

এটি রোমে কিটসের মৃত্যু বিষয়ে একটি ছোট ও নিখুঁত উপন্যাস। বার্জেস কিটস ও রোমের খিস্তিখেউড় করা কবি জ্যুসেপ্পে জোয়াকিনো বেল্লির মধ্যে একটি কাল্পনিক সাক্ষাতের বর্ণনা দেন, যিনি আবার একজন পাদ্রি ও পরীক্ষক ছিলেন। বার্জেসের করা বেল্লির সনেটগুলোর দুর্দান্ত ল্যাঙ্কাশায়ারীয় অনুবাদ এ বইয়ের ঐশ্বর্যের অংশ। ‘অ্যাবা অ্যাবা’ একাধারে সনেটের অষ্টপদের অন্ত্যমিলের ধ্বনি, ক্রুশবিদ্ধ যিশুর হতাশার ক্রন্দন এবং বার্জেসের সমাধিস্তম্ভে উত্কীর্ণ নিজের নামের আদ্যক্ষরের সংমিশ্রণ, যেমনটি কিটস লিখেছিলেন তার এপিটাফে, ‘এখানে শুয়ে আছে একজন, যার নাম লেখা ছিল জলের অক্ষরে।’ বার্জেসের উদ্ভাবন দক্ষতা ও ঔজ্জ্বল্য সাধারণত সমানভাবে ক্রিয়াশীল থাকে না। তবে এই সুসংহত, মর্মস্পর্শী উপন্যাসে সবকিছুই ঠিকঠাক উত্তীর্ণ হয়।

 

লেম্প্রিয়ের’স ডিকশনারি: লরেন্স নরফোক&dquote;&dquote;

আঠারো শতকের লন্ডন ও ফ্রান্সে সংঘটিত যুদ্ধ, বাণিজ্য, রাজনীতি ও ষড়যন্ত্রনির্ভর একটি সুবিশাল, উচ্চাকাঙ্ক্ষী গ্রন্থ। এর নায়ক এক ধ্রুপদী অভিধানের লেখক, জন লেম্প্রিয়ের, যার জীবন জড়িয়ে যায় তার নিজেরই রচিত কিংবদন্তির বিস্ময়কর পুনরাবৃত্তিতে। নরফোক জানান, যা কিছুকে আমাদের কষ্টকল্পিত বলে মনে হয়, সেগুলো সবই সম্ভবপর, আর যেগুলোকে আমরা বাস্তব বলে মানি, সেসবই আসলে কল্পিত। বইটি উজ্জ্বল অশ্বের গতিতে এগিয়ে চলে এবং নরফোক লেখেনও দারুণ সুস্বাদু ভাষায়।

 

দ্য ব্লু ফ্লাওয়ার অথবা সম্ভবত দ্য বিগিনিং অভ স্প্রিং : পেনিলোপে ফিটজেরাল্ড&dquote;&dquote;

কীভাবে বাছব? আমি শুধু জানি, অন্য স্থানের অন্য অতীত নিয়ে লেখার প্রয়াসটুকু ফিটজেরাল্ডের স্বভাবসুলভ সূক্ষ্ম, বুদ্ধিদীপ্ত দার্শনিক কল্পনাশক্তির এক নবতর উৎসারণ ঘটিয়েছে। দ্য ব্লু ফ্লাওয়ার নাতিদীর্ঘ, মজাদার ও ভয়ংকর রকম মর্মমূল কাঁপানো রচনা, যা কবি নোভালিসের (সংক্ষিপ্ত) জীবন ও (সংক্ষেপিত) চিন্তাগুলোকে আরো ঘনীভূত করে একগুচ্ছ অবিস্মরণীয় দৃশ্যকণিকা ও ভাবনার আদলে উপস্থাপন করে। দ্য বিগিনিং অভ স্প্রিং-এর প্রেক্ষাপট ১৯১১ সালের (যুদ্ধ কিংবা বিপ্লবের আগেকার) মস্কো এবং তা সেখানে বসবাসকারী একজন ইংরেজ মুদ্রণ ব্যবসায়ীর জীবনের গল্প বলে। এটি জেন অস্টেনের সঙ্গে চেখভ ও তুর্গেনেভের মিলন; এর জগত্টা রুশ, কাহিনীপরম্পরা বিস্ময়কর, চিত্তাকর্ষক ও আতঙ্কজাগানিয়া। তার মতো আর কোনো লেখক নেই।

অনুবাদ: আলম খোরশেদ

উৎস: The Salon.com Reader’s Guide to Contemporary Authors সংকলন