হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার, টুইটার এবং একালের আরো অনেক অ্যাপ-ধাবিত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে দর্শন ও জ্ঞানের জগতে নিয়ে যায়। এসব দর্শন ও জ্ঞানের খুব কমই সদ্যপ্রসূত, অধিকাংশই সক্রেটিসের বাবার আমল থেকে উদ্ভূত। আমরা যেমন মান্ধাতার বাবার আমল বললে মান্ধাতার বাবা যুবনাশ্বকে স্মরণ করি (মহাশ্বেতা দেবীর বাবা মনীশ ঘটক ওরফে যুবনাশ্ব নয়। যুবনাশ্ব নাম নিয়ে ‘মান্ধাতার বাবার আমল’ শিরোনামে মনীশ ঘটক দীর্ঘদিন একটি কলাম লিখেছেন)। সক্রেটিসের বাবার আমল বললে তার বাবা সোফ্রোনিকাস নামের একজন গ্রিক পাথরমিস্ত্রির কথা স্মরণ হয়। বাবা চেয়েছিলেন ছেলেও তার মতো পাথরের উস্তাগার হয়ে ওঠুক। তা হয়নি, ছেলেকে পেয়েছে জ্ঞানের ভূত, তিনি হয়ে উঠেছেন দার্শনিক। এ লেখাটিতে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে, তার কিছুই মৌলিক নয়, তবে এর অধিকাংশই হালে পরিমার্জিত, পরিবর্ধিত ও পরিশোধিত। তাছাড়া এ তো পুরনো বলে অবশ্যই কপিরাইটের বাঁধনমুক্ত। এর সবই আমি পেয়েছি হোয়াটসঅ্যাপে। ইংরেজি টেক্সট বাংলায় অনুবাদ করেছি, বাংলায় পেয়ে থাকলে কিঞ্চিৎ এদিক-ওদিক করেছি—
সময়জ্ঞান
ক. সময়ের হিসেবে নিউইয়র্ক ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে ৩ ঘণ্টা এগিয়ে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে ক্যালিফোর্নিয়া আলসে ও ধীরগতির।
খ. কেউ ২২ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছে, কিন্তু একটা ভালো চাকরি পেতে পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছে।
গ. কেউ ২৫ বছর বয়সে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হয়েছে আর ৫০ বছর বয়সে মারা গেছে।
ঘ. অন্য একজন ৫০ বছর বয়সে সিইও হয়েছে এবং ৯০ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিল।
ঙ. কেউ ৪৫ বছর বয়সে তিন বউ তালাক দিয়েছে, আবার কেউ ৫৫ বছর বয়সেও বিয়ে করতে পারেনি।
চ. বারাক ওবামা ৫৫ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসরে গিয়েছেন, আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭০ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হয়েছেন।
ছ. আসলে প্রত্যেকেই যার যার টাইম জোন অনুযায়ী কাজ করে। কখনো মনে হতে পারে কেউ আপনার পেছনে পড়ে আছে, কেউ আপনার চেয়ে এগিয়ে গেছে। এতে আনন্দিত বা ব্যথিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রত্যেকেই নিজস্ব সময়ে যার যার টাইম জোন অনুযায়ী চলছে। তাদের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত হওয়ার বা তাদের নিয়ে রসিকতা করার কোনো কারণ নেই। আপনি আছেন আপনার সময়ে, আপনার টাইম জোনে। লাইফ ইজ অ্যাবাউট ওয়েটিং ফর দ্য রাইট মোমেন্ট টু অ্যাক্ট।
জ. কাজেই আয়েশ করুন।
আপনি দেরিও করেননি
আপনি আগেও যাননি।
আপনি ঠিক সময়ে আপনার টাইম জোনেই আছেন, তাড়াহুড়ো করে বিপদ ডেকে আনবেন না। (অনূদিত)
সাবধানে হ্যাঁ বলুন
এটি ইউরোপীয় জ্ঞান, তবে দেশী ভার্সনও আছে।
স্ত্রী তখন বিদেশ সফর করছে। অনেক দিন পর এমন স্বাধীনতা পেয়ে আপনার মনটা উচাটন হয়ে আছে। এমন সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। কলিং বেল বাজল। দরজা খুলে আপনি অভিভূত। পাশের অ্যাপার্টমেন্টের সুন্দরী প্রতিবেশী মিষ্টি হেসে বললেন, একাই তো? আপনি মুখ খোলার আগেই তিনি বললেন, একা একা একটুও ভালো লাগছে না। ইচ্ছা করছে একটা বারে গিয়ে ড্রিংক, ডিনার আর ডান্স করে রাতটা পার করে দিই। আপনি রাতে ফ্রি আছেন তো?
না চাইতেই এমন অভাবনীয় অফার আপনাকে আনন্দে বাকরুদ্ধ করে ফেলল, তবুও আপনি কোনোভাবে বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই।
সুন্দরী বললেন, বাহ্ দারুণ। আমি ভেবেছিলাম যদি বাইরে কোথাও আপনার অ্যাঙ্গেজমেন্ট থাকে।
না, বাসায়ই তো আছি।
তিনি বললেন, বেশ তাহলে আমার সন্তানকে আজ রাতের জন্য আপনার কাছেই রেখে যাচ্ছি, দেখে রাখবেন কিন্তু, এক্সট্রা ডায়াপারও দিয়ে যাচ্ছি। আমি সকাল সকাল ফিরে আসব।
নীতিশিক্ষা: পুরোটা শুনুন এবং সবটা বুঝে হ্যাঁ বলুন। ফ্রি অফারের সঙ্গে লুকানো কিছু শর্ত থাকে। (অনূদিত)
বিবাহজ্ঞান
হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্বের সেরা কজন পোড় যাওয়া বিবাহিত পুরুষের ‘বিবাহজ্ঞান’ বহন করে এনেছে। এর প্রায় সবই জানা, তবুও অনূদিত হলো—
সক্রেটিস
যেভাবেই হোক বিয়ে করুন। যদি ভালো স্ত্রী পান সুখী হবেন, যদি স্ত্রী মন্দ হয়, তা হলে হবেন দার্শনিক।
(মহান দার্শনিক সক্রেটিসের স্ত্রী জ্যানথেপি ছিলেন দারুণ ঝগড়াটে। তার নাম এতই পরিচিত হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত তা অভিধানেও প্রবেশ করে। জ্যানথেপি মানে ঝগড়াটে স্ত্রী।
সক্রেটিস যখন নিজ বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে শিষ্যদের সঙ্গে জ্ঞানের আলাপ করছেন, জ্যানথেপি তখন ভেতরে ভীষণ চেঁচাচ্ছেন। সক্রেটিসের সাড়া না পেয়ে তিনি এক কলসি পানি তুলে স্বামীর মাথায় ঢেলে দিলেন। সক্রেটিস বিব্রত না হয়েই শিষ্যদের বললেন, গর্জনের পরই বর্ষণ হয়।)
বারাক ওবামা
একজন ভালো স্ত্রী নিজে যখন কোনো ভুল করে অবশ্যই তার স্বামীকে ক্ষমা করে দেয়।
রুডি গুলিয়ানি
আমি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। আমি দুই বছর বিবাহিত জীবনযাপন করেছি।
জর্জ ডব্লিউ বুশ
এতদিন ধরে টিকে থাকা আমাদের দাম্পত্য জীবনের রহস্য কী, অনেকেই জানতে চেয়েছেন। আমি রহস্যটা জানিয়ে দিচ্ছি: আমরা বিয়ের পর থেকে সময় নিয়ে সপ্তাহে দুদিন কোনো না কোনো রেস্তোরাঁয় যাচ্ছি—ক্যান্ডল লাইট ডিনার, হালকা সংগীত আর নাচ। এতে অনেক কাজ হয়। ও যায় সব মঙ্গলবার আর আমি সব বৃহস্পতিবার।
আল গোর
বিয়ের পর স্বামী ও স্ত্রী একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ হয়ে যায়। তারা কখনো পরস্পরের মুখোমুখি হতে পারে না, তার পরও একসঙ্গে লেগে থাকে।
মাইক টাইসন
নারী আমাদের বড় কিছু পেতে উৎসাহ আর তা অর্জন করতে বাধা দেয়।
শ্যাকিল ও’নিল
দুটি গোপন টিপস বিয়েকে প্রাণবন্ত রাখে
১. যখন তুমি ভুল করবে, স্বীকার করবে
২. যখন তুমি ঠিক করবে, একদম শাট আপ।
অজ্ঞাত
তুমি যখন প্রেমে, বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে
তুমি যখন বিবাহিত, তুমি বিস্মিত হও এসব কী ঘটছে!
আরো একটি
বিয়ে হচ্ছে অপূর্ব সুন্দর অরণ্য, যেখানে সাহসী সিংহের মৃত্যু ঘটে সুন্দর হরিণীর হাতে। (অনূদিত)
পজিটিভ অ্যাটিচিউড
যেকোনো প্রতিকূল অবস্থায় পজিটিভ অ্যাটিচিউট সবকিছু সহজ করে দেয়। এক ভদ্রলোক একটি তেলাপোকা মারতে এগিয়ে আসছেন। তেলাপোকা চেঁচিয়ে ওঠে: আমাকে মারবি? আয়, মার ব্যাটা ভীতু কোথাকার। কারণ আমার ওপর তোর খুব ঈর্ষা, কারণ আমি তোর বউকে ভয় দেখাতে পারি। তুই তো কচুটাও করতে পারিস না।
***
ডাক্তার পরীক্ষা শেষ করে রোগীকে বললেন, আপনার লিভার বড় হয়ে গেছে?
শুনেই রোগী হাসি মুখে বলল, সত্যি! তার মানে এতে আরো হুইস্কি ধরবে?
***
ডায়েটিশিয়ানকে এক ভদ্র মহিলা বললেন, দেখুন আমি আমার ওজন নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই, আমি ভাবছি আমার উচ্চতার কথা।
ডায়েটিশিয়ান বললেন, মানে?
মহিলা বললেন, আপনার চার্ট দেখে মনে হচ্ছে আমার যা ওজন, তাতে আমাকে তো ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা হতে হবে। (অনূদিত)
দেশী রসায়ন জ্ঞান
নিজের সন্তান যখন কাঁদে, বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে, কিন্তু প্রতিবেশীর সন্তান যখন কাঁদে, তখন মাথা ধরে যায়।
নিজের বউ যখন কাঁদে মাথা ধরে যায়, কিন্তু প্রতিবেশীর বউ যখন কাঁদে, বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। (উদ্ধৃত)
এইচআর জ্ঞান
কোম্পানি চালাতে হলে প্রশাসনিক জ্ঞানের সঙ্গে হিউম্যান রিসোর্সেস জ্ঞানও জরুরি।
কোম্পানির চাহিদার সঙ্গে মেলে এমন তিন প্রার্থীকে এক এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি এমডিকে ফোন করে জিজ্ঞেস করল, তিনজনের কাকে কোন বিভাগের জন্য পাঠাব?
এমডি বললেন, একটি রুমে ১০০ ইট রেখে প্রার্থীদের ভেতরে পাঠিয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে বলুন। ২ ঘণ্টা পর তাদের কাজকর্ম পরীক্ষা করে নিজের ফর্মুলা অনুসারে কাজে লাগিয়ে দিন:
১. যদি দেখেন তখনো ইট গুনছে, তাহলে অ্যাকাউন্টসে। যদি দেখেন আবার গুনছে তাহলে অডিট ডিপার্টমেন্টে।
২. যদি সব ইট এলোমেলো করে ভ্যাবাচ্যাকা খেতে থাকে, তাহলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। যদি উদ্ভটভাবে ইট সাজাতে থাকে, তাহলে প্ল্যানিংয়ে।
৩. যদি পরস্পরের দিকে ইট নিক্ষেপ করতে থাকে, তাহলে অপারেশন্সে। যদি ইটের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তাহলে সিকিউরিটিতে।
৪. যদি ইট ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলে, তাহলে ইনফরমেশন টেকনোলজিতে। যদি ঝিম মেরে বসে থাকে, তাহলে এইচআর ডিপার্টমেন্টে।
৫. কোন ইটের সঙ্গে কোনটা মিলিয়ে প্যাকেজ নিয়ে ভাবে কিন্তু একটা ইটও হারায়নি, তাহলে সেলসে। যদি তারা রুম ছেড়ে চলে গিয়ে থাকে, তাহলে মার্কেটিংয়ে।
৬. আর যদি জানালা পথে কেবল তাকিয়ে থাকে তাহলে স্ট্র্যাটেজিক প্লানিংয়ে, যদি ইটের দিকে মনোযোগ না দিয়ে নিজের গল্পগুজবে মত্ত থাকে তাদের এখনই টপ ম্যানেজমেন্টে বসাতে হবে। (অনূদিত)
সমলিঙ্গ জ্ঞান
অত্যন্ত স্মার্ট স্ত্রী স্বামীকে জিজ্ঞেস করল, আমাকে যদি তোমার সবচেয়ে প্রিয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে কখনো ঘুমোতে দেখো, তাহলে তোমার প্রথমেই কী মনে হবে?
স্বামী বলল: তুমি লেসবিয়ান। (অনূদিত)
ভারতজ্ঞান
অটল বিহারী বাজপেয়ী, আজাদ ও নরেন্দ্র মোদি প্রমাণ করেছেন জীবনে যদি স্ত্রীর কোনো উৎপাত না থাকে, তাহলে কবি, বিজ্ঞানী, এমনকি চাওয়ালাও দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন।
কিন্তু মায়াবতী, মমতা ব্যানার্জি ও জয়ললিতা প্রমাণ করলেন যদি উৎপাত করার মতো কোনো স্বামী না থাকে, তাহলে একজন নারী গোটা জাতিকে তটস্থ করে তুলতে পারেন। (অনূদিত)
সিনিয়র সিটিজেন জ্ঞান
এক বৃদ্ধের স্ত্রী প্রয়াত হলে শোক কাটিয়ে উঠে তিনি আবার বিয়ে করেন। এই বউটি অনেক ইয়ং। বৃদ্ধ তার প্রিয় বন্ধুদের সান্নিধ্যে বেশ মজা করতে করতে হঠাৎ স্ত্রীর কথা মনে করল। বলল, আমি তো বেশ ভালোই সময় কাটাচ্ছি কিন্তু আমার বেচারি স্ত্রী বাড়িতে বোরড হয়ে আছে।
বন্ধুরা বুড়োকে পরামর্শ দিলেন, তোমার বাড়িতে একটা ইয়ং টেন্যান্ট রাখো। তাহলে তার সঙ্গে তোমার স্ত্রীর ভালো সময় কেটে যাবে।
তিনি বন্ধুদের পরামর্শ মেনে নিলেন।
কিছুকাল পর বন্ধুরা হাসিতে হাসিতে জিজ্ঞেস করল, তোমার বউ কেমন আছে?
বুড়ো সানন্দে জবাব দিলেন, প্রেগনেন্ট।
বন্ধুরা বললেন, তোমার সেই ইয়ং টেন্যান্টের খবর কী?
তিনি বললেন, সেই মেয়েটাও প্রেগন্যান্ট।
নীতিশিক্ষা: সিনিয়র সিটিজেনের ক্ষমতাকে কখনো খাটো করে দেখতে নেই। (অনূদিত)
বাক্স্বাধীনতা
এই ধ্রুপদ বক্তব্যটি উগান্ডায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইদি আমিনের— দেয়ার ইজ ফ্রিডম অব স্পিচ বাট আই ক্যান নট গ্যারান্টি ফ্রিডম আফটার স্পিচ।
বাক্স্বাধীনতা আছে। কিন্তু বলার পর কী হবে, সে গ্যারান্টি আমি দিতে পারব না।
এক আমেরিকান তার রুশ বন্ধুকে বলল, আমার দেশে বাক্স্বাধীনতা অনেক। হোয়াইট হাউজের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের যে কেউ আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে বাপ-মা তুলে গাল দিলেও তার কিছু হয় না।
রুশ বলল, আমার দেশের কেউ যদি হোয়াইট হাউজের সামনে দাঁড়িয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে গালাগাল দিয়ে আসে, তাকে অর্ডার অব লেনিন খেতাব দেয়া হয়।
ধর্মদর্শন
এটি একটি ব্যক্তিগত কাহিনী, প্রথম পুরুষে লিখিত—
আমি একবার একটি আন্তঃধর্মীয় সংহতি সভায় গিয়েছিলাম। প্রথমে বিশপ এলেন এবং আমার হাতে তার হাত স্থাপন করে বললেন, জিসাস ক্রাইস্টের ইচ্ছাতে তুমি আজ হাঁটবে।
আমি হেসে তাকে বললাম, আমি তো প্যারালাইজড নই।
তারপর এলেন ইহুদি র্যাবাই। তিনি আমার হাতে তার হাত রেখে বললেন, ঈশ্বরের ইচ্ছাতে তুমি আজ হাঁটবে।
আমি বললাম, আমার তো কোনো সমস্যা হয়নি।
তারপর হিন্দু সাধু। তিনিও একইভাবে হাতে হাত রেখে বললেন, ব্যাটা তুমি নিজের পায়ে হাঁটবে।
আমি বললাম এসব বলছেন কেন, আমার পায়ে তো কোনো সমস্যা নেই।
তারপর বুদ্ধের ধর্মানুসারী মংক এলেন এবং আমার হাতের ওপর তার হাত রেখে বললেন, মহান বুদ্ধের ইচ্ছাতে তুমি হাঁটবে।
এবার ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বললাম, আমার তো কিছু হয়নি। পা ঠিকই আছে।
সেমিনার শেষে যখন বাইরে এলাম, দেখি আমার গাড়িটা নেই, চুরি হয়ে গেছে।
তখন থেকেই আমি সব ধর্মকে বিশ্বাস করি (অনূদিত)
পিতৃত্বের জ্ঞান
মাতৃত্বের পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান মায়েদের অবশ্যই আছে। সন্তানরাও জানে মা কে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্তানটির বাবা কে, মাও ঠিকঠাক বলতে পারে না। জার্মান চ্যান্সেলর উইরি ব্যান্ডট তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, বন্দর দিয়ে কত নাবিক আসে। কত নাবিক যায়, বন্দরের যৌনকর্মী আমার মা কখনো জানতে পারেনি কোনটি আমার বাবা।
হোয়াইসঅ্যাপ বার্তাটি এমন:
আমেরিকায় সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর দিবস ‘ফাদার্স ডে’। ৮০ ভাগ আদৌ জানে না কাকে শুভেচ্ছা জানাবে। ২০ ভাগ ভয়ে থাকে, অন্য কেউ এসে না আবার শুভেচ্ছা জানায়।
ব্রোথেল জ্ঞান
একই সেলুনে একই সময় বারাক ওবামা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প শেভ করতে ঢুকেছেন। ডোনাল্ডের শেষ হলে নাপিত যখন তার মুখে আফটার শেভ লোশন লাগতে গেল ট্রাম্প বাধা দিলেন। বললেন, আমার স্ত্রী মেলানিয়া এটা একবার শুঁকেই বলবেন আমি ব্রোথেলে গিয়েছি। দ্বিতীয় নাপিত শেভ শেষ হওয়ার পর ওবামা কাছে আফটার শেভ লোশন নিয়ে গিয়ে বললেন, ‘আপনি কি লাগাবেন, মিস্টার ওবামা।’ ওবামা বললেন, সমস্যা নেই, আমার স্ত্রী মিশেল ব্রোথেলের ভেতরের গন্ধ কেমন জানেই না।
সাফল্য কাকে বলে?
এটি দেশীয় কিংবা উপমহাদেশীয় নয়, উত্তর গোলার্ধ থেকে আসা। সাফল্য কী? এক কথার উত্তর নেই, বয়সের সঙ্গে সঙ্গা পাল্টে যায়।
১ বছর: কারো সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারা
৪ বছর: নিজের প্যান্ট না ভিজিয়ে হিসু করতে পারা
৮ বছর: বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাওয়া
১২ বছর: বন্ধু-বান্ধব পাওয়া
১৮ বছর: ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া
২৩ বছর: বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট হওয়া
২৫ বছর: কিছু উপার্জন শুরু করা
৩০ বছর: সংসার শুরু করা
৩৫ বছর: টাকা বানানো (অবশ্যই জাল নোট বানানো নয়)
৪৫ বছর: যৌবনের চেহারাটা ধরে রাখা
৫০ বছর: নিজের সন্তানদের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিতে পারা
৫৫ বছর: নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে পারা
৬০ বছর: তখনো ড্রাইভিং লাইসেন্স বহাল থাকা
৬৫ বছর: মোটামুটি নিরোগ জীবনযাপন করতে পারা
৭০ বছর: অন্য কারো ঘাড়ের বোঝা না হওয়া
৭৫ বছর: পুরনো বন্ধুদের ধরে রাখতে পারা
৮১ বছর: বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাওয়া
৮৬ বছর: নিজের প্যান্ট না ভিজিয়ে হিসু করতে পারা
৯০ বছর: কারো সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারা।
লক্ষ করুন প্রথম চারটি এবং শেষ চারটি সাফল্য একই রকম (অনূদিত)






