অমৃতসরের রাস্তায় দুটো সশস্ত্র সামরিক যান গুড গুড করতে করতে এগিয়ে একটি সরু লেনের সামনে থামল। পাশ দিয়ে মার্চ করে যাওয়া সৈন্যরাও থেমে গেল। গলিটা এতই সরু যে এর ভেতর দিয়ে সশস্ত্র সামরিক গাড়ি ঢোকানো সম্ভব নয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড এডওয়ার্ড হ্যারি ডায়ার গাড়ি থেকে নেমে এলেন এবং রাস্তার মুখ অপ্রশস্ত দেখে হতাশার দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। তিনি তার বাহিনীর রাইফেলধারী ২৫ জন গোর্খা ও ২৫ বালুচ সৈনিক এবং খুকরি সজ্জিত ৪০ জন গোর্খা সদস্যকে তাকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিলেন। এ গলির শেষ প্রান্তে আয়তাকার একটি খালি, অব্যবহূত জায়গা, একাংশ বালি ও নির্মাণসামগ্রীতে ঢাকা, জায়গাটির নাম জালিয়ানওয়ালাবাগ। বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে চারদিকেই ঢাকা। ভেতরে ঢোকার পথে উঁচু জায়গার দুই পাশেই তিনি তার বাহিনীকে মোতায়েন করলেন। ব্রিগেডিয়ার ডায়ার যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে ১০০ গজ দূরে একজন বক্তা জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। কেউ কেউ তার কথা আধেক শুনছেন, কেউ মাঠে ঘুমোচ্ছেন, অন্যরা স্রেফ গল্পগুজব করছেন। ডায়ার চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘ফায়ার।’

গুলি শুরু হলো, সমাবেশে আতংক ছড়িয়ে পড়ল এবং জনতা ঘের দেয়ালের দিকে ছুটতে শুরু করল। দেয়ালের ফাঁক দিয়ে বেরোনোর মতো তিনটি সরু পথ। সৈন্যরা জনতার ওপর গুলি চালাতে লাগল। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেখিয়ে দিলেন বেরোনোর পথে যেখানে জনতার ভিড় বেশি, সেখানেই গুলি চালাও। কেউ কেউ ছোট দেয়াল ডিঙিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ডায়ার বন্দুক সেদিকে তাক করে ট্রিগার টেপার নির্দেশ দিলেন। দেয়ালের গোড়ায় জমল মৃত মানুষের স্তূপ, যারা কোনোভাবে দেয়াল ডিঙালেন, জখম নিয়ে সামনের গলিপথে নিষ্প্রাণ ঝরে পড়লেন। বাগের ভেতরে যেমন, বাইরের গলিপথেও কিছুক্ষণের মধ্যে মরদেহে ঠাসাঠাসি অবস্থা।

মৃত্যুর এ নৃত্য ১০ মিনিট ধরে অব্যাহত থাকল। সৈন্যরা গুলি করল, গুলি শেষ হতে আবার ভরল এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নির্দেশিত টার্গেটে আবার গুলি করল। যখন তাদের সব গুলি খরচ হয়ে গেল, তিনি তাদের প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিলেন। মরদেহের স্তূপের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে তিনি তার সদর দপ্তর রামবাগের দিকে গাড়ি ঘোরালেন।

১৩ এপ্রিল, ১৯১৯ জালিয়ানওয়ালাবাগে সমবেত জনতার ওপর গুলিবর্ষণের এ ঘটনা ইতিহাসের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের একটি...