১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রেজল্যুশন-১৮১-এর আওতায় দুটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের কথা ওঠে। একটি আরব ও অন্যটি ইহুদিদের জন্য। এক-তৃতীয়াংশ ইহুদি জনগোষ্ঠীর জন্য ফিলিস্তিনের অর্ধেকের বেশি ভূমি বরাদ্দ হয়। তাও আবার নেগেব লেকের পার্শ্ববর্তী উর্বর জমি। প্রস্তাবটি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স মেনে নিলেও আরবরা মানেনি। গাজাকে তখন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল আরব অংশে। রেজল্যুশন ঘোষণার পর যে সহিংসতা হয়, তা ছিল মূলত জেরুজালেম, জাফা ও হাইফায়। গাজার অবস্থা ছিল তুলনামূলকভাবে শান্ত। জায়নিস্টরাও তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ভূমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে বেশি মনোযোগী। ক্রমে সেখানে জমাট বাঁধতে থাকে ক্ষোভ। প্রভাব বিস্তার করে মুসলিম ব্রাদারহুড।
১৫ মে ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিন ত্যাগের কথা বলে। ফিলিস্তিনের অন্যান্য শহরের মতো গাজায়ও প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল কমিটি। তখন সেখানকার নিরাপত্তা নির্ভর করত কতিপয় মিলিশিয়ার হাতে। ব্রিটিশরা প্রস্থানের পথই প্রস্তুত করছিল মূলত। মিসরীয় সংগঠনগুলো এর সুবিধা নিতে থাকে। ১৯-২২ মার্চ ব্যক্তিগতভাবে হাসান আল বান্না আসেন স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উৎসাহ দিতে। দ্বন্দ্ব একপর্যায়ে গড়ায় যুদ্ধে, যা প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ নামে পরিচিত। যুদ্ধে হাজারো মানুষ ফিলিস্তিন থেকে সরে গাজায় আশ্রয় নেয়। মিসরীয় বাহিনী সিনাই থেকে আশকেলনের দক্ষিণভাগ পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার উপত্যকা অংশের দখল নেয়। গাজায় নিয়ন্ত্রণ পরিচালনার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করা হয় সেখানকার মিলিশিয়াদের হাতে। জামাল আবদুল নাসের তখনো প্রেসিডেন্ট হননি। তিনি ষষ্ঠ পদাতিক ডিভিশনে কাজ করছেন। প্রথমে রাফা ও পরে গাজায়। ১১ জুন চার সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হয়। ৭ জুলাই গাজা পরিদর্শনে আসেন কিং ফারুক। একই বছরের সেপ্টেম্বরে অল ফিলিস্তিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে গাজাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন জামাল হুসাইনি। এর উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনকে পুরোপুরিভাবে মুক্ত করা। ৩০ সেপ্টেম্বর প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল কাউন্সিল গঠিত হয়। কিন্তু মিসর তার সামরিক হস্তক্ষেপ সরাতে নারাজ। গাজার সে মিটিংয়ের দিনই আম্মানে গঠিত হয় ফিলিস্তিন কংগ্রেস। তারা হাশেমীয় রাজত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। শরণার্থীর সংখ্যাও ক্রমে বাড়তে থাকে। ইবনা ও রামাল্লা থেকে শরণার্থীর ঢল প্রবেশ করছিল গাজায়। ৮০ হাজার জনগোষ্ঠীর স্থানটিতে মানুষ প্রবেশ করে দুই লাখের বেশি।
প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর প্রায় দুই দশক মিসর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল গাজার ওপর। গাজার জনগণকে মিসরে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। গাজার নিয়ন্ত্রণ ছিল মিসরীয় সামরিক জেনারেলের অধীনে, যার প্রথম গভর্নর ছিলেন আহমেদ সালেম। একাধারে তিনি হায়ার ইসলামিক কাউন্সিলের (এইচআইসি) প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গাজায় আসত পোর্ট সাইদ হয়ে স্থলপথে। শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা ছিল বেশ খারাপ। ইউএনআরডব্লিউএ আটটি শরণার্থীশিবির প্রতিষ্ঠা করে। সবচেয়ে বড় ক্যাম্প ছিল জাবালিয়ায়, সেখানে থাকত ৩৫ হাজার মানুষ। কেবল গাজা নয়, ফিলিস্তিনিরা ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিল জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া ও পশ্চিম তীরে। মিসরীয় প্রশাসন শরণার্থী ফিলিস্তিনিদের কার্যকর পেশায় নিযুক্ত করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল চেয়েছে গাজার অধিবাসী ও শরণার্থীদের মিসরে সরিয়ে দিতে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধ সংগঠন গড়ে উঠতে থাকে তাদের মধ্যে। গাজার সশস্ত্র প্রতিরোধকারীরা পরিচিত ছিল ফিদায়িন নামে। গড়ে ওঠে লিগ ফর ন্যাশনাল লিবারেশনের মতো কমিউনিস্ট আদর্শের দলও। ১৯৫৫ সালে গাজায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী। খান ইউনিসে অভিযান চালিয়ে হত্যা করে ৭২ জনকে। ঠিক পরের বছর এপ্রিলে কয়েকজন ফিলিস্তিনি কমান্ডো ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে এবং ১০ জন ইসরায়েলিকে হত্যা করে। এর পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় মিসরের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। নভেম্বর নাগাদ সেনাবাহিনী প্রবেশ করে গাজায়। সে সময় ৪১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়, আহত হয় আরো ৫৭ জন। খান ইউনিসের রিফিউজি ক্যাম্পে তখন অবস্থান করছিলেন আট বছর বয়সী আবদেল আজিজ আল রানতিসি। এই রানতিসিই পরে ১৯৮৭ সালে হামাসের প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। হামাসপ্রধানের দায়িত্ব নেন ২০০৪ সালে।
১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধের পর গাজা দখলে নেয় ইসরায়েল। সে সময় ইসরায়েলের চালানো আদমশুমারি অনুযায়ী গাজার জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৪ হাজার, যার অন্তত ৬০ শতাংশ শরণার্থী। মিসরীয়রা চলে যাওয়ার পর অনেক গাজাবাসী ইসরায়েলের ভেতরেই কৃষি ও নির্মাণকাজে যুক্ত হতে থাকে জীবন বাঁচানোর তাগিদে। তবে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। পরবর্তী এক দশকজুড়ে সেখানে যে দখলদারত্ব ও আবাস সম্প্রসারণের কাজ চলে, তার পেছনে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যক্ষভাবে ছিল। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লব হয়। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ঠিক কাছাকাছি সময়েই মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদ। প্রতিষ্ঠাতা ফাথি শাকাকি ও আবদুল আজিজ আওদা আগে মুসলিম ব্রাদারহুডেরই সদস্য ছিলেন। তারা দুজনই মনে করতেন মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড ফিলিস্তিন বিষয়ে পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ নয়। ১৯৮১ সালে আনোয়ার সাদাত হত্যাকাণ্ডের পর ইসলামিক জিহাদকে সরিয়ে দেয়া হয় গাজায়।
ইসরায়েলি দখলদারত্ব ও আধিপত্যের মধ্যে ঘৃণা বেড়েছে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। প্রথম বড় ধাক্কাটা আসে ১৯৮৭ সালে, যখন ফিলিস্তিনিরা ইন্তিফাদা বা অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেয়। ডিসেম্বরে শুরু হওয়া ইন্তিফাদা প্রকাশিত হয় মূলত একটি ট্রাক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে। ইসরায়েলি ট্রাক গাজার জাবালিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে শ্রমিকবাহী এক গাড়িতে ধাক্কা দেয়, যাতে চারজনের মৃত্যু হয়। ক্রমে সঞ্চিত অসন্তোষ এবার যেন বারুদে আগুন লাগার মতো হলো। গাজায় শুরু হয় আন্দোলন, যা ক্রমে তীব্র রূপ নেয়। ক্ষুব্ধ সময়ের মধ্যেই মিসরভিত্তিক মুসলিম ব্রাদারহুড গাজায় শক্ত ঘাঁটি তৈরি করে। ১৯৮৭ সালেই তৈরি হয় সশস্ত্র ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। আহমেদ ইয়াসিন ও আবদেল আজিজ আল রানতিসি প্রতিষ্ঠা করেন হামাস। হামাস হচ্ছে হরকাতুল মুকাওয়ামা আল ইসলামিয়ার সংক্ষেপ, যার অর্থ ইসলামী নবজাগরণের আন্দোলন। সাংগঠনিক সনদ অনুযায়ী, দখলদার ইসরায়েলি রাষ্ট্রকে উৎখাত করে একটি ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করাই হামাসের লক্ষ্য। পরবর্তী সময়ে অবশ্য সংগঠনটি বলেছে, ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধপূর্ব সীমানায় ফিরে গেলে, অর্থাৎ ওই যুদ্ধের সময়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেখানে ফিরতে দিলে তারা ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তবে তাদের এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ইসরায়েল। হামাস খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইয়াসির আরাফাতের ধর্মনিরপেক্ষ ফাতাহ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। ফাতাহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫৯ সালে।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ১৯৯৩ সালে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে গঠিত হয় ফিলিস্তিনি অথরিটি। চুক্তির অধীনে ইসরায়েল প্রথমে পশ্চিম তীরের জেরিকো এবং তারপর গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়। সীমিত আকারে নিয়ন্ত্রণ পায় ফিলিস্তিনের নাগরিকরা। কয়েক দশক নির্বাসন জীবন কাটিয়ে গাজায় ফিরেছেন আরাফাত। চুক্তির জন্য তখনকার ইয়াসির আরাফাত এবং তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন নোবেল শান্তি পুরস্কারও পেয়েছিলেন। অসলো প্রক্রিয়া নবনির্মিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে কিছু স্বায়ত্তশাসন দিয়েছে। পাঁচ বছর পর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সে করা হয়নি। ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা চুক্তি লঙ্ঘন করার জন্য অভিযুক্ত করে। এদিকে ফিলিস্তিনিরাও ইসরায়েলের বলপূর্বক বসতি নির্মাণ অব্যাহত রাখার কারণে ক্ষুব্ধ হয়। হামাসের ও ইসলামিক জিহাদ প্রথম থেকেই ছিল ১৯৯৩ সালের অসলো শান্তি চুক্তির বিরোধী। তারা তৎপরতা জারি রাখে। অন্যদিকে ইসরায়েল আরো বেশি চড়াও হয় নিরাপত্তার অজুহাতে। গাজার নাগরিকদের ওপর আরোপ করে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা। আইজ্যাক রবিন মৌলবাদী ইসরায়েলির হাতে নিহত হন ১৯৯৫ সালে। ফলে শান্তি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়া আর সামনে আগাতে পারেনি। ২০০০ সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সম্পর্ক নতুন সংকট খাড়া হয়। গাজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়। বহির্বিশ্বের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের একমাত্র সরাসরি যোগাযোগের উপায়। আরেকটি ক্ষতি ছিল গাজার মৎস্য ব্যবসা, যা ছিল তাদের আয়ের প্রধান উৎস। গাজার মাছ ধরার জায়গা ইসরায়েল সংকুচিত করে দেয়। ইসরায়েলের দোহাই ছিল, জাহাজের মধ্য দিয়ে অস্ত্রের লেনদেন ঘটবে।
২০০৩ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন ঘোষণা দেন গাজা থেকে সৈন্য ও আবাসন সরিয়ে নেয়ার। দুই বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০০৫ সালের আগস্টে ইসরায়েল সে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। কিন্তু নানা প্রক্রিয়ায় টহল কিন্তু বন্ধ হয়নি। ফিলিস্তিনিরা নতুন করে শুরু করার জন্য পরিত্যক্ত ভবন ও অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে থাকে। দখলদারদের আবাসন অপসারণের ফলে গাজায় চলাচলের স্বাধীনতা বেড়ে যায়। ২০০৬ সালে হামাস ফিলিস্তিনের সংসদীয় নির্বাচনে আশ্চর্যজনক বিজয় অর্জন করে। বিজয়টি এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল অস্বস্তিতে পড়ে যায় আন্তর্জাতিক মহল। ২০০৭ সালে হামাস গাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের বাহিনীকে উৎখাত করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশির ভাগই হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সহায়তা বন্ধ করে দেয়। তারা হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেই মনে করেছে। এদিকে ইসরায়েল হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের দেশে প্রবেশ করা বন্ধ করে দেয়। এটি ছিল তাদের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিকল হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েল ও মিসর গাজা দিয়ে মানুষ ও পণ্য চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। হামাস ইসরায়েল থেকে দূরে গাজার অর্থনীতিকে পুনঃকেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনা করে। কিন্তু সিংহভাগ মানুষ সেখানে নির্ভর করে জাতিসংঘের অনুদানের ওপর। মিসরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন গাজার জন্য আরো প্রতিকূল হয়ে দাঁড়ায়। হামাসকে হুমকি হিসেবে দেখেন মিসরের সামরিক সমর্থিত নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। তিনি গাজার সঙ্গে মিসরের সীমান্ত বন্ধ করে দেন এবং বেশির ভাগ টানেল উড়িয়ে দেন। ২০১৪ সালে বড় ধরনের লড়াই হয়। হামাস এবং অন্যান্য গোষ্ঠী ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থল শহরগুলোয় রকেট হামলা চালায়। ইসরায়েল বিমান হামলা এবং বোমা হামলা চালিয়েছে, যা গাজার আশপাশের এলাকাগুলোকে ধ্বংস করেছে। গত ৭ অক্টোবরের ঘটনাটি অনেকটা অপ্রত্যাশিত। গাজার কর্মীদের অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল হামাস এখন যুদ্ধক্লান্ত। কিন্তু গোপনে দলের যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। অবশেষে হামাসের বন্দুকধারীরা ইসরায়েলে অতর্কিত অভিযান চালায় অক্টোবরে। তার পরের কথা সবার জানা। ৭৫ বছরের সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে রক্তাক্ত সময় পার করছে গাজা। হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার শপথ নিয়েছে ইসরায়েল আর গাজায় বেড়ে চলছে নিহতের সারি। একদিকে বিদ্যুৎ, পানি ও খাদ্যের সংকট; তার ওপরে মুহুর্মুহু বিমান হামলায় গাজাবাসী ধুঁকছে গণহত্যার পথে। গাজা যেন কোনো পৌরাণিক কারাগার।
আহমেদ দীন রুমি: লেখক





