ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন, বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট স্পেনের জন্য এর চেয়ে হতাশাজনক শুরু আর কী হতে পারে। ম্যাচজুড়ে বলের দখল ছিল তাদের, আক্রমণও ছিল একচেটিয়া। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ডে গোলশূন্য ড্র। বরং ম্যাচের শেষদিকে কেপ ভার্দের একটি হেড একটু এদিক-ওদিক হলেই অঘটনের শিকার হতে পারত স্প্যানিশরা। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের নবাগত দলটির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্পেনকে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই বড়সড় চমক দেখাল কেপ ভার্দে। স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি।
প্রথমার্ধে স্পেনের বেশ কয়েকটি আক্রমণ প্রতিহত করে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ। উইং ব্যবহার করে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে সঠিক ফিনিশিংয়ের অভাবে হতাশ হতে হয় স্প্যানিশদের। অন্যদিকে কেপ ভার্দেও কয়েকবার দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে স্পেনকে সতর্ক করে দেয়। যদিও দুই দলই বিরতির আগে গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা আরো বাড়ায় স্পেন। একের পর এক কর্নার এবং ক্রস থেকে সুযোগ তৈরি হতে থাকে। তবে কেপ ভার্দের রক্ষণ ছিল সংগঠিত। প্রতিটি আক্রমণের সামনে মানবপ্রাচীর হয়ে দাঁড়ান তাদের ডিফেন্ডাররা। সময় যত গড়িয়েছে, স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে ততই অস্থিরতা দেখা গেছে।
৭০ মিনিটের পর ম্যাচে নাটকীয়তা আরো বাড়ে। গোলরক্ষক ভোজিনিয়া চোট পেয়ে মাঠে শুয়ে পড়লে খেলা সাময়িক বন্ধ থাকে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই হাইড্রেশন বিরতি দেওয়া হয়। সেই বিরতির সুযোগে একসঙ্গে কয়েকটি পরিবর্তন আনেন স্পেন কোচ। ফাবিয়ান রুইসের জায়গায় নামেন মিকেল মেরিনো এবং গাভির পরিবর্তে মাঠে আসেন তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। তাতে স্পেনের আক্রমণে কিছুটা গতি আসে বটে কিন্তু ফল আসেনি।
ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে দৃশ্যপট প্রায় একমুখী হয়ে ওঠে। স্পেন আক্রমণ চালিয়েছে, আর কেপ ভার্দে রক্ষণ সামলেছে। ৮১ মিনিটে ফেরান তোরেসকে তুলে দানি ওলমোকে নামানো হয়। এরপরও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। ৮৯ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের প্রথম স্পর্শে নেয়া শট গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার লোপেস দুর্দান্ত এক ব্লকে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন। ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল সেটিই।
তবে শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জয়ের সুযোগও তৈরি করেছিল কেপ ভার্দে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে কর্নার আদায় করে আফ্রিকান দলটি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সেই কর্নার থেকেই হেড নেন বোরজেস। বল মাটিতে আঘাত করে বিপজ্জনকভাবে লাফিয়ে উঠলেও স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন সেটি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হন। আরেকটু এদিক-ওদিক হলেই হয়তো বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি দেখত ফুটবল বিশ্ব।
শেষ পর্যন্ত রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা। তাদের জন্য এ ড্র প্রায় জয়ের সমান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তারা পয়েন্ট অর্জন করল এমন এক দলের বিপক্ষে, যারা ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার।















