গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও একপ্রকার নিশ্চিতই। অন্যদিকে নকআউটের খুব কাছাকাছি থাকলেও এখনো গ্রুপসেরা হওয়া নিশ্চিত হয়নি পর্তুগালের। আগামীকাল শেষ গ্রুপ ম্যাচে দুই দলের লক্ষ্য একেবারেই ভিন্ন। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আগামীকাল সকাল ৮টায় জর্ডানের বিপক্ষে নকআউটের আগে বেঞ্চের শক্তি যাচাই করতে চায়, আর ভোর সাড়ে ৫টায় পর্তুগাল কলম্বিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠতে মরিয়া।
জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচটি মূলত রোটেশনের ম্যাচ হতে যাচ্ছে। গ্রুপসেরা নিশ্চিত হওয়ায় কোচ লিওনেল স্কালোনি একাধিক পরিবর্তন আনবেন বলে জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, লিওনেল মেসিকে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। সদ্য ৩৯ বছরে পা দেয়া আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সম্প্রতি মাংসপেশির চোট থেকে ফিরেছেন। তাই নকআউটের আগে তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে চান না স্কালোনি।
মেসির জায়গায় নিকো পাজকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি শুরু করতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ, জিওভানি লো সেলসো, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। বদলি হিসেবে সুযোগ পেতে পারেন জুলিয়ানো সিমেওনে, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ভ্যালেন্তিন বারকো ও হোসে মানুয়েল লোপেজের মতো ফুটবলাররাও। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে চোট পাওয়া ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর না খেলার সম্ভাবনাই বেশি।
স্কালোনি নিজেও পরিষ্কার করে দিয়েছেন তার পরিকল্পনা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাবনা হলো যত বেশি সম্ভব খেলোয়াড়কে সুযোগ দেয়া। তারা সেটা প্রাপ্য। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আমরা সেটাই করব।’
প্রথম দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামা আলভারেজও জানিয়েছেন, এখন তিনি পুরোপুরি ফিট অনুভব করছেন। ফলে জর্ডানের বিপক্ষে আক্রমণভাগে তার ভূমিকা বাড়তে পারে। নকআউট পর্বে দীর্ঘ পথচলার আগে স্কোয়াডের গভীরতা যাচাই করাই এখন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য।
একই সময়ে গ্রুপ ‘জে’র আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া। দুই দলেরই পয়েন্ট ৩ করে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় অস্ট্রিয়া আছে দুইয়ে, আলজেরিয়া তিনে। তাই এ ম্যাচটি সরাসরি দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই হয়ে উঠেছে। জয়ী দল সরাসরি নকআউটে যাবে। ড্র হলে গোল ব্যবধানের সুবিধায় অস্ট্রিয়াই এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি, আর আলজেরিয়ার অপেক্ষা করতে হতে পারে সেরা তৃতীয় দলের হিসাবের দিকে।
অন্যদিকে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচটি গ্রুপ ‘কে’র শীর্ষস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। দুই দলই নকআউটের পথে থাকলেও গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই এখনো খোলা। ড্র বা হার পর্তুগালকে রানার্সআপ করে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে শেষ ৩২-এ অপেক্ষাকৃত কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে রবার্তো মার্তিনেজের দলের।
প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করার পর সমালোচনায় পড়েছিল পর্তুগাল। তবে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরা। রোনালদোর জোড়া গোল, নুনো মেন্দেসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং মাঝমাঠে ভিতিনহা-জোয়াও নেভেসের নিয়ন্ত্রণ দলটিকে নতুন ছন্দ এনে দিয়েছে। পর্তুগিজ উইঙ্গার পেদ্রো নেতোও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য শুধু নকআউট নিশ্চিত করা নয়। ‘আমরা প্রথম হতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য,’ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি।
গ্রুপ ‘কে’-তে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে কলম্বিয়া এগিয়ে আছে, আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে পর্তুগাল। গোল ব্যবধানে পর্তুগাল ভালো অবস্থায় থাকলেও গ্রুপসেরা হতে হলে তাদের জিততেই হবে। ড্র করলেই কলম্বিয়া শীর্ষে থাকবে। একই সময়ে ডিআর কঙ্গো ও উজবেকিস্তানের ম্যাচেও নকআউটের হিসাব আছে; ১ পয়েন্ট পাওয়া কঙ্গো জিতলে চার পয়েন্টে উঠে সেরা তৃতীয় দলের দৌড়ে ঢুকতে পারে, আর টানা দুই হারে থাকা উজবেকিস্তানের লক্ষ্য অন্তত বিদায়ের আগে প্রথম পয়েন্ট পাওয়া।














