আইভরি কোস্টের জমাট রক্ষণের সামনে নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা ও গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডকে যেন মাঠের ভেতর খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ শেষ মুহূর্তে আলতো স্পর্শেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিলেন। হালান্ডের ৮৬ মিনিটের গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে নরওয়ে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

ম্যাচের শুরুতে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল নরওয়ের। দ্বিতীয় মিনিটেই মার্কাস পেডারসেনের ক্রস থেকে হেড করেছিলেন হালান্ড। তবে আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করেন। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা। ইয়ান দিয়োমান্দে, পেপে ও দেজিরে দুয়ের গতিময় আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে নরওয়ের রক্ষণ। ২১ মিনিটে ঘিসলা কোনার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়। ২৮ মিনিটে দিয়োমান্দের দুর্দান্ত ক্রসে পেপে ভলিতে গোল করার সেরা সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

এমন চাপের মধ্যেই ৩৯ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নরওয়ের মিডফিল্ডার আন্তোনিও নুসা। বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে জায়গা বের করে দারুণ বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের ওপরের কোণে। ২১ বছর ৭৪ দিন বয়সে নুসা নরওয়ের ইতিহাসে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হয়ে যান।

প্রথমার্ধে নরওয়ে এগিয়ে থাকলেও হালান্ড ছিলেন কার্যত নিষ্প্রভ। বিরতির সময় পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পুরো ৪৫ মিনিটে মাত্র আটবার বল ছুঁয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এ স্ট্রাইকার, যা মাঠের যেকোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় আইভরি কোস্ট। তবে সুবিধা করতে পারছিল না। ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে আমাদ দিয়ালোকে মাঠে নামান আইভরিয়ান কোচ। ম্যাচের গতি পাল্টে দিতে বেশি সময় নেননি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এ উইঙ্গার। ৭৪ মিনিটে পেপের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দূরের কোণে নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল। এর আগে গ্রুপ পর্বে একুয়েডরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনি।

যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, তখনই নিজের পরিচয় দেন হালান্ড। ৮৬ মিনিটে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে আসা প্যাট্রিক বার্গের কাটব্যাক খুঁজে নেয় নরওয়ের অধিনায়ককে। খুব জোরালো শট ছিল না, এমনকি গোলরক্ষক প্রায় বল আটকেই ফেলেছিলেন। কিন্তু বল ধীরে ধীরে গোললাইন পেরিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। পুরো ম্যাচে প্রায় অদৃশ্য থাকা হালান্ডের সেই স্পর্শই হয়ে ওঠে নরওয়ের জয় নিশ্চিত করার মুহূর্ত।

তবু শেষ বাঁশির আগে হাল ছাড়েনি আইভরি কোস্ট। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে নেয়া আমাদের বাঁকানো শট গোলের দিকেই যাচ্ছিল, তবে নরওয়ে গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড ঝাঁপিয়ে পড়ে বল পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন। সেই সেভই শেষ পর্যন্ত নরওয়ের জয় অক্ষুণ্ন রাখে। আগামী ৫ জুলাই দিবাগত রাত ২টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে হালান্ডের দল।