তিন দেশের এ আসরে অংশ নেবে রেকর্ড ৪৮টি দেশ। এত দল আগের কোনো আসরে খেলেনি। এক আসরে ১০৪টি ম্যাচও নতুন রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম স্বাগতিক দেশ বলে দর্শকদের আগ্রহও এবার তুঙ্গে। ঐতিহাসিক এ আসর সামনে রেখে তিন আয়োজক দেশ ও ফিফার বিশাল কর্মযজ্ঞ চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যেও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে উন্মাদনা আলাদাভাবে নজর কাড়ছে। তাদের ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদটা এবার যেন আগের চেয়েও বেশি। আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেবে—এমন আশা করছেন সমর্থকরা। আবার ব্রাজিলের ওপর ‘হেক্সা’ জয়ের প্রত্যাশার বিশাল চাপ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম—সর্বত্র ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে নিয়ে তুমুল আগ্রহ। কার সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই দুই লাতিন পরাশক্তি কবে কোন ভেন্যুতে খেলবে, সেটা নিয়েও আগ্রহের শেষ নেই।
এবার ৪৮টি দল ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন আর রানার্সআপ সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। এদের সঙ্গে ১২ গ্রুপের সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলও দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে।
১২টি গ্রুপের মধ্যে স্পটলাইটে আছে ‘সি’ আর ‘জে’ গ্রুপ। ‘সি’ গ্রুপে খেলবে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। ‘জে’ গ্রুপে আছে লিওনেল স্কালোনি আর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি আর স্কটল্যান্ডকে নিয়ে গড়া হয়েছে ‘সি’ গ্রুপ। আর্জেন্টিনার গ্রুপে আছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া আর নবাগত জর্ডান।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম দল ব্রাজিল ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আসরে। বিশ্লেষকরা ফেভারিট দলগুলোর যে তালিকা তৈরি করছেন সেখানে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্সের পরেই থাকছে ব্রাজিল। তবে ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষেও কথা বলছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে যখন শেষবার বিশ্বকাপ হয়েছিল সেবার ২৪ বছরের খরা ঘুচিয়েছিল রোমারিও, বেবেতো, দুঙ্গার ব্রাজিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে হলুদ শিবিরের প্রত্যাশা তুঙ্গে।
গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটের প্রথম ধাপ ‘শেষ বত্রিশ’ রাউন্ডে যেতে ব্রাজিলকে খুব একটা পরীক্ষার মুখে হয়তো পড়তে হবে না। এর পরও ব্রাজিল ফাইনাল খেলবে, সেটি ধরে নেয়া যাক। তাহলে ফাইনালে যেতে হলে কোন কোন দলের বিপক্ষে খেলতে হবে দলটিকে, কোন কোন মাঠে খেলতে হবে, আর কোন তারিখগুলোয় খেলবে ব্রাজিল, সেটি নিয়ে আগ্রহের যেন শেষ নেই। নকআউটে যেতে হলে আগে গ্রুপ পর্ব পেরোতে হবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।
ব্রাজিলের জন্য দারুণ সুবিধা করে দিয়েছে গ্রুপ পর্বের সূচি। সেলেসাওদের তিনটি ম্যাচই হবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের শহরগুলোতে। ফাইনালের আগেই যেন ফাইনাল খেলে ফেলবে ব্রাজিল! নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ১৪ জুন ভোর ৪টা মরক্কোর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এ স্টেডিয়ামেই হবে এবারের আসরের ফাইনাল।
এরপর ২০ জুন সকাল সাড়ে ৬টায় ফিলাডেলফিয়ায় হবে হাইতি-ব্রাজিল ম্যাচ এবং ২৫ জুন ভোর ৪টায় মায়ামিতে ইউরোপের দল স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন নেইমাররা। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচে অন্য দলগুলোর তুলনায় খুব বেশি ভ্রমণ করতে হবে না আনচেলত্তির শিষ্যদের।
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার কাপ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। লিওনেল মেসির দল গ্রুপ ‘জে’তে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে, সেটা সবারই জানা। তাদের তিন ম্যাচের একটি পড়েছে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর কানসাসে। মেসি-আলভারেজরা বাকি দুটি ম্যাচ খেলবেন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে।
মেসি, রদ্রিগো ডি পলসহ আর্জেন্টিনা দলের মোট ১০ জন খেলোয়াড় এখন খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিতে। তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মাঠগুলো এখন যেন হাতের তালুর মতোই চেনা। কাজেই গ্রুপ পর্বের বৈতরণি পার হওয়া তাদের জন্য কোনো বাধা হওয়ার কথা নয়। এর পরও প্রথম ম্যাচের ভেন্যু শহর কানসাস সিটিতে আগে থেকেই ঘাঁটি গেড়েছেন মেসি ও তার সতীর্থরা। কাতার বিশ্বকাপে কাপ জয়ের আগে গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের কাছে হেরে বসেছিল সেলেসাওরা। এবার আর তেমন ভুল করতে চান না মেসিরা।














