দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন সাদমান ইসলাম। তবে শতরান পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি বাংলাদেশের এ বাঁহাতি ওপেনার। তার বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে গেছেন তাওহিদ হৃদয়ও। একই রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসের দ্বিতীয় দিনে সাদমান ২৩৪ বলে ১১ চারে ১০৫ রান করেন। তার সেঞ্চুরিটি এসেছে ২২০ বলে। জশুয়া বিশপের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন এ ৩১ বছর বয়সী ওপেনার।

সাদমানের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়ও। জোমেল ওয়ারিক্যানের ওভারে মেডন কাটান লিটন দাস। এরপর বিশপের নতুন ওভারের প্রথম বলেই বোল্ড হন হৃদয়। জায়গায় দাঁড়িয়ে শট খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন তিনি। বল আঘাত হানে লেগ-মিডল স্টাম্পে। ৮৬ বলে তিন চারে ৪২ রান করে ফেরেন হৃদয়।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৩৮ রান। ক্রিজে রয়েছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

সেঞ্চুরির মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ওপেনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান ও সর্বোচ্চ শতকের তালিকায় তামিম ইকবালের পরই উঠে এসেছেন সাদমান। চলতি টেস্ট শুরুর আগে তার নামের পাশে ছিল ১ হাজার ৫৭৮ রান। প্রথম ইনিংসে ১০৫ রান যোগ করে তার টেস্ট রান বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৮৩। এর মধ্য দিয়ে ১ হাজার ৬৭৮ রান করা জাভেদ ওমরকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। এই তালিকায় সবার ওপরে তামিম, ১৩৩ ইনিংসে তার রান ৫ হাজার ৯৫।

সেঞ্চুরির সংখ্যায়ও তামিমের পরের অবস্থানে এখন সাদমান। অবসরের আগে ১০টি টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। এত দিন দুটি করে সেঞ্চুরি নিয়ে তার পরের অবস্থানে ছিলেন সাদমান, মাহমুদুল হাসান জয় ও ইমরুল কায়েস। তৃতীয় সেঞ্চুরি করে জয় ও ইমরুলকে ছাড়িয়ে গেলেন সাদমান।

সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য ভালো যাচ্ছিল না এই ওপেনারের ব্যাট। ১৭ ইনিংস পর টেস্টে শতকের দেখা পেলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন সাদমান। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতকটি পেয়েছিলেন তিনি।