কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি ইতিহাসে জায়গা করে নিল অন্য এক কারণে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে দেখানো হয়েছে তিনটি লাল কার্ড, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবল বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ফলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের প্রথম রাতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর, রেফারিং এবং লাল কার্ড।

মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রথম লাল কার্ডটি আসে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেহলো সিথোলে গোলের সুযোগ পাওয়া মেক্সিকান মিডফিল্ডার ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে ফাউল করলে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ভিএআর সেটি পর্যালোচনা করে বহাল রাখে। আইন অনুযায়ী এটি ছিল ‘ডিনায়াল অব অ্যান অবভিয়াস গোল স্কোরিং অপরচুনিটি’ বা নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করার ঘটনা। অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কম।

কিন্তু ৮৪ মিনিটে যে লাল কার্ড এল, সেটি নিয়েই তৈরি হয়েছে আসল বিতর্ক। দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানে মেক্সিকোর রবার্তো আলভারাডোকে অতিক্রম করার চেষ্টায় হাত লাগিয়ে ফেলেন প্রতিপক্ষের মুখে। মাঠের রেফারি প্রথমে কোনো কার্ড দেননি। কিন্তু ভিএআর রিভিউ দেখে স্ক্রিনের সামনে দাঁড়ান, শেষমেশ লাল কার্ড বের করেন। প্রিমিয়ার লিগের সাবেক শীর্ষ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, এ সিদ্ধান্ত কঠোর ছিল। মুখে হাত লাগা মানেই সহিংসতা নয়। রেফারি যে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখলেন, সেটাই প্রমাণ করে তিনি নিজেও সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন না। তবে স্ক্রিনের সামনে গিয়ে লাল কার্ড না দেয়াটা সাহসিকতার কাজ হতো। সেই সাহস এক্ষেত্রে দেখানো হয়নি।

বিশ্বকাপের প্রথম রাতের সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি আসে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে। পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যাচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকোর সিজার মন্তেস ফাউল করলে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান। যুক্তি ছিল আবারো নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করা।

কিন্তু এখানে পরিস্থিতি ছিল অনেক বেশি স্পষ্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় গোলের দিকে এগোচ্ছিলেন ঠিকই, তবে তার পরবর্তী স্পর্শটি শট হবে নাকি সতীর্থের দিকে পাস সেটি নিশ্চিত ছিল না। ফুটবল আইনে এটিই মূল পার্থক্য। সম্ভাব্য গোলের সুযোগ আর নিশ্চিত গোলের সুযোগ এক বিষয় নয়। তবু ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি, কারণ সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি ভুল ছিল—এমনটা প্রমাণ করা কঠিন।

১০৪ ম্যাচের এ বিশ্বকাপে এমন বিতর্ক আরো আসবে। প্রশ্ন হলো, রেফারিরা সেই চাপ কতটা সামলাতে পারবেন?