ঈদে মুক্তি পাবে আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত সিনেমা ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’। এ অভিনেত্রীর ঈদ উদযাপন, সিনেমা মুক্তি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
আপনাকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদের সারা দিনের পরিকল্পনা কী?
ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আব্বু-আম্মুর সঙ্গে নাশতা করব। তারপর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করব। আমার বড় মামাসহ বয়োজ্যেষ্ঠ যারা আছেন তাদের সঙ্গে দেখা করব।
ঈদ কোথায় করছেন?
ঢাকায়ই করছি এবারের ঈদ।
ঈদের দিনের সবচেয়ে প্রিয় খাবার কোনটি?
আমি মিষ্টি খাবার খেতে পছন্দ করি কিন্তু বর্তমানে ডায়েটে আছি। চেষ্টা করব এবার মিষ্টিজাতীয় কিছু না খেতে। আম্মুর রান্না করা মাংস অবশ্যই খাব।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ঈদের দিনে আপনার অভিনীত ‘এশা মার্ডার: কর্মফল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। এ নিয়ে আপনার অনুভূতি জানতে চাচ্ছি? পাশাপাশি এবারের ঈদটা আপনার জন্য কতটা স্পেশাল?
আমার ক্যারিয়ারের প্রথম কোনো সিনেমা ঈদে মুক্তি পাচ্ছে, আমি খুবই এক্সাইটেড এবং নার্ভাস। এবারের ঈদটা আমার জীবনে খুবই স্পেশাল হয়ে থাকবে, কারণ আমার একটা কাজ সিনেমা হলে চলবে এবং দর্শক সাড়া কেমন পাব, মানুষ কতটুকু পছন্দ করবে সিনেমাটি, পাশাপাশি ঈদের সিনেমা রিলিজ হলে আসলে ফিলিংসটা কেমন হয় এবারই আমি প্রথম উপলব্ধি করতে পারব। তাই অবশ্যই এবারের ঈদটা আমার জন্য স্পেশাল।
সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের উদ্দেশে কী বলবেন?
আমাদের দেশে নারীপ্রধান সিনেমা একেবারেই কম হয়। আর হলেও সে সিনেমা পরিচালকরা ঈদে মুক্তি দেয়ার সাহস করেন না। সিনেমাটিতে আমাকে সানি সানোয়ার ভাই একটি লিড ক্যারেক্টার দিয়েছেন। সিনেমার গল্পটি খুবই ভালো। একটা সত্যনির্ভর গল্প অবলম্বনে সিনেমাটি। এ সিনেমায় গুণী অভিনেতা-অভিনেত্রীরা আছেন। আমি দর্শককে বলব হলে এসে সিনেমাটি দেখেন এবং সিনেমাটি আপনাদের ভালো লাগবে।
ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত অন্যান্য সিনেমার মধ্যে আপনার সিনেমাটিকে কতদূর এগিয়ে রাখবেন?
ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতিটি সিনেমার জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। আমি কোনো কম্পিটিশন মনে করছি না। ঈদের লম্বা একটা ছুটি আছে, প্রতিটি সিনেমা যেন মানুষ দেখে, সঙ্গে এশা মার্ডারও যেন দেখে। কে কার থেকে এগিয়ে আমি এ ধরনের প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী না।
হলে গিয়ে ঈদের দিন নিজের সিনেমা দেখা হবে কি?
অবশ্যই দর্শকের সঙ্গে এক সারিতে বসে সিনেমাটি দেখব। আমাদের পরিকল্পনা আছে যে আমরা সিনেমার পুরো টিম যাব সিনেমাটি দেখতে।
ক্যারিয়ারে পুলিশ চরিত্রে অভিনয় এবারই প্রথম। নতুন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় কতটা চ্যালেঞ্জ ছিল?
সিনেমাটিতে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা খুবই আলাদা ছিল আমার জন্য, কারণ আমি আমার ক্যারিয়ারে কখনো পুলিশের ক্যারেক্টার করিনি। পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করা, পুলিশের হাঁটাচলা, তাদের সাইকোলজি, ইন্টারনাল পলিটিকস ও তাদের পারিবারিক জীবন এগুলো আমাকে বুঝতে হয়েছে। পুলিশ চরিত্রে কাজ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ নিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। দর্শকদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাই, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
মাস্টার নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করার কথা জেনেছি, সেটা কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারে?
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’ অসম্ভব সুন্দর একটি সিনেমা। সিনেমাটির পোস্ট প্রডাকশনের কাজ চলছে। এটি এ বছরই রিলিজ দেয়ার কথা রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে আপনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বর্তমান দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে আপনার মূল্যায়ন এবং প্রত্যাশা জানতে চাই।
জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। অনেক আশা নিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্ন অনুযায়ী অনেক কিছু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে আমি আশাবাদী এবং আমি মনে করি যে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার এসে আমাদের দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।










