লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এর দ্বিতীয় রানারআপ আমিনা ইসলাম। শিহাব শাহীনের ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয়েছে তার। প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা, অভিনয় নিয়ে নিজের ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

‘ক্যাফে আমব্রেলা’ দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা করলেন। প্রথম কাজ নিয়ে আপনার অনুভূতি ও প্রত্যাশা কেমন?

সত্যি বলতে, অনুভূতিটা একটু অন্য রকম। একটা নতুন জার্নি শুরু হলো, তাই এক্সাইটমেন্টের পাশাপাশি একটু নার্ভাসনেসও কাজ করছে। তবে পুরো টিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা খুব সুন্দর ছিল। আমি চেষ্টা করেছি নিজের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব ভালোভাবে কাজটা করার। এখন সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে এই ভেবে যে দর্শক আমাদের কাজটা দেখছে। তাদের ভালো লাগলে সেটাই হবে আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া।

ক্যাফে আমব্রেলায় আপনার চরিত্রটি কেমন? বাস্তব আমিনার সঙ্গে চরিত্রটির কতটা মিল রয়েছে?

আমার মনে হয়, প্রত্যেকটা চরিত্রের মধ্যেই কিছু অভিজ্ঞতা বা অনুভূতি খুঁজে পাওয়া যায়। আমার চরিত্রটিও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে চরিত্র আর বাস্তব আমিনার মধ্যে কিছু পার্থক্য তো আছেই। অভিনয়ের সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, নিজের পরিচয়ের বাইরে গিয়ে অন্য একজন মানুষকে বোঝার এবং তার মতো করে ভাবার চেষ্টা করা। আমি চেষ্টা করেছি চরিত্রটাকে নিজের মতো করে অনুভব করতে, যাতে দর্শক পর্দায় আমাকে নয়, বরং সে চরিত্রটাকেই দেখতে পায়।

শিহাব শাহীনের সঙ্গে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

শিহাব শাহীন ভাইয়ার মতো একজন পরিচালকের সঙ্গে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা আমার জন্য অবশ্যই বিশেষ কিছু। নতুন হিসেবে অনেক কিছু শেখার ছিল, আর কাজ করতে গিয়ে সে সুযোগটা পেয়েছি। পরিচালকের নির্দেশনা একজন শিল্পীর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা অভিনয়ে যাত্রা শুরু করছেন। তিনি কীভাবে একটা দৃশ্যকে ভাবেন, চরিত্রটাকে বোঝেন এবং শিল্পীদের কাছ থেকে অভিনয় বের করে আনেন—এসব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতাটাও আমার জন্য অনেক মূল্যবান। আমি চেষ্টা করেছি মন দিয়ে কাজটা শিখতে এবং সেরাটা দিতে।

লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এ অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিয়েছিলেন? এ যাত্রায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

আমি সবসময় নতুন কিছু শেখার এবং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ খুঁজি। লাক্স সুপারস্টার আমার কাছে তেমনই একটা সুযোগ ছিল। সিদ্ধান্তটা নেয়ার পর বুঝতে পেরেছি, এ যাত্রা শুধু প্রতিভা দেখানোর নয়, বরং নিজেকে মানসিকভাবে আরো শক্ত করারও একটা প্রক্রিয়া। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিটি ধাপে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা, নার্ভাসনেস সামলানো এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা। কারণ প্রতিটি রাউন্ডেই নতুন কিছু শেখার ছিল।

লাক্স সুপারস্টার শুরু করার সময় যে প্রত্যাশা ছিল, দ্বিতীয় রানারআপ হয়ে সে অর্জনে কতটা সন্তুষ্ট ছিলেন?

অবশ্যই সন্তুষ্ট ছিলাম। একটা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সময় সবারই কিছু স্বপ্ন থাকে। আমারও ছিল। তবে পুরো জার্নিটা আমাকে যেভাবে শেখার সুযোগ দিয়েছে, যে অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি দিয়েছে, সেগুলোও আমার কাছে অনেক বড় অর্জন। দ্বিতীয় রানারআপ হওয়াটা অবশ্যই আনন্দের। তবে আমার কাছে এ অর্জনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এখান থেকেই নতুন কিছু করার দরজা খুলেছে। আমি চাই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে সামনে আরো ভালো কিছু করতে।

লাক্সের মঞ্চে নিজেকে উপস্থাপন করা আর অভিনয়ে একটি চরিত্র হয়ে ওঠা—কোনটি আপনার কাছে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে?

আমার কাছে দুটোই চ্যালেঞ্জিং, তবে চ্যালেঞ্জের জায়গাটা আলাদা। লাক্সের মঞ্চে ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকের সামনে নিজেকে তুলে ধরতে হয়। আর অভিনয়ে নিজের জায়গা থেকে বেরিয়ে অন্য একটা চরিত্রকে বিশ্বাস করতে হয়, তার অনুভূতিগুলো বুঝতে হয়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমার শেখার জায়গা এখনো অনেক বড়। তাই এখানে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি অনুভব করি।

অভিনয়জগতে প্রতিনিয়ত নতুন মুখ আসছে। এ ভিড়ে জায়গা তৈরি করে টিকে থাকতে কীভাবে এগোতে চান?

আমি মনে করি, শুধু নতুন মুখ হওয়া দিয়ে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব নয়। কাজের প্রতি ভালোবাসা, শেখার আগ্রহ ও ধারাবাহিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি এখনো শিখছি, নিজেকে তৈরি করছি। আমি চাই, আমার কাজের মাধ্যমেই মানুষ আমাকে চিনুক। রাতারাতি পরিচিত হওয়ার চেয়ে আমি বরং ধীরে ধীরে একটা জায়গা তৈরি করতে চাই, যেখানে দর্শক আমার কাজ দেখে আমাকে মনে রাখবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সৎ থাকা এবং ভালো কাজের সুযোগ পেলে সেটাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো।

লাক্সের মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে যাত্রা করে প্রথম কাজেই সহ-অভিনেত্রী হিসেবে একসঙ্গে কাজ করা—এ অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

অভিজ্ঞতাটা সত্যিই অন্য রকম ছিল। লাক্স সুপারস্টারের মঞ্চে আমরা একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছি, আর ক্যাফে আমব্রেলায় এসে একসঙ্গে কাজ করেছি। তাই আমাদের মধ্যে আগে থেকেই একটা পরিচিতি ছিল, যেটা কাজের ক্ষেত্রে স্বস্তি দিয়েছে। তবে শুটিংয়ে এসে প্রত্যেককেই যার যার চরিত্রের প্রতি মনোযোগ দিতে হয়েছে। আমরা একে অন্যের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। আমার কাছে ভালো লেগেছে প্রতিযোগিতার সে যাত্রার পর আমরা সবাই এখন নিজেদের কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

সামনে আপনার অভিনয় ও কাজের পরিকল্পনা কী? কী ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান?

এ মুহূর্তে আমার সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা হলো, নিজেকে একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবে তৈরি করা। আমি এমন চরিত্রে কাজ করতে চাই, যেগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য আছে, যেগুলো আমাকে নতুন কিছু শিখতে বাধ্য করবে। শুধু নিজের সঙ্গে মিলে যায় এমন চরিত্র নয়, বরং নিজের কমফোর্ট জোনের বাইরে গিয়েও কাজ করতে চাই। আমি চাই, দর্শক আমাকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখুক এবং প্রতিবারই নতুন কিছু আবিষ্কার করুক। তবে অবশ্যই গল্প, চরিত্র এবং পুরো কাজটার মান আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাফে আমব্রেলা নিয়ে দর্শকের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

আমি চাই দর্শক ক্যাফে আমব্রেলা মন দিয়ে দেখুক এবং আমাদের কাজটা উপভোগ করুক। এটা আমার অভিনয়জীবনের প্রথম কাজ, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার কাছে খুব স্পেশাল। দর্শক কীভাবে আমার অভিনয় গ্রহণ করে, তা জানার জন্য আমি অপেক্ষা করছি। আমি জানি, প্রথম কাজ হিসেবে আমার শেখার জায়গা অনেক আছে। দর্শকের ভালোবাসা যেমন চাই, তেমনি তাদের মতামত থেকেও শিখতে চাই।