ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির আলোচিত সিরিজ ‘ফেউ’। এবার ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’ নামে পূর্ণাঙ্গরূপে আসছে। মরিচঝাঁপিতে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ও মর্মান্তিক গণহত্যার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিরিজটি। গল্পটি মূলত বাংলাদেশীদের বীরত্বগাথা। যেখানে সাধারণ জনগণের প্রতিনিধি হয়ে ওঠে রহস্য পুরুষ মার্শাল। অন্যদিকে তরুণ ড্যানিয়েল ভিনদেশী এজেন্টদের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সুন্দরবনের গহিনের সেই চিত্রায়িত হয়েছে পুরো সিরিজ।
সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিরিজের গল্প লিখেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও রোমেল রহমান এবং চিত্রনাট্য করেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও সিদ্দিক আহমেদ। প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয়-আন্তর্জাতিক রাজনীতির মিশেলে গড়ে ওঠা এ রহস্যঘন গল্পের চূড়ান্ত পরিণতি মিলবে এবারের সিজনে।
প্রথম সিজনের পর দর্শকের মনে কিছু প্রশ্ন থেকে গিয়েছিল। সেসবের উত্তর নিয়ে দ্বিতীয় সিজন আনছেন নির্মাতারা। এছাড়া একটি নির্দিষ্ট জনপদের ভূরাজনীতির নানা বিষয় পরিষ্কার হতে পারে বলে জানান সিরিজটির নির্মাতা সুকর্ণ শাহেদ ধীমান।
নয় পর্বের সিরিজটি চরকিতে মুক্তি পাবে ১১ নভেম্বর রাত ১২টায়। এরই মধ্যে প্রকাশ হয়েছে দ্বিতীয় সিজনের টিজার। অবশ্য নির্মাতারা বলছেন ’ফেউ কমপ্লিট সাগা’ মূল সিরিজের দ্বিতীয় কোনো সিজন নয়, বরং প্রথম সিজনের কিছু অংশের সঙ্গে বাকি গল্প যুক্ত হয়ে নির্মিত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ সিরিজটি। সুকর্ণ শাহেদ ধীমান বলেন, ‘প্রথম সিজনে আমরা গল্পটির ভিত্তি ও ইতিহাস খুব বিশদভাবে তৈরি করেছিলাম। এবার গল্পটি একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাচ্ছে। “ফেউ কমপ্লিট সাগা” দেখলে দর্শক পুরো গল্পটি একেবারে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন। এমনকি যারা প্রথম সিজনটি দেখেননি, তারাও এটি দেখলে কোনো অসম্পূর্ণতা বোধ করবেন না।’
’ফেউ কমপ্লিট সাগা’য় অন্যতম মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সুনীল ও মার্শাল চরিত্রটির পরিণতি। চরিত্র দুটিতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। চরিত্রটি নিয়ে নূর ইমরান বলেন, ‘মার্শাল চরিত্রটি একজন প্রকৃত সংগ্রামীর প্রতিচ্ছবি। তার লুক, পোশাক, শারীরিক ভাষা ও আচরণে দারুণ একটি গভীরতা রয়েছে।’
সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তানভীর অপূর্ব, হোসাইন জীবন, তাহমিনা অথৈ, রিজভী রিজু, ফাদার জোয়া, বাবলু বোস, এ কে আজাদ সেতু প্রমুখ। এছাড়া সিরিজে খুলনা, বাগেরহাট ও বটিয়াঘাটার শতাধিক শিল্পী অভিনয় করেছেন।
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ‘ফেউ প্রথম সিজন মুক্তির পর এর গল্প, লোকেশন, ভিজুয়াল ছিল দর্শক আলোচনায়। সিরিজটির গল্পের সঙ্গে ইতিহাস, রাজনীতি, বাবাকে খুঁজে পাওয়ার জার্নি আছে। এর শুটিং সুন্দরবনের খুবই দুর্গম জায়গায় হয়েছিল। এ বিষয়গুলো পর্দায় দর্শকরা অনুধাবন করতে পেরেছেন। আশা করছি, দারুণ সব দৃশ্যায়ন এবং নবীন-প্রবীণদের অভিনয়ে ইতিহাস ও সংগ্রামের জার্নিটা দর্শকদের কাছে আরো উপভোগ্য হয়ে উঠবে।’










