তরুণ অভিনেতা সৌম্য জ্যোতি। ওয়েব কনটেন্টে এরই মধ্যে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। সস্প্রতি ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া তানিম নূর পরিচালিত ‘উৎসব’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। এ সিনেমাসহ নানা প্রসঙ্গে তার সঙ্গে কথা হয় বণিক বার্তার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

কোরবানির ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত উৎসব দর্শকসাড়া পেয়েছে। আপনার চরিত্রেরও দর্শক প্রশংসা করছে। কেমন লাগছে?

আমি কখনো কল্পনা করিনি যে ঈদের সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করব এবং দর্শক আমার চরিত্রকে এত পছন্দ করবেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন একটা ভালো অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। উৎসব আমার ক্যারিয়ারে স্পেশাল হয়ে থাকবে। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের এত ভালোবাসা অবশ্যই ভালো লাগছে।

সিনেমাটিতে শুটিং করতে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলেন। কীভাবে হয়েছিল?

আমি বাইক চালাতে পারতাম না। এ সিনেমার জন্য বাইক চালানো শিখতে গিয়ে অ্যাকসিডেন্ট হয় এবং সে অ্যাকসিডেন্টে আমার মাথায় ১৩টি ও থুতনিতে চারটি সেলাই লাগে। অ্যাকসিডেন্টটা শুটিংয়ে হয়নি। যখন আমি বাইক চালাতে শিখতে গেছি তখন হয়েছিল। অ্যাক্সিডেন্টটার কারণে আমাদের পুরো টিমের শুটিং পিছিয়ে যায়।

সিনেমাটিতে আপনি যুক্ত হলেন কীভাবে?

তানিম নূরের ‘কাইজার’ করার পর তার সঙ্গে আমার ভালো একটা বন্ডিং হয়। তিনি প্রথমে আমাকে সিনেমার গল্পটা শেয়ার করেন। আমি কাস্টিং কিনা এটা শেয়ার করেননি। একদিন বলেন যে তোমাকে সিনেমার একটি চরিত্রে ভাবছি। তারপর অডিশন দিয়ে ফাইনালি জাহাঙ্গীর চরিত্রটি পাই।

হলে দর্শকসাড়া কেমন পেয়েছেন?

যখন হল ভিজিটে যাচ্ছি, তখন মানুষ আমাকে দেখে চিৎকার করছে, হইচই করছে। দর্শক ভালোবাসা দিচ্ছে, তখন আসলে খুবই ইমোশনাল হয়ে যাই, রীতিমতো হাত-পা কাঁপতে থাকে। এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

উৎসব তারকাবহুল সিনেমা। এ সিনেমায় তারকাদের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তারা যে কেন এত বড় মানের শিল্পী, তাদের সঙ্গে কাজ করে বুঝতে পেরেছি। তাদের সঙ্গে এ সিনেমায় স্ক্রিন শেয়ার করার সৌভাগ্যটি হয়নি। কারণ আমার ও সাদিয়া আইমানের শুটিংয়ের পার্টটা আলাদা হয়েছে। আমাদের অংশটুকু রাজশাহীতে আলাদা শুটিং হয়। তাদের সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা না হলেও একসঙ্গে রিহার্সালে অনেক সময় কাটিয়েছি। রিহার্সাল করার সময়টা খুবই চমৎকার লেগেছে।

উৎসব যারা এখনো দেখেননি, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?

যারা এখনো সিনেমাটি দেখেননি তাদের বলব, পরিবার নিয়ে সিনেমাটি দেখুন। কারণ আমাদের সিনেমায় বলাই আছে, পরিবার ছাড়া দেখা নিষেধ। আশা করি সিনেমাটি দেখে দর্শক নিরাশ হবেন না। যারা এরই মধ্যে সিনেমাটি দেখেছেন তাদের কাছে একটাই চাওয়া, তারা যেন আমার জন্য দোয়া করেন, যাতে কাজের মাধ্যমে তাদের ভালোবাসাটা ফেরত দিতে পারি।

উৎসবের পর নতুন কোনো সিনেমার খবর আছে কী?

উৎসব নিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছি। এ মুহূর্তে একজন অভিনেতা হিসেবে আমার মনে হয় দায়িত্বটা বেড়ে গেছে। চিন্তা করেছি, কাজ থেকে একটা ব্রেক নেব। এখন আপাতত কোনো কাজ করতে চাচ্ছি না। এক- দেড় বছর বিরতি দিয়ে পড়াশোনা শেষ করে অভিনয়টা আরো শিখে পরবর্তী কাজে ফিরব।

এমন কোনো চরিত্র আছে কি, যে চরিত্রে অভিনয়ের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন?

সত্যি কথা বলতে, আমার অভিনয়টা করতে ভালো লাগে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভালো লাগে। সেটা হোক টিভি নাটক, ওটিটি কিংবা সিনেমা। আমি এ পর্যন্ত কাজ খুব কম করেছি। আমার কাছে সব চরিত্রই স্পেশাল। প্রতিটা কাজই নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে করার চেষ্টা করি।

খুব কম সময়েই দর্শকখ্যাতি পেয়েছেন। আপনার মা-বাবা মিডিয়ায় আছেন বলেই কি এ যাত্রা সহজ হয়েছে?

বর্তমানে ওটিটি কিংবা সিনেমার কাস্টিংয়ের প্রসেসে অনেক পরিবর্তন এসেছে। যারা নতুন আসছেন, তাদের অডিশনের মাধ্যমে চরিত্রটা পেতে হয়। পাঁচজন যেভাবে অডিশন দিয়ে কাস্টিং পান আমার ক্ষেত্রেও ঠিক সেভাবেই হয়। আমিও এর বাইরের কেউ নই। আমাকেও অডিশন দিতে হয়, আমিও রিজেক্টেড হই। এমনও হয়েছে আমি অনেক পছন্দের চরিত্র পাইনি। রিজেক্টেড হয়ে গেছি। আমাদের চেষ্টা ছিল। পাশাপাশি মা-বাবার অনুপ্রেরণাও ছিল।

আপনার এ পর্যায়ে আসার পেছনে আপনার মা-বাবার কৃতিত্ব কতটুকু?

আমার যেকোনো সাফল্যের জন্য পুরো কৃতিত্ব আমার মা-বাবাকে দেব। তারাই আমাদের দুই ভাইকে বড় করেছেন। তারা কখনো আমাদের কোনো কিছু হওয়ার ব্যাপার চাপিয়ে দেননি। প্রথমে তারা চাইতেন না যে আমরা অভিনয় করি। অথবা মিডিয়ায় কাজ করি। তারা জানেন যে দর্শক যদি আমাদের গ্রহণ না করে, যদি আমাদের মন খারাপ হয়, তাই শুরুর দিকে তারা চাইতেন না।

বাবার একটা নাটক দিয়েই আমার জার্নিটা শুরু হয়। এরপর দর্শক যখন ভালোবাসল, তখন বাবা-মা আমাদের সাপোর্ট করেছেন। তারা বলেছেন, তোমরা যদি করতে চাও, পড়াশোনার পাশাপাশি এটা করতে পারো। আমরা বর্তমানে কাজে রেগুলার নই। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয়টা করে যাচ্ছি।