দর্শকের পছন্দের সঙ্গে সিনেমায় নতুন কিছু যুক্ত করায় মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির জুড়ি নেই। সে ধারাবাহিকতায় নতুন নাম ‘মিন্নাল মুরালি’। মুক্তি পাওয়ার পর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও মূলধারায় সিনেমাটি কম আলোচিত। কিন্তু মনোযোগী দর্শক ও সমালোচকদের মতে এটি ভারতের সেরা সুপারহিরো সিনেমা হওয়ার যোগ্য। সিনেমা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে কেউ কেউ বলছেন, ‘সুপারহিরো মুভিতে খলনায়কের সঙ্গে নায়কের দ্বন্দ্ব কেমন হওয়া উচিত সেটা মিন্নাল মুরালি দেখিয়েছে।’
নিশ্চিতভাবে বলা যায়, হলিউডের সুপারহিরো সিনেমার মতো নির্মাণ এখানে ছিল না। অতখানি অগ্রসর প্রযুক্তি মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির নেই। কিন্তু সাধারণভাবেই একটা গল্প ও গল্পের চরিত্রদের গড়ে তোলায় মিন্নাল মুরালি যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে তা প্রশংসার যোগ্য।
ভারত এর মধ্যে বেশকিছু সুপারহিরো সিনেমা তৈরির চেষ্টা করেছে। রাকেশ রোশনের কৃশ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে শুরু করে শাহরুখ খানের রা ওয়ান, রজনীকান্তের এন্থিরানকে (রোবট) এ ধারায় ফেলা যায়। কিন্তু কৃশ-এর প্রথম সিনেমা ভালো হলেও পরবর্তী সময়ে দর্শক এর সিকুয়াল পছন্দ করেনি। এমনকি কৃশও পুরোপুরি সুপারহিরো হয়ে উঠতে পারেনি। তাহলে প্রশ্ন করা যায় যে সুপারহিরো বলতে কি ডিসি বা মার্ভেলের সুপাহিরোদেরই বোঝাতে হবে? তাদের মতো করেই সুপারহিরো চরিত্র তৈরি করতে হবে?
বেসিল জোসেফ তার ‘মিন্নাল মুরালি’তে সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন কাজের মাধ্যমে। জেসন বা মুরালিকে দিয়ে তিনি নতুন ধারার এক সুপারহিরো তৈরি করেছেন। এখানে অবশ্য ডিসি, মার্ভেল ঘরানার কিছু ছাপও রয়েছে। যেমন মুরালি ও সেলভার (যথাক্রমে সুপারহিরো ও তার ভিলেন) ক্ষমতা ও কার্যক্রম প্রায় একই রকম। বলা যায়, একজন আরেকজনের প্রতিচ্ছবি। সুপারহিরো মার্ভেলের ইউনিভার্সের দিকে তাকালে এ মূলনীতি দেখা যায়। ‘আয়রন ম্যান ২’-এর জাস্টিন হ্যামার আয়রন ম্যানের মতো এবং ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-এ এরিক কিলমঙ্গার ঠিক ব্ল্যাক প্যান্থারের মতো অস্ত্র, স্যুট ব্যবহার করেন। ‘মিন্নাল মুরালি’র জেসন ও সিভুও যেন এক মুদ্রার দুই পিঠ। জন্ম থেকে একই রকম প্রতিভা হওয়ার ক্ষেত্রে আবার ডিসি কমিকের কিছুটা ছাপ পাওয়া যায়। নিয়তি বা দৈব ঘটনার একটা আভাস দেয়া হয়, কিন্তু মালয়ালম সিনেমা স্বতন্ত্র একটা উপাদান রাখতে চায়। এ সিনেমা সেখানে দর্শককে কিছু জায়গায় ভাবতে বাধ্য করে।
সব মিলিয়ে ‘মিন্নাল মুরালি’
এমন একটি গল্প হয়ে ওঠে, যেখানে মানুষের বদলে যাওয়া দেখানো হয়। সিনেমায় বলা হয় যে খলনায়ক সিভুর শাস্তি কী হওয়া উচিত। অনেক সিনেমার মতো এ গল্পে খলচরিত্রের খল হয়ে ওঠার সমর্থনে একটা গল্প আনা হয় না। বরং দেখানো হয়, একই রকম দুটো মানুষ পরিস্থিতির সাপেক্ষে নিজেকে কী করে গড়ে তুলবে সেটা তাদের ওপরই নির্ভর করে। বজ্র
থেকে দুজনই শক্তি পেয়েছে। তবে তা কীভাবে ব্যবহার করবে কিংবা শোক মানুষকে কোথায় নিয়ে যাবে সেটা মানুষের ওপরই নির্ভর করে। গল্পের লেখক অরুণ অনিরুদ্ধ ও জাস্টিন ম্যাথিউ এখানে পরতে পরতে বিষয়গুলো রেখেছেন। সামির তাহিরের সিনেমাটোগ্রাফিও দর্শককে ধরে রেখেছে। তবে জেসন বা মুরালির চরিত্রে থোভিনো থমাস ও সেলভা চরিত্রে গুরু সোমসুন্দরম, নায়ক ও খলনায়কের চরিত্র ও দ্বন্দ্ব এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, মূলত এটিই সিনেমার প্রাণ।
দক্ষিণ ভারতের গ্রামীণ পটভূমিকে তুলে ধরার পাশাপাশি সূক্ষ্ম বিদ্রূপের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গল্পটি ধীরে ধীরে তার সুপারহিরোকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। খলনায়কের জীবনের গল্পের সঙ্গে নায়কের গল্প জুড়ে গল্প প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি ভালো ভিজুয়াল ইফেক্টের কারণে সুপারহিরো সিনেমা হিসেবে ‘মিন্নাল মুরালি’
সফল। তবে সবচেয়ে বড় সফলতা হলো ভারতের দর্শক বলছে, ‘আমরা আমাদের সুপারহিরোকে পেয়েছি।’
টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে










