ডুবে যাচ্ছে টাইটানিক। যাত্রীরা কেউ প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছে, কেউ আশা ছেড়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে দায়িত্বের অনেকটা ভার মূল ক্যাপ্টেনের ওপর। সাদা দাড়িতে ঢাকা মুখে চিন্তার ছাপ। তবে মুখের রেখার পরিবর্তন হয়নি। তিনিই বলেছিলেন, নারী ও শিশুদের সবার আগে বাঁচাতে হবে। আর শেষ সময় ক্যাপ্টেন স্মিথ নিজেকে বন্দি করে নেন নিজের কামরায়। টাইটানিকের সঙ্গেই সলিল সমাধি হয় তার। জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ থেকেই কথাগুলো বলা হলো আর সেখানে স্মিথ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বার্নার্ড হিল। খুব অল্প সময় স্ক্রিনে থাকলেও তিনি দর্শকের মনে ছাপ রেখেছেন। ৫ মে মারা গেলেন এ অভিনেতা। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

হিল মূলত ব্রিটিশ অভিনেতা। তার জন্ম ম্যানচেস্টারে। সেখানে পলিটেকনিক স্কুল অব ড্রামায় পড়াশোনা করেছেন। থিয়েটারে ডিপ্লোমা নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন ১৯৭০ সালে। ওই বছর বিবিসিতে ‘প্লে ফর টুডে’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ‘দ্য ব্ল্যাক স্টাফ’ ও তার সিকুয়াল ‘বয়েজ অব দ্য ব্ল্যাক স্টাফ’ সিরিজে অভিনয় করেন। এ সিরিজে তার চরিত্রে একটি সংলাপ ছিল ‘গিজা জব’ অর্থাৎ ‘গিভ আস জব’। সংলাপটি সে সময় খুবই জনপ্রিয় হয়। একই সময় তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি আন্দোলনেও যুক্ত হয়েছেন। তাও ছিল বেকারত্ব নিয়ে। মার্গারেট থ্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তার সংলাপটি লোকের মুখে উঠে আসে।

টাইটানিকের জন্য পরিচিত হলেও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র করেছেন হিল। এর মধ্যে ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া রিচার্ড অ্যাটেনবরোর সিনেমা ‘গান্ধী’তে তিনি ছিলেন সার্জেন্ট পুটনাম চরিত্রে। রজার ডোনাল্ডসনের ‘দ্য বাউন্টি’তেও ছিলেন তিনি। এ সময় টেলিভিশন ও থিয়েটারেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন এ অভিনেতা। ১৯৮৫ সালে তিনি জন লেননের জীবনীভিত্তিক টিভি ড্রামা ‘আ জার্নি ইন দ্য লাইফ’-এ অভিনয় করেন।

নব্বইয়ের দশকে সিনেমায় বেশি দেখা গেছে তাকে। এর মধ্যে প্রধান ছিল ক্যামেরনের টাইটানিক। এছাড়া ১৯৯৬ সালে ‘দ্য ঘোস্ট অ্যান্ড দ্য ডার্কনেস’-এ তিনি স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন ভ্যাল কিলমার ও মাইকেল ডগলাসের সঙ্গে। ডোয়াইন জনসনের ‘দ্য স্করপিয়ন কিং’-এও তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র। এছাড়া হিলকে দেখা গেছে ‘লর্ড অব দ্য রিংস’-এ। পিটার জ্যাকসনের মহাকাব্যিক এ ত্রয়ী সিনেমায় তিনি থিয়োডেন কিং অব রোহান চরিত্রে অভিনয় করেন।

থিয়েটার, টেলিভিশন ও বড় পর্দা মিলিয়ে বহু চরিত্রে অভিনয় করলেও তিনি বেশি পরিচিত ক্যামেরনের টাইটানিকের কারণেই।