হলিউডে দীর্ঘদিন সুপারহিরো জনরার সিনেমা ভালো ব্যবসা করেছে। দর্শক পছন্দ করেছেন এ জনরার সিনেমা। কিন্তু অতিমারী-পরবর্তী সময়ে এ ধারার সিনেমা ভালো ব্যবসা করতে পারছে না। বিভিন্ন সময়ে তারকারা এ নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। কারো মতে, এ ধারার সিনেমা একই ধাঁচের হয়ে গেছে। আবার কেউ মনে করেন দর্শকের রুচি বদলে গেছে। সম্প্রতি অভিনেত্রী র‍্যাচেল ব্রজনাহান তার মত প্রকাশ করলেন। তিনি মনে করেন, এ নিয়ে বেশি নেতিবাচক কথা বলার প্রয়োজন নেই। কেননা দোষটা পুরোপুরি সুপারহিরো মুভির না।

র‍্যাচেল অভিনয় করছেন জেমস গান পরিচালিত ‘সুপারম্যান’ সিনেমায়। এর মাধ্যমে কমিকবুক থেকে নির্মিত সিনেমায় র‍্যাচেলের অভিষেক হচ্ছে। সম্প্রতি এ নিয়ে ইন্টারভিউ ম্যাগাজিনের আমান্ডা সিইফিল্ডের সঙ্গে কথা হয় র‍্যাচেলের। তিনি জানান, সিনেমা সফল হোক বা ব্যর্থ, এ নিয়ে কোনো সমালোচনা করতে চান না। র‍্যাচেল বলেন, ‘যারা সমালোচনা করেন, তারা নিজেরাও এ জনরার সিনেমায় অভিনয় করেছেন। প্রথমে অভিনয় করেছেন, পরে সিনেমা ব্যর্থ হলে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সমালোচনা করেছেন। আমি তাদের নিয়েও সমালোচনা করতে আগ্রহী নই। একটা সময় তো এসব সিনেমা ভালো করেছে। এখন ভালো করছে না মানেই তার বিরুদ্ধে কথা বলার মানে নেই। আমি মনে করি, একজনের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত তিনি কোন ধারার সিনেমায় কাজ করবেন। তারপর সে সিদ্ধান্তে অটল থাকা উচিত।’

21

র‍্যাচেল কোনো অভিনেতার নাম নেননি। কিন্তু সম্প্রতি অনেক অভিনেতাই সুপারহিরো সিনেমার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। যেমন ম্যাডাম ওয়েব নিয়ে ডাকোটা জনসন বলেছিলেন, ‘এ ব্যর্থতার দায় আমার নয়।’

অবশ্য তিনিও সরাসরি সিনেমাকে দোষারোপ করেননি। জনসন বলেছিলেন, ‘এখন অনেক সিদ্ধান্তই নির্মাতা, এমনকি সিনেমার ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্তাদের কাছ থেকে আসে। এরা সবাই সৃজনশীলতা বোঝেনও না। এভাবে তো আসলে শিল্প হওয়া সম্ভব নয়।’

এর আগে ‘থর: লাভ অ্যান্ড থান্ডার’ নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ। ভ্যানিটি ফেয়ারকে তিনি বলেছিলেন, ‘সিনেমাটা বোকাটে হয়েছে। আমি এর মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের প্যারোডি হয়ে উঠলাম।’

মূলত সুপারহিরো সিনেমার একমাত্র ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছিল মার্ভেল। তারা ২০০৮ থেকে ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছে। সুপারহিরোর মার্কা হয়ে উঠেছিল অ্যাভেঞ্জার্স। ডিসির সুপারহিরোরা কাল্ট ক্ল্যাসিক হলেও ম্যান অব স্টিলের পর কোনো সিনেমাই আর দর্শক ধরতে পারেনি। ডিসির নির্মাণ পছন্দ করেনি দর্শক। সে সময় মার্ভেল যে চলতি ধারার সিনেমা নির্মাণ করছিল, সেটাই তারা পছন্দ করেছিল। কিন্তু একটা সময় মার্ভেল নিজেদের মতো নিরীক্ষা শুরু করে সিনেমা নিয়ে। অনেক বেশি হালকা করে ফেলে তারা সিনেমার গল্প। ফলে মার্ভেল থেকে মুখ ফেরাতে থাকে দর্শক। সেই সঙ্গে তারা গুরুত্ব দিয়েছিল সংখ্যায়। বছরে বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি দিলেও তার গল্পে ছিল না দর্শকের জন্য পুরনো পছন্দের বিষয়গুলো। ডিসিও নিজের ধারা থেকে বের হতে পারেনি।

এখন সেখানে দোষ তো সুপারহিরো সিনেমার জনরায় নেই। এ জনরায় সিনেমা নির্মাণ করে যাচ্ছেন জেমস গান। তিনি মার্ভেলের জন্য নির্মাণ করেছেন ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ আর ডিসির জন্য এখন নির্মাণ করছেন সুপারম্যান। গান মনে করেন, সিনেমা নির্মাণ করা হবে গল্প নিয়ে। পুরনো গল্পও নতুন আইডিয়ার মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারে।

এদিকে ব্রজনাহান তার লোইস লেন চরিত্রটি করার জন্য পর্যবেক্ষণ করেছেন তার পূর্বসূরি মার্গো কিডার ও অ্যামি অ্যাডামসকে। তারা র‍্যাচেলের আগে লোইস লেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এদিকে ডেভিড কোরেন্সওয়েট অভিনয় করছেন সুপারম্যান ও নিকোলাস হল্ট থাকছেন লেক্স লুথর চরিত্রে।

র‍্যাচেল আবারো সুযোগ পেলে সুপারহিরো সিনেমায় অভিনয় করবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘অবশ্যই আমি ফিরব। সুপারম্যানের সিকুয়াল হলে সেখানেই থাকতে চাইব। এছাড়া আমি খুব উপভোগ করেছি সিনেমাটা। সুপারহিরো সিনেমার তো দোষ নেই। নির্মাণ ও দর্শক রুচির কারণেই হয়তো সিনেমাগুলো ভালো করছে না এখন।’