প্রায় এক বছর সিনেমায় নেই সামান্থা। দক্ষিণী সিনেমায় তিনি নিজেকে একরকম অপরিহার্য করে তুলেছিলেন। এরপর হঠাৎই অসুখের আক্রমণ। মায়োসিটিস ধরা পড়লে তিনি কাজ গুটিয়ে চিকিৎসায় গুরুত্ব দেন। কিন্তু এ এক বছরে ভক্তরা সামান্থার প্রতি নিজেদের ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশে কুণ্ঠিত হননি। বিষয়টি সম্ভব হয়েছে সামান্থার ব্যক্তি ও কর্মজীবনের কারণে। সিনেমায় তিনি নিয়মিত ছিলেন এবং চরিত্র নিয়ে করেছিলেন নানা নিরীক্ষা। এর মধ্য দিয়ে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন দর্শকের। কোনো বিতর্ক তোলেননি নিজে থেকে। নাগা চৈতন্যর সঙ্গে বিচ্ছেদ বিষয়ে একটা বিতর্ক তৈরি হলেও দুজনই নিজেদের সম্মান রেখে তা মোকাবেলা করেছিলেন। এতসব কারণেই সিনেমায় না থেকেও নিয়মিত আলোচনায় থাকেন সামান্থা।
সামান্থা রুথ প্রভুর জন্ম তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। বাবা-মায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন তেলেগু ও মালয়ালম ভাষা ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। তবে নিজেকে তামিল পরিচয় দিতেই পছন্দ করেন। সিনেমায় সামান্থার অভিষেকও হয়েছিল তামিলে। ২০০৭ সালে রবি বর্মনের ‘মস্কোইন কাবেরি’ সিনেমা দিয়ে। তবে সিনেমার মুক্তি নিয়ে ছিল নানা জটিলতা। মূলত তার অভিষেক সত্যিকার অর্থে হয়েছিল ২০১০ সালে ‘ইয়ে মায়া চেসাভে’ দিয়ে। গৌতম বাসুদেব মেননের সিনেমাটির রিমেক হয়েছে একাধিক। আর এ সিনেমায়ই সামান্থার সঙ্গে সহঅভিনেতা ছিলেন নাগার্জুনের পুত্র নাগা চৈতন্য। সেখান থেকেই দুজনের প্রেম ও এক সময় পরিণয়। মজার ব্যাপার, বাসুদেব মেননের সিনেমাটির তামিল সংষ্করণ ‘ভিন্নাইথান্ডি ভারুভায়া’য়ও একটি ছোট চরিত্র ছিল সামান্থার। দুটো সিনেমাই ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পায় এবং সামান্থা দুই ভাষায় অভিষেক পান।
একই বছর তামিলে আরেকটি সিনেমা মুক্তি পায় সামান্থার। ‘বানা কাথান্ডি’ নামের সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন অথর্ব। বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সিনেমাটি সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল। এ সিনেমার মাধ্যমেই সামান্থার ক্যারিয়ার নির্ধারিত হয়ে যায়। তামিলে সামান্থা নিজের জায়গা করে নেবেন তা বুঝে গিয়েছিল ইন্ডাস্ট্রি। এ বছরই কাজল আগরওয়াল ও এনটিআর জুনিয়রের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন সামান্থা।
রাজামৌলির সিনেমা মানে এখন ভাবা হয় ‘বাহুবলী’র কথা। এর আগে নাম করা হতো রামচরণ কাজল আগরওয়ালের ‘মগধীর’-এর। কিন্তু ২০১২ সালে রাজামৌলি একটি সায়েন্স ফিকশন নির্মাণ করেছিলেন। ‘ইগা’ নামের এ সিনেমায় কিচ্চা সুদীপের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সামান্থা। সিনেমাটি শোরগোল তুলেছিল, কিন্তু সামান্থার আসল জায়গা ছিল রোমান্টিক সিনেমায়। অন্তত সে সময়। আর তা বুঝেছিলেন বাসুদেব মেনন। তিনি সামান্থাকে কাস্ট করেছিলেন ‘নিদানে এন পোভাসাদান’ সিনেমায়। এটি তেলেগুতেও রিমেক হয় এবং সেখানেও কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে সামান্থাই অভিনয় করেন। সব মিলিয়ে সামান্থা হয়ে ওঠেন তামিল ও তেলেগু রোমান্টিক সিনেমার নায়িকা।
বক্স অফিস তো হলো। এরপর সামান্থা নিজেকে তৈরি করেছেন গ্ল্যামারাস নায়িকা হিসেবে। একই সময় তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন শ্রুতি হাসান, নয়নতারা, কাজল আগরওয়ালরা। এদের মধ্যে কল্কে পাওয়া বেশ কঠিন একটা বিষয়, কিন্তু সামান্থা সে জায়গাটা সামলে নিয়েছিলেন। প্রথম দিকের সিনেমাগুলো ভালো করার কারণে বড় বাজেটের সিনেমায়ও ডাক পেয়েছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবে নায়িকাদের ক্যারিয়ারের এ সময় জটিল। তাকে নির্মাতারা টাইপকাস্ট করে ফেলেন। কিন্তু সামান্থা একই ধারার চরিত্র করতে চাননি। নিজের মতো প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেছেন নতুন ধারার চরিত্রে অভিনয়ের। একাধারে তিনি করেছেন ‘সিথাম্মা ভাকিতো’, ‘সিরিমাল্লে চেট্টু’র মতো ফ্যামিলি ড্রামা; কমেডি ড্রামা ‘আত্তারিন্টেকি ডারেদি’, অ্যাকশন-রোমান্টিক সিনেমা ‘রামাইয়া ভাস্তাভাইয়া’, ‘আনজান’ ও ‘কাথাই’; ফ্যান্টাসি ধারায় ‘মানাম’, এমনকি তার সিনেমার তালিকায় আছে পলিটিক্যাল অ্যাকশন সিনেমা ‘অটোনাগার সুরিয়া’। কোনো ধারাই বাদ দেননি তিনি।
সামান্থার ক্যারিয়ারের সেরা বছর সম্ভবত ২০২১ সাল। ওই বছর ওটিটিতে আসে রাজ অ্যান্ড ডিকে পরিচালিত সিরিজ ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’-এর দ্বিতীয় সিজন। সামান্থা নিজেকে একেবারেই বদলে ফেলেছিলেন। পুষ্পার আইটেম সং ‘ও আনতাভা’র গ্ল্যামারাস নায়িকা থেকে তিনি হয়েছিলেন একজন অভিনেত্রী। চৈতন্যর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও সামান্থার অভিনয়ের গুণ সে বিতর্ককে পাশে সরিয়ে দিয়েছিল।
সামান্থা অভিনয় করেছেন বেশকিছু ব্যবসাসফল সিনেমায়। কিন্তু প্রায় এক যুগের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। সে কারণেই আইটেম গার্ল থেকে পুরাণের শকুন্তলা হয়ে উঠতে পারেন তিনি। অসুখের সঙ্গে লড়াই করেও শুট করেন নতুন সিরিজের। ‘সিটাডেল’-এর ভারতীয় সংস্করণের জন্য তাই মুখিয়ে থাকে দর্শক।










