বেশ কয়েক বছর ধরে ঈদ এলেই দেখা যায় সিনেমা মুক্তির হিড়িক। সারা বছর হাতেগোনা কয়েকটা সিনেমা মুক্তি পেলেও ঈদে সিনেমা মুক্তির মোক্ষম সময় মনে করেন নির্মাতারা। এরই অংশ হিসেবে এবারের ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছয়টি সিনেমা। মুক্তি পাওয়ার পর থেকে সিনেমাপ্রিয় দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ছে প্রেক্ষাগৃহে। বন্ধুবান্ধব পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজন নিয়ে প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর সিনেমা দেখতে প্রতিদিন ছুটে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন হলে। কারো হাতে টিকিট, কেউবা দাঁড়িয়ে দীর্ঘ লাইনে একটাই যেন লক্ষ্য তাদের প্রিয় সিনেমাটি দেখা। দর্শক চাহিদার কথা ভেবে মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বাড়িয়েছে তাদের শোর সংখ্যা। তবু যেন কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না দর্শকের স্রোত। অধিকাংশ মাল্টিপ্লেক্স সিনেমার টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আগেভাগেই। টিকিট সংকটে দর্শকসহ অনেক অভিনয়শিল্পীও দেখতে পারছেন না সিনেমা। অনেক প্রেক্ষাগৃহে মিডনাইট শো চালু করার খবরও পাওয়া গেছে। মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বলছে ঈদের বাংলা সিনেমা মানেই এখন হাউজফুল শো। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখার আগ্রহ। মানুষ এখন পরিবার নিয়ে বিনোদনের জন্য হলমুখী হচ্ছে।
এদিকে দর্শকের এত চাপে টিকিট পাচ্ছেন না অনেকেই। দেশের নামিদামি সিনেমা হলগুলোয় পাওয়া যাচ্ছে না টিকিট। ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স, যমুনা ব্লকবাস্টার, মধুমিতা ও সাভারের সেনা অডিটোরিয়াম, চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিন, বগুড়ার মধুবনসহ অনেক জায়গায় দর্শক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন টিকিট পাওয়ার জন্য। আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী সিনেমা হল মালিকরা টিকিট দিতে পারছেন না। ফলে হলগুলোর সামনে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ প্রত্যাশিত সিনেমা দেখতে এসে টিকিট না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে গেছেন। প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা বলছেন, ঈদে দর্শকের এমন চাপ বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। অফিস বন্ধ থাকায় এ সময়ে টিকিটের চাপ একটু বেশি থাকে। সবাই যেন সিনেমা দেখার সুযোগ পায় তার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন হল মালিকরা।
তারা বলছেন, দর্শকের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সিনেমার শো বাড়িয়েছেন। তবে দর্শকের সংখ্যা এতটাই বেশি যে একসঙ্গে সবার সিনেমা দেখার ইচ্ছা পুরোপুরি মেটানো কঠিন।
দর্শকের ভিড়ের পাশাপাশি তারকারাও ছুটছেন সিনেমা হলে। নিজেদের সিনেমার প্রমোশনে দৌড়ঝাঁপ করছেন তারকারা। দর্শকের প্রতিক্রিয়া জানতে তাদের সঙ্গে হলে বসে একসঙ্গে সিনেমাও দেখছেন তারা।
জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, অপি করিম, আজমেরী হক বাঁধন, সাদিয়া আয়মানসহ বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পীকে দেখা গেছে সিনেমা হলে দর্শকের সঙ্গে। নিজ সিনেমার প্রমোশনে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন বেশ কয়েকবার।
এছাড়া নিজের প্রথম বাণিজ্যিক সিনেমা ইনসাফের প্রচারে বিভিন্ন সিনেমা হলে গিয়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করেছেন তাসনিয়া ফারিন। তার সঙ্গে দেখা গেছে শরিফুল রাজসহ নির্মাতা প্রযোজককে।
এবারে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোয় ছিল বিশেষ চমক। ছিল অতিথি চরিত্রের আগমন। দর্শককে চমকে দিতে হলিউড ও বলিউডের সিনেমার মতো ক্যামিও দিতে দেখা যায় তারকাশিল্পীদের। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন এসব অতিথি চরিত্র।
চমক দেখিয়েছেন আফরান নিশু ও সিয়াম আহমেদ। শুরু থেকে তাদের নাম শোনা গেলেও পরিচালক তাদের নাম গোপন করেছিলেন। পর্দায় তারা দেখা দিলে দর্শক উল্লাসে ফেটে পড়েন। অন্যদিকে ইনসাফ সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরীর উপস্থিতি ছিল দর্শকের জন্য বাড়তি আনন্দের। সিনেমা মুক্তির আগে পর্যন্ত জানা যায়নি এ সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয়ের কথা। ন্যাড়া মাথায় হাতে রক্ত মাখা দা আর ভায়োলিন বাজানোর দৃশ্যে অভিনেতাকে দেখে অনেকে আঁতকে উঠেছেন। অনেকেই বলছেন চঞ্চল চৌধুরীর এ উপস্থিতি সিনেমার আবহাওয়া বদলে দিয়েছে।
এবারের ঈদে প্রেক্ষাগৃহে হলভর্তি দর্শক হলেও রয়েছে কিছু বিপত্তিও। দেশের সব সিঙ্গেল স্ক্রিনের হলে এখন পর্যন্ত শাকিব খানের তাণ্ডবের দাপট বিদ্যমান। দাপট চলছে মাল্টিপ্লেক্সগুলোয়ও। তবে অন্য সিনেমার প্রযোজকরা মাল্টিপ্লেক্সে শোর সিডিউল নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। ইনসাফ সিনেমার প্রযোজক বলছেন তাদের শো কম দেয়ার পাশাপাশি যেগুলো দেয়া হয়েছে সেগুলোর টাইমিং ঠিকঠাক হয়নি। আবার বিকালের শো কম দেয়া হয়েছে। ফলে ইনসাফ দেখতে আসা দর্শক শো দেখতে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে বা অন্য সিনেমা দেখছেন। নীলচক্র সিনেমার পরিচালকেরও একই অভিযোগ।
অভিযোগ আর অনুযোগ যা-ই থাকুক না কেন বাংলা সিনেমা ভালো করছে এটা বলার অপেক্ষা রাখছে না। আগামীতে বাংলা সিনেমা এগিয়ে যাবে আরো অনেকদূর এটাই সবার প্রত্যাশা।










