২মে মুক্তি পায় মার্ভেলের ‘থান্ডারবোল্টস’। সিনেমাটি মুক্তির পর ডিজনির সিইও বব ইগার আহ্লাদে আটখানা হয়েছিলেন। তিনি সবার সামনে বড় গলা করে বলেছিলেন, এটাই মার্ভেলের নতুন কৌশল আর সেটা সফল হয়েছে। তিনি মূলত থান্ডারবোল্টস নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করেই কথাটি বলেন। ভুলও বলেননি। কারণ অনেক দিন পর মার্ভেলের কোনো সিনেমা ভালো আয়ের পাশাপাশি দর্শকের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। কিন্তু ছয় সপ্তাহ পার করে সিনেমাটি আয় করেছে ৩৭ কোটি ডলার। মার্ভেলের কম আয় করা সিনেমার মধ্যে এটি নিজের জায়গা পেল। তাহলে এবার মার্ভেলের কী করণীয়?

সিনেমা বিশ্লেষক ও ফ্যানড্যানগোর অ্যানালিটিকস ডিরেক্টর শন রবিন্স বলেন, ‘মার্ভেলের হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে। আমরা একটা নতুন সময়ে প্রবেশ করেছি, যেখানে মার্ভেলের সব সিনেমা শত কোটি ডলার আয় করবে না।’

মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আয়রন ম্যান’ দিয়ে। এর পর থেকে প্রায় এক দশকের বেশি সময় মার্ভেল ছিল হলিউডের হিট মেশিন। এমনকি হলিউডের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ব্যবসাসফল ফ্র্যাঞ্চাইজি। ৩৬টি সিনেমা থেকে মার্ভেলের সিনেমাটিক ইউনিভার্সের আয় ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার।

শত কোটি ডলার আয় করাই কোনো সিনেমার সাফল্যের একক ধরা ঠিক না বলে মনে করেন সিনেমা বিশ্লেষকরা। কিন্তু মার্ভেলের যে আগের অবস্থা নেই, তা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। বিশেষত কভিড-১৯-পূর্ববর্তী সময়ের সঙ্গে কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ের সঙ্গে মার্ভেলের সিনেমার ধরন ও আয় রোজগারে পার্থক্য আকাশ-পাতাল।

অতিমারীর আগে মার্ভেলের ২২টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। প্রতিটিই অন্তত ৫০ কোটি ডলার আয় করেছে। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া ১৩টি সিনেমার মধ্যে মাত্র ছয়টিই ৫০ কোটি ডলার আয় করতে পেরেছে। সিনেমার অবস্থা খারাপ হওয়ার একটা কারণ, দর্শক এ নতুন সিনেমাগুলো পছন্দ করছে না। নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে। কিন্তু সেখানেও হিসাবে সমস্যা হচ্ছে।

এই বছর মুক্তি পাওয়া ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’, ২০২৩ সালের ‘দ্য মার্ভেলস’ ও ‘অ্যান্ট ম্যান অ্যান্ড দ্য ওয়াস্প: কোয়ান্টোম্যানিয়া’র ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে সামনে আনা যায়। কিন্তু থান্ডারবোল্টসের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। এর পরও সিনেমা পিছিয়ে আছে আয়ে। মার্ভেলের সিনেমার এ অবস্থা কেবল মার্ভেলের দোষে হয়নি। ডিসির সিনেমার দিকে তাকালে দেখা যাবে তারা পিছিয়ে আছে আরো আগে থেকে। নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করলেও তাদের সিনেমা দর্শকপ্রিয়তা পায়নি। মূলত সুপারহিরো সিনেমার প্রতিই এক রকম ক্লান্তি বোধ করছে দর্শক। কেননা সুপারহিরো সিনেমার জনরা অনেক পুরনো ও জনপ্রিয় হলেও বিগত এক দশকে এর পরিমাণ খুব বেশিই ছিল।

এক্সিবিটর রিলেশনসের অ্যানালিস্ট জেফ বক বলেন, ‘এ সিনেমাগুলো কমিকবুকের হিসাবেও অনেকটা গড়পড়তা মানের। এক মাসের মধ্যেই থান্ডারবোল্ট থিয়েটার থেকে উঠে যাচ্ছে, এটা চিন্তার বিষয়। সিনেমাগুলো আগের মতো করে দর্শক টানতে পারছে না।’ মার্ভেলের এখন একটা ক্রান্তিকাল। দর্শকের রুচি বদলে যাওয়ার বিষয়টি তাদের আমলে নেয়া উচিত। খেয়াল করলে দেখা যাবে, তারা মানের চেয়ে পরিমাণে বেশি নজর দিচ্ছে। সিনেমার সংখ্যা কমিয়ে তাদের সিনেমার মান বাড়ানোর দিকে মন দেয়া উচিত। দর্শক কী চায়, সে অনুসারে পরিকল্পনা করার সময় এসেছে। সেখানেও দেখার বিষয় যে মার্ভেল নতুন করে নিরীক্ষা করবে, নাকি অ্যাভেঞ্জার্সের মতো ব্যবসা সম্ভব সিনেমার দিকেই নজর দেবে।

মার্ভেল এরই মধ্যে তাদের অ্যাভেঞ্জার্সের সিনেমা পিছিয়ে দিয়েছে। জুলাইয়ে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস’। ভ্যারাইটির প্রতিবেদক রেবেকা রুবিন মনে করেন, এ সিনেমার পর মার্ভেল হয় বড় কোনো পরিকল্পনায় যাবে, নয়তো তাদের সিনেমা গুটিয়ে নেবে। কেননা মার্ভেল এ পর্যন্ত তাদের সিনেমা দিয়ে যা মুনাফা করেছে, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা হারাতে খুব বেশি সময় লাগবে না।