১৯৭৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ করে ‘অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়’। দেখতে দেখতে ৫৩ বছর অতিক্রম করে ৫৪ বছরে পদার্পণ করল মহান স্বাধীনতার প্রায় কাছাকাছি বয়সী এ দল। এ সময় নিজেদের কাজ দিয়ে সুনামের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠনে পরিণত হয়েছে দলটি। এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ‘৫৩ পেরিয়ে অরিন্দম’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের পালানাটক মঞ্চায়িত হয়। তাতে মুগ্ধ হয় দর্শক।
আয়োজনের প্রথম দিন ছিল জিয়া হায়দার স্মারকবক্তৃতা। বিশিষ্ট নাট্যগবেষক ড. ইউসুফ ইকবাল ‘অর্ধশতবর্ষে অরিন্দম: সৃজন ও অর্জন’ শিরোনামে স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন। রোসাঙ্গীর বাচ্চুর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অরিন্দমের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিশির দত্ত, জিয়া হায়দারের ভাই কবি জাহিদ হায়দার, নাট্যজন শুভ্রা বিশ্বাস ও নাট্যজন মঈন উদ্দিন কোহেল। স্মারক বক্তৃতা শেষে মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ মঞ্চস্থ করে জিয়া হায়দার রচিত নাটক ‘শুভ্রা সুন্দর কল্যাণী আনন্দ’। উৎসবের প্রথম দিন আয়োজনে সহযোগী ছিল ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা)’।

জিয়া হায়দার ছিলেন বাংলাদেশে একাডেমি নাট্যশিক্ষার পথিকৃৎ। তিনি ঢাকার নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং চট্টগ্রামে থিয়েটার ’৭৩ ও অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়ের সূচনালগ্নের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী এনজিও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থিয়েটার আর্টসের (বিটা) সভাপতি।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন ব্যতিক্রমী দুটি আয়োজন ছিল। ৪০ বছর নিরবচ্ছিন্ন নাট্যচর্চা করছেন, বিভিন্ন নাট্য সংগঠনের এমন ৪০ জন নাট্যকর্মীকে সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং শিল্পকলা একাডেমির খোলা মাঠে পালানাটক পরিবেশন। কিশোরগঞ্জের ‘আহির বাংলা’ পালাদল পরিবেশন করে ‘নোলকজানের পালা’। সায়িক সিদ্দিকী রচিত ও নির্দেশিত এ পালানাটক বিপুলসংখ্যক দর্শক উপভোগ করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বেশ বিমোহিত করে পালাটি।
তৃতীয় দিন মিলনায়তনে পরিবেশন হয় তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে অরিন্দমের আলোচিত নাটক ‘কবি’। গতকাল অরিন্দমের নতুন প্রযোজনা শহীদুল জহিরের উপন্যাস অবলম্বনে ‘ডলু নদীর হাওয়া’ নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে ৫৩ পেরিয়ে অরিন্দম নাট্য উৎসব সমাপ্ত হয়।










