হলিউডের এ বছর ভালো গেছে। প্রায় ৫০০ কোটি ডলার আয় হয়েছে এখন পর্যন্ত। ডিসেম্বরে আসছে এ বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত দুই সিনেমা। ১৭ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে ‘ডুন থ্রি’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’। বড় বাজেট এবং প্রতীক্ষিত দুই সিনেমার একই দিনে মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে সম্ভাবনা ও শঙ্কা। হতে পারে দুই সিনেমা মিলে প্রচুর আয় হবে। কিংবা দুটো সিনেমা আলাদা মুক্তি পেলে যা আয় করত, তার তুলনায় কম আয় করবে। ফলে দুই সিনেমার এ দ্বৈরথকে এরই মধ্যে অনেকে বলছেন ‘ডুনসডে’। তাই প্রশ্ন উঠছে, ‘বারবেনহাইমারের মতো ব্যবসা, নাকি ব্যবসায়িক ক্ষতি দেখবে হলিউড?’
প্রাথমিক টিকিট বিক্রির হিসাবে এগিয়ে রয়েছে অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রি-সেলসে সিনেমাটি ‘ডুন: পার্ট থ্রি’র তুলনায় প্রায় তিন থেকে চার গুণ এগিয়ে। তবে এ ব্যবধানকে চূড়ান্ত ফলাফলের পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ দুই সিনেমার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সময় এক নয়।
অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে এখন এগিয়ে থাকাই স্বাভাবিক। মার্ভেল ফিরতে চাইছে তার চেনা রূপে। অ্যান্থনি ও জো রুশোর পরিচালনায় অ্যাভেঞ্জার্স দেখতে চাইবেন অনেক দর্শক। রবার্ট ডাউনি জুনিয়র এবার ফিরছেন ডক্টর ডুমের ভূমিকায়। ক্রিস ইভান্স, ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও পেদ্রো পাসকালের মতো তারকাদের উপস্থিতিও এ সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। অ্যাভেঞ্জার্সের আগের সিনেমাগুলোর সাফল্যও দর্শকের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে ডুন: পার্ট থ্রির শক্তি এর নির্মাতা তেনি ভিলেনোভের স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলী। এছাড়া টিমোথি শ্যালামে ও জেন্ডায়ার জনপ্রিয়তা এবং ফ্র্যাঙ্ক হারবার্টের কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক জগতের আকর্ষণ। আগের দুটি পর্বের ভিজুয়াল নির্মাণ ও গল্প বলার ধরন সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছে। তৃতীয় সিনেমাটি পল অ্যাট্রেইডিসের ক্ষমতা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও তার সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে এগোবে। ফলে এটি শুধু আরেকটি সিকুয়াল নয়, একটি জনপ্রিয় ট্রিলজির পরিণতিও।
এমন দুটি সিনেমা একই দিনে মুক্তির সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে প্রেক্ষাগৃহ ও প্রিমিয়াম স্ক্রিন নিয়ে প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে আইম্যাক্সের মতো বড় পর্দার ক্ষেত্রে ডুন: পার্ট থ্রি বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। উত্তর আমেরিকায় ছবিটির জন্য প্রথম তিন সপ্তাহ আইম্যাক্স প্রদর্শনীর একচেটিয়া সুযোগ থাকার কথা। অন্যদিকে মার্ভেল অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডের জন্য নিজস্ব ‘ইনফিনিটি ভিশন’ প্রিমিয়াম স্ক্রিনিং ব্যবস্থার প্রচার করছে। ফলে দর্শক টানার পাশাপাশি দুই স্টুডিওকে প্রদর্শনীর সুযোগ নিয়েও প্রতিযোগিতা করতে হবে।
তবে একই দিনে মুক্তি মানেই যে একটি সিনেমা অন্যটির ব্যবসা কেড়ে নেবে, তা নয়। ছুটির মৌসুমে দর্শকের সিনেমা দেখার আগ্রহ সাধারণত বাড়ে। কেউ প্রথমে অ্যাভেঞ্জার্স দেখে পরে ডুন দেখতে পারেন, আবার কেউ উল্টোটাও করবেন।
তবে বিপদের সম্ভাবনাও কম নয়। অ্যাভেঞ্জার্সের বিপদের কারণ হতে পারে মার্ভেলের অন্যান্য সিনেমার খারাপ পারফরম্যান্স। মার্ভেলের পুরনো দর্শক ফিরে আসবে একথা সত্য, কিন্তু ২০২২ সালের পর নতুন দর্শক তৈরি করতে পারেনি মার্ভেল। ফলে প্রথম দিকে যদি নেতিবাচক রিভিউ আসে, পিছিয়ে পড়বে সিনেমাটি। অন্যদিকে ডুন থ্রির বিপদ হবে যদি ডুমসডে শুরুতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়। তাহলে মার্ভেলের নিয়মিত দর্শকের পাশাপাশি নতুন দর্শকও ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ দেখতে যাবে।
বড় দুই সিনেমা একই দিনে মুক্তির ঘটনা আগেও ঘটেছে। সাম্প্রতিক উদাহরণ ২০২৩ সালের। ‘বারবি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ একই দিনে মুক্তি পেয়েছিল। তৈরি হয়েছিল এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক উন্মাদনা। হলিউডের হিসাব বদলে দিয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। দুটি সিনেমাই বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ এবং তাদের দর্শকগোষ্ঠীর মধ্যে মিল রয়েছে। তাই এক ছবির সাফল্য অন্যটির জন্য একইভাবে ইতিবাচক হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।
সব মিলিয়ে, উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় ডুন: পার্ট থ্রিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দর্শকের প্রতিক্রিয়া, সমালোচকদের মূল্যায়ন, মুখে মুখে প্রচার এবং প্রিমিয়াম স্ক্রিনের প্রাপ্যতা শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে। তাই সব মিলিয়ে বলা যায়, ডিসেম্বরের এ লড়াই তাই শুধু দুই ছবির নয়, হলিউডের ফ্র্যাঞ্চাইজি-নির্ভর ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।










