মার্ভেলের সবচেয়ে সফল পরিচালক কে? এক কথায় এর উত্তর দেয়া যায়—রুশো ব্রাদার্স। অ্যান্টনি ও জো রুশো নির্মাণ করেছিলেন অ্যাভেঞ্জার্স। এর মধ্যে এন্ডগেম মুক্তির সময় টিকিটের জন্য ছোটাছুটি হয়েছিল বাংলাদেশেও। কিন্তু মার্ভেলের সে স্বর্ণযুগ আর নেই। শীর্ষে উঠে টুপ করে যেন পড়ে গেছে তাদের জনপ্রিয়তা। মার্ভেলের এ দশার জন্য নানা জন নানা কারণের কথা বলেন। কারো কারো মতে, অতিরিক্ত সুপারহিরো সিনেমা দেখে দর্শকের বিরক্তি এসেছে এ বিষয়ে। কিন্তু রুশো ব্রাদার্স মনে করেন, ব্যাপারটা তেমন নয়। তাদের মতে, এখনকার দর্শকই নিশ্চিত না তারা আসলে কী দেখতে চায়।
গেমস রাডার প্লাসের সঙ্গে কথোপকথনে জো রুশো বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা চলতি পরিস্থিতিরই একটা চিত্র। এ সময় সবই কঠিন। আমরা একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দর্শকের একটা বড় অংশ এখনো জানে না, তারা কোন ধরনের সিনেমা দেখতে চায়। এমনকি কোন গল্প শুনতে চায় তাও নিশ্চিত নয়।’
২০২০ সাল থেকে ওটিটি যেভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তাতে অনেক দর্শকই থিয়েটারে যেতে চায় না। এর বাইরে ওটিটির আনা বিভিন্ন ওয়েব ফিল্ম ছোট পরিসরে একটা গণ্ডিবদ্ধ গল্প বলে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে সিনেমার দর্শকের মধ্যে একটা পরিবর্তন এসেছে। জো রুশো বলেন, ‘বিনোদন কীভাবে নেয়া হবে, তা নিয়ে একটা বড় জেনারেশন গ্যাপ হয়েছে। একটা সময় দর্শক আগে থেকে দিন নির্দিষ্ট করে সিনেমা দেখতে যেত। কিন্তু সেটা হারিয়ে যাচ্ছে। এখন দর্শক সবকিছু খুব দ্রুত চায়। পছন্দ না হলে অন্য কিছু দেখতে চলে যায়। সময় দেয় না। দ্বিতীয়বার ভাবে না। ফলে আমার মনে হয় কেবল মার্ভেল নয়, সব ধরনের সিনেমাই এর প্রভাব দেখছে।’
কথাটি সত্য। গত বছর এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্টিন স্করসেসির কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন দেখতে যাননি খুব বেশি দর্শক। তা নিয়ে অতটা আশাও ছিল না কেননা সিনেমাটি বাণিজ্যিক নয়। অস্কার পেয়েছে নোলানের ওপেনহাইমার। সিনেমাটি বক্স অফিসেও ভালো আয় করেছে। কিন্তু সিনেমাটি নিয়ে যে আগ্রহ ও আলোচনা ছিল তাকে আরো বেশি আয় করার কথা। আবার টম ক্রুজের টপ গান: ম্যাভেরিক ভালো ব্যবসা করলেও তার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মিশন: ইম্পসিবল তা পারেনি। এদিকে বারবি আয় করে নিয়েছে বিলিয়ন ডলার।
জো রুশো আরো একটি বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। তা হলো এ প্রজন্ম বড় লেখা পড়ে না। তারা মিম দেখে ও কোনো কিছু নিয়ে লেখা সর্বোচ্চ দুই লাইন পড়ে। তার ভাষায়, ‘সবই ১০০ শব্দ বা ১০ সেকেন্ডের ভিডিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখান থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নেয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমা নিয়ে কথা হয়, কিন্তু খুব বেশি আলাপের সুযোগ থাকে না। আবার যারা সিনেমা দেখে, তারা ২ ঘণ্টা এখন আর ধৈর্য রাখতে পারে না। জো বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিনেমার ২ ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের ব্যাপারটা এখন আর চলে না। এটা অনেক দিন ধরে চলছে।’
তার মানে সমস্যাটা মার্ভেলের নয়। পুরো সিনেমার ধারার ও তার দর্শকের। এ নিয়ে রুশো বলেন, ‘সুপারহিরো সিনেমার প্রতি বিরক্তির বিষয়টা অনেক আগে থেকেই আলোচনায় আছে। আমরা যখন সিনেমা বানিয়েছি তখনো ছিল। সুপারহিরো সিনেমা অনেকদিন ধরেই নির্মাণ হয়েছে এবং চলেছে।’
এ কথার প্রসঙ্গে তিনি আনেন ওয়েস্টার্ন সিনেমার কথা। রুশো বলেন, ‘ওয়েস্টার্ন ঘরানার সিনেমাও তো অনেকদিন চলেছে। একই গল্প ঘুরেফিরে। তা নিয়ে মানুষ অভিযোগও করেছে। কিন্তু ওয়েস্টার্ন সিনেমা এখনো নির্মাণ হয়।’
এর আগে দ্য ব্যাটম্যান মুক্তির পর একই প্রসঙ্গে পল ডানো বলেছিলেন, ‘এটা ঠিক যে দর্শক প্রতিনিয়ত নতুন কিছু চায়। তবে আমার মনে হয় সুপারহিরো সিনেমা একঘেয়ে নয়, এখানে আরো অনেক কাজ করার আছে। নতুন কিছু বের করে আনা সম্ভব।’










