রমেশ সিপ্পি পরিচালিত সিনেমা ‘শোলে’। অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, আমজাদ খান, হেমা মালিনী অভিনয় করেছেন। বলিউডের অন্যতম ব্যবসাসফল এ সিনেমা কাল্ট ক্ল্যাসিক হিসেবে গণ্য হয়। সম্প্রতি সিনেমাটির প্রিন্ট সংস্কার করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের সিনেমাটির একটি আনকাট ভার্সন এবার দেখা যাবে ইতালির ‘টু সিনেমা রিট্রোভাটো’ উৎসবে। সেখানে প্রিমিয়ার হবে শোলের এই আনকাট ভার্সন।
সিনেমাটির প্রদর্শনীও বিশেষ হতে যাচ্ছে। ইতালির বোলোগনা পিয়াজ্জা ম্যাগোয়ারে খোলা আকাশের নিচে শোলের প্রদর্শনী হবে। সেই সঙ্গে থাকবে সিনেমার মূল সমাপ্তি ও বাতিল করে দেয়া কিছু দৃশ্য যা আগে সামনে আসেনি।
শোলে লিখেছিলেন সেলিম খান ও জাভেদ আখতার। মূলত রিভেঞ্জ-ড্রামা ঘরানার এ সিনেমা কমেডি ও ট্র্যাজেডির মিশেলে নির্মিত। রমেশ সিপ্পির ক্যারিয়ারের সেরা সিনেমাও শোলে। এতে সংগীত করেছিলেন আর ডি বর্মণ। বলা হয়ে থাকে, সিনেমাটি ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক ‘ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন দ্য ওয়েস্ট’, আকিরা কুরোসাওয়ার ‘সেভেন সামুরাই’ ও জন স্টার্জেসের ‘দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট’ সেভেন থেকে অনুপ্রাণিত।
মুম্বাইয়ের মিনার্ভা থিয়েটারে শোলে চলেছিল টানা পাঁচ বছর। ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটেউটের ভোট থেকে ২০০২ সালে শোলেকে ভারতের সেরা সিনেমা ও ১৯৯৯ সালে বিবিসি এটিকে ‘ফিল্ম অব দ্য জেনারেশন’ ঘোষণা করে। বহুবার হলে ও টেলিভিশনে প্রচার হলেও ‘শোলে’র প্রতি এখনো দর্শক সমান আগ্রহ অনুভব করে। সেই কারণে নির্মাতা ও ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এটির সংস্কারের কথা ভেবেছিল। দীর্ঘ সময় কাজ করার পর সেটি সম্ভব হয়।
সিনেমাটি নিয়ে অমিতাভ বচ্চন একবার বলেছিলেন, ‘কিছু জিনিস মানুষের মনে স্থায়ী আসন করে নেয়। শোলে সেই ঘরানার একটা সিনেমা। শোলের শুটিংয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু তখনো জানতাম না এটা ভারতীয় সিনেমার একটা ল্যান্ডমার্ক হয়ে থাকবে। শুরুতে একটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা থেকে সিনেমাটা বক্স অফিসে অন্যতম সেরা ব্যবসা দিয়েছিল।’
মুক্তির বহু বছর পরও শোলে নিয়ে চর্চা হয়। এ সিনেমা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে অন্য সিনেমায় সংলাপ, দৃশ্য তৈরি হয়। সিনেমাটি নিয়ে ধর্মেন্দ্র বলেন, ‘আমার মনে হয় শোলে দুনিয়ার অষ্টমাশ্চর্য। জেনে ভালো লাগল যে সিনেমাটি সংস্কার করা হয়েছে। আর ৫০ বছর পূর্তিতে সেটা হওয়া ও বিশেষ প্রদর্শনী আমাকে মোহিত করছে।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










